বাঙ্কার হিল থেকে জর্জ ওয়াশিংটনের কন্টিনেন্টাল আর্মি: স্বাধীনতার যুদ্ধের প্রথম কঠিন অধ্যায়
সিরিজ: আমেরিকান বিপ্লব: স্বাধীনতার সংগ্রাম ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম
বাঙ্কার হিলের রক্তক্ষয় থেকে মহাদেশীয় সেনাবাহিনীর উত্থান
১৭৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল লেক্সিংটন ও কনকর্ডে প্রথম রক্তপাতের পর ম্যাসাচুসেটসের পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যায় যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও সম্ভবত তার পূর্ণ মাত্রা অনুমান করতে পারেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার সশস্ত্র মিলিশিয়া সদস্য বোস্টনের চারপাশে জড়ো হতে থাকেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও স্থলপথে কার্যত ঘেরাও হয়ে পড়ে। কিন্তু উপনিবেশবাসীদের সামনে তখন একটি বিশাল সমস্যা ছিল—তাদের কাছে যোদ্ধা ছিল, কিন্তু প্রকৃত অর্থে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সেনাবাহিনী ছিল না। বাঙ্কার হিলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং এরপর জর্জ ওয়াশিংটনের হাতে কন্টিনেন্টাল আর্মির পুনর্গঠন সেই সমস্যার গভীরতা প্রকাশ করে এবং আমেরিকান বিপ্লবকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পথে নিয়ে যায়।
লেক্সিংটন ও কনকর্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও রোড আইল্যান্ড থেকে মিলিশিয়া বাহিনী বোস্টনের দিকে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি সশস্ত্র উপনিবেশিক যোদ্ধা বোস্টন অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা শহরের স্থল যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তাঁদের সংগঠন ছিল বিচ্ছিন্ন। আলাদা উপনিবেশের আলাদা কমান্ডার, ভিন্ন নিয়ম, অসম প্রশিক্ষণ এবং সীমিত সরবরাহ নিয়ে এই বাহিনীকে দীর্ঘ যুদ্ধ পরিচালনার উপযোগী সেনাবাহিনী বলা কঠিন ছিল।
এদিকে ব্রিটিশ বাহিনীও শক্তিবৃদ্ধি করছিল। জেনারেল থমাস গেজের সঙ্গে যোগ দিতে মেজর জেনারেল উইলিয়াম হাও, হেনরি ক্লিনটন এবং জন বার্গয়েনের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বোস্টনে পৌঁছান। ব্রিটিশদের সামনে প্রধান সমস্যা ছিল শহরের চারপাশের কৌশলগত উচ্চভূমি। উপনিবেশিক বাহিনী যদি এসব পাহাড়ে কামান স্থাপন করতে পারে, তাহলে বোস্টনে ব্রিটিশ অবস্থান আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
১৭৭৫ সালের জুনে খবর আসে যে ব্রিটিশরা চার্লসটাউন উপদ্বীপের উচ্চভূমি দখলের পরিকল্পনা করছে। এর আগেই উপনিবেশিক নেতারা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৬ জুন রাতে কর্নেল উইলিয়াম প্রেসকটের নেতৃত্বে প্রায় ১,২০০ উপনিবেশিক সৈন্য চার্লসটাউন উপদ্বীপে প্রবেশ করেন। প্রাথমিক নির্দেশে বাঙ্কার হিলের কথা থাকলেও তাঁরা শেষ পর্যন্ত বোস্টনের আরও কাছে অবস্থিত ব্রিডস হিলে প্রধান প্রতিরক্ষা অবস্থান নির্মাণ করেন।
এই কারণেই ইতিহাসে ঘটনাটি “বাঙ্কার হিলের যুদ্ধ” নামে পরিচিত হলেও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র অংশ প্রকৃতপক্ষে ব্রিডস হিলেই সংঘটিত হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে উপনিবেশিকরা মাটি খুঁড়ে একটি শক্তিশালী রিডাউট বা প্রতিরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করে। ভোর হলে বোস্টনে অবস্থানরত ব্রিটিশরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পায়, তাদের চোখের সামনেই উপনিবেশিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমিতে দুর্গ তৈরি করে ফেলেছে।
ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হলেও প্রতিরক্ষা অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। ব্রিটিশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় স্থলবাহিনী পাঠিয়ে সরাসরি পাহাড় দখল করা হবে। জেনারেল উইলিয়াম হাওয়ের নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি ব্রিটিশ সৈন্য চার্লসটাউন উপদ্বীপে অবতরণ করে। তাঁদের সামনে ছিল খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে উঠে প্রস্তুত প্রতিরক্ষাকারীদের আক্রমণ করার কঠিন কাজ।
উপনিবেশিকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল গোলাবারুদের ঘাটতি। ফলে সৈন্যদের গুলি অপচয় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই যুদ্ধের সঙ্গে বিখ্যাত হয়ে যায়—শত্রুর চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি করো না—জাতীয় নির্দেশের কাহিনি। অনুরূপ নির্দেশ যুদ্ধের সময় দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ঠিক কে কোন ভাষায় এটি বলেছিলেন তা নিশ্চিত নয়। এর পেছনের বাস্তব সামরিক যুক্তি অবশ্য পরিষ্কার ছিল: সীমিত গোলাবারুদকে সর্বোচ্চ কার্যকর দূরত্বে ব্যবহার করতে হবে।
ব্রিটিশরা প্রথমবার পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলে উপনিবেশিকরা অপেক্ষা করে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে বিধ্বংসী গুলি চালায়। সুশৃঙ্খল ব্রিটিশ সারিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আক্রমণ পিছিয়ে যায়। দ্বিতীয় আক্রমণেও প্রায় একই ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অন্যতম প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈন্যদের স্থানীয় মিলিশিয়া দুইবার পিছু হটতে বাধ্য করেছিল—যা উপনিবেশিকদের আত্মবিশ্বাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
যুদ্ধের সময় চার্লসটাউনেও আগুন ধরে যায়। ব্রিটিশ গোলাবর্ষণ ও সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বসতির বহু ভবন পুড়ে যায়। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পাহাড়, জ্বলতে থাকা শহর এবং হাজার হাজার দর্শকের চোখের সামনে সংঘটিত যুদ্ধটি আমেরিকান বিপ্লবের প্রথম বৃহৎ ও ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য তৈরি করে।
তৃতীয়বার ব্রিটিশরা আরও ঘন ও সুসংগঠিতভাবে আক্রমণ করে। ততক্ষণে উপনিবেশিকদের গোলাবারুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। ব্রিটিশ সৈন্যরা রিডাউটে পৌঁছে গেলে বেয়নেট ও কাছাকাছি দূরত্বের লড়াই শুরু হয়। অধিকাংশ উপনিবেশিক সৈন্যের কাছে বেয়নেটও ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রতিরক্ষা অবস্থান ছেড়ে পশ্চাদপসরণ করেন। ব্রিডস হিল ও বাঙ্কার হিল ব্রিটিশদের দখলে চলে যায়।
সামরিক অর্থে বাঙ্কার হিলের যুদ্ধ ছিল ব্রিটিশ বিজয়। তারা যুদ্ধক্ষেত্র দখল করেছিল এবং উপনিবেশিক বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু বিজয়ের মূল্য ছিল বিস্ময়করভাবে বেশি। প্রায় ২,২০০ ব্রিটিশ সৈন্যের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি নিহত বা আহত হয়, যার মধ্যে বহু কর্মকর্তা ছিলেন। উপনিবেশিক পক্ষেও প্রায় ৪৫০ জন নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রভাবশালী দেশপ্রেমিক নেতা ড. জোসেফ ওয়ারেন।
ব্রিটিশ সামরিক নেতৃত্বের জন্য এই ক্ষয়ক্ষতি ছিল গভীর সতর্কবার্তা। উপনিবেশিকদের শুধু অপ্রশিক্ষিত কৃষকের দল মনে করার সুযোগ আর ছিল না। সঠিক প্রতিরক্ষা অবস্থান এবং নেতৃত্ব পেলে তারা ব্রিটিশ নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ব্রিটিশরা পাহাড় জিতেছিল, কিন্তু সেই পাহাড় দখলের মূল্য দেখিয়ে দিয়েছিল যে আমেরিকার বিদ্রোহ সামরিকভাবে দমন করা সহজ হবে না।
এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস বসেছিল। লেক্সিংটন ও কনকর্ডের পর প্রতিনিধিদের সামনে বাস্তবতা বদলে গিয়েছিল। প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস যেখানে মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিরোধ সংগঠিত করেছিল, দ্বিতীয় কংগ্রেসকে এখন একটি যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হচ্ছিল। বোস্টনের চারপাশে থাকা হাজার হাজার মিলিশিয়াকে কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের অধীনে না আনলে সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করা অসম্ভব হবে।
১৪ জুন ১৭৭৫ কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে কন্টিনেন্টাল আর্মি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। নিউ ইংল্যান্ডে ইতিমধ্যে অবস্থানরত বাহিনীগুলোকে এই নতুন মহাদেশীয় সেনাবাহিনীর ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এর জন্য এমন একজন সর্বাধিনায়ক দরকার ছিল যিনি শুধু সামরিক নেতৃত্বই দেবেন না, বরং বিভিন্ন উপনিবেশকে রাজনৈতিকভাবেও একত্র করতে পারবেন।
পরের দিন জর্জ ওয়াশিংটনকে কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ডার-ইন-চিফ নির্বাচিত করা হয়। তাঁর নির্বাচন ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ফরাসি-ভারতীয় যুদ্ধে সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন এবং ভার্জিনিয়ার একজন সম্মানিত ভূমিমালিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। নিউ ইংল্যান্ডের বাইরে ভার্জিনিয়া থেকে একজন সেনাপতি নির্বাচন করে কংগ্রেস দেখাতে চেয়েছিল যে যুদ্ধটি শুধু ম্যাসাচুসেটসের বিদ্রোহ নয়; এটি বৃহত্তর উপনিবেশিক সংগ্রাম।
ওয়াশিংটন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেন, যদিও তাঁর ব্যয় বহনের ব্যবস্থা ছিল। ১৭৭৫ সালের জুলাইয়ের শুরুতে তিনি ক্যামব্রিজে পৌঁছে সেনাবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। সেখানে এসে তাঁর সামনে যে বাহিনী ছিল, তার সাহস নিয়ে সন্দেহের কারণ কম ছিল; কিন্তু সংগঠন নিয়ে সমস্যা ছিল অসংখ্য।
বিভিন্ন উপনিবেশের সৈন্যরা নিজেদের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পরিচয়ের প্রতি বেশি অনুগত ছিল। একই ধরনের ইউনিফর্ম ছিল না, অস্ত্রের মান এক ছিল না, প্রশিক্ষণ অসম ছিল এবং সামরিক শৃঙ্খলার ধারণাও একেক ইউনিটে একেক রকম। খাদ্য, পোশাক, তাঁবু এবং অর্থের সমস্যা ছিল। অসুস্থতা ও অস্বাস্থ্যকর শিবিরও বড় উদ্বেগ হয়ে ওঠে। সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা ছিল বারুদের ঘাটতি। ওয়াশিংটন দ্রুত উপলব্ধি করেন যে তাঁর বাহিনীর হাতে দীর্ঘস্থায়ী গোলাগুলি চালানোর মতো পর্যাপ্ত গানপাউডার নেই।
তাঁর কাজ তাই শুধু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছিল না; একই সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই একটি সেনাবাহিনী তৈরি করা। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, কমান্ড কাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা এবং সৈন্যদের তালিকা সংগঠিত করার চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয় মিলিশিয়া সংস্কৃতির স্বাধীনতার সঙ্গে পেশাদার সামরিক শৃঙ্খলার সংঘাতও দেখা দেয়। অনেক সৈন্য স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে এসেছিলেন এবং মেয়াদ শেষ হলে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অধিকার আশা করতেন। ফলে বাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ছিল কঠিন।
এদিকে বোস্টনের অবরোধ চলতে থাকে। ওয়াশিংটনের বাহিনী শহরটিকে ঘিরে রাখলেও পর্যাপ্ত ভারী কামান না থাকায় ব্রিটিশদের সরাসরি বের করে দেওয়া কঠিন ছিল। এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেন হেনরি নক্স। ১৭৭৫ সালের মে মাসে ইথান অ্যালেন ও বেনেডিক্ট আর্নল্ডের নেতৃত্বাধীন বাহিনী নিউইয়র্কের ফোর্ট টিকনডেরোগা দখল করেছিল। সেখানে পাওয়া ভারী কামানগুলো পরে নক্স শীতের মধ্যে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বোস্টনের কাছে নিয়ে আসবেন। এই কামানই ১৭৭৬ সালের মার্চে ডরচেস্টার হাইটসে স্থাপন করে ব্রিটিশদের বোস্টন ত্যাগে বাধ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ১৭৭৫ সালের মাঝামাঝি সেই সাফল্য তখনও ভবিষ্যতের ঘটনা। পরিস্থিতি ছিল অনিশ্চিত এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যও পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। কন্টিনেন্টাল আর্মি গঠিত হলেও তখনও স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়নি। একই কংগ্রেস যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি রাজা তৃতীয় জর্জের কাছে অলিভ ব্রাঞ্চ পিটিশন পাঠিয়ে সমঝোতার শেষ বড় প্রচেষ্টাগুলোর একটি চালায়। এই দ্বৈততা ১৭৭৫ সালের পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে—আমেরিকানরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, অথচ তাদের অনেকেই তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ব্রিটিশ পক্ষেও বাঙ্কার হিলের পর দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর হয়। রাজা তৃতীয় জর্জ পরে উপনিবেশগুলোকে বিদ্রোহের অবস্থায় রয়েছে বলে ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে উভয় পক্ষই বুঝতে শুরু করে যে কয়েকটি আইন বাতিল বা রাজনৈতিক আবেদন দিয়ে সংকট শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। লেক্সিংটনের প্রথম গুলি যে দরজা খুলেছিল, বাঙ্কার হিলের রক্তক্ষয় সেই দরজা প্রায় বন্ধ করা অসম্ভব করে তুলেছিল।
বাঙ্কার হিল থেকে কন্টিনেন্টাল আর্মির উত্থানের সময়টি তাই আমেরিকান বিপ্লবের প্রথম কঠিন সামরিক পরীক্ষার অধ্যায়। উপনিবেশবাসীরা প্রমাণ করেছিল যে তারা ব্রিটিশ নিয়মিত সেনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা বুঝেছিল সাহস ও স্থানীয় মিলিশিয়া দিয়ে একটি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধ জেতা যাবে না। প্রয়োজন ছিল একটি কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা, সামরিক শৃঙ্খলা এবং এমন নেতৃত্ব যা পৃথক উপনিবেশের সৈন্যদের একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যের অধীনে আনতে পারে।
বাঙ্কার হিলে ব্রিটিশরা যুদ্ধক্ষেত্র দখল করেছিল, কিন্তু আমেরিকানরা পেয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে রক্তক্ষয়ী মূল্য দিতে বাধ্য করা সম্ভব। আর জর্জ ওয়াশিংটনের হাতে কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ড দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রতিরোধ প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় সামরিক কাঠামো লাভ করে। ১৭৭৫ সালের এই পর্যায়ে আমেরিকানরা তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন জাতি ছিল না; কিন্তু তারা ইতিমধ্যে এমন একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে শুরু করেছিল, যেটিই পরবর্তী আট বছরের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের স্বাধীনতার দাবি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করবে।
ব্ল্যাক ডেথের লক্ষণ ও মৃত্যুর কারণ: প্লেগের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক ইতিহাস
ব্ল্যাক ডেথের বিস্তার: ১৩৪৭–১৩৫৩ সালে ইউরোপে কোটি মানুষের মৃত্যু
কাফা অবরোধ ও ব্ল্যাক ডেথ: ১৩৪৭ সালে জাহাজে ইউরোপে প্লেগের প্রবেশ
ব্ল্যাক ডেথের উৎপত্তি: এশিয়া থেকে ইউরোপে প্লেগ ছড়ানোর ইতিহাস
আমেরিকার গৃহযুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্য, নারী ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা
ভিকসবার্গ অবরোধ: গ্রান্ট কীভাবে কনফেডারেসিকে দুই ভাগ করেছিলেন?