বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’: ৬ আগস্ট ১৯৪৫-এর প্রথম পারমাণবিক হামলার ইতিহাস

সিরিজ: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা

হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’: ৬ আগস্ট ১৯৪৫-এর প্রথম পারমাণবিক হামলার ইতিহাস
৬ আগস্ট ১৯৪৫: হিরোশিমার ধ্বংস

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ভোরে জাপানের হিরোশিমা শহরের অধিকাংশ মানুষ জানতেন না, তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে মানব ইতিহাসের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র। কয়েক মাস ধরে জাপানের শহরগুলো মার্কিন অগ্নিবোমা হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছিল। বিমান হামলার সতর্কসংকেত তাই নগরজীবনের পরিচিত অংশে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেদিন আকাশে বিশাল বোমারু বহর দেখা যায়নি; এসেছিল মাত্র কয়েকটি বিমান। তাদের একটির ভেতরে ছিল “লিটল বয়” নামে একটি ইউরেনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বোমা, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি জীবন্ত শহরকে আগুন, ধ্বংস ও তেজস্ক্রিয়তার পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত করবে।

হিরোশিমা ছিল জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। শহরটিতে দ্বিতীয় জেনারেল আর্মির সদর দপ্তর, সেনাসদস্যদের সমাবেশস্থল, সামরিক সরবরাহকেন্দ্র, অস্ত্রসংক্রান্ত কারখানা, রেলপথ ও বন্দরসুবিধা ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনায় পূর্ণ একটি জনবহুল নগরী। যুদ্ধের শেষ দিকে শহরের জনসংখ্যা হ্রাস পেলেও হামলার সময় সেখানে আনুমানিক ৩ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে জাপানি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্যের পাশাপাশি কোরীয় শ্রমিক, বিদেশি শিক্ষার্থী এবং অল্পসংখ্যক যুদ্ধবন্দীও ছিলেন।

হিরোশিমাকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছিল। শহরটির সামরিক গুরুত্ব ছিল, এর বিস্তৃত সমতল নগরাঞ্চলে বোমার ধ্বংসক্ষমতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব ছিল এবং চারপাশের পাহাড় অভিঘাতের প্রভাব কিছুটা কেন্দ্রীভূত করতে পারত। আরও একটি নিষ্ঠুর বাস্তবতা ছিল—হিরোশিমা তখনও অন্যান্য বড় জাপানি শহরের মতো ব্যাপক অগ্নিবোমা হামলায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়নি। ফলে নতুন অস্ত্রটি কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা পরিমাপের জন্য শহরটি “উপযুক্ত” বলে বিবেচিত হয়। একটি জনবসতিপূর্ণ শহরকে একই সঙ্গে সামরিক লক্ষ্য ও অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছিল।

“লিটল বয়” ছিল প্রায় তিন মিটার দীর্ঘ, প্রায় ৭১ সেন্টিমিটার ব্যাসের এবং চার টনের বেশি ওজনের একটি বোমা। এতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ ব্যবহার করা হয়েছিল। এর “গান-টাইপ” নকশায় প্রচলিত বিস্ফোরকের সাহায্যে একটি ইউরেনিয়াম অংশকে আরেকটির দিকে দ্রুত ঠেলে দিয়ে সংকটমাত্রার ভর তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। তখন শুরু হতো অনিয়ন্ত্রিত নিউক্লীয় শৃঙ্খল বিক্রিয়া। নকশাটি তুলনামূলকভাবে সরল ও নির্ভরযোগ্য মনে হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ বিস্ফোরণ পরীক্ষা ছাড়াই এটিকে যুদ্ধে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রিনিটি পরীক্ষায় যে প্লুটোনিয়ামভিত্তিক ইমপ্লোশন যন্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল, লিটল বয়ের প্রযুক্তি তা থেকে আলাদা ছিল।

বোমাটি প্রশান্ত মহাসাগরের টিনিয়ান দ্বীপে এনে সংযোজন করা হয়। অভিযানের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত বি-২৯ বোমারু বিমান প্রস্তুত ছিল। পাইলট কর্নেল পল টিবেটস বিমানটির নাম রাখেন তাঁর মা এনোলা গে টিবেটসের নামে—“এনোলা গে”। ৬ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটের কাছাকাছি বিমানটি টিনিয়ান থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে টিবেটসসহ ১২ জন ক্রু ছিলেন। বিস্ফোরণের শক্তি ও আলোকচিত্র ধারণের জন্য “দ্য গ্রেট আর্টিস্ট” এবং “নেসেসারি ইভিল” নামে আরও দুটি বি-২৯ অভিযানে অংশ নেয়। তারও আগে তিনটি বিমান হিরোশিমা, কোকুরা ও নাগাসাকির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পাঠানো হয়েছিল।

সকাল ৭টার কিছু পরে হিরোশিমায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজেছিল। কিন্তু অল্পসংখ্যক বিমান দেখা যাওয়ায় বড় আক্রমণের আশঙ্কা কম বলে মনে করা হয় এবং পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। মানুষ কাজে ফিরতে শুরু করেন। ট্রাম চলছিল, দোকান খুলছিল, সরকারি কর্মীরা দপ্তরে যাচ্ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অগ্নিরোধী এলাকা তৈরির জন্য ভবন সরানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। তাঁদের অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন। এই স্বাভাবিক সকালের দৃশ্যই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ বদলে যায়।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী বিমান হিরোশিমার আকাশ পরিষ্কার থাকার খবর পাঠালে শহরটিকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। এনোলা গে প্রায় ৩১ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছে শহরের দিকে এগিয়ে যায়। লক্ষ্য নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা মেজর টমাস ফেরেবি আইওই সেতুকে লক্ষ্যবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করেন। ইংরেজি “টি” অক্ষরের মতো দেখতে সেতুটি আকাশ থেকে সহজে শনাক্ত করা যেত। সকাল ৮টা ১৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের কাছাকাছি লিটল বয়কে বিমান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বোমাটি নিচে পড়তে প্রায় ৪৩ সেকেন্ড সময় নেয়। এ সময় এনোলা গে তীব্র বাঁক নিয়ে বিস্ফোরণস্থল থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।

বোমাটি আইওই সেতুতে আঘাত করেনি। বাতাস ও পতনের গতিপথে কিছুটা সরে এটি শিমা হাসপাতালের কাছাকাছি, ভূমি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়। আকাশে বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য ছিল আগুনের গোলক ও অভিঘাত তরঙ্গকে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া। ইউরেনিয়ামের খুব অল্প অংশ প্রকৃতপক্ষে বিভাজিত হলেও তা থেকে প্রায় ১৫ কিলোটন টিএনটির সমতুল্য শক্তি নির্গত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তীব্র সাদা আলোর ঝলক শহরকে ঢেকে ফেলে। বিস্ফোরণকেন্দ্রের আশপাশে তাপমাত্রা এত দ্রুত বেড়ে যায় যে মানুষ, কাঠের ভবন এবং দাহ্য বস্তু প্রায় একই সঙ্গে আগুনের মুখে পড়ে।

তাপীয় বিকিরণ মানুষের উন্মুক্ত ত্বকে ভয়াবহ দগ্ধ ক্ষত সৃষ্টি করে। হালকা রঙের কাপড় কিছু তাপ প্রতিফলিত করলেও গাঢ় নকশা বেশি তাপ শোষণ করায় অনেকের ত্বকে পোশাকের নকশার মতো দাগ পড়ে যায়। পাথরের সিঁড়ি বা দেয়ালের যেসব অংশ মানুষ কিংবা কোনো বস্তু দ্বারা মুহূর্তের জন্য তাপ থেকে আড়াল হয়েছিল, সেখানে চারপাশের পৃষ্ঠের রং বদলে গিয়ে ছায়ার মতো চিহ্ন তৈরি হয়। এগুলো কোনো মানুষের শরীর “বাষ্প হয়ে যাওয়ার” সরাসরি ছায়া নয়; বরং তীব্র তাপীয় বিকিরণে পৃষ্ঠের পরিবর্তন এবং আড়াল হয়ে থাকা অংশের বৈপরীত্য।

বিস্ফোরণের পরপরই শক্তিশালী অভিঘাত তরঙ্গ শহরের ওপর দিয়ে ছুটে যায়। কেন্দ্রের কাছাকাছি ভবনগুলো ভেঙে পড়ে, কাচের টুকরা মানুষের শরীরে বিদ্ধ হয় এবং ছাদের কাঠামো বাসিন্দাদের ওপর ধসে পড়ে। হিরোশিমার অধিকাংশ বাড়ি কাঠের হওয়ায় অসংখ্য স্থানে আগুন ধরে যায়। বিচ্ছিন্ন আগুন দ্রুত একত্রিত হয়ে বিরাট অগ্নিঝড়ের সৃষ্টি করে। বাতাস আগুনের দিকে প্রবলভাবে ছুটতে থাকে, ফলে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের পক্ষে নিরাপদ পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বিস্ফোরণকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬০ মিটার দূরে অবস্থিত হিরোশিমা প্রিফেকচারাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন হলের কেন্দ্রীয় কাঠামো পুরোপুরি ধসে না পড়লেও এর ভেতরের মানুষ নিহত হন। ভবনটি বিস্ফোরণের প্রায় সরাসরি নিচে থাকায় অভিঘাত আংশিকভাবে ওপর থেকে নেমে আসে এবং এর ইস্পাতের গম্বুজের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে এটি পারমাণবিক বোমা গম্বুজ নামে পরিচিত হয়ে হিরোশিমার ধ্বংস ও শান্তির অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়।

বিস্ফোরণের পর বেঁচে যাওয়া মানুষেরা পোড়া ত্বক, রক্তাক্ত শরীর এবং ছিন্ন পোশাক নিয়ে নদী ও খালের দিকে এগিয়ে যান। অসংখ্য মানুষ শুধু “পানি” চাইছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল, চিকিৎসক, সেবিকা ও ওষুধ—সবকিছুই একই হামলায় বিপর্যস্ত হয়েছিল। হিরোশিমার চিকিৎসাকর্মীদের বড় অংশ নিহত বা আহত হওয়ায় উদ্ধারব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। শহরের বাইরে থেকে সাহায্য আসতে সময় লাগে, আর আগত উদ্ধারকারীদের অনেকেই বুঝতে পারেননি যে তাঁরা তেজস্ক্রিয় পরিবেশে প্রবেশ করছেন।

বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া, ছাই, ধ্বংসাবশেষ ও জলীয় বাষ্প আকাশে উঠে পরে কিছু এলাকায় গাঢ়, আঠালো “কালো বৃষ্টি” হিসেবে নেমে আসে। এতে ময়লা ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশে ছিল। তৃষ্ণার্ত মানুষ কেউ কেউ সেই পানি পান করেছিলেন। তখন তেজস্ক্রিয়তার বিপদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা ছিল না। বাইরে থেকে তুলনামূলক সুস্থ বলে মনে হওয়া অনেকে কয়েক দিন পর জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, চুল পড়া, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ এবং শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটি ছিল তীব্র বিকিরণজনিত অসুস্থতা।

হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছিলেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন। জনসংখ্যার অসম্পূর্ণ নথি, সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী মাসগুলোতে আঘাত ও বিকিরণে মৃত্যু—সব মিলিয়ে হিসাব ভিন্ন হয়েছে। ধারণা করা হয়, বিস্ফোরণের দিনই কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছায়। নিহতদের অধিকাংশ ছিলেন বেসামরিক মানুষ। জাপানের উপনিবেশিক শাসনে সেখানে আনা বা কাজ করতে বাধ্য হওয়া কয়েক হাজার কোরীয়ও নিহত হন। শিশুশ্রমিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চিকিৎসাকর্মী, বৃদ্ধ এবং ঘরে থাকা পরিবার—বোমাটি কাউকেই আলাদা করেনি।

দীর্ঘমেয়াদে বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে লিউকেমিয়া ও কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকে পোড়া ক্ষত থেকে কেলয়েডে আক্রান্ত হন, দীর্ঘ চিকিৎসা সহ্য করেন এবং মানসিক আঘাত নিয়ে জীবন কাটান। জাপানে তাঁদের বলা হয় হিবাকুশা, অর্থাৎ বিস্ফোরণে আক্রান্ত মানুষ। কিন্তু সহানুভূতির পাশাপাশি তাঁরা কর্মসংস্থান ও বিয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যেরও শিকার হন। বিকিরণের প্রভাব বংশানুক্রমে অনিবার্যভাবে ছড়ায়—এমন ভুল ভয় সমাজে তাঁদের আরও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এনোলা গের ক্রুরা বিস্ফোরণের আলোকঝলক দেখার পর দুটি শক্তিশালী অভিঘাত অনুভব করেন। তাঁদের পেছনে দ্রুত উঁচু হয়ে ওঠে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষের বিরাট মেঘ। অভিযান সামরিকভাবে সফল বলে ঘোষণা করা হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান বিশ্বকে জানান যে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন ধরনের বোমা ব্যবহার করেছে এবং জাপান পটসডামের শর্ত না মানলে আরও ধ্বংস নেমে আসবে। কিন্তু হিরোশিমার মাটিতে তখন নতুন অস্ত্রের প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামই ছিল একমাত্র বাস্তবতা।

হিরোশিমার হামলা ছিল যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের ঘটনা এবং মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি মৌলিক সীমারেখা। এটি জাপানের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে বেসামরিক নগরীতে এমন অস্ত্র ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে স্থায়ী বিতর্ক সৃষ্টি করে। ৬ আগস্ট ১৯৪৫-এর সকাল দেখিয়ে দিয়েছিল, একটি মাত্র বোমা কয়েক সেকেন্ডে শহরের ভৌত কাঠামো ধ্বংস করার পাশাপাশি বহু প্রজন্মের স্মৃতি, স্বাস্থ্য ও মনোজগৎকে ক্ষতবিক্ষত করতে পারে। হিরোশিমার ইতিহাস তাই শুধু যুদ্ধের সমাপ্তির কাহিনি নয়; এটি বিজ্ঞান, রাষ্ট্রশক্তি এবং মানুষের তৈরি ধ্বংসক্ষমতার বিরুদ্ধে এক অনন্ত সতর্কবার্তা।


আপনার পছন্দ হতে পারে