কোরীয় যুদ্ধের পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরিয়া কেন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়েছিল?
সিরিজ: কোরীয় যুদ্ধ
৩৮তম সমান্তরালে বিভক্ত কোরিয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি রাষ্ট্র ছিল না। ভাষা, সংস্কৃতি ও দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে যুক্ত কোরীয় উপদ্বীপ বহু শতাব্দী ধরে একটি রাজনৈতিক ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ১৯৪৫ সালে জাপানি সাম্রাজ্যের পতনের পর বিজয়ী পরাশক্তিগুলোর নেওয়া কয়েকটি দ্রুত সিদ্ধান্ত, কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত এবং ক্রমবর্ধমান স্নায়ুযুদ্ধ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিকে স্থায়ী বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। কোরিয়ার বিভক্তি তাই কোরীয় জনগণের পরিকল্পিত কোনো জাতীয় সিদ্ধান্ত ছিল না; এটি মূলত আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতা ও অসম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতার ফল।
উনিশ শতকের শেষভাগে কোরিয়াকে ঘিরে চীন, জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৯০৫ সালে রুশ-জাপান যুদ্ধে জাপানের বিজয়ের পর কোরিয়া কার্যত জাপানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ১৯১০ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে কোরিয়াকে নিজ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তী পঁয়ত্রিশ বছর কোরীয়দের জন্য ছিল রাজনৈতিক দমন, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় রক্ষার কঠিন সময়। জাপানি কর্তৃপক্ষ কোরীয় ভাষা ও ইতিহাসের ব্যবহার সীমিত করে, ভূমি ও শিল্পসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং অসংখ্য কোরীয়কে শ্রম ও সামরিক কাজে বাধ্য করে। ১৯১৯ সালের প্রথম মার্চের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্রতিরোধ প্রচেষ্টা নির্মমভাবে দমন করা হলেও স্বাধীন কোরিয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনো বিলীন হয়নি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মিত্রশক্তি কোরিয়াকে জাপানি শাসন থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ১৯৪৩ সালের কায়রো ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীন জানায় যে “যথাসময়ে” কোরিয়া স্বাধীন হবে। এই অস্পষ্ট শব্দবন্ধের অর্থ ছিল, জাপানের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে কোরীয়দের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা হচ্ছিল। মিত্রনেতাদের একটি অংশ মনে করতেন, দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পর কোরিয়াকে স্বশাসনের জন্য প্রস্তুত করতে কিছু সময় লাগবে। কিন্তু কোরীয় স্বাধীনতাকামীরা এই ধারণাকে অপমানজনক বলে মনে করতেন।
১৯৪৫ সালের আগস্টে পরিস্থিতি অকস্মাৎ বদলে যায়। যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা করার পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন ৮ আগস্ট জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশ করে। সোভিয়েত বাহিনী দ্রুত মাঞ্চুরিয়া অতিক্রম করে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অগ্রসর হতে শুরু করে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে সোভিয়েত সেনারা পুরো কোরিয়া দখল করে ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের দুই কর্মকর্তা—ডিন রাস্ক ও চার্লস বোনস্টিল—অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে কোরিয়াকে সাময়িকভাবে দুই দখল অঞ্চলে ভাগ করার একটি রেখা নির্ধারণ করেন।
তাঁরা মানচিত্রে ৩৮তম সমান্তরাল রেখা বেছে নেন। এর উত্তরে জাপানি সেনাদের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে সেই দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। রেখাটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক সুবিধার পাশাপাশি সিউলকে মার্কিন অঞ্চলে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিস্ময়করভাবে সোভিয়েত সরকার এই প্রস্তাব মেনে নেয়। তখন এই বিভাজনকে স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে কল্পনা করা হয়নি; উদ্দেশ্য ছিল জাপানি বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ ও আত্মসমর্পণ পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা। কিন্তু অস্থায়ী রেখাটিই পরবর্তী সময়ে দুটি বিরোধী রাষ্ট্রের সীমানায় পরিণত হয়।
১৯৪৫ সালের আগস্টে সোভিয়েত বাহিনী উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বরে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণে পৌঁছায়। জাপানের পরাজয়ে কোরীয় জনগণ স্বাধীনতার আনন্দে রাস্তায় নেমেছিল। দেশজুড়ে স্থানীয় গণকমিটি গঠিত হয় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু হয়। জাতীয়তাবাদী, সমাজতন্ত্রী, কমিউনিস্ট ও মধ্যপন্থী নেতারা ভবিষ্যৎ কোরিয়ার কাঠামো নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু দখলদার দুই শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা গড়তে শুরু করে। একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ কোরিয়া প্রতিষ্ঠার সুযোগ ক্রমেই মার্কিন-সোভিয়েত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।
উত্তরে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ জাপানি প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে স্থানীয় কমিউনিস্ট ও বামপন্থীদের সহযোগিতায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। জাপানি মালিকানাধীন শিল্পকারখানা জাতীয়করণ এবং বৃহৎ ভূসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের মতো ব্যাপক সংস্কার চালু হয়। সোভিয়েত সমর্থনে কিম ইল-সুং ক্রমে উত্তরাঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন। জাপানবিরোধী গেরিলা সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং সোভিয়েত পৃষ্ঠপোষকতা তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর প্রাধান্য দেয়। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কার্যক্রম সীমিত করা হয় এবং উত্তরাঞ্চল ধীরে ধীরে একটি কেন্দ্রীভূত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোয়।
দক্ষিণে মার্কিন সামরিক সরকার শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ভাষা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে তারা শুরুতে জাপানি আমলের অনেক কোরীয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যকে কাজে রাখে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, কারণ তাঁদের অনেককেই জাপানি শাসনের সহযোগী হিসেবে দেখা হতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষ কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকাতে দক্ষিণপন্থী ও রক্ষণশীল শক্তির ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করা প্রবল কমিউনিস্টবিরোধী নেতা সিংমান রি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে দক্ষিণের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে বামপন্থী সংগঠন ও অনেক স্থানীয় গণকমিটি দমন করা হয়, যার ফলে ধর্মঘট, বিদ্রোহ ও সহিংস রাজনৈতিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের মস্কো সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কোরিয়ায় একটি যৌথ কমিশন গঠন এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে। উদ্দেশ্য ছিল একটি অস্থায়ী কোরীয় সরকার তৈরি করে পরে স্বাধীনতা দেওয়া। কিন্তু তত্ত্বাবধানের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় কোন কোরীয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে যৌথ কমিশন আলোচনা করবে তা নিয়ে। সোভিয়েত পক্ষ তত্ত্বাবধানের বিরোধী সংগঠনগুলোকে আলোচনার বাইরে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত মানেনি। ফলে কমিশনের আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়।
এ সময় ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তার, ট্রুম্যান নীতি এবং বিশ্বব্যাপী কমিউনিজমবিরোধী মার্কিন অবস্থানের কারণে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। কোরিয়াও স্নায়ুযুদ্ধের নতুন সংঘাতক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঐক্যবদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৭ সালে কোরিয়া প্রশ্নটি জাতিসংঘে তোলে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সমগ্র কোরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করতে দেয়নি। ফলে নির্বাচন কেবল দক্ষিণেই অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ তৈরি হয়।
১৯৪৮ সালের ১০ মে দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিভাজনের বিরোধী বহু রাজনীতিক এতে অংশ নেননি এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও সহিংসতা দেখা দেয়। নির্বাচনের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়; সিংমান রি হন এর প্রথম রাষ্ট্রপতি। এর প্রতিক্রিয়ায় উত্তরাঞ্চলে পৃথক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৯ সেপ্টেম্বর কোরীয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী, অর্থাৎ উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়; কিম ইল-সুং হন সরকারপ্রধান। উভয় সরকারই নিজেদের সমগ্র কোরিয়ার একমাত্র বৈধ সরকার বলে দাবি করে এবং অন্য পক্ষকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৪৮ সালের শেষ নাগাদ সোভিয়েত বাহিনীর অধিকাংশ এবং ১৯৪৯ সালের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধসেনাদের প্রধান অংশ কোরিয়া ছেড়ে যায়। কিন্তু তারা পেছনে রেখে যায় দুটি পৃথক রাষ্ট্র, দুটি বিপরীত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং পরস্পরবিরোধী দুটি সেনাবাহিনী। ৩৮তম সমান্তরাল এলাকায় সীমান্তসংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ ও পাল্টা আক্রমণ বাড়তে থাকে। দক্ষিণে ইয়োসু-সুনচন বিদ্রোহ ও জেজু দ্বীপের সংঘাতসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়। উত্তরে বিরোধীদের দমন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ অব্যাহত থাকে। বিভাজন তখন আর শুধু বিদেশি বাহিনীর আঁকা রেখা ছিল না; সেটি কোরীয় সমাজের ভেতরেও গভীর রাজনৈতিক ক্ষত সৃষ্টি করেছিল।
দুই কোরিয়ার নেতৃত্বই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবর্তে নিজেদের অধীনে জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ কামনা করত। কিম ইল-সুং সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন এবং চীনা নেতৃত্বের কাছে দক্ষিণে সামরিক অভিযান চালানোর সমর্থন চাইতে থাকেন। অন্যদিকে সিংমান রিও প্রকাশ্যে উত্তরাঞ্চল পুনর্দখলের কথা বলতেন, যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা তখন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। সীমান্তে শত শত সংঘর্ষের পর ১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়ার বাহিনী ব্যাপক আকারে ৩৮তম সমান্তরাল অতিক্রম করে দক্ষিণে আক্রমণ চালায়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ।
অতএব, কোরিয়ার বিভক্তিকে শুধু ১৯৫০ সালের আক্রমণের আলোকে বোঝা যথেষ্ট নয়। এর শিকড় ছিল জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন, মুক্তির পর ক্ষমতার শূন্যতা, কোরীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক বিরোধ, ৩৮তম সমান্তরালে বিদেশি সামরিক দখল এবং যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত স্নায়ুযুদ্ধের সংঘাতে। যে রেখা ১৯৪৫ সালে সামরিক আত্মসমর্পণ পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে আঁকা হয়েছিল, মাত্র তিন বছরের মধ্যে সেটিই দুটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমান্ত হয়ে দাঁড়ায়। এই অপরিকল্পিত বিভাজনই শেষ পর্যন্ত এমন এক যুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করে, যা লাখো মানুষের জীবন কেড়ে নেয় এবং কোরীয় উপদ্বীপকে আজও অসমাপ্ত সংঘাতের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছে।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দাসবাণিজ্য: চিনি ও দাসশ্রম যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে সমৃদ্ধ করেছিল
উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার: জেমসটাউন থেকে তেরো উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূচনা: সমুদ্রবাণিজ্য, নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার ইতিহাস
কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের অবসান: ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহার, হটলাইন ও নতুন পারমাণবিক কূটনীতি
ব্ল্যাক স্যাটারডে: ইউ-২ ধ্বংস, তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ও কেনেডি-ক্রুশ্চেভ সমঝোতা
কেনেডির নৌ অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মুখোমুখি অবস্থান: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী