কেনেডির নৌ অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মুখোমুখি অবস্থান: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী
সিরিজ: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট
ক্যারিবীয় সাগরে থমকে দাঁড়িয়েছিল পৃথিবীর ভবিষ্যৎ
১৯৬২ সালের ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যখন টেলিভিশনের সামনে বসেছিল, তখন তাদের অধিকাংশই জানত না যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাবে। পর্দায় আবির্ভূত হয়ে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি জানান, কিউবায় সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে আক্রমণাত্মক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণ করছে। তিনি ঘোষণা করেন, দ্বীপটিতে আরও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি কঠোর নৌঘেরাও আরোপ করবে। কেনেডির সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে এত দিন গোপনে চলা সংকট প্রকাশ্য যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নেয়।
কেনেডি প্রশাসনের কাছে সামরিক অভিযান থেকে কূটনৈতিক প্রতিবাদ পর্যন্ত নানা বিকল্প ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতাদের অনেকে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে আকস্মিক বিমান হামলা এবং প্রয়োজনে কিউবা আক্রমণের পক্ষে ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু কেনেডি বুঝেছিলেন, বিনা সতর্কতায় বিমান হামলা চালালে সেটি যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। কিউবায় অবস্থানরত সোভিয়েত সেনারা নিহত হলে মস্কো পশ্চিম বার্লিন বা ইউরোপের অন্য কোথাও পাল্টা আঘাত হানতে পারত। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল—একটি হামলায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেনি।
অন্যদিকে শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নির্মাণ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পেয়ে যেতেন। তাই কেনেডি এমন একটি ব্যবস্থা বেছে নেন, যা তাৎক্ষণিক আক্রমণের চেয়ে কম উসকানিমূলক, কিন্তু নিছক প্রতিবাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সিদ্ধান্তটি ছিল কিউবাগামী আক্রমণাত্মক অস্ত্রবাহী জাহাজ থামিয়ে তল্লাশি করা। একে সাধারণ অর্থে নৌ অবরোধ বলা হলেও প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে “কোয়ারেন্টিন” বা সামুদ্রিক নিরোধ শব্দটি ব্যবহার করেছিল। কারণ আন্তর্জাতিক আইনে অবরোধকে যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হতে পারত।
ভাষণে কেনেডি শুধু নিরোধের ঘোষণা দেননি; তিনি দাবি করেছিলেন, কিউবায় থাকা সব আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে হবে। কিউবা থেকে পশ্চিম গোলার্ধের কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সোভিয়েত আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়, কিউবার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয় এবং গুয়ানতানামো উপসাগরের মার্কিন ঘাঁটি থেকে অপ্রয়োজনীয় বেসামরিক মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়।
কেনেডির ভাষণ সোভিয়েত নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত করে দেয়। ক্রুশ্চেভ মার্কিন পদক্ষেপকে জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনা করেন এবং ঘোষণা করেন, সোভিয়েত জাহাজ বৈধ আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল অব্যাহত রাখবে। মস্কো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করলেও সেগুলোর উপস্থিতি আর অস্বীকার করার সুযোগ ছিল না। মার্কিন সরকার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গোয়েন্দা আলোকচিত্র উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেয় এবং লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন অর্জন করে। এর ফলে নৌঘেরাওকে শুধু একতরফা মার্কিন ব্যবস্থা না দেখিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হয়।
২৪ অক্টোবর সকাল থেকে নৌ নিরোধ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, বিমানবাহী জাহাজ ও নজরদারি বিমান ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয়। কিউবার দিকে এগিয়ে আসছিল একাধিক সোভিয়েত জাহাজ, যেগুলোর কিছুতে সামরিক সরঞ্জাম থাকার সন্দেহ ছিল। সেই মুহূর্তে পৃথিবীর উদ্বেগ কেন্দ্রীভূত হয়েছিল সমুদ্রের একটি অদৃশ্য রেখায়। কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ যদি সোভিয়েত জাহাজে গুলি চালাত, অথবা সোভিয়েত নাবিকেরা বাধা অমান্য করে প্রতিরোধ করত, তবে একটি স্থানীয় সংঘর্ষ দ্রুত দুই পারমাণবিক পরাশক্তির যুদ্ধে পরিণত হতে পারত।
সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে কেনেডি নৌবাহিনীকে অত্যন্ত সতর্ক নির্দেশনা দেন। সন্দেহভাজন জাহাজকে প্রথমে পরিচয় ও গন্তব্য জানাতে বলা হবে; এরপর গতিপথ পরিবর্তনের সংকেত দেওয়া হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবশেষে জাহাজ থামানোর চেষ্টা করা হবে। ওয়াশিংটনের বেসামরিক নেতৃত্ব চাইছিল, কোনো তরুণ নৌ কর্মকর্তা যেন ভুল বোঝাবুঝি বা অতিরিক্ত উৎসাহে এমন সিদ্ধান্ত না নেন, যার পরিণতিতে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
২৪ অক্টোবর সকালে সংবাদ আসে, কোয়ারেন্টিন রেখার দিকে এগিয়ে আসা কয়েকটি সোভিয়েত জাহাজ গতি কমিয়েছে বা পথ পরিবর্তন করেছে। সোভিয়েত তেলবাহী জাহাজ বুখারেস্ট অবশ্য এগিয়ে যেতে থাকে। সেটিতে নিষিদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম নেই বলে ধারণা করায় মার্কিন নৌবাহিনী তাকে যেতে দেয়। অন্যদিকে সামরিক মালামাল বহনের সন্দেহে থাকা কয়েকটি জাহাজ কিউবার দিকে অগ্রসর না হয়ে ফিরে যায় বা অপেক্ষা করতে শুরু করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিন রাস্ক সেই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তকে বোঝাতে বলেছিলেন, দুই পক্ষ যেন চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে ছিল এবং প্রতিপক্ষই প্রথম চোখের পলক ফেলেছিল।
কিন্তু সোভিয়েত জাহাজের ফিরে যাওয়া সংকটের সমাধান করেনি। কিউবায় ইতিমধ্যে পৌঁছে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্মাণ দ্রুতগতিতে চলছিল। নতুন ইউ-২ আলোকচিত্রে দেখা যায়, কয়েকটি ঘাঁটি কার্যকর হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ নৌ নিরোধ নতুন অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে পারলেও দ্বীপে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণ করতে পারছিল না। কেনেডির সামনে তখনো বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণের বিকল্প খোলা ছিল। সামরিক কর্তারা সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছিলেন এবং বিপুলসংখ্যক সেনাকে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে মোতায়েন করা হচ্ছিল।
এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিমান কমান্ডকে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ডেফকন-২-এ নেওয়া হয়। এটিই ছিল মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবার এই স্তরের প্রস্তুতি। পারমাণবিক অস্ত্রবাহী বি-৫২ বোমারু বিমান সারাক্ষণ আকাশে টহল দিতে থাকে, অন্য বোমারুগুলো দ্রুত উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত রাখা হয় এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় যায়। সোভিয়েত গোয়েন্দাদের কাছে এই প্রস্তুতি গোপন রাখা হয়নি; বরং ওয়াশিংটন চাইছিল মস্কো উপলব্ধি করুক যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে পারমাণবিক যুদ্ধেও যেতে প্রস্তুত।
এই শক্তি প্রদর্শন ভয়ংকর ঝুঁকিও তৈরি করেছিল। হাজার হাজার সামরিক সদস্য, অসংখ্য বিমান, জাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে প্রস্তুত থাকায় দুর্ঘটনা, ভুল সংকেত কিংবা ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তখন দুই দেশের নেতার মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের কোনো সরাসরি টেলিফোন ব্যবস্থা ছিল না। কূটনৈতিক বার্তা দূতাবাস, বেতার সম্প্রচার ও লিখিত চিঠির মাধ্যমে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত। ফলে একটি পক্ষের পদক্ষেপ অন্য পক্ষের কাছে আক্রমণের প্রস্তুতি বলে মনে হলে দ্রুত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ খুব সীমিত ছিল।
২৫ অক্টোবর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যাডলাই স্টিভেনসন সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরিয়ান জরিনকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না। জরিন উত্তর এড়ালে স্টিভেনসন বলেন, উত্তরের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। এরপর মার্কিন প্রতিনিধি দল আকাশ থেকে তোলা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আলোকচিত্র প্রকাশ করে। এই নাটকীয় উপস্থাপন আন্তর্জাতিক জনমতের সামনে সোভিয়েত গোপন মোতায়েনের প্রমাণ তুলে ধরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
একই দিনে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি সোভিয়েত ভাড়াকরা পণ্যবাহী জাহাজ মারুক্লাকে থামিয়ে তল্লাশি করে। জাহাজটিতে নিষিদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি এবং সেটিকে কিউবার দিকে যেতে দেওয়া হয়। এ ঘটনা দেখায়, নৌ নিরোধ বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে; একই সঙ্গে উভয় পক্ষ তখনো সরাসরি সহিংসতা এড়াতে চাইছিল। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে আরেকটি অদৃশ্য বিপদ ঘনীভূত হচ্ছিল—কিউবার দিকে থাকা সোভিয়েত সাবমেরিনগুলোর কয়েকটি পারমাণবিক টর্পেডো বহন করছিল। মার্কিন নৌবাহিনী সে তথ্য জানত না।
ক্রুশ্চেভ ও কেনেডি উভয়েই প্রতিপক্ষকে চাপ দিতে চাইছিলেন, কিন্তু কেউই নিশ্চিত ছিলেন না অন্যজন কত দূর যেতে প্রস্তুত। মস্কো মনে করছিল, কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র বসানো তুরস্ক ও ইতালিতে থাকা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব এবং কিউবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ওয়াশিংটনের চোখে এটি ছিল গোপনে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সতর্কতার প্রতি চ্যালেঞ্জ। দুই পক্ষই নিজেদের পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রতিপক্ষের পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখছিল। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসই সংকটকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
নৌ নিরোধ কেনেডিকে মূল্যবান সময় এনে দিয়েছিল। এটি সোভিয়েত জাহাজ থামিয়ে দেয়, মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখে এবং তাৎক্ষণিক বিমান হামলা এড়িয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যকারিতা কমছিল, কারণ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছিল। প্রতিটি নতুন গোয়েন্দা ছবি ও সামরিক প্রতিবেদন সিদ্ধান্তের সময়সীমা সংকুচিত করছিল। যদি ক্রুশ্চেভ অস্ত্র প্রত্যাহারে রাজি না হতেন, তবে কেনেডিকে কয়েক দিনের মধ্যেই সামরিক পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রবল চাপের মুখে পড়তে হতো।
অক্টোবরের সেই দিনগুলোতে ক্যারিবীয় সাগরে একটি গুলিও ছোড়া না হলেও পৃথিবী কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। আকাশে পারমাণবিক বোমারু বিমান, সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন, কিউবায় প্রস্তুত হতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই রাজধানীতে উদ্বিগ্ন নেতারা—সবকিছু একটি ভুল সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। কেনেডির নৌ নিরোধ প্রথম সংঘর্ষ সাময়িকভাবে ঠেকিয়েছিল, কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে এমন এক সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছিল, যেখানে সামান্য ভুলও মানবসভ্যতার জন্য অপরিবর্তনীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।
মহামন্দা ও নাৎসি পার্টির উত্থান: বেকারত্ব কীভাবে হিটলারের জনসমর্থন বাড়িয়েছিল?
অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টির উত্থান: বিয়ার হল পুটশ থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি: ভার্সাই চুক্তি, অর্থনৈতিক সংকট ও নাৎসিবাদের উত্থান
হারাল্ড হার্ডরাডা ও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের যুদ্ধ: ১০৬৬ সালে কীভাবে শেষ হয়েছিল ভাইকিং যুগ?
সোয়েন ফর্কবিয়ার্ড ও কনুট দ্য গ্রেট: ভাইকিংরা কীভাবে ইংল্যান্ড জয় করে উত্তর সাগরীয় সাম্রাজ্য গড়েছিল?
ভাইকিংদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ: নর্স দেবতাদের যুগ কীভাবে শেষ হয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় নতুন রাজতন্ত্রের উত্থান ঘটেছিল?