বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ব্ল্যাক স্যাটারডে: ইউ-২ ধ্বংস, তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ও কেনেডি-ক্রুশ্চেভ সমঝোতা

সিরিজ: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট

ব্ল্যাক স্যাটারডে: ইউ-২ ধ্বংস, তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ও কেনেডি-ক্রুশ্চেভ সমঝোতা
যে গোপন সমঝোতা পৃথিবীকে পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়েছিল

১৯৬২ সালের ২৭ অক্টোবর ছিল কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিন। ইতিহাসে দিনটি “ব্ল্যাক স্যাটারডে” বা “কালো শনিবার” নামে পরিচিত। কিউবার আকাশে একটি মার্কিন ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান ধ্বংস করা হয়, আরেকটি ইউ-২ ভুল করে সোভিয়েত আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে, ক্যারিবীয় সাগরের গভীরে একটি সোভিয়েত সাবমেরিন প্রায় পারমাণবিক টর্পেডো নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল এবং ওয়াশিংটনে কিউবা আক্রমণের প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছিল। একই সময়ে কেনেডি ও ক্রুশ্চেভ প্রকাশ্য হুমকির আড়ালে এমন এক গোপন সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীকে পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করে।

আগের দিন, ২৬ অক্টোবর, নিকিতা ক্রুশ্চেভ জন এফ. কেনেডির কাছে একটি দীর্ঘ ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছিলেন। আবেগপূর্ণ ভাষায় লেখা সেই চিঠিতে তিনি মূলত একটি বিনিময়ের প্রস্তাব দেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবা আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা দেয় এবং নৌ নিরোধ প্রত্যাহার করে, তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরিয়ে নেবে। চিঠির ভাষা থেকে মনে হচ্ছিল, ক্রুশ্চেভ দ্রুত সংকট শেষ করতে আগ্রহী। কেনেডির উপদেষ্টাদের অনেকেই এটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখেছিলেন।

কিন্তু ২৭ অক্টোবর মস্কো থেকে আরেকটি, অনেক কঠোর বার্তা আসে। এতে ক্রুশ্চেভ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর বিনিময়ে তুরস্কে মোতায়েন করা মার্কিন জুপিটার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের প্রকাশ্য দাবি জানান। তুরস্ক ছিল উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার সদস্য এবং সোভিয়েত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। সেখানে থাকা জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র সোভিয়েত ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারত। ক্রুশ্চেভের যুক্তি ছিল স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র নিজের সীমান্তের কাছে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র মেনে না নিলে সোভিয়েত ইউনিয়নেরও তুরস্কে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মেনে নেওয়ার কথা নয়।

দুটি বার্তার ভিন্ন ভাষা ও দাবি হোয়াইট হাউসকে বিভ্রান্ত করে। প্রথমটি যেন চাপের মধ্যে থাকা ক্রুশ্চেভের ব্যক্তিগত আবেদন, আর দ্বিতীয়টি ছিল সোভিয়েত সরকারের কঠোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান। কেনেডির উপদেষ্টারা আশঙ্কা করেন, মস্কোয় সামরিকপন্থীরা ক্রুশ্চেভের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে অথবা সোভিয়েত নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাস্তবে ক্রুশ্চেভই উভয় বার্তার অনুমোদন দিয়েছিলেন, তবে দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে তিনি তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র প্রশ্নটিকে সমঝোতার অংশ করতে চেয়েছিলেন।

কূটনৈতিক বিভ্রান্তির মধ্যেই কিউবার আকাশে বিপর্যয় ঘটে। ২৭ অক্টোবর সকালে মেজর রুডলফ অ্যান্ডারসন একটি ইউ-২ বিমান নিয়ে কিউবার সামরিক স্থাপনাগুলোর ছবি তুলছিলেন। বানেস এলাকার কাছে সোভিয়েত এস-৭৫ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর বিমানটিতে আঘাত করে। বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং অ্যান্ডারসন নিহত হন। সংকটে এটিই ছিল শত্রুপক্ষের আঘাতে কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যের প্রথম মৃত্যু। মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা অনুসারে এমন আক্রমণের জবাবে সংশ্লিষ্ট বিমানবিধ্বংসী ঘাঁটিতে হামলা চালানোর কথা ছিল।

হোয়াইট হাউসের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রবল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সামরিক কর্মকর্তারা দ্রুত পাল্টা হামলার পক্ষে চাপ দেন। তাঁদের মতে, প্রতিক্রিয়া না দেখালে সোভিয়েত ও কিউবান বাহিনী আরও সাহসী হয়ে উঠবে এবং পরবর্তী নজরদারি বিমানও ধ্বংস করবে। কিন্তু কেনেডি তাৎক্ষণিক আক্রমণের অনুমতি দেননি। তিনি জানতেন না, ইউ-২ ধ্বংসের নির্দেশ মস্কো দিয়েছে, কিউবান নেতৃত্ব দিয়েছে, নাকি স্থানীয় সোভিয়েত কমান্ডার নিজের সিদ্ধান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন। পরে জানা যায়, স্থানীয় সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই বিমানটিতে হামলা হয়েছিল; ক্রুশ্চেভ বা মস্কোর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সরাসরি নির্দেশ দেয়নি।

কেনেডির সংযম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি সঙ্গে সঙ্গে বিমান হামলার অনুমতি দিতেন, কিউবায় অবস্থানরত সোভিয়েত বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ করত। সংঘর্ষে সোভিয়েত সেনা নিহত হলে মস্কোর জন্য নীরব থাকা কঠিন হয়ে যেত। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তখনো জানত না যে কিউবায় স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রও উপস্থিত ছিল। মার্কিন বাহিনী দ্বীপে আক্রমণ করলে সেগুলো অবতরণকারী সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারত। একটি ইউ-২ বিমান ধ্বংস হওয়া থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়া মোটেই অসম্ভব ছিল না।

সেদিন আরেকটি ইউ-২ বিমান উত্তর মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে নমুনা সংগ্রহের অভিযানে গিয়ে পথ হারিয়ে সোভিয়েত আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সোভিয়েত যুদ্ধবিমান সেটিকে বাধা দেওয়ার জন্য উড্ডয়ন করে এবং মার্কিন এফ-১০২ যুদ্ধবিমান তাকে রক্ষার প্রস্তুতি নেয়। এসব মার্কিন বিমানে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। সৌভাগ্যক্রমে ইউ-২ বিমানটি নিরাপদে সোভিয়েত আকাশসীমা ছেড়ে ফিরে আসে। মস্কোর কাছে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নজরদারি বা সম্ভাব্য আক্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি বলেও মনে হতে পারত।

ক্যারিবীয় সাগরের নিচে এর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটছিল। মার্কিন নৌবাহিনী সোভিয়েত বি-৫৯ সাবমেরিনকে পানির ওপরে উঠতে বাধ্য করার জন্য প্রশিক্ষণমূলক সংকেত গভীরতা বোমা ফেলছিল। মার্কিন নাবিকেরা জানতেন না, সাবমেরিনটি একটি পারমাণবিক টর্পেডো বহন করছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ভেতরে প্রচণ্ড গরম, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছিল। সাবমেরিনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেন, হয়তো ওপরের পৃথিবীতে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

বি-৫৯-এর অধিনায়ক ভ্যালেন্তিন সাভিৎস্কি পারমাণবিক টর্পেডো ব্যবহারের কথা বিবেচনা করেন। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এমন অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য সাবমেরিনের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সম্মতি প্রয়োজন ছিল। সাভিৎস্কি ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা সম্মতির দিকে এগোলেও বহরের চিফ অব স্টাফ ভাসিলি আরখিপভ আপত্তি জানান। তিনি সাবমেরিনটিকে ওপরে উঠে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পক্ষে অবস্থান নেন। শেষ পর্যন্ত টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়নি। আরখিপভের শান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভবত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে পারমাণবিক আঘাত এবং তার পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধ ঠেকিয়ে দিয়েছিল।

এসব ঘটনার খবরের সবটুকু কেনেডি বা ক্রুশ্চেভের কাছে তখন পৌঁছায়নি। তাঁরা প্রত্যেকে ভাবছিলেন, প্রতিপক্ষের সামরিক কার্যকলাপ কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। বাস্তবে বহু অস্ত্র, সেনা ও কর্মকর্তা এমন পরিবেশে কাজ করছিলেন, যেখানে যোগাযোগ ধীর, তথ্য অসম্পূর্ণ এবং ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা প্রবল ছিল। ব্ল্যাক স্যাটারডের প্রকৃত বিপদ এখানেই—পারমাণবিক যুদ্ধ শুধু নেতাদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তে নয়, স্থানীয় কমান্ডারের ভুল মূল্যায়ন বা প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনাতেও শুরু হতে পারত।

দুপুরের বৈঠকে কেনেডির নির্বাহী কমিটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল গ্রহণ করে। তারা ক্রুশ্চেভের কঠোর দ্বিতীয় বার্তার প্রকাশ্য তুরস্ক-দাবি উপেক্ষা করে আগের দিনের নরম প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকাশ্য উত্তরে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরিয়ে নিলে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা যাচাই করতে দিলে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার নৌ নিরোধ তুলে নেবে এবং দ্বীপটিতে আক্রমণ না করার অঙ্গীকার করবে। এতে সম্মানজনক প্রকাশ্য সমাধানের পথ তৈরি হয়।

কিন্তু তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র প্রশ্নটি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়নি। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি ওয়াশিংটনে সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত আনাতোলি দোব্রিনিনের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে কিউবার ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের চুক্তি করবে না। তাতে উত্তর আটলান্টিক জোট দুর্বল দেখাবে এবং সোভিয়েত চাপের কাছে নতি স্বীকারের ধারণা সৃষ্টি হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই পুরোনো ও সামরিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়া জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর কথা ভাবছিল এবং সংকট মিটলে কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে।

রবার্ট কেনেডি স্পষ্ট করে দেন, এই সমঝোতা সম্পূর্ণ গোপন থাকতে হবে এবং সোভিয়েত সরকার প্রকাশ্যে একে বিনিময় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, দ্রুত সমাধান না এলে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ঠেকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ফলে চূড়ান্ত ব্যবস্থার দুটি স্তর তৈরি হয়েছিল—প্রকাশ্যে কিউবার সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিউবায় আক্রমণ না করার মার্কিন অঙ্গীকার; গোপনে তুরস্ক থেকে জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র সরানোর নিশ্চয়তা।

২৮ অক্টোবর সকালে মস্কো বেতারে ক্রুশ্চেভের নতুন বার্তা প্রচার করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র ভেঙে ফেলবে এবং দেশে ফিরিয়ে নেবে। কেনেডি সিদ্ধান্তটিকে শান্তির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে স্বাগত জানান। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে মার্কিন নজরদারির মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিউবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র নভেম্বর মাসে নৌ নিরোধ প্রত্যাহার করে এবং ১৯৬৩ সালের মধ্যে তুরস্ক থেকে জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণ করে, যদিও প্রকাশ্যে সেটিকে কিউবান সংকটের বিনিময় হিসেবে স্বীকার করা হয়নি।

ফিদেল কাস্ত্রো এই সমঝোতায় সরাসরি অংশ নিতে পারেননি এবং কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পরাশক্তির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন। তবু যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আক্রমণ না করার অঙ্গীকার করায় তাঁর সরকারের টিকে থাকার প্রধান নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ হয়। অন্যদিকে কেনেডি প্রকাশ্যে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছিলেন, আর ক্রুশ্চেভ কিউবার নিরাপত্তা ও তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা অর্জন করেছিলেন।

ব্ল্যাক স্যাটারডে দেখিয়েছিল, শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সংযম, গোপন যোগাযোগ এবং প্রতিপক্ষকে সম্মানজনকভাবে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া কতটা জরুরি। কেনেডি ইউ-২ ধ্বংসের তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নেননি, ক্রুশ্চেভ কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিলেন এবং গোপন তুরস্ক-সমঝোতা উভয় পক্ষের মৌলিক উদ্বেগের সমাধান করেছিল। পৃথিবী সেদিন শুধু দুই নেতার দৃঢ়তার কারণে নয়, তাঁদের শেষ মুহূর্তে আপস করার সাহস এবং কয়েকজন অল্পপরিচিত মানুষের সংযমের কারণেও পারমাণবিক ধ্বংস থেকে ফিরে এসেছিল।


আপনার পছন্দ হতে পারে