বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

বক্সার প্রোটোকল ১৯০১: কারা স্বাক্ষর করেছিল এবং চুক্তির প্রধান শর্তগুলো কী ছিল?

Series: বক্সার প্রোটোকল: চীনের অপমান, বিদেশি শক্তি ও এক অসম চুক্তির ইতিহাস

  • Author: Admin
  • August 15, 2026
বক্সার প্রোটোকল ১৯০১: কারা স্বাক্ষর করেছিল এবং চুক্তির প্রধান শর্তগুলো কী ছিল?
বক্সার প্রোটোকল ১৯০১

১৯০১ সালের বক্সার প্রোটোকল ছিল বক্সার বিদ্রোহ এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটানো চুক্তি। ১৯০০ সালে বেইজিংয়ের লেগেশন অবরোধ, আট জাতির জোটের সামরিক অভিযান, রাজধানীর পতন এবং চিং রাজদরবারের পলায়নের পর চীন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছিল যেখানে বিজয়ী বিদেশি শক্তিগুলোর কঠোর শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া কার্যত অন্য কোনো পথ ছিল না। দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯০১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চূড়ান্ত প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এই দলিল শুধু একটি শান্তিচুক্তি ছিল না; এটি চীনের অর্থনীতি, সামরিক প্রতিরক্ষা, কূটনীতি এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর বহু বছরের জন্য বিদেশি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি করেছিল।

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা দরকার। বক্সার বিদ্রোহ দমনে যে সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়েছিল, তাকে সাধারণত আট জাতির জোট বলা হয়। এই আট দেশ ছিল ব্রিটেন, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি। কিন্তু বক্সার প্রোটোকলের বিদেশি পক্ষ শুধু এই আট রাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। চুক্তিতে মোট এগারোটি বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেয়।

এই এগারো রাষ্ট্র ছিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রেট ব্রিটেন, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন আট জাতির সামরিক জোটের সদস্য না হলেও চূড়ান্ত কূটনৈতিক বন্দোবস্তে অংশগ্রহণ করে।

চীনের পক্ষে প্রধান স্বাক্ষরকারী ও আলোচক ছিলেন প্রিন্স চিং এবং প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক লি হংঝাং। তারা চিং সরকারের পূর্ণক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন। তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন, কারণ আলোচনার সময় বিদেশি সেনারা বেইজিংয়ে অবস্থান করছিল এবং চিং সরকারের সামরিক দরকষাকষির ক্ষমতা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

বক্সার প্রোটোকলের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং চীনের জন্য সবচেয়ে ভারী শর্ত ছিল বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ। চীনকে বিদেশি সরকার, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মিশনারি গোষ্ঠী এবং সামরিক ক্ষতির দাবির জন্য মোট ৪৫০ মিলিয়ন হাইকওয়ান তায়েল রৌপ্য দিতে বাধ্য করা হয়। এই অর্থ তৎকালীন চীনের অর্থনীতির জন্য অসাধারণ বড় একটি বোঝা ছিল।

এর ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদ ধার্য করা হয় এবং পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৩৯ বছর। ফলে মূল ৪৫০ মিলিয়ন তায়েলের চেয়ে প্রকৃত পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য চীনের সামুদ্রিক শুল্ক এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট রাজস্ব উৎসকে ব্যবহার করা হয়।

এই ক্ষতিপূরণই বক্সার প্রোটোকলকে সাধারণ শান্তিচুক্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছিল। যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ক্ষতি শেষ হয়ে গেলেও পরাজয়ের আর্থিক মূল্য কয়েক দশক ধরে চীনা রাষ্ট্রকে বহন করতে হতো।

দ্বিতীয় বড় শর্ত ছিল বক্সার আন্দোলন এবং বিদেশিবিরোধী সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচিত চীনা কর্মকর্তা ও রাজপরিবারের সদস্যদের শাস্তি। বিদেশি শক্তিগুলো মনে করেছিল শুধু সাধারণ বক্সার সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়; দরবারের যারা তাদের উৎসাহ দিয়েছিলেন বা বিদেশিদের ওপর হামলায় ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ফলে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজাতকে মৃত্যুদণ্ড, আত্মহত্যার নির্দেশ, নির্বাসন, পদচ্যুতি কিংবা অন্যান্য কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। প্রভাবশালী প্রিন্স দুয়ানও বিদেশিদের দাবির লক্ষ্যবস্তু হন এবং তাকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিদেশি শক্তিগুলো প্রতিশোধকে সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরেও বিস্তৃত করে। যেসব শহর বা এলাকায় বিদেশিদের বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেখানে সাম্রাজ্যিক সরকারি পরীক্ষা পাঁচ বছরের জন্য বন্ধ রাখার শর্ত দেওয়া হয়। সেই সময় চীনে প্রশাসনিক চাকরি ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল এই পরীক্ষা। তাই এটি ছিল গভীর প্রতীকী শাস্তি।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও অনুশোচনা প্রকাশ। ১৯০০ সালে বেইজিংয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত ক্লেমেন্স ফন কেটেলার নিহত হয়েছিলেন। তার হত্যার জন্য চিং সরকারকে জার্মান সম্রাটের কাছে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করতে হয় এবং হত্যাস্থলে স্মারক নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।

একইভাবে জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তা সুগিয়ামা আকিরার হত্যার জন্যও চীনা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুশোচনা জানাতে হয়। এই ব্যবস্থা শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য ছিল না; পরাজিত চিং সরকারের প্রকাশ্য অপমানের একটি অংশ হিসেবেও তা বিবেচিত হয়।

বক্সার প্রোটোকলের সামরিক শর্তগুলো আরও গভীরভাবে চীনের সার্বভৌমত্বকে সীমিত করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বেইজিংয়ের লেগেশন কোয়ার্টারে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী সামরিক প্রহরী রাখার অধিকার। বিদেশি দূতাবাস এলাকাকে একটি বিশেষ সুরক্ষিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়, যেখানে চীনা নাগরিকদের বসবাস সীমিত করা হয় এবং বিদেশি শক্তিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

এর অর্থ দাঁড়ায়, চীনের নিজের রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে চিং সরকারের স্বাভাবিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত সীমিত হয়ে গেল। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীর ভেতরে বিদেশি সেনাবাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি ছিল চীনের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।

বিদেশি শক্তিগুলো শুধু বেইজিংয়ের ভেতরেই সৈন্য রাখেনি। তারা রাজধানী থেকে সমুদ্রের দিকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ বরাবরও নির্দিষ্ট স্থানে সেনা মোতায়েনের অধিকার পায়। বেইজিং ও তিয়ানজিনের মধ্যবর্তী এবং সমুদ্রের দিকে যাওয়া রেল ও যোগাযোগপথের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে বিদেশি সেনা অবস্থান করতে পারত।

এর উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। ১৯০০ সালের মতো আর কোনো পরিস্থিতিতে যেন বিদেশি দূতাবাসগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে এবং প্রয়োজনে উপকূল থেকে দ্রুত বেইজিংয়ে সৈন্য পাঠানো যায়।

এই একই নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দাগু দুর্গগুলো ধ্বংস করার শর্ত আরোপ করা হয়। এই দুর্গগুলো বোহাই উপসাগর থেকে তিয়ানজিন ও বেইজিংয়ের দিকে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিরক্ষা ছিল। ১৯০০ সালের যুদ্ধে এগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছিল।

দুর্গ ধ্বংসের অর্থ ছিল ভবিষ্যতে বিদেশি বাহিনী সমুদ্রপথে উত্তর চীনে প্রবেশ করলে চীন যাতে আগের মতো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে। অর্থাৎ বিজয়ী শক্তিগুলো শুধু অতীতের জন্য ক্ষতিপূরণ নেয়নি, চীনের ভবিষ্যৎ সামরিক প্রতিরোধের সক্ষমতাও সচেতনভাবে দুর্বল করেছে।

অস্ত্র সংগ্রহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। চীনকে দুই বছরের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট উপকরণ আমদানি থেকে বিরত থাকতে হয়। বিদেশি শক্তিগুলোর বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানোর ব্যবস্থাও ছিল।

এর ফলে এমন সময়ে চীনের সামরিক আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়, যখন বক্সার সংকট ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সংগঠনে দেশটি বিদেশি শক্তির তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

চুক্তির আরেকটি শর্ত ছিল ভবিষ্যতের বিদেশিবিরোধী সংগঠন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা। চিং সরকারকে ঘোষণা করতে হয় যে বিদেশিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা সংগঠনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা এ ধরনের কার্যকলাপ দমন করতে ব্যর্থ হলে তাদেরও শাস্তি দেওয়া হবে।

এই শর্তের মাধ্যমে বিদেশি শক্তিগুলো চীনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের ওপরও পরোক্ষ প্রভাব তৈরি করে। কোনো স্থানীয় কর্মকর্তা শুধু রাজদরবারের কাছে নয়, বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চাপের মুখে থাকতেন।

কূটনৈতিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। আগে চীনের বিদেশবিষয়ক প্রশাসন পরিচালনা করত জংলি ইয়ামেন। বক্সার প্রোটোকলের পর এটিকে পরিবর্তন করে আরও আধুনিক কাঠামোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ওয়াইউ পু প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকে এটিকে উচ্চ অবস্থান দেওয়া হয়।

এই পরিবর্তন ছিল প্রতীকী এবং বাস্তব—উভয় অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। চিং সাম্রাজ্যের পুরোনো ধারণায় বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায়ই ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিবিন্যাসের চোখে দেখা হতো। কিন্তু উনিশ শতকের ধারাবাহিক পরাজয় এবং ১৯০১ সালের প্রোটোকল চীনকে পশ্চিমা ধাঁচের কূটনৈতিক ব্যবস্থায় আরও গভীরভাবে প্রবেশ করতে বাধ্য করে।

বক্সার প্রোটোকলে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যোগাযোগের আনুষ্ঠানিকতাও নতুনভাবে নির্ধারিত হয়। বিদেশি রাষ্ট্রগুলো চেয়েছিল তাদের প্রতিনিধিদের এমন মর্যাদা দেওয়া হোক যা ইউরোপীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার সমান সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল।

চুক্তির সব শর্ত একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়—বক্সার প্রোটোকল কেবল ক্ষতিপূরণ আদায়ের দলিল ছিল না। এতে একই সঙ্গে আর্থিক, সামরিক, প্রশাসনিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক শর্ত যুক্ত ছিল। উদ্দেশ্য ছিল বক্সার সংকটের জন্য চিং সরকারকে শাস্তি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বিদেশি স্বার্থের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতিরোধ যেন সহজে সংগঠিত না হতে পারে তা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সূক্ষ্মতা মনে রাখা দরকার। বিদেশি শক্তিগুলোর দাবি ও স্বার্থ সবসময় অভিন্ন ছিল না। রাশিয়া মাঞ্চুরিয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তার করছিল, জাপান পূর্ব এশিয়ায় নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছিল, ব্রিটেন চীনের বাজার ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও উন্মুক্ত বাণিজ্যের কথা বলছিল।

তাই প্রোটোকল ছিল একক বিদেশি সাম্রাজ্যের নির্দেশ নয়; বরং বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির স্বার্থের একটি সম্মিলিত বন্দোবস্ত। তাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও চিং সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছিল।

চীনের জন্য এর রাজনৈতিক মূল্য ছিল বিশাল। রাজধানীতে বিদেশি সেনা, বিপুল ঋণসদৃশ ক্ষতিপূরণ, ধ্বংস করা দুর্গ, সীমিত অস্ত্র আমদানি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশি দাবিতে শাস্তি—সবকিছু মিলিয়ে চিং রাজবংশের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বক্সার প্রোটোকল চীনা জাতীয়তাবাদে “জাতীয় অপমান”-এর অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শিক্ষিত চীনা মনে করতে শুরু করেন যে বর্তমান রাজবংশ বিদেশি শক্তির সামনে দেশকে রক্ষা করতে অক্ষম।

পরাজয়ের ধাক্কায় চিং সরকার পরবর্তী বছরগুলোতে সেনাবাহিনী, শিক্ষা ও প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার শুরু করে। কিন্তু এই সংস্কার এমন সময় শুরু হয়েছিল যখন সরকারের বৈধতা ইতিমধ্যেই গভীরভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত। মাত্র এক দশকের মধ্যে ১৯১১ সালের বিপ্লব শুরু হয় এবং ১৯১২ সালে চিং সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তাই ১৯০১ সালের বক্সার প্রোটোকলের গুরুত্ব শুধু এই নয় যে কোন দেশ স্বাক্ষর করেছিল বা কত টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছিল। এটি ছিল চীনের সামরিক পরাজয়কে একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় রূপান্তর করার দলিল।

৪৫০ মিলিয়ন তায়েল ক্ষতিপূরণ, ৩৯ বছরের পরিশোধকাল, বিদেশি সেনাদের রাজধানীতে অবস্থান, দাগু দুর্গ ধ্বংস, অস্ত্র আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, কর্মকর্তাদের শাস্তি এবং বিদেশিবিরোধী সংগঠন দমনের বাধ্যবাধকতা—প্রতিটি শর্তই চিং সরকারের দুর্বলতার সাক্ষ্য বহন করেছিল।

এই কারণেই বক্সার প্রোটোকল শুধু বক্সার বিদ্রোহের সমাপ্তি নয়; এটি চীনের তথাকথিত অসম চুক্তির যুগের অন্যতম কঠোর দলিল এবং চিং সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।