হলোকাস্ট ও ফাইনাল সলিউশন: ঘেটো, আইনজাটসগ্রুপেন ও গণহত্যার ইতিহাস
সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন
রাষ্ট্রপরিকল্পিত গণহত্যার ভয়াবহ ইতিহাস
হলোকাস্ট ছিল নাৎসি জার্মানি ও তার সহযোগীদের দ্বারা ইউরোপের ইহুদি জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে নিশ্চিহ্ন করার রাষ্ট্রপরিচালিত গণহত্যা। ১৯৩৩ সালে অ্যাডলফ হিটলার ক্ষমতায় আসার পর ইহুদিদের অধিকার কেড়ে নেওয়া, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে নিপীড়ন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই নীতি প্রথমে বন্দিত্ব ও নির্বাসন, পরে গণগুলিবর্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত বিশেষ হত্যাকেন্দ্রে শিল্পায়িত হত্যায় রূপ নেয়। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ছয় মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে প্রায় দেড় মিলিয়ন ছিল শিশু। হলোকাস্ট কোনো একক সিদ্ধান্ত বা একটি শিবিরের ঘটনা ছিল না; এটি আইন, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ, রেলব্যবস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য সহযোগীর অংশগ্রহণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত একটি মহাদেশব্যাপী অপরাধ।
নাৎসি মতাদর্শে ইহুদিদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বদলে একটি কথিত জৈবিক ও জাতিগত শত্রু হিসেবে চিত্রিত করা হতো। জার্মানির সামরিক পরাজয়, অর্থনৈতিক সংকট, কমিউনিজম ও আধুনিক সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য তাদের মিথ্যাভাবে দায়ী করা হয়। ১৯৩৫ সালের নুরেমবার্গ আইন ইহুদিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় এবং ইহুদি ও তথাকথিত জার্মান রক্তের মানুষের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ করে। পেশা, শিক্ষা ও ব্যবসা থেকে ধাপে ধাপে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৩৮ সালের ক্রিস্টালনাখটে সিনাগগ, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠিত হামলা এবং প্রায় ৩০ হাজার ইহুদি পুরুষকে বন্দিশিবিরে পাঠানো দেখিয়ে দেয় যে আইনি বৈষম্য প্রকাশ্য রাষ্ট্রসমর্থিত সহিংসতায় পৌঁছেছে।
১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে জার্মান নিয়ন্ত্রণে আরও কয়েক মিলিয়ন ইহুদি চলে আসে। নাৎসি কর্তৃপক্ষ তাদের জার্মানিকরণের জন্য নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সরিয়ে অধিকৃত পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে জোরপূর্বক কেন্দ্রীভূত করতে থাকে। এই উদ্দেশ্যে ওয়ারশ, লজ, ক্রাকোভ, লুবলিনসহ বহু স্থানে দেয়াল বা কাঁটাতারে ঘেরা ঘেটো তৈরি করা হয়। ইহুদিদের অল্প সময়ের নোটিশে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে সীমিত সম্পদ নিয়ে সেখানে যেতে বাধ্য করা হতো। একই বাসস্থানে বহু পরিবার গাদাগাদি করে থাকত এবং বাইরে যাওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।
ঘেটো শুধু বসবাসের পৃথক এলাকা ছিল না; এগুলো ছিল পরিকল্পিত অনাহার, রোগ, শ্রম ও অপমানের বন্দিশালা। খাদ্যের সরকারি রেশন বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট ছিল না। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন, শীত, ওষুধের অভাব এবং সংক্রামক রোগে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। ওয়ারশ ঘেটোতে সর্বোচ্চ সময়ে চার লাখের বেশি মানুষ অত্যন্ত সংকীর্ণ এলাকায় আটকা ছিলেন। শিশুরা দেয়ালের ফাঁক বা নর্দমাপথ দিয়ে খাবার পাচার করত। মৃত্যুর মধ্যেও মানুষ গোপন বিদ্যালয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন ঘটনার নথি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করেছিল।
নাৎসিরা ঘেটোতে ইহুদি পরিষদ গঠন করে প্রশাসনিক নির্দেশ বাস্তবায়নের দায় তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। এসব পরিষদকে রেশন বণ্টন, শ্রমিকের তালিকা ও জার্মান আদেশ বাস্তবায়নের মতো অসম্ভব নৈতিক পরিস্থিতিতে কাজ করতে হতো। নাৎসিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের অপরাধের প্রশাসনিক বোঝা ভুক্তভোগীদের ওপর চাপাত। ঘেটোর পুলিশকেও কখনো মানুষ জড়ো করা ও নির্বাসনে সহায়তা করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা সব সময় জার্মান দখলদার প্রশাসন, এসএস ও পুলিশের হাতে ছিল।
১৯৪১ সালের ২২ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের পর গণহত্যা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জার্মান সেনাবাহিনীর পেছনে আইনজাটসগ্রুপেন নামে এসএস ও পুলিশের বিশেষ হত্যাকারী দল অগ্রসর হয়। শুরুতে তারা কমিউনিস্ট কর্মকর্তা ও প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদি পুরুষদের লক্ষ্য করলেও দ্রুত নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সম্পূর্ণ ইহুদি সম্প্রদায়কে হত্যা করতে শুরু করে। স্থানীয় সহযোগী বাহিনী ও কিছু পুলিশ ইউনিট মানুষ শনাক্ত, আটক ও হত্যাস্থলে নিয়ে যেতে সহায়তা করত। নিয়মিত জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবহন, পাহারা, সরঞ্জাম অথবা সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়।
ভুক্তভোগীদের সাধারণত বাড়ি থেকে জড়ো করে শহরের বাইরে বন, খাদ, পরিত্যক্ত খনি বা আগে থেকে খোঁড়া গর্তের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের সম্পদ ও পোশাক কেড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে কিয়েভের কাছে বাবি ইয়ারে মাত্র দুই দিনে ৩৩ হাজারের বেশি ইহুদিকে হত্যা করা হয়। রিগার কাছে রুম্বুলা, ভিলনিয়াসের পোনারি এবং পূর্ব ইউরোপের আরও অসংখ্য স্থান গণহত্যার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। গ্যাস চেম্বার ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগেই গণগুলিবর্ষণে দশ লাখের বেশি ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি নাৎসি নেতৃত্ব ইউরোপের সব ইহুদিকে একত্র করে হত্যার আরও কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা গড়ে তোলে। “ফাইনাল সলিউশন” বলতে তারা ইউরোপের ইহুদি প্রশ্নের তথাকথিত চূড়ান্ত সমাধান—অর্থাৎ সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর পরিকল্পিত হত্যাকে বোঝাত। এই নীতি একটি নির্দিষ্ট বৈঠকে হঠাৎ জন্ম নেয়নি; যুদ্ধ, দখল এবং নাৎসি নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান উগ্রতার মধ্যে এটি বিকশিত হয়। ১৯৪১ সালের শেষ নাগাদ সোভিয়েত অঞ্চলে গণহত্যা চলছিল এবং অধিকৃত পোল্যান্ডে বিশেষ হত্যাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
১৯৪২ সালের ২০ জানুয়ারি বার্লিনের উপকণ্ঠে ভানজে সম্মেলনে রাইনহার্ড হাইড্রিখের সভাপতিত্বে এসএস ও বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মিলিত হন। বৈঠকের উদ্দেশ্য গণহত্যা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল না; হত্যাকাণ্ড তখন ইতিমধ্যেই চলছিল। বরং ইউরোপজুড়ে ইহুদিদের শনাক্ত, আটক, নির্বাসন এবং হত্যার প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করা ছিল এর লক্ষ্য। সভার নথিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ইউরোপীয় ইহুদিকে নাৎসি পরিকল্পনার আওতাভুক্ত হিসেবে গণনা করা হয়েছিল। সাধারণ আমলাতান্ত্রিক ভাষার আড়ালে একটি মহাদেশের মানুষকে নির্মূল করার পরিকল্পনা সাজানো হয়।
সব নাৎসি শিবির একই উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বা বন্দিশিবির প্রথমে রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক, সন্ত্রস্ত এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে ইহুদি, রোমা, সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, সমকামী, যিহোবার সাক্ষি এবং অন্যান্য নিপীড়িত মানুষকে সেখানে পাঠানো হয়। ডাকাউ, বুকেনভাল্ড, সাক্সেনহাউজেন, রাভেনসব্রুক ও মাউথাউজেনের মতো শিবিরে বন্দীরা অনাহার, রোগ, নির্যাতন, চিকিৎসা পরীক্ষার নামে অপরাধ এবং অমানবিক বাধ্যতামূলক শ্রমে মারা যেতেন। বহু জার্মান শিল্পপ্রতিষ্ঠান শিবিরের বন্দীদের শ্রম ব্যবহার করে লাভবান হয়েছিল।
অন্যদিকে অধিকৃত পোল্যান্ডে নির্মিত কয়েকটি কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল আগত মানুষকে দ্রুত হত্যা করা। খেলমনোতে বিশেষভাবে তৈরি গ্যাসভ্যানে মানুষ হত্যা করা হতো। ১৯৪২ সালে অপারেশন রাইনহার্ডের অধীনে বেলজেক, সোবিবোর ও ত্রেবলিঙ্কা হত্যাকেন্দ্র চালু হয়। অধিকৃত পোল্যান্ডের ঘেটোগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষকে মালবাহী ট্রেনে এসব কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পৌঁছানোর পর তাদের গোসল ও জীবাণুমুক্ত করার মিথ্যা কথা বলে গ্যাস চেম্বারে নিয়ে হত্যা করা হতো। মৃতদের সম্পদ বাছাই করে জার্মান রাষ্ট্রের ব্যবহারের জন্য পাঠানো হতো।
আউশভিৎস-বিরকেনাউ একই সঙ্গে বন্দিশিবির, বাধ্যতামূলক শ্রমকেন্দ্র এবং বৃহত্তম হত্যাকেন্দ্রে পরিণত হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রেনে আনা মানুষদের পৌঁছানোর পর এসএস চিকিৎসকেরা নির্বাচন করত। শ্রমে সক্ষম বলে মনে হওয়া ব্যক্তিদের নিবন্ধিত বন্দী করা হতো; শিশু, বহু নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের অধিকাংশকে সরাসরি গ্যাস চেম্বারে পাঠানো হতো। হত্যায় প্রধানত জাইক্লন বি নামের বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহৃত হয়। আউশভিৎস কমপ্লেক্সে প্রায় ১১ লাখ মানুষ নিহত হন, যাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন ইহুদি।
রেলওয়ে এই হত্যাব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ ছিল। জার্মানি ও অধিকৃত ইউরোপের পুলিশ পরিবারগুলোকে সমাবেশকেন্দ্রে জড়ো করত, সরকারি কর্মকর্তারা তালিকা প্রস্তুত করতেন এবং রেল কর্তৃপক্ষ মানুষ পরিবহনের জন্য ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ করত। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, ইতালি, হাঙ্গেরি, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশ থেকে মানুষকে পূর্ব ইউরোপে নির্বাসিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সহযোগী সরকার ও স্থানীয় পুলিশ গ্রেপ্তার ও নির্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। আবার কিছু কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ নাগরিক নিপীড়িত মানুষকে লুকিয়ে বা পালাতে সাহায্য করে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন।
ভয়াবহ প্রতিকূলতার মধ্যেও ইহুদিরা প্রতিরোধ করেছিলেন। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে ওয়ারশ ঘেটোর অবশিষ্ট বাসিন্দারা নির্বাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন। সীমিত অস্ত্র নিয়ে তারা প্রায় এক মাস জার্মান বাহিনীকে প্রতিরোধ করেন। সোবিবোর ও ত্রেবলিঙ্কা হত্যাকেন্দ্রেও বন্দীরা বিদ্রোহ করে এবং কয়েকশ মানুষ পালাতে সক্ষম হন। বনাঞ্চলে ইহুদি পক্ষপাতী যোদ্ধারা গেরিলা দলে যোগ দেন। প্রতিরোধ শুধু অস্ত্রধারণে সীমাবদ্ধ ছিল না; খাবার ভাগ করা, শিশু লুকানো, ধর্মীয় জীবন বজায় রাখা, নথি সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর মুখেও সাক্ষ্য রেখে যাওয়াও ছিল প্রতিরোধের রূপ।
হলোকাস্টে প্রায় ছয় মিলিয়ন ইহুদির পাশাপাশি নাৎসি শাসনে আরও অসংখ্য মানুষ নিহত হন। রোমা জনগোষ্ঠীকে জাতিগত কারণে হত্যা করা হয়; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথাকথিত ইউথেনেশিয়া কর্মসূচিতে গ্যাস ও অন্যান্য পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়; লাখ লাখ সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী অনাহার, রোগ ও গুলিতে মারা যান। পোলিশ ও সোভিয়েত বেসামরিক নাগরিক, রাজনৈতিক বিরোধী, সমকামী পুরুষ, যিহোবার সাক্ষি এবং অন্য অনেক গোষ্ঠী নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হয়। তবে ইউরোপের প্রতিটি ইহুদি মানুষকে খুঁজে বের করে হত্যা করার সর্বাত্মক উদ্দেশ্য হলোকাস্টকে নাৎসি অপরাধব্যবস্থার কেন্দ্রে স্থাপন করে।
১৯৪৪ ও ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ও পশ্চিমা মিত্রবাহিনী অগ্রসর হলে নাৎসিরা হত্যার প্রমাণ ধ্বংস এবং বন্দীদের জার্মানির অভ্যন্তরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শিবির খালি করে দুর্বল বন্দীদের দীর্ঘ পথ হাঁটতে বাধ্য করা হয়, যা মৃত্যুমিছিল নামে পরিচিত। পথে অনাহার, ঠান্ডা, ক্লান্তি ও গুলিতে অসংখ্য মানুষ মারা যান। মিত্রসেনারা মাজদানেক, আউশভিৎস, বুকেনভাল্ড, বার্গেন-বেলজেন, ডাকাউসহ বিভিন্ন শিবির মুক্ত করে অমানবিক পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকা বন্দীদের দেখতে পায়। মুক্তি পেলেও অধিকাংশ জীবিত মানুষ পরিবার, বাড়ি ও পরিচিত সমাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
হলোকাস্ট দেখায়, গণহত্যা শুরু হয় মানুষের পরিচয়কে অপরাধে পরিণত করা, তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং সমাজকে তাদের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন করে তোলার মাধ্যমে। ঘেটো, আইনজাটসগ্রুপেন, বন্দিশিবির ও হত্যাকেন্দ্র ছিল একই ধারাবাহিক অপরাধের বিভিন্ন স্তর। ঘৃণার মতাদর্শকে আইন, প্রশাসন, প্রযুক্তি ও যুদ্ধের ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে নাৎসিরা আধুনিক ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা সংঘটিত করেছিল। নিহতদের স্মরণ এবং সেই প্রক্রিয়া বোঝা শুধু অতীতের প্রতি দায় নয়; মানবমর্যাদা, সত্য ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও অপরিহার্য সতর্কবার্তা।
রোমুলাস ও রেমাস: নেকড়ের দুধে বেঁচে যাওয়া দুই ভাই ও রোমের জন্ম
এনিয়াস থেকে আলবা লঙ্গা: রোমুলাস ও রেমাসের জন্মের পৌরাণিক ইতিহাস
এনিয়াসের কিংবদন্তি: ট্রয় থেকে ইতালিতে রোমের পূর্বপুরুষের অভিযাত্রা
রোমান পুরাণের উৎপত্তি: ইতালীয় বিশ্বাস ও গ্রিক প্রভাবে দেবদেবীর জগৎ
ব্রিটেনের যুদ্ধ থেকে অপারেশন বারবারোসা: হিটলারের দুই সামরিক ভুল