বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

স্টালিনগ্রাদ থেকে কুর্স্ক: পূর্ব ফ্রন্টে নাৎসি জার্মানির বিপর্যয়ের ইতিহাস

সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন

স্টালিনগ্রাদ থেকে কুর্স্ক: পূর্ব ফ্রন্টে নাৎসি জার্মানির বিপর্যয়ের ইতিহাস
পূর্ব ফ্রন্টে নাৎসি অগ্রযাত্রার পতন

১৯৪২ সালের গ্রীষ্মে নাৎসি জার্মানি তখনো সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল অংশ দখল করে রেখেছিল। আগের বছর মস্কো দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও অ্যাডলফ হিটলার বিশ্বাস করতেন, একটি নতুন আক্রমণ সোভিয়েত অর্থনীতি ও সেনাবাহিনীকে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দেবে। এবার তার প্রধান লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ রাশিয়া, ইউক্রেনের অবশিষ্ট অঞ্চল এবং ককেশাসের তেলক্ষেত্র। কিন্তু স্টালিনগ্রাদে শহুরে যুদ্ধ, সোভিয়েত ঘেরাও এবং জার্মান ষষ্ঠ সেনাবাহিনীর ধ্বংস সেই পরিকল্পনাকে বিপর্যস্ত করে। কয়েক মাস পর কুর্স্কে জার্মানির শেষ বড় কৌশলগত আক্রমণও ব্যর্থ হয়। স্টালিনগ্রাদ নাৎসি বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে থামিয়েছিল, আর কুর্স্ক পূর্ব ফ্রন্টের কৌশলগত উদ্যোগ স্থায়ীভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে তুলে দিয়েছিল।

১৯৪২ সালের জার্মান গ্রীষ্মকালীন অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল অপারেশন ব্লাউ। হিটলার মনে করতেন, ককেশাসের মাইকোপ, গ্রোজনি ও বাকুর তেলক্ষেত্র দখল করতে পারলে জার্মানি যুদ্ধ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে এবং একই সঙ্গে সোভিয়েত অর্থনীতি তেল থেকে বঞ্চিত হবে। ভলগা নদীও ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ, যার মাধ্যমে ককেশাস ও দক্ষিণাঞ্চলের সম্পদ উত্তরে পাঠানো হতো। ভলগার তীরে অবস্থিত স্টালিনগ্রাদ দখল করলে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ককেশাসমুখী জার্মান বাহিনীর উত্তর দিক রক্ষা করা সম্ভব হতো।

প্রাথমিক অগ্রযাত্রা দ্রুত হলেও হিটলার দক্ষিণের বাহিনীকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। আর্মি গ্রুপ এ ককেশাসের দিকে এবং আর্মি গ্রুপ বি স্টালিনগ্রাদ ও ভলগার দিকে অগ্রসর হয়। এতে একই সঙ্গে দুটি দূরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা শুরু হয় এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। জার্মান বাহিনী হাজার কিলোমিটার দূরের রেলপথ ও দুর্বল সড়কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে সৈন্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ ও যন্ত্রাংশ সামনে পৌঁছানো কঠিন হতে থাকে। দুই বাহিনীর মাঝখানে ব্যবধান বাড়ায় পারস্পরিক সহায়তার সুযোগও কমে যায়।

জেনারেল ফ্রিডরিখ পাউলুসের ষষ্ঠ সেনাবাহিনী ১৯৪২ সালের আগস্টে স্টালিনগ্রাদের উপকণ্ঠে পৌঁছায়। ২৩ আগস্ট লুফটওয়াফের ব্যাপক বোমাবর্ষণে শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয় এবং অসংখ্য বেসামরিক মানুষ নিহত হন। কিন্তু ধ্বংসস্তূপ জার্মান ট্যাংকের চলাচল কঠিন করে এবং সোভিয়েত রক্ষীদের জন্য নতুন প্রতিরক্ষা অবস্থান তৈরি করে। সোভিয়েত নেতৃত্ব শহরটির প্রতীকী ও কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করে কঠোর প্রতিরোধের নির্দেশ দেয়। জোসেফ স্তালিনের নাম বহনকারী শহরটি দখল করা হিটলারের কাছেও ক্রমে ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত হয়।

জেনারেল ভাসিলি চুইকভের নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত ৬২তম সেনাবাহিনী ভলগার পশ্চিম তীরে অবস্থান ধরে রাখে। নদীর ওপার থেকে রাতে সৈন্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হতো এবং ফেরার পথে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হতো। সোভিয়েত সেনারা জার্মান অবস্থানের খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করার কৌশল গ্রহণ করে, যাতে লুফটওয়াফে ও কামানের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করা কঠিন হয়। কারখানা, গুদাম, সিঁড়িঘর, নর্দমা, রেললাইন এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ছোট যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। মামায়েভ কুর্গান, কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন, শস্যগুদাম এবং ট্রাক্টর কারখানার নিয়ন্ত্রণ বারবার বদলায়।

জার্মানরা সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে শহরের অধিকাংশ এলাকা দখল করলেও ভলগার তীরে কয়েকটি সংকীর্ণ সোভিয়েত অবস্থান ধ্বংস করতে পারেনি। এই সময়ে ষষ্ঠ সেনাবাহিনীর দুই পাশ পাহারা দিচ্ছিল প্রধানত রোমানীয় বাহিনী, যাদের কাছে পর্যাপ্ত আধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও সংরক্ষিত সেনা ছিল না। জার্মানির সেরা ইউনিটগুলো শহরের ভেতরের লড়াইয়ে আটকে থাকায় বিস্তৃত পার্শ্বভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে। সোভিয়েত সর্বোচ্চ কমান্ড এই দুর্বলতা শনাক্ত করে শহরের বাইরে বিপুল সেনা ও ট্যাংক গোপনে সমবেত করে।

১৯ নভেম্বর সোভিয়েত বাহিনী অপারেশন ইউরেনাস শুরু করে। উত্তর ও দক্ষিণ থেকে পরিচালিত দুটি প্রধান আঘাত জার্মান ষষ্ঠ সেনাবাহিনীর বদলে দুর্বল রোমানীয় অবস্থান লক্ষ্য করে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ভেঙে যায়। ২৩ নভেম্বর কালাচের কাছে সোভিয়েত বাহিনী মিলিত হয়ে স্টালিনগ্রাদের চারপাশে বিশাল ঘেরাও সম্পন্ন করে। পাউলুসের প্রায় তিন লাখ জার্মান ও অক্ষশক্তির সৈন্য, সহযোগী কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখনই সংগঠিতভাবে পশ্চিমে সরে গেলে বাহিনীর অন্তত একটি অংশ রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু হিটলার ষষ্ঠ সেনাবাহিনীকে অবস্থান ধরে রাখার নির্দেশ দেন। হারমান গ্যোরিং আশ্বাস দেন, লুফটওয়াফে আকাশপথে প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারবে। বাস্তবে ঘেরাও হওয়া বাহিনীর দৈনিক প্রয়োজন পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বিমান, নিরাপদ বিমানঘাঁটি বা অনুকূল আবহাওয়া কোনোটিই ছিল না। সোভিয়েত বিমান ও বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা, শীত, যান্ত্রিক সমস্যা এবং বিমানঘাঁটি হারানোর কারণে সরবরাহের পরিমাণ প্রয়োজনের সামান্য অংশে নেমে আসে। আহত সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও দ্রুত কমে যায়।

ডিসেম্বরে ফিল্ড মার্শাল এরিখ ফন মানস্টাইনের নেতৃত্বে অপারেশন উইন্টার স্টর্ম ঘেরাও ভাঙার চেষ্টা করে। জার্মান বাহিনী স্টালিনগ্রাদের কাছাকাছি পৌঁছালেও পাউলুসকে স্বাধীনভাবে বেরিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সময়ে সোভিয়েত বাহিনী ইতালীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণ চালালে পুরো দক্ষিণ রণাঙ্গন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। উদ্ধারকারী বাহিনীকে পিছিয়ে যেতে হয়। ঘেরাওয়ের ভেতরে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও শীতবস্ত্র শেষ হতে থাকে। অনাহার, ঠান্ডা, রোগ ও গোলাবর্ষণে সৈন্যদের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে।

১৯৪৩ সালের জানুয়ারিতে সোভিয়েত বাহিনী চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করে ঘেরাও এলাকাকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে। ৩০ জানুয়ারি হিটলার পাউলুসকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেন। জার্মানির ইতিহাসে কোনো ফিল্ড মার্শাল জীবিত অবস্থায় শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করেননি—এই বার্তার মাধ্যমে হিটলার কার্যত তাকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। পাউলুস তা প্রত্যাখ্যান করে ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ অংশসহ আত্মসমর্পণ করেন। ২ ফেব্রুয়ারি উত্তর অংশের প্রতিরোধও শেষ হয়। প্রায় ৯১ হাজার অক্ষশক্তির সৈন্য বন্দী হয়; কঠোর বন্দিজীবন, রোগ ও অপুষ্টির কারণে তাদের অল্পসংখ্যকই বহু বছর পর দেশে ফিরতে পেরেছিল।

স্টালিনগ্রাদের পর জার্মান দক্ষিণ রণাঙ্গন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও মানস্টাইনের পাল্টা আক্রমণে ১৯৪৩ সালের মার্চে খারকভ পুনর্দখল করা হয়। এতে সামনের রেখায় কুর্স্ক শহরকে কেন্দ্র করে সোভিয়েত ভূখণ্ডের একটি বিশাল উঁচু বাঁক বা স্যালিয়েন্ট তৈরি হয়। জার্মান পরিকল্পনাকারীরা উত্তর ও দক্ষিণ থেকে আক্রমণ করে এই অঞ্চলের সোভিয়েত বাহিনীকে ঘিরে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। অপারেশনটির নাম দেওয়া হয় সিটাডেল। হিটলার আশা করেছিলেন, একটি বড় বিজয় পূর্ব ফ্রন্টে জার্মান মনোবল ফিরিয়ে আনবে এবং সোভিয়েত আক্রমণক্ষমতা দুর্বল করবে।

কিন্তু অভিযান শুরু করতে বারবার বিলম্ব হয়। হিটলার নতুন প্যান্থার ট্যাংক, টাইগার ভারী ট্যাংক ও ফার্ডিনান্ড ট্যাংকবিধ্বংসী যান বেশি সংখ্যায় পাওয়ার অপেক্ষা করেন। এতে সোভিয়েত বাহিনী কয়েক মাস প্রস্তুতির সময় পায়। গোয়েন্দা তথ্য থেকে তারা জার্মান আক্রমণের স্থান ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছিল। কুর্স্কের চারপাশে একাধিক গভীর প্রতিরক্ষাবলয়, মাইনক্ষেত্র, পরিখা, কাঁটাতার, ট্যাংকবিধ্বংসী অবস্থান ও সংরক্ষিত বাহিনী তৈরি করা হয়। লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ প্রতিরক্ষা নির্মাণে অংশ নেয়।

১৯৪৩ সালের ৫ জুলাই উত্তর থেকে জেনারেল ওয়াল্টার মডেলের নবম সেনাবাহিনী এবং দক্ষিণ থেকে হারমান হোথের চতুর্থ প্যানজার সেনাবাহিনী আক্রমণ শুরু করে। উত্তরে জার্মান অগ্রগতি অল্প দূরেই পোনিরি ও আশপাশের শক্ত প্রতিরোধে আটকে যায়। দক্ষিণে জার্মান সাঁজোয়া বাহিনী তুলনামূলকভাবে বেশি অগ্রসর হলেও প্রতিটি প্রতিরক্ষাবলয় ভাঙতে মূল্যবান সময়, ট্যাংক ও সৈন্য হারাতে হয়। নতুন প্যান্থার ট্যাংকের শক্তিশালী কামান ও বর্ম থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি, ইঞ্জিনে আগুন এবং মাইনক্ষেত্র তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

১২ জুলাই প্রোখোরোভকার কাছে বড় সাঁজোয়া সংঘর্ষ ঘটে। জনপ্রিয় বর্ণনায় একে ইতিহাসের বৃহত্তম ট্যাংক যুদ্ধ এবং সম্পূর্ণ সোভিয়েত বিজয় বলা হয়। বাস্তব চিত্র ছিল আরও জটিল। ঘনিষ্ঠ দূরত্বের সংঘর্ষে সোভিয়েত বাহিনী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্যাংক হারায় এবং জার্মান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়নি। তবে সোভিয়েত আক্রমণ জার্মানদের অপারেশনাল অগ্রগতি থামাতে সাহায্য করে। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কুর্স্ক স্যালিয়েন্ট ঘিরে ফেলতে পারেনি এবং আরেকটি বড় আক্রমণ চালানোর মতো সহজ সুযোগও পায়নি।

একই দিনে সোভিয়েত বাহিনী উত্তরাঞ্চলে অপারেশন কুতুজভ শুরু করে জার্মান-নিয়ন্ত্রিত ওরেল স্যালিয়েন্টে আক্রমণ চালায়। ১০ জুলাই পশ্চিমা মিত্রবাহিনী সিসিলিতে অবতরণ করেছিল, যার ফলে জার্মান নেতৃত্বকে ভূমধ্যসাগরীয় পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে হয়। ১৩ জুলাই হিটলার সিটাডেল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানান। দক্ষিণে কিছু অভিযান আরও কয়েক দিন চললেও জার্মানির কুর্স্ক আক্রমণ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন না করেই শেষ হয়। আগস্টে সোভিয়েত অপারেশন রুমিয়ানৎসেভের মাধ্যমে বেলগোরোদ ও খারকভ পুনর্দখল করা হয়।

কুর্স্কে উভয় পক্ষই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, এবং সোভিয়েত ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে জার্মানির তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের জনশক্তি, ট্যাংক উৎপাদন ও ক্ষতি পূরণের ক্ষমতা জার্মানির তুলনায় অনেক বড় ছিল। জার্মান বাহিনী অভিজ্ঞ বৈমানিক, ট্যাংকচালক, কর্মকর্তা ও সাঁজোয়া যান হারাচ্ছিল, যাদের দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে সোভিয়েত শিল্প ধারাবাহিকভাবে বিপুল অস্ত্র উৎপাদন করছিল এবং নতুন বাহিনী গঠন করছিল। তাই একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও দুই পক্ষের জন্য সমান কৌশলগত অর্থ বহন করত না।

স্টালিনগ্রাদ ও কুর্স্কের মাঝের এই আট মাসে পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধের চরিত্র বদলে যায়। স্টালিনগ্রাদে একটি সম্পূর্ণ জার্মান সেনাবাহিনী ধ্বংস হয় এবং হিটলারের সামরিক বিচক্ষণতার ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ে। কুর্স্কে জার্মানি আক্রমণের সময়, স্থান ও লক্ষ্য নিজে বেছে নিয়েও সোভিয়েত প্রতিরক্ষা ভাঙতে ব্যর্থ হয়। এরপর রেড আর্মি প্রায় ধারাবাহিকভাবে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে। জার্মানরা মাঝে মাঝে দক্ষ পাল্টা আক্রমণ চালালেও পূর্ব ফ্রন্টে আর দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত উদ্যোগ ফিরে পায়নি।

নাৎসি জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় বিপর্যয় শুধু দুটি যুদ্ধে পরাজয়ের ফল ছিল না। এর পেছনে ছিল হিটলারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য, দীর্ঘ সরবরাহলাইন, শত্রুর শক্তিকে অবমূল্যায়ন, পশ্চাদপসরণে নিষেধাজ্ঞা এবং বর্ণবাদী ধ্বংসযুদ্ধের নীতি। বিপরীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করেও শিল্প স্থানান্তর, নতুন সেনা সংগ্রহ, গোয়েন্দা তথ্য, গভীর প্রতিরক্ষা ও বৃহৎ পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা গড়ে তুলেছিল। স্টালিনগ্রাদ থেকে কুর্স্ক পর্যন্ত জার্মানির দ্রুত বিজয়ের যুগ শেষ হয়; শুরু হয় দীর্ঘ পশ্চাদপসরণ, যা শেষ পর্যন্ত রেড আর্মিকে বার্লিনে নিয়ে যায়।


আপনার পছন্দ হতে পারে