বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

সারায়েভো থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: যেভাবে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইউরোপের বড় শক্তিগুলো

সিরিজ: আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ হত্যাকাণ্ড ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা

সারায়েভো থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: যেভাবে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইউরোপের বড় শক্তিগুলো
বলকানের সংঘাত থেকে ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ, তারপর বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়।

২৮ জুলাই ১৯১৪ অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর জুলাই সংকট নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। আল্টিমেটাম ও জবাবের কূটনৈতিক লড়াই এবার বাস্তব সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছিল। পরদিন বেলগ্রেডে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ভিয়েনার নেতৃত্ব আশা করেছিল, সার্বিয়াকে দ্রুত শাস্তি দিয়ে বলকানে সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যাবে। কিন্তু সার্বিয়ার পেছনে রাশিয়া এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির পেছনে জার্মানি দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয় যুদ্ধ সীমিত থাকবে কি না, তা এখন নির্ভর করছিল অন্য রাজধানিগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। সারায়েভোর গুলি ইউরোপকে সরাসরি যুদ্ধে নামায়নি; পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সেই পথ তৈরি করেছিল।

রাশিয়ার কাছে সার্বিয়ার বিপর্যয় ছিল শুধু একটি ছোট স্লাভ রাষ্ট্রের সংকট নয়। বলকানে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে রুশ প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৯০৮–০৯ সালের বসনিয়া সংকটে পিছিয়ে আসার স্মৃতিও নেতৃত্বকে প্রভাবিত করছিল। আবার সার্বিয়াকে পরিত্যাগ করলে রাশিয়ার রক্ষকসুলভ অবস্থান ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই সাজোনভ কঠোর প্রতিক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে জার দ্বিতীয় নিকোলাস বৃহৎ যুদ্ধের বিপদও বুঝতেন। ফলে রুশ সিদ্ধান্তে সাম্রাজ্যিক স্বার্থ, মর্যাদা রক্ষার তাগিদ এবং সংঘাতের ভয় একসঙ্গে কাজ করছিল।

প্রথমে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আংশিক সেনা সমাবেশের পথ বিবেচনা ও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু রুশ সামরিক নেতৃত্ব যুক্তি দেয়, সীমিত প্রস্তুতি পরে জার্মানির বিরুদ্ধে পূর্ণ সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ৩০ জুলাই নিকোলাস সাধারণ সেনা সমাবেশ অনুমোদন করেন; পরদিন তা কার্যকর হতে থাকে। সেনা সমাবেশ যুদ্ধ ঘোষণা নয়, কিন্তু ১৯১৪ সালের পরিস্থিতিতে এটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। রাশিয়া একে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি হিসেবে দেখলেও জার্মানি মনে করছিল, তার বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে এবং অপেক্ষা করলে কৌশলগত সুবিধা হারাবে।

সমাবেশ বলতে শুধু সৈন্যদের ব্যারাক থেকে বের করে আনা বোঝাত না। সংরক্ষিত সৈন্যদের ডাকা, ঘোড়া ও যানবাহন সংগ্রহ, অস্ত্র সরবরাহ এবং নির্দিষ্ট রেলসূচিতে বাহিনী সীমান্তে পাঠানো এর অংশ ছিল। প্রতিটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা অন্য রাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্তুতির গতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ফলে প্রতিপক্ষ কয়েক দিন এগিয়ে গেলে নিজের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে—এমন উদ্বেগ বাড়ে। তবে রেলসূচি কোনো অদৃশ্য শক্তি হিসেবে যুদ্ধ বাধায়নি। সামরিক পরিকল্পনার চাপকে কতটা মানা হবে, সেই সিদ্ধান্তও মানুষই নিচ্ছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের বিকল্প ক্রমে সামরিক যুক্তির অধীন করে ফেলছিল।

এই সময় দ্বিতীয় নিকোলাস ও দ্বিতীয় ভিলহেল্মের মধ্যে ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম বিনিময় চলছিল। তাঁরা আত্মীয় ছিলেন এবং শান্তি রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আশ্বাস রাষ্ট্রের প্রস্তুতি থামাতে পারেনি। নিকোলাস চেয়েছিলেন, জার্মানি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে সংযত করুক; ভিলহেল্ম চাইছিলেন, রাশিয়া সামরিক ব্যবস্থা বন্ধ করুক। প্রত্যেকে অন্য পক্ষের পদক্ষেপকে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছিলেন। কূটনৈতিক বার্তা এবং সেনা সমাবেশ একই সঙ্গে চলায় আশ্বাসের বিশ্বাসযোগ্যতা কমছিল। শান্তির ভাষা ব্যবহার করেও রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধের সামর্থ্য বাড়াচ্ছিল, যা পরস্পরের সন্দেহ আরও তীব্র করেছিল।

৩১ জুলাই জার্মানি রাশিয়াকে সামরিক প্রস্তুতি বন্ধ করার জন্য বারো ঘণ্টার সময়সীমা দেয়। একই সঙ্গে ফ্রান্সের কাছে জানতে চায়, রাশিয়া ও জার্মানির যুদ্ধ হলে তার অবস্থান কী হবে। রাশিয়া দাবিমতো সমাবেশ বন্ধ করেনি। ১ আগস্ট জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং নিজের সাধারণ সেনা সমাবেশের নির্দেশ দেয়। এই ঘোষণায় অস্ট্রিয়া-সার্বিয়ার সংঘাত বৃহৎ শক্তির যুদ্ধে পরিণত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি তখনও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি; সেটি ঘটে ৬ আগস্ট। সব মিত্র একই মুহূর্তে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেনি।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলেও জার্মানির প্রধান আক্রমণ প্রথমে পূর্ব দিকে যাওয়ার কথা ছিল না। তার সামরিক পরিকল্পনার ভিত্তি ছিল, রাশিয়া সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করার আগেই পশ্চিমে ফ্রান্সকে দ্রুত পরাজিত করা। তারপর বাহিনী পূর্ব দিকে সরানো হবে। এই পরিকল্পনা সাধারণভাবে শ্লিফেন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত, যদিও ১৯১৪ সালের বাস্তব ব্যবস্থা পূর্ববর্তী ধারণার সংশোধিত রূপ ছিল। এর ফলে বলকানের সংকট থেকে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও ফ্রান্স আক্রমণের প্রস্তুতি সক্রিয় হয়ে যায়। জার্মানির দুই সীমান্তের যুদ্ধভয় পশ্চিম ইউরোপকে সরাসরি বিপদের মধ্যে নিয়ে আসে।

ফ্রান্সের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক জোট ছিল। কিন্তু ফরাসি অবস্থান শুধু চুক্তির ভাষায় সীমাবদ্ধ ছিল না। রাশিয়া পরাজিত বা বিচ্ছিন্ন হলে জার্মানির সামনে ফ্রান্স আরও দুর্বল হয়ে পড়বে—প্যারিসের এই আশঙ্কা ছিল। ১৮৭০–৭১ সালের পরাজয় ও আলসাস-লোরেন হারানোর স্মৃতিও জার্মানি সম্পর্কে অবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। ফ্রান্স ১ আগস্ট সাধারণ সমাবেশের নির্দেশ দেয়। তার নেতৃত্ব জানত, জার্মান যুদ্ধপরিকল্পনায় ফরাসি ভূখণ্ড প্রধান লক্ষ্য। ৩ আগস্ট জার্মানি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। বলকানের বিরোধ এখন ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই দিকেই যুদ্ধ সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমের অভিযানে জার্মানি ফরাসি সীমান্তের শক্ত প্রতিরক্ষাকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল। তাই লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২ আগস্ট জার্মান বাহিনী লুক্সেমবার্গে প্রবেশ করে। একই দিনে বেলজিয়ামের কাছে সেনাবাহিনী চলাচলের অনুমতি দাবি করা হয়। জার্মানি ফরাসি হুমকির যুক্তি তুললেও বেলজিয়াম দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিদেশি বাহিনীকে পথ দেওয়া তার নিরাপত্তা ও মর্যাদার পরিপন্থী ছিল। বৃহৎ শক্তির সামরিক সুবিধার জন্য ছোট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত যুদ্ধের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্রিটেনের অবস্থান তখনও পুরোপুরি স্থির ছিল না। ফ্রান্স ও রাশিয়ার সঙ্গে তার সমঝোতা থাকলেও সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে নামার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করেনি। মন্ত্রিসভায় মতভেদ ছিল; জনমতও বলকানের বিরোধে সরাসরি অংশগ্রহণের পক্ষে একমুখী ছিল না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড গ্রে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিলেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের সঙ্গে নৌবাহিনীর সহযোগিতা এবং ইউরোপের শক্তির ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তাই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তকে শুধু মিত্রের অনুরোধের ফল হিসেবে দেখলে তার নিজস্ব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক হিসাব আড়ালে থেকে যায়।

ব্রিটেনের জন্য প্রশ্ন ছিল, জার্মানি ফ্রান্সকে পরাজিত করে পশ্চিম ইউরোপের উপকূলে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করলে কী হবে। ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্রিটিশ নিরাপত্তার দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতা রক্ষার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। ১৮৩৯ সালের লন্ডন চুক্তিতে ব্রিটেনসহ বৃহৎ শক্তিগুলো এই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করেছিল। চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জায়গা থাকলেও বেলজিয়াম আক্রমণ ব্রিটিশ নেতৃত্বের কাছে আইনি দায়, কৌশলগত আশঙ্কা ও নৈতিক যুক্তিকে একত্র করেছিল।

৪ আগস্ট জার্মান বাহিনী বেলজিয়ামে প্রবেশ করে। ব্রিটেন জার্মানির কাছে বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতা সম্মান করার দাবি জানায়। গ্রহণযোগ্য আশ্বাস না আসায় সেদিন রাত এগারোটায় লন্ডনের সময় অনুযায়ী ব্রিটেন ও জার্মানির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে যুদ্ধ ছিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ার মধ্যে, তাতে এখন রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন জড়িয়ে পড়েছে। বেলজিয়ামও নিজের স্বাধীনতা রক্ষায় যুদ্ধ করছে। জার্মানির সামরিক পরিকল্পনা তাকে এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণে নিয়ে যায়, যা ব্রিটিশ প্রবেশের সিদ্ধান্তকে অনেক সহজ করে দেয়।

এই ধারাবাহিকতাকে প্রায়ই জোটের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু ইতালির উদাহরণ সেই ব্যাখ্যার সীমা প্রকাশ করে। জার্মানি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সঙ্গে জোট থাকা সত্ত্বেও ইতালি প্রথমে নিরপেক্ষ থাকে; পরে ১৯১৫ সালে তাদের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেয়। রাষ্ট্রগুলো চুক্তির ধরন, সংঘাতের সূচনা এবং নিজেদের স্বার্থ বিচার করেছিল। জোট যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়িয়েছিল, কিন্তু সিদ্ধান্তের বিকল্প মুছে দেয়নি। একইভাবে অস্ট্রিয়া-সার্বিয়া যুদ্ধ, জার্মানি-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ব্রিটেনের প্রবেশের পেছনে পৃথক রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত ছিল।

ইউরোপের সাম্রাজ্যগুলো যুদ্ধে নামায় সংঘাত দ্রুত মহাদেশের বাইরেও বিস্তৃত হয়। উপনিবেশ, সমুদ্রপথ, বন্দর ও বিদেশি সামরিক অবস্থান যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে। ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৈন্য ও সম্পদ ব্যবহৃত হয়। জাপান আগস্টেই জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়; পরে অটোমান সাম্রাজ্যসহ আরও রাষ্ট্র অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ১৯১৪ সালে নিরপেক্ষ ছিল এবং ১৯১৭ সালে প্রবেশ করে। তাই বিশ্বযুদ্ধের বৈশ্বিক বিস্তার ছিল ধাপে ধাপে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়া। সারায়েভোর হত্যার পর নেতারা যে সীমিত সংঘাতের কথা ভেবেছিলেন, বাস্তব যুদ্ধ তার সীমানা বহু দূর অতিক্রম করে।

এই বিস্তারের কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক ভয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়াকে দমন করতে চেয়েছিল, রাশিয়া মর্যাদা ও প্রভাব রক্ষা করতে চেয়েছিল, জার্মানি সময় হারানোর আশঙ্কায় আক্রমণ বেছে নিয়েছিল। ফ্রান্স নিজের নিরাপত্তাকে রাশিয়ার টিকে থাকার সঙ্গে যুক্ত করেছিল; ব্রিটেন বেলজিয়াম ও পশ্চিম ইউরোপের ভবিষ্যৎকে নিজের স্বার্থের অংশ দেখেছিল। নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার দাবি করে রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে নিরাপত্তার বিপর্যয় সৃষ্টি করে। কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক সংকট এবার এমন যুদ্ধে রূপ নেয়, যা চার বছরের রক্তক্ষয় শেষে সাম্রাজ্য ভাঙবে এবং সারায়েভোর হত্যাকাণ্ডের অর্থকেও নতুন করে বিচার করতে বাধ্য করবে।