নগো দিন দিয়েম, ভিয়েত কং ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংকট:……

বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

নগো দিন দিয়েম, ভিয়েত কং ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংকট: গৃহসংঘাত থেকে বড় যুদ্ধ

সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ

নগো দিন দিয়েম, ভিয়েত কং ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংকট: গৃহসংঘাত থেকে বড় যুদ্ধ
দিয়েম শাসন, ভিয়েত কং ও বিভক্ত দক্ষিণ ভিয়েতনাম

১৯৫৪ সালের জেনেভা সমঝোতা ভিয়েতনামকে স্থায়ীভাবে ভাগ করার জন্য তৈরি হয়নি। ১৭তম সমান্তরালের দুই পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী সেনাবাহিনীকে সাময়িকভাবে পৃথক রেখে ১৯৫৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পুনরেকত্রীকরণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। উত্তরে হো চি মিনের নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী সরকার এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নগো দিন দিয়েমের সরকার নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ শুরু করে। কয়েক বছরের মধ্যেই দক্ষিণ ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, কৃষকদের ক্ষোভ, রাজনৈতিক দমন এবং উত্তরের পুনরেকত্রীকরণ প্রচেষ্টা মিলিত হয়ে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করে। যে সংকট প্রথমে দক্ষিণ ভিয়েতনামের একটি গৃহসংঘাত বলে মনে হয়েছিল, সেটিই ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ভিয়েতনাম যুদ্ধের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

১৯৫৪ সালে নগো দিন দিয়েম বাও দাইয়ের ভিয়েতনাম রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম নেওয়া দিয়েম ছিলেন দৃঢ় সাম্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী। তিনি ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রভাবেরও সমালোচক ছিলেন এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে দক্ষিণকে পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। শুরুতে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সেনাবাহিনীর আনুগত্য অনিশ্চিত ছিল, প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিভক্ত ছিল এবং কাও দাই ও হোয়া হাওয়ের মতো ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী ছিল। সাইগনের অপরাধী ও আধাসামরিক সংগঠন বিন সুয়েন পুলিশ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে দিয়েমের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান থাকলেও তাঁকে সাম্যবাদবিরোধী দক্ষিণ ভিয়েতনাম নির্মাণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে সমর্থন দেয়। মার্কিন অর্থ, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে দিয়েম বিন সুয়েনকে সামরিকভাবে পরাজিত করেন এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র ক্ষমতা সীমিত করেন। ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে একটি ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত গণভোটে সাবেক সম্রাট বাও দাইকে পরাজিত দেখিয়ে তিনি রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করেন। এরপর ভিয়েতনাম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং সাইগনকে রাজধানী করেন।

প্রথম দিকে এই কেন্দ্রীকরণ দক্ষিণে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনেছিল। কিন্তু দ্রুতই দিয়েমের সরকার কর্তৃত্ববাদী রূপ নিতে শুরু করে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও নিরাপত্তা পদে তাঁর আত্মীয় ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বসানো হয়। ছোট ভাই নগো দিন নু শাসনের রাজনৈতিক কৌশল, গোপন পুলিশ এবং ক্যান লাও পার্টির মাধ্যমে ক্ষমতার ভেতরের কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করতেন। নুর স্ত্রী ত্রান লে সুয়ান, যিনি সাধারণভাবে মাদাম নু নামে পরিচিত, সরকারের প্রভাবশালী মুখে পরিণত হন। আরেক ভাই নগো দিন থুক ছিলেন উচ্চপদস্থ ক্যাথলিক ধর্মযাজক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে দিয়েম পরিবারের আনুগত্য ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের অধীন হয়ে পড়ে।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনসংখ্যার বড় অংশ ছিল বৌদ্ধ, কিন্তু দিয়েমের শাসনে ক্যাথলিক সম্প্রদায় বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে—এমন ধারণা ব্যাপক হয়ে ওঠে। উত্তর থেকে আগত ক্যাথলিক শরণার্থীদের পুনর্বাসন, সরকারি চাকরি, ভূমি ও সামরিক পদ বণ্টনে পক্ষপাতের অভিযোগ ছিল। সব ক্ষেত্রে বৈষম্য একই মাত্রায় ঘটেনি, তবু প্রশাসনের আচরণ সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। গ্রামীণ সমাজে এই অসন্তোষ আরও গভীর ছিল, কারণ কৃষিজমি, কর, নিরাপত্তা অভিযান এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কৃষকদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছিল।

প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধের সময় ভিয়েত মিন বহু এলাকায় বড় জমিদারদের ভূমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করেছিল। দক্ষিণে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার পর দিয়েম সরকার পুরোনো মালিকদের অনেক জমি ফেরত দেওয়ার এবং কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। সীমিত ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও মালিকানার ঊর্ধ্বসীমা ছিল তুলনামূলক বেশি এবং বাস্তবায়ন দুর্বল। ফলে যে কৃষকেরা যুদ্ধের সময় জমির ব্যবহারিক নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকে আবার খাজনাদার বা অনিশ্চিত দখলদারে পরিণত হন। গ্রামীণ জনগণের কাছে রাষ্ট্রের বৈধতা তখন আদর্শিক বক্তৃতার চেয়ে জমি, নিরাপত্তা ও স্থানীয় কর্মকর্তার আচরণের ওপর বেশি নির্ভর করছিল।

দিয়েম সরকার সাবেক ভিয়েত মিন কর্মী ও সন্দেহভাজন সাম্যবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। ১৯৫৫ সালে চালু হওয়া “সাম্যবাদীদের নিন্দা করো” অভিযানে হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার, বন্দী বা নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৫৯ সালের একটি আইনে বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করে সন্দেহভাজন বিরোধীদের দ্রুত বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়। দমন অভিযানের লক্ষ্য শুধু সক্রিয় যোদ্ধারা ছিল না; সাবেক ভিয়েত মিন সমর্থক, স্থানীয় সংগঠক এবং সরকারের সমালোচকরাও এর আওতায় পড়েন। এতে দক্ষিণে থেকে যাওয়া সাম্যবাদী কর্মীদের একটি অংশ আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধের জন্য সশস্ত্র পথে ফিরে যায়।

“ভিয়েত কং” ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের সাম্যবাদী নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অবমাননাকর সংক্ষিপ্ত নাম, যার অর্থ মোটামুটি “ভিয়েতনামি কমিউনিস্ট”। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ ভিয়েতনামের জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট ছিল তাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ছাতা। ফ্রন্টের নেতৃত্বে সাম্যবাদীরা প্রভাবশালী হলেও এর ঘোষিত জোটে অসন্তুষ্ট জাতীয়তাবাদী, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, বৌদ্ধ এবং দিয়েমবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সংগঠনটি ভূমি পুনর্বণ্টন, দিয়েম সরকারের পতন, বিদেশি প্রভাবের অবসান এবং ভিয়েতনামের পুনরেকত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়।

ভিয়েত কং শুধু জঙ্গলে থাকা গেরিলা বাহিনী ছিল না। গ্রাম ও শহরে তাদের গোপন রাজনৈতিক কর্মী, গোয়েন্দা, বার্তাবাহক, করসংগ্রাহক এবং স্থানীয় সমর্থকের নেটওয়ার্ক ছিল। তারা সরকারি কর্মকর্তা ও গ্রামপ্রধানদের হত্যা বা ভয় দেখাত, সামরিক চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালাত এবং রাতে গ্রামে প্রবেশ করে প্রচার ও সংগঠন করত। আবার অনেক এলাকায় জমি বণ্টন, বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমান্তরাল প্রশাসনের মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করত। দিনে সাইগন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনেক গ্রাম রাতে ভিয়েত কংয়ের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ত।

উত্তর ভিয়েতনামের ভূমিকা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রথমদিকে হ্যানয় রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পুনরেকত্রীকরণের শান্তিপূর্ণ সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৫৬ সালের নির্বাচন না হওয়া এবং দক্ষিণে সাম্যবাদী সংগঠনগুলোর ওপর দমন তীব্র হওয়ার পর নীতি বদলাতে থাকে। ১৯৫৯ সালে উত্তর ভিয়েতনামের নেতৃত্ব দক্ষিণে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সময়ে লাওস ও কম্বোডিয়ার দুর্গম পথ ব্যবহার করে দক্ষিণে লোকবল, অস্ত্র ও রসদ পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যা পরে হো চি মিন ট্রেইল নামে পরিচিত হয়। তবে দক্ষিণের বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে উত্তর থেকে তৈরি করা হয়নি; এর গভীর স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিও ছিল।

বিদ্রোহ মোকাবিলায় দিয়েম সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গ্রামীণ জনগণকে সুরক্ষিত বসতিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। ১৯৬২ সালে ব্যাপকভাবে চালু হওয়া কৌশলগত গ্রাম কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল গ্রামগুলোকে বেড়া, পরিখা ও প্রহরা দিয়ে সুরক্ষিত করে কৃষকদের ভিয়েত কংয়ের প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন করা। কাগজে পরিকল্পনাটি কার্যকর মনে হলেও বাস্তবে বহু পরিবারকে জোরপূর্বক পৈতৃক জমি ও পূর্বপুরুষের সমাধিস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। দুর্নীতি, অসম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা, ক্ষতিপূরণের অভাব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করে। ভিয়েত কং অনেক গ্রামে অনুপ্রবেশ করে অস্ত্র দখল ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাষ্ট্র তখনও প্রধানত সামরিক উপদেষ্টা, অর্থ, অস্ত্র ও সরঞ্জামের মাধ্যমে দক্ষিণকে সহায়তা করছিল। জন এফ. কেনেডির প্রেসিডেন্টত্বে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টার সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান, যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিশেষ বাহিনী দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতে আসে। কিন্তু ১৯৬৩ সালের জানুয়ারিতে আপ বাকের যুদ্ধে সংখ্যায় ও অস্ত্রে শক্তিশালী দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনীর বিরুদ্ধে ভিয়েত কং কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিরাপদে সরে যায়। এই ঘটনা সেনাবাহিনীর দুর্বল নেতৃত্ব, অতিরিক্ত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।

একই বছর বৌদ্ধ সংকট দিয়েম সরকারের বৈধতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ১৯৬৩ সালের মে মাসে হুয়ে শহরে বুদ্ধের জন্মোৎসবে বৌদ্ধ পতাকা ওড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের সময় সরকারি বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। বৌদ্ধ নেতারা ধর্মীয় সমতা, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। সরকার সংকট মেটানোর পরিবর্তে আন্দোলনের পেছনে সাম্যবাদী ষড়যন্ত্র আছে বলে অভিযোগ করে। ১১ জুন সাইগনের একটি ব্যস্ত সড়কে বৌদ্ধ ভিক্ষু থিক কুয়াং দুকের আত্মাহুতি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর শান্তভাবে আগুনের মধ্যে বসে থাকার আলোকচিত্র দিয়েম সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রবল করে তোলে।

আগস্টে নগো দিন নুর নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী সা লইসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে অভিযান চালায়। ভিক্ষু ও আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার এবং সহিংস দমন যুক্তরাষ্ট্রকেও উদ্বিগ্ন করে। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা বুঝতে শুরু করেন, দিয়েমের জনপ্রিয়তা হারানো এবং সংস্কারে অনীহা সাম্যবাদবিরোধী যুদ্ধকেই দুর্বল করছে। দক্ষিণ ভিয়েতনামের কয়েকজন জেনারেল দিয়েমকে অপসারণের পরিকল্পনা করলে মার্কিন প্রশাসন তাদের নিরুৎসাহিত করেনি। ১৯৬৩ সালের ১ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান শুরু হয় এবং পরদিন আত্মসমর্পণের পর দিয়েম ও তাঁর ভাই নু নিহত হন।

দিয়েমের পতন সংকটের সমাধান করেনি। বরং পরবর্তী সময়ে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান, দুর্বল সরকার এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব দক্ষিণ ভিয়েতনামকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। গ্রামাঞ্চলে ভিয়েত কংয়ের প্রভাব বাড়ে, দক্ষিণের সেনাবাহিনীর মনোবল দুর্বল হয় এবং সাইগন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। দিয়েমের ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ভেঙে যাওয়ার পর এমন কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট ছিল না, যা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে পারত।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংঘাত তাই শুধু উত্তর থেকে পরিচালিত একটি সামরিক আগ্রাসন কিংবা কেবল স্থানীয় কৃষকবিদ্রোহ—কোনোটিই এককভাবে ছিল না। এটি ছিল দিয়েম সরকারের কর্তৃত্ববাদ, গ্রামীণ অসন্তোষ, অসম্পূর্ণ ভূমি সংস্কার, ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ, সাম্যবাদী সংগঠন, উত্তরের সহায়তা এবং মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধভিত্তিক কৌশলের সম্মিলিত ফল। ১৯৬৩ সালের শেষে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দক্ষিণ ভিয়েতনামের মুখোমুখি হয়, যার সরকার অস্থিতিশীল, সেনাবাহিনী দুর্বল এবং বিদ্রোহ ক্রমশ শক্তিশালী। এই অবস্থায় ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে উপদেষ্টার ভূমিকা ছেড়ে সরাসরি যুদ্ধের পথে এগিয়ে যায়—আর দক্ষিণের গৃহসংঘাত পরিণত হতে থাকে বিশ শতকের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক যুদ্ধে।