বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা: বিতর্কিত সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়াল?

সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ

টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা: বিতর্কিত সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়াল?
টঙ্কিনের বিতর্কিত সংকেত থেকে পূর্ণাঙ্গ মার্কিন যুদ্ধ

১৯৬৪ সালের আগস্টে টঙ্কিন উপসাগরের অন্ধকার সমুদ্রে কয়েকটি অস্পষ্ট রাডার সংকেত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উত্তেজিত নাবিকদের পর্যবেক্ষণ এমন এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়ে ওঠে, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের গতিপথ আমূল বদলে দেয়। মার্কিন সরকার দাবি করেছিল, উত্তর ভিয়েতনামের টর্পেডো নৌকা আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে দুইবার আক্রমণ চালিয়েছে। প্রথম সংঘর্ষটি সত্যিই ঘটেছিল; কিন্তু দ্বিতীয় হামলাটি আদৌ ঘটেছিল কি না, তা দ্রুতই সন্দেহের মুখে পড়ে। তবু প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন এই ঘটনাকে ব্যবহার করে কংগ্রেসের কাছ থেকে ব্যাপক সামরিক ক্ষমতা লাভ করেন। টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা ছিল এমন এক মোড়, যেখানে সীমিত মার্কিন সহায়তা ও গোপন অভিযান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়।

১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভিয়েতনামকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সহায়তা করছিল। প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির সময় উপদেষ্টার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে কেনেডি নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসা জনসন এমন একটি সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পান, যেখানে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার অস্থিতিশীল, সেনাবাহিনী দুর্বল এবং ভিয়েত কংয়ের বিদ্রোহ ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তখনো উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে প্রবেশ করেনি, কিন্তু গোপন অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ইতিমধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের কমান্ডোরা মার্কিন সহায়তায় উত্তর ভিয়েতনামের উপকূলীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে গোপন অভিযান পরিচালনা করত। এসব তৎপরতা অপারেশন প্ল্যান ৩৪এ নামে পরিচিত ছিল। দক্ষিণ ভিয়েতনামি নৌযান উত্তর ভিয়েতনামের দ্বীপ, রাডারকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালেও পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী “ডেসোটো টহল” নামে উত্তর ভিয়েতনামের উপকূলের কাছে বৈদ্যুতিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করত। দুটি অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক ছিল, কিন্তু সময় ও অবস্থানের নৈকট্য উত্তর ভিয়েতনামের কাছে এগুলোকে একই বৃহত্তর শত্রুতামূলক প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করিয়েছিল।

১৯৬৪ সালের ৩১ জুলাই মার্কিন ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ম্যাডক্স টঙ্কিন উপসাগরে গোয়েন্দা টহল শুরু করে। এর অল্প আগে দক্ষিণ ভিয়েতনামি কমান্ডো নৌযান উত্তর ভিয়েতনামের উপকূলবর্তী কয়েকটি দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল। ম্যাডক্স সরাসরি সেই আক্রমণে অংশ নেয়নি, তবে উত্তর ভিয়েতনামি কর্তৃপক্ষ সম্ভবত এটিকে উপকূলীয় অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেছিল। জাহাজটি উত্তর ভিয়েতনামের উপকূলের কাছ দিয়ে চলতে চলতে রাডার ও বেতার সংকেত সংগ্রহ করছিল।

২ আগস্ট উত্তর ভিয়েতনামের তিনটি পি-৪ টর্পেডো নৌকা ম্যাডক্সের দিকে অগ্রসর হয়। মার্কিন জাহাজ সতর্কতামূলক গোলা ছোড়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ম্যাডক্স তার কামান ব্যবহার করে এবং নিকটবর্তী বিমানবাহী রণতরি থেকে উড্ডয়ন করা মার্কিন যুদ্ধবিমান উত্তর ভিয়েতনামি নৌকাগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। তিনটি নৌকাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উত্তর ভিয়েতনামের কয়েকজন নাবিক হতাহত হন। ম্যাডক্সে একটি ক্ষুদ্র গুলির আঘাত ছাড়া উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। উত্তর ভিয়েতনামি নৌকাগুলো টর্পেডো ছুড়েছিল, কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২ আগস্টের সংঘর্ষ বাস্তব ছিল, যদিও এটি সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চালানো আকস্মিক হামলা—মার্কিন সরকারের এমন বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট গোপন করেছিল।

সংঘর্ষের পর ম্যাডক্সকে এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং ইউএসএস টার্নার জয় নামের আরেকটি ধ্বংসকারী জাহাজকে সঙ্গে দিয়ে টহল অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৪ আগস্ট রাতে উপসাগরের আবহাওয়া খারাপ ছিল। অন্ধকার, উঁচু ঢেউ এবং বজ্রঝড়ের মধ্যে জাহাজ দুটির রাডার ও সোনার যন্ত্রে সন্দেহজনক সংকেত ধরা পড়ে। নাবিকেরা মনে করেন, উত্তর ভিয়েতনামি নৌকা বিভিন্ন দিক থেকে টর্পেডো আক্রমণ চালাচ্ছে। জাহাজগুলো দ্রুত গতিপথ বদলায় এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গোলাবর্ষণ করে।

কিন্তু সেই রাতের প্রতিবেদনগুলো ছিল পরস্পরবিরোধী। কথিত শত্রু নৌকার নির্ভরযোগ্য দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোনো উত্তর ভিয়েতনামি নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নিশ্চিত চিহ্নও ছিল না। পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাডারের কিছু প্রতিফলন সম্ভবত ঢেউ, আবহাওয়া ও জাহাজের নিজস্ব গতিবিধির ফল ছিল। সোনার অপারেটররা জাহাজের প্রপেলারের শব্দকে টর্পেডো হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করে থাকতে পারেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রতিটি অস্বাভাবিক সংকেতকে সম্ভাব্য হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

ম্যাডক্সের অধিনায়ক জন হেরিক ঘটনার মধ্যেই তাঁর সন্দেহ জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে হামলার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি বার্তা পাঠান যে, বহু প্রতিবেদন সন্দেহজনক এবং রাডার ও সোনার অস্বাভাবিকতার কারণে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। বিমান থেকে অনুসন্ধানকারী মার্কিন বৈমানিকেরাও শত্রু নৌযান বা টর্পেডোর স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পাননি। তা সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা সংকেত ও অনিশ্চিত প্রতিবেদন এমনভাবে নির্বাচন ও ব্যাখ্যা করা হয়, যেন দ্বিতীয় আক্রমণ নিশ্চিতভাবেই ঘটেছিল।

পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও নথিপত্র থেকে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায় যে ৪ আগস্ট কোনো উত্তর ভিয়েতনামি আক্রমণ ঘটেনি। উত্তর ভিয়েতনামের যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু সংকেত ভুল সময়ের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল অথবা ২ আগস্টের সংঘর্ষের প্রস্তুতি ও মূল্যায়নকে নতুন হামলার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ ও বিরোধী তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে উপস্থাপিত হয়নি। তবে ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত ভুল ছিল না; জনসন প্রশাসন আগে থেকেই উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও সামরিক সুযোগ খুঁজছিল।

৪ আগস্ট রাতেই প্রেসিডেন্ট জনসন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর আবারও ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিস্তৃত যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যেকোনো সশস্ত্র আক্রমণের জবাব দেবে। ৫ আগস্ট মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে উত্তর ভিয়েতনামের নৌঘাঁটি ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালায়। অপারেশন পিয়ার্স অ্যারো নামের এই আক্রমণ ছিল উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য ও উল্লেখযোগ্য বিমান প্রতিশোধগুলোর একটি।

জনসন প্রশাসন একই সঙ্গে কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। ৭ আগস্ট গৃহীত টঙ্কিন উপসাগর প্রস্তাব প্রেসিডেন্টকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ প্রতিহত করা এবং ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকাতে “প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা” নেওয়ার অনুমতি দেয়। প্রতিনিধি পরিষদে এটি ৪১৬–০ ভোটে এবং সিনেটে ৮৮–২ ভোটে পাস হয়। সিনেটর ওয়েইন মোর্স ও আর্নেস্ট গ্রুয়েনিং একমাত্র বিরোধী ভোট দেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা দেবে।

প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছিল না, কিন্তু বাস্তবে তা জনসনের জন্য একটি রাজনৈতিক খোলা চেক হয়ে দাঁড়ায়। কংগ্রেস প্রতিটি নতুন সামরিক পদক্ষেপের জন্য পৃথক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা কার্যত নির্বাহী বিভাগের হাতে ছেড়ে দেয়। জনসন ১৯৬৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে নিজেকে সংযত নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও প্রশাসন গোপনে উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও সৈন্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রস্তুত করছিল। টঙ্কিনের ঘটনাটি এসব পরিকল্পনাকে জনগণ ও কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ দেয়।

১৯৬৫ সালের শুরুতে ভিয়েত কং দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন স্থাপনার ওপর আক্রমণ বাড়ালে জনসন অপারেশন রোলিং থান্ডার অনুমোদন করেন। এর মাধ্যমে উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী বিমান বোমাবর্ষণ শুরু হয়। একই বছরের মার্চে দা নাং বিমানঘাঁটি রক্ষার জন্য মার্কিন মেরিন সেনারা অবতরণ করে। প্রথমে তাদের দায়িত্ব প্রতিরক্ষামূলক বলা হলেও দ্রুতই তারা আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিতে শুরু করে। বছরের শেষ নাগাদ ভিয়েতনামে মার্কিন সেনার সংখ্যা লক্ষাধিক হয়ে যায়। সীমিত উপদেষ্টা মিশন তখন পূর্ণাঙ্গ স্থল ও আকাশযুদ্ধে পরিণত হয়েছিল।

টঙ্কিনের ঘটনা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। যুদ্ধ যত বিস্তৃত হয় এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে, প্রশাসনের প্রাথমিক দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সংবাদমাধ্যম, কংগ্রেস ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন জানতে চায়, দ্বিতীয় হামলার অনিশ্চয়তা কেন জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান পরবর্তী বছরগুলোতে যে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট সৃষ্টি করেছিল, টঙ্কিন ছিল তার অন্যতম প্রাথমিক উৎস।

১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস টঙ্কিন উপসাগর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের এককভাবে দীর্ঘ সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়। এসব পদক্ষেপ দেখায় যে টঙ্কিনের অভিজ্ঞতা শুধু ভিয়েতনাম নীতিকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ককেও বদলে দিয়েছিল।

টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে এক রাতের মধ্যে ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রবেশ করায়নি; বরং আগে থেকে চলমান সম্পৃক্ততাকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দেওয়ার আইনি ও রাজনৈতিক দরজা খুলে দিয়েছিল। প্রথম সংঘর্ষের জটিল প্রেক্ষাপট আড়াল করা, দ্বিতীয় কথিত হামলার অনিশ্চিত প্রমাণকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন এবং কংগ্রেসের দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর—সবকিছু মিলিয়ে একটি স্থানীয় সামুদ্রিক সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধের অজুহাতে পরিণত হয়। এর পরিণতিতে লাখো মার্কিন সেনা ভিয়েতনামে যায়, উত্তর ভিয়েতনামের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু হয় এবং এমন একটি যুদ্ধ বিস্তৃত হয়, যার মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য উভয় দেশকে বহু দশক বহন করতে হয়েছে।


আপনার পছন্দ হতে পারে