বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

জেনেভা চুক্তি ও ভিয়েতনামের বিভাজন: ১৭তম সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্ম

সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ

জেনেভা চুক্তি ও ভিয়েতনামের বিভাজন: ১৭তম সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্ম
১৭তম সমান্তরালে বিভক্ত ভিয়েতনামের মানচিত্র

১৯৫৪ সালের ৭ মে দিয়েন বিয়েন ফুতে ফরাসি বাহিনীর আত্মসমর্পণ ইন্দোচীনে প্রায় আট বছরের যুদ্ধের সামরিক পরিণতি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ভিয়েত মিনের বিজয় ভিয়েতনামকে সঙ্গে সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেনি। বরং কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক দর-কষাকষির পর দেশটির মাঝবরাবর এমন একটি সাময়িক সামরিক সীমারেখা টানা হয়, যা শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র, দুটি বিপরীত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং আরও ভয়াবহ একটি যুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দেয়। ১৭তম সমান্তরালকে কেন্দ্র করে ভিয়েতনামের বিভাজন ছিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা; কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের প্রতিযোগিতা সেটিকেই কার্যত স্থায়ী রাজনৈতিক সীমান্তে রূপান্তরিত করেছিল।

ইন্দোচীন সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯৫৪ সালের ২৬ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের প্রাথমিক আলোচ্য বিষয় ছিল কোরীয় উপদ্বীপের ভবিষ্যৎ, তবে ৮ মে থেকে ইন্দোচীন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। ফ্রান্স, ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বাও দাইয়ের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনাম রাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, লাওস ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। যুক্তরাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্মেলনের সহসভাপতির ভূমিকা পালন করেছিল।

প্রত্যেক পক্ষের লক্ষ্য ছিল আলাদা। হো চি মিনের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র দিয়েন বিয়েন ফুতে বিজয়ের পর সমগ্র ভিয়েতনামের ওপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আশা করছিল। ফ্রান্স যত দ্রুত সম্ভব ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পরাজয় এড়ানোরও চেষ্টা করছিল। চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের মিত্র ভিয়েত মিনকে সমর্থন করলেও এমন কোনো নিষ্পত্তি চায়নি, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাম্যবাদের প্রসার নিয়ে আতঙ্কিত ছিল এবং ভিয়েতনামকে সম্পূর্ণরূপে হো চি মিনের নিয়ন্ত্রণে যেতে দিতে প্রস্তুত ছিল না।

এই আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ডমিনো তত্ত্ব বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন, ইন্দোচীনের একটি দেশ সাম্যবাদী হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও একে একে একই পথে চলে যেতে পারে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ভিয়েতনামের পর লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও বিস্তৃত অঞ্চল সাম্যবাদী প্রভাবের অধীনে চলে যাবে। ফলে ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ আর শুধু একটি উপনিবেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৫৪ সালের ২০ ও ২১ জুলাই ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণা গৃহীত হয়। প্রচলিতভাবে এগুলোকে একত্রে জেনেভা চুক্তি বা জেনেভা সমঝোতা বলা হলেও এটি একটি মাত্র দলিল ছিল না। ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতির জন্য পৃথক চুক্তি এবং সম্মেলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি চূড়ান্ত ঘোষণা ছিল। ভিয়েতনামসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফরাসি ইউনিয়ন বাহিনীর পক্ষে একজন ফরাসি সামরিক কর্মকর্তা এবং ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ভিয়েত মিনের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ভিয়েতনামে যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং যুদ্ধরত দুই পক্ষ তাদের বাহিনী পৃথক অঞ্চলে পুনর্গঠন করবে। ভিয়েত মিন বাহিনী উত্তরে এবং ফরাসি ইউনিয়ন ও তাদের সহযোগী বাহিনী দক্ষিণে অবস্থান নেবে। উভয় অঞ্চলের মাঝখানে ১৭তম সমান্তরালের কাছাকাছি বেন হাই নদী বরাবর একটি সাময়িক সামরিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়। রেখাটির দুই পাশে একটি অসামরিকীকৃত অঞ্চল রাখার কথাও বলা হয়। এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত সৃষ্টি করা ছিল না; এটি ছিল বাহিনীগুলোকে আলাদা রেখে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ব্যবস্থা।

চূড়ান্ত ঘোষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সামরিক সীমানাটিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ভূখণ্ডগত সীমান্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ভিয়েতনামকে নীতিগতভাবে একটি দেশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। ১৯৫৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সারা দেশে অবাধ সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দুই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ১৯৫৫ সালের জুলাই থেকে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই পরে জেনেভা ব্যবস্থার সবচেয়ে বিতর্কিত ও ব্যর্থ অংশে পরিণত হয়।

জেনেভা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত দিক হলো—সব অংশগ্রহণকারী চূড়ান্ত ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণায় স্বাক্ষর না করে জানায়, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমঝোতা ভঙ্গের চেষ্টা হলে সেটিকে গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। বাও দাইয়ের ভিয়েতনাম রাষ্ট্রের প্রতিনিধিও বিভাজন মেনে নিতে অস্বীকার করেন। ফলে নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে শুরু থেকেই মতবিরোধ থেকে যায়। জেনেভার নিষ্পত্তি যুদ্ধ থামিয়েছিল, কিন্তু ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে কোনো সর্বসম্মত রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করতে পারেনি।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের নির্ধারিত অঞ্চলে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই পুনর্গঠনকাল প্রায় ৩০০ দিন স্থায়ী হয়। এ সময় সাধারণ নাগরিকদেরও উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়ার অনুমতি ছিল। কয়েক লাখ মানুষ, যাদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক রোমান ক্যাথলিক, ফরাসি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং সাম্যবাদবিরোধী পরিবার ছিল, দক্ষিণে চলে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ফরাসি সহায়তায় পরিচালিত জাহাজ ও বিমানে অনেককে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই স্থানান্তরকে ঘিরে দক্ষিণমুখী প্রচারাভিযানে ধর্মীয় ভয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উত্তরাঞ্চলে সম্ভাব্য নিপীড়নের আশঙ্কা ব্যবহার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে দক্ষিণে থাকা হাজার হাজার ভিয়েত মিন যোদ্ধা, রাজনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য উত্তর ভিয়েতনামে চলে যান। তবে সবাই উত্তরমুখী হননি। ভিয়েত মিনের কিছু রাজনৈতিক কাঠামো ও সমর্থক দক্ষিণে থেকে যায়, যাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে সাইগন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সশস্ত্র প্রতিরোধে যুক্ত হন। জনগণের এই দুইমুখী চলাচল কেবল ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না; ভবিষ্যৎ সংঘাতের সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রও এই সময়েই তৈরি হচ্ছিল।

উত্তরে হো চি মিনের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হ্যানয়কে রাজধানী করে নিজেদের কর্তৃত্ব সুসংহত করে। ফরাসি বাহিনী হ্যানয় ছেড়ে গেলে ১৯৫৪ সালের অক্টোবরে ভিয়েত মিন সেখানে প্রবেশ করে। সরকার ভূমি সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। তবে ভূমি সংস্কারের সময় অনেক ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা, ভুল শ্রেণিবিন্যাস, বিচারবহির্ভূত শাস্তি ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে সরকার কিছু ভুল স্বীকার করে সংশোধনী অভিযান চালাতে বাধ্য হয়।

দক্ষিণে বাও দাইয়ের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতনাম রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে টিকে থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন প্রধানমন্ত্রী নগো দিন দিয়েম। ফ্রান্সের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাঁর সরকারের প্রধান আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। দিয়েম প্রশাসন সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, বিভিন্ন সশস্ত্র ধর্মীয় ও অপরাধভিত্তিক গোষ্ঠীর ক্ষমতা দমন এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে বাও দাইকে অপসারণ করে দিয়েম নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং ভিয়েতনাম প্রজাতন্ত্র, অর্থাৎ দক্ষিণ ভিয়েতনাম প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৫৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। উত্তর ভিয়েতনাম নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানালেও দিয়েম সরকার যুক্তি দেয় যে তারা জেনেভা চুক্তির স্বাক্ষরকারী নয় এবং উত্তরে সত্যিকারের অবাধ নির্বাচন সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্রও এমন একটি নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল, যেখানে হো চি মিনের ব্যাপক জাতীয়তাবাদী জনপ্রিয়তার কারণে সাম্যবাদীদের বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল। ফলে অস্থায়ী বিভাজন দূর করার কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর ভিয়েতনাম দেশ পুনরেকত্রীকরণকে অসমাপ্ত জাতীয় বিপ্লব হিসেবে দেখতে থাকে, আর দক্ষিণ সরকার নিজেকে পৃথক সাম্যবাদবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

দুই অঞ্চলের মধ্যে বেন হাই নদী ও নিকটবর্তী হিয়েন লুয়ং সেতু বিভক্ত ভিয়েতনামের শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। সেতুর দুই পাশে পৃথক পতাকা, প্রহরাচৌকি, প্রচারযন্ত্র এবং ভিন্ন রঙের অংশ বিভাজনের বাস্তবতা প্রকাশ করত। আত্মীয়স্বজন ও পরিবার দুই পাশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। যে রেখাটি সাময়িকভাবে সেনাবাহিনী পৃথক করার জন্য আঁকা হয়েছিল, সেটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বৈরিতা, সামরিক প্রস্তুতি এবং পরস্পরবিরোধী জাতীয় পরিচয়ের সীমারেখায় পরিণত হয়।

জেনেভা সমঝোতার ব্যর্থতা শুধু নির্বাচন না হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভিয়েতনামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দুটি প্রতিযোগী ধারণা মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। হ্যানয়ের নেতৃত্বের কাছে সংগ্রামটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা। সাইগন ও ওয়াশিংটনের কাছে এটি ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সাম্যবাদী সম্প্রসারণ থেকে রক্ষার লড়াই। এই পারস্পরিক বিরোধের মধ্যে দক্ষিণে রাজনৈতিক দমন, ভিয়েত মিন সমর্থকদের ওপর অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ নতুন যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে।

জেনেভা সমঝোতা তাই একই সঙ্গে একটি যুদ্ধের সমাপ্তি এবং আরেকটি যুদ্ধের সূচনাবিন্দু। এটি ফরাসি ঔপনিবেশিক যুদ্ধ থামিয়েছিল, কিন্তু ভিয়েতনামের রাজনৈতিক ঐক্য নিশ্চিত করতে পারেনি। ১৭তম সমান্তরাল কোনো স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত হওয়ার কথা না থাকলেও নির্বাচন বাতিল, স্নায়ুযুদ্ধের মেরুকরণ এবং দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের উত্থান সেটিকে কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভাজনরেখায় পরিণত করে। কয়েক বছরের মধ্যেই এই অসমাপ্ত নিষ্পত্তি দক্ষিণে বিদ্রোহ, উত্তর ভিয়েতনামের সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এমন এক যুদ্ধে রূপ নেয়, যা পরবর্তী দুই দশক ভিয়েতনাম ও বিশ্বরাজনীতিকে গভীরভাবে বদলে দেয়।


আপনার পছন্দ হতে পারে