ইনটলারেবল অ্যাক্টস ও প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস: ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তেরো উপনিবেশের ঐক্যের ইতিহাস
সিরিজ: আমেরিকান বিপ্লব: স্বাধীনতার সংগ্রাম ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম
ব্রিটিশ দমননীতি থেকে উপনিবেশগুলোর ঐক্যের পথে
১৭৭৩ সালের বোস্টন টি পার্টির পর ব্রিটিশ সরকারের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছিল—বোস্টনের প্রকাশ্য অবাধ্যতাকে যদি কঠোরভাবে দমন করা না হয়, তাহলে সাম্রাজ্যের অন্যান্য উপনিবেশেও কি একই ধরনের প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়বে? প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ম্যাসাচুসেটসকে এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে অন্য উপনিবেশগুলোও সতর্ক হয়। কিন্তু ১৭৭৪ সালে গৃহীত কঠোর আইনগুলো শেষ পর্যন্ত ঠিক বিপরীত ফল সৃষ্টি করে। বোস্টনকে বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে ব্রিটেন এমন এক আন্তঃউপনিবেশিক সংহতি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা আমেরিকান বিপ্লবের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশরা এসব আইনকে সাধারণত কোয়েরসিভ অ্যাক্টস বা দমনমূলক আইন হিসেবে জানত। আমেরিকানরা এগুলোকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ একটি নাম দেয়—ইনটলারেবল অ্যাক্টস, অর্থাৎ অসহনীয় আইন। মূল দমনমূলক ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে একই সময়ের কুইবেক অ্যাক্টকেও উপনিবেশবাসীরা প্রায়ই তাদের অভিযোগের বৃহত্তর তালিকার অংশ হিসেবে যুক্ত করেছিল। ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল ম্যাসাচুসেটসে রাজকীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা; কিন্তু উপনিবেশবাসীদের কাছে এগুলো হয়ে ওঠে স্বশাসন ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণের প্রমাণ।
প্রথম বড় আঘাত ছিল বোস্টন পোর্ট অ্যাক্ট। ১৭৭৪ সালের ১ জুন থেকে বোস্টন বন্দর কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ধ্বংস হওয়া চায়ের ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হয়। বোস্টনের অর্থনীতি সমুদ্রবাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। ফলে বন্দর বন্ধ হওয়া মানে শুধু চা ধ্বংসকারীদের শাস্তি নয়; নাবিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং এমন বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাদের টি পার্টিতে কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না।
ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত আশা করেছিল অর্থনৈতিক দুর্দশায় বোস্টনবাসীরা দেশপ্রেমিক নেতাদের বিরুদ্ধে চলে যাবে। কিন্তু অন্যান্য উপনিবেশে ঘটনাটি ভিন্নভাবে দেখা হয়। ভার্জিনিয়া, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বোস্টনের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্য পাঠানো শুরু হয়। ম্যাসাচুসেটসের ওপর আঘাতকে ক্রমে শুধু স্থানীয় শাস্তি নয়, এমন একটি নজির হিসেবে দেখা হতে থাকে যা ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো উপনিবেশের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব।
আরও গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তন আনে ম্যাসাচুসেটস গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট। এর মাধ্যমে ১৬৯১ সালের ম্যাসাচুসেটস চার্টারের অধীনে গড়ে ওঠা স্বশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সীমিত করা হয়। বহু সরকারি পদে রাজকীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায় এবং টাউন মিটিং বা স্থানীয় সভার স্বাধীনতার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। উপনিবেশবাসীদের চোখে এর অর্থ ছিল অত্যন্ত গুরুতর—পার্লামেন্ট অসন্তুষ্ট হলে একটি উপনিবেশের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোও বদলে দিতে পারে।
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব জাস্টিস অ্যাক্ট আরও সন্দেহ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাজকীয় কর্মকর্তা বা সৈন্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার ম্যাসাচুসেটসের বাইরে অন্য উপনিবেশে বা ব্রিটেনে স্থানান্তরের সুযোগ এতে ছিল। দেশপ্রেমিকদের আশঙ্কা ছিল, এর ফলে রাজকীয় কর্মকর্তারা স্থানীয় জনগণের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করেও কার্যত জবাবদিহি এড়াতে পারবেন। বিরোধীরা তাই আইনটিকে ব্যঙ্গ করে কখনো কখনো “মার্ডার অ্যাক্ট” বলেও আখ্যা দেয়।
একই সময়ে নতুন কোয়ার্টারিং অ্যাক্ট সেনাদের থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষের ওপর আরও বাধ্যবাধকতা আরোপ করে এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত খালি ভবনে সৈন্য রাখার সুযোগ সম্প্রসারিত করে। তবে পরবর্তী জনপ্রিয় কল্পনায় যেভাবে বলা হয়েছে যে ব্রিটিশ সৈন্যদের নির্বিচারে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বসতঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো, আইনটির প্রকৃত বিধান ততটা সরল ছিল না। তারপরও শান্তিকালীন সমাজে স্থায়ী সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে আগেই সন্দিহান আমেরিকানদের কাছে এটি সামরিক নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কাকে আরও শক্তিশালী করে।
১৭৭৪ সালের কুইবেক অ্যাক্ট সরাসরি বোস্টন টি পার্টির শাস্তিমূলক আইন ছিল না, কিন্তু আমেরিকান দেশপ্রেমিকরা সেটিকেও তাদের “অসহনীয়” অভিযোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আইনে কুইবেকের সীমানা ওহাইও অঞ্চলের দিকে সম্প্রসারিত হয় এবং সেখানে ক্যাথলিক ধর্মচর্চার অধিকারসহ ফরাসি-কানাডীয় সমাজের কিছু বিদ্যমান ব্যবস্থা স্বীকৃতি পায়। পশ্চিমাঞ্চলের জমির দাবি থাকা উপনিবেশগুলোর জন্য ভূখণ্ডের প্রশ্নটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক ছিল। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতায় প্রভাবিত কিছু প্রোটেস্ট্যান্ট উপনিবেশবাসী ক্যাথলিকদের দেওয়া স্বীকৃতিকেও সন্দেহের চোখে দেখেছিল।
এই সব ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব ছিল একটি মৌলিক রাজনৈতিক উপলব্ধি: ম্যাসাচুসেটসের স্বাধীনতা সংকুচিত করা গেলে অন্য উপনিবেশগুলোর স্বশাসনও নিরাপদ নয়। এখানেই ১৭৭৪ সালের সংকট আগের করবিরোধী আন্দোলন থেকে আরও বিস্তৃত চরিত্র লাভ করে। বিতর্ক আর শুধু চায়ের শুল্ক বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ নিয়ে ছিল না; প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় একটি উপনিবেশের চার্টার, আইনসভা ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কত দূর পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ভার্জিনিয়ায় খবর পৌঁছানোর পর সেখানকার আইনপ্রণেতারা বোস্টনের প্রতি সমর্থন জানান। রাজকীয় গভর্নর লর্ড ডানমোর ভার্জিনিয়ার হাউস অব বার্জেসেস ভেঙে দিলেও সদস্যরা বিকল্পভাবে বৈঠক চালিয়ে যান। বিভিন্ন উপনিবেশে একই ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা দেয়। কমিটিজ অব করেসপন্ডেন্স বা যোগাযোগ কমিটিগুলো আগে থেকেই খবর, রাজনৈতিক যুক্তি ও প্রতিবাদের পরিকল্পনা আদান-প্রদান করছিল; এখন সেই নেটওয়ার্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ক্রমেই একটি মহাদেশীয় সম্মেলনের ধারণা শক্তিশালী হয়। উদ্দেশ্য তখনও স্বাধীনতা ঘোষণা করা নয়। বরং বিভিন্ন উপনিবেশের প্রতিনিধিদের একত্র করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান নির্ধারণ করা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা ছিল প্রধান লক্ষ্য। অবশেষে ১৭৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার কার্পেন্টার্স’ হলে প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয়।
তেরো উপনিবেশের মধ্যে বারোটি উপনিবেশ প্রতিনিধি পাঠায়। জর্জিয়া অংশ নেয়নি; সেখানে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অংশগ্রহণকে জটিল করেছিল। মোট ৫৬ জন প্রতিনিধি কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন, জন অ্যাডামস, স্যামুয়েল অ্যাডামস, প্যাট্রিক হেনরি, জন জে এবং জন ডিকিনসনের মতো ব্যক্তিরা। পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যাঁদের অনেকেই কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠবেন, ১৭৭৪ সালে তাঁরা তখনও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভেতরে সংকটের সমাধান নিয়ে বিতর্ক করছিলেন।
কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই একমত ছিলেন না। কেউ ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ চাইছিলেন, আবার কেউ সমঝোতার সম্ভাবনা বজায় রাখতে আগ্রহী ছিলেন। পেনসিলভানিয়ার জোসেফ গ্যালোওয়ে এমনকি একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, যাতে উপনিবেশগুলোর জন্য একটি মহাদেশীয় পরিষদ তৈরি করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সঙ্গে নতুন ধরনের সাংবিধানিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। প্রস্তাবটি অল্প ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়। এই ঘটনা দেখায়, ১৭৭৪ সালের শরতেও স্বাধীনতা অনিবার্য সিদ্ধান্তে পরিণত হয়নি।
কিন্তু একটি বিষয়ে প্রতিনিধিদের বড় অংশ একমত হয়েছিল—ব্রিটিশ সরকার আমেরিকানদের অধিকারের সীমা অতিক্রম করেছে। কংগ্রেস ডিক্লারেশন অ্যান্ড রিজলভস গ্রহণ করে, যেখানে উপনিবেশবাসীদের জীবন, স্বাধীনতা, সম্পত্তি এবং নিজস্ব আইনসভার মাধ্যমে কর নির্ধারণের অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে রাজা তৃতীয় জর্জের কাছে আবেদন জানানোর পথও খোলা রাখা হয়। অর্থাৎ তখনও আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র উৎখাত নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
কংগ্রেসের সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল কন্টিনেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন গঠন। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ পণ্যের বিরুদ্ধে সমন্বিত অর্থনৈতিক বয়কটের ব্যবস্থা করা হয়। ব্রিটেন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করা, পরে ব্রিটেনে উপনিবেশিক পণ্য রপ্তানিও বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আগের বয়কটগুলো অনেকাংশে শহর বা পৃথক উপনিবেশভিত্তিক ছিল; এবার প্রথমবারের মতো তা মহাদেশীয় মাত্রায় সংগঠিত করার চেষ্টা হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় কমিটি গঠন। বিভিন্ন শহর ও কাউন্টিতে কমিটি অব অবজারভেশন অ্যান্ড ইনস্পেকশন বয়কট মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। এর ফলে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত কেবল ফিলাডেলফিয়ার সভাকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকল না; তা স্থানীয় সমাজের দৈনন্দিন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রবেশ করল। ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে একটি বিকল্প উপনিবেশিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে শুরু করে।
ম্যাসাচুসেটসে পরিস্থিতি আরও দ্রুত এগোচ্ছিল। ব্রিটিশ জেনারেল ও গভর্নর থমাস গেজ রাজকীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও উপনিবেশবাসীরা বিকল্প রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলে এবং মিলিশিয়াগুলোকে প্রস্তুত করতে থাকে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ শুরু হয়। ফলে প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস যখন শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজছিল, নিউ ইংল্যান্ডের মাটিতে তখন সশস্ত্র সংঘর্ষের সম্ভাবনা ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠছিল।
প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস ২৬ অক্টোবর ১৭৭৪ শেষ হয়। প্রতিনিধিরা ঠিক করেন, তাদের অভিযোগের সন্তোষজনক সমাধান না হলে ১৭৭৫ সালের মে মাসে আবার মিলিত হবেন। এই সিদ্ধান্তটির তাৎপর্য ছিল গভীর। কংগ্রেস কোনো স্থায়ী জাতীয় সরকার ছিল না, তবু বিভিন্ন উপনিবেশ প্রথমবারের মতো এমন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল যা তাদের সম্মিলিত স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে পারত।
তবে “তেরো উপনিবেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল” কথাটিকে সতর্কতার সঙ্গে বুঝতে হয়। ১৭৭৪ সালে সব উপনিবেশবাসী বিপ্লবী ছিল না, সবাই স্বাধীনতা চাইত না এবং প্রথম কংগ্রেসেও জর্জিয়া উপস্থিত ছিল না। রাজভক্ত জনগোষ্ঠী ছিল উল্লেখযোগ্য, আবার অনেক মানুষ দীর্ঘদিন নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল—ম্যাসাচুসেটসের সংকট আর শুধু ম্যাসাচুসেটসের সমস্যা ছিল না।
ব্রিটিশ সরকার বোস্টনকে শাস্তি দিয়ে অন্য উপনিবেশগুলোকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল। পরিবর্তে বোস্টন পোর্ট অ্যাক্টের কারণে অন্য উপনিবেশ থেকে সাহায্য এল, ম্যাসাচুসেটসের স্বশাসনে হস্তক্ষেপ অন্যদের নিজেদের অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন করল এবং ইনটলারেবল অ্যাক্টসের প্রতিক্রিয়ায় একটি মহাদেশীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান জন্ম নিল। ব্রিটিশ দমননীতি এভাবেই বিচ্ছিন্ন অসন্তোষকে একটি অভিন্ন সাংবিধানিক সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয়।
১৭৭৪ সালের শেষে স্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র তখনও জন্ম নেয়নি, এমনকি অধিকাংশ প্রতিনিধি তখনও সেই লক্ষ্য ঘোষণা করেননি। কিন্তু একটি মৌলিক পরিবর্তন ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। ভার্জিনিয়ার প্যাট্রিক হেনরির সঙ্গে যুক্ত বিখ্যাত বক্তব্যের মর্মার্থ অনুযায়ী, পৃথক উপনিবেশিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি বৃহত্তর “আমেরিকান” রাজনৈতিক পরিচয় ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছিল। আর কয়েক মাস পর লেক্সিংটন ও কনকর্ডে যখন প্রথম গুলি চলবে, তখন ব্রিটেনের মুখোমুখি হবে শুধু বিদ্রোহী বোস্টন নয়—বরং দ্রুত সংগঠিত হতে থাকা একটি মহাদেশীয় প্রতিরোধ।
ইনটলারেবল অ্যাক্টসের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এখানেই: যে আইনগুলো ম্যাসাচুসেটসকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেগুলোই উপনিবেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের সবচেয়ে শক্তিশালী কারণগুলোর একটিতে পরিণত হয়। প্রথম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস সেই ঐক্যকে সভা, ঘোষণা, অর্থনৈতিক বয়কট এবং সমন্বিত রাজনৈতিক কর্মসূচির বাস্তব কাঠামো দেয়। কর নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ এখন আর শুধু করের প্রশ্ন ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল স্বশাসন, প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক অধিকার এবং সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্বের সীমা নিয়ে একটি মহাদেশীয় সংগ্রাম—যার পরবর্তী অধ্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয় মেহমেদের সাম্রাজ্য নির্মাণ: কনস্টান্টিনোপল থেকে বলকান ও আনাতোলিয়ায় অটোমান বিশ্বশক্তির উত্থান
কনস্টান্টিনোপল বিজয় ১৪৫৩: দ্বিতীয় মেহমেদ কীভাবে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন?
অটোমান গৃহযুদ্ধ ও দ্বিতীয় মুরাদ: আঙ্কারার বিপর্যয়ের পর সাম্রাজ্যের পুনর্জন্ম
৪৭৬ সালে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতন: ওদোয়াকারের হাতে রোমুলাস অগাস্টুলাসের ক্ষমতাচ্যুতি এবং পরবর্তী ইউরোপ
৪৬৮ সালের বিপর্যয় থেকে রোমুলাস অগাস্টুলাস: ব্যর্থ আফ্রিকা অভিযান, পুতুল সম্রাট ও পশ্চিম রোমের শেষ অধ্যায়
মেজোরিয়ান, রিসিমার ও শেষ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা: পশ্চিম রোমকে বাঁচানোর শক্তিশালী প্রচেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছিল?