বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস

সিরিজ: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা

হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস
ধ্বংস, তেজস্ক্রিয়তা ও পুনর্জন্মের দুই শহর

১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্যমান ধ্বংস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেলেও এর প্রভাব সেখানেই শেষ হয়নি। তাপ, অভিঘাত ও অগ্নিকাণ্ডে যারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারাননি, তাঁদের অনেকে পরবর্তী দিন, মাস ও বছরে তেজস্ক্রিয়তার কারণে অসুস্থ হন। কেউ দগ্ধ ক্ষত ও অঙ্গহানি নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কেউ লিউকেমিয়া বা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার কেউ সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুটি শহরকে আবার গড়ে তুলতে হয়েছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি ইতিহাস তাই রোগ ও মৃত্যুর পাশাপাশি বেঁচে থাকা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, স্মৃতি এবং পুনর্জন্মের ইতিহাস।

পারমাণবিক বিস্ফোরণ মানুষের শরীরে তিনটি প্রধান পথে আঘাত করেছিল—প্রচণ্ড তাপ, অভিঘাত তরঙ্গ এবং আয়নায়নকারী বিকিরণ। তাপ মানুষের ত্বক ও শরীর পুড়িয়ে দেয়, অভিঘাত ভবন ধসিয়ে ও কাচের টুকরা ছড়িয়ে অসংখ্য আঘাত সৃষ্টি করে। কিন্তু বিকিরণ ছিল অদৃশ্য। বিস্ফোরণের প্রথম মুহূর্তে গামা রশ্মি ও নিউট্রন মানুষের শরীর ভেদ করে কোষ ও বংশগত উপাদানের ক্ষতি করেছিল। পরে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কিছু তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং মাটিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা পদার্থ থেকেও মানুষ বিকিরণের সংস্পর্শে আসে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তি সমান মাত্রায় আক্রান্ত হননি; দূরত্ব, আশ্রয়, ভবনের গঠন এবং বিস্ফোরণের সময় অবস্থান ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিস্ফোরণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে বহু মানুষের মধ্যে তীব্র বিকিরণজনিত অসুস্থতা দেখা দেয়। জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, চুল পড়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ এবং সংক্রমণ ছিল এর সাধারণ লক্ষণ। অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শ্বেত রক্তকণিকা ও রক্তের অন্যান্য উপাদানের উৎপাদন কমে যেত। ফলে সামান্য সংক্রমণ বা ক্ষতও প্রাণঘাতী হয়ে উঠত। তখন জাপানি চিকিৎসকদের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ, পরীক্ষাগার কিংবা বিকিরণ চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা রোগের কারণ বোঝার আগেই রোগী মারা যান।

যাঁরা প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করে বেঁচে যান, তাঁদের অনেকের দগ্ধ ক্ষত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পরিণত হয়। গভীর ক্ষতের ওপর মোটা, উঁচু ও শক্ত দাগ তৈরি হতো, যাকে কেলয়েড বলা হয়। এসব দাগ শুধু চেহারা ও শরীরের আকৃতি বদলে দেয়নি; হাত-পা বা ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়াও সীমিত করেছিল। বিশেষ করে তরুণীদের মুখ ও শরীরে কেলয়েড থাকায় তাঁরা সামাজিক অপমান এবং বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের শিকার হন। কিছু হিবাকুশাকে পরবর্তী সময়ে একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাগ ও সংকুচিত ত্বক সংশোধনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

তেজস্ক্রিয়তার সবচেয়ে স্পষ্ট বিলম্বিত প্রভাবগুলোর একটি ছিল লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি। হামলার দুই থেকে তিন বছর পর আক্রান্তদের মধ্যে লিউকেমিয়ার ঘটনা বাড়তে শুরু করে এবং প্রায় ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে এর অতিরিক্ত ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অল্প বয়সে উচ্চমাত্রার বিকিরণ পাওয়া ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে হার কমলেও ঝুঁকি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়নি। হিরোশিমার কিশোরী সাদাকো সাসাকির লিউকেমিয়া ও কাগজের সারস তৈরির কাহিনি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের শিকার শিশুদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

লিউকেমিয়ার পর আরও দীর্ঘ সময় ধরে কিছু কঠিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে দেখা যায়। থাইরয়েড, স্তন, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত ও মূত্রাশয়সহ কয়েক ধরনের ক্যানসারের অতিরিক্ত ঘটনা বিকিরণের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। সাধারণত বিস্ফোরণকেন্দ্রের যত কাছে অবস্থান এবং শরীরে যত বেশি বিকিরণ গ্রহণ, ঝুঁকি তত বেশি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব হিবাকুশা ক্যানসারে আক্রান্ত হননি এবং তাঁদের প্রতিটি রোগের কারণ পারমাণবিক বিকিরণ ছিল না। বয়স, জীবনযাপন, ধূমপান, সংক্রমণ এবং স্বাভাবিক ক্যানসারঝুঁকিও কাজ করেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তাই ব্যক্তিগত রোগের নিশ্চিত কারণের বদলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীতে ঝুঁকির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

চোখের ছানি, রক্তসংক্রান্ত কিছু রোগ এবং উচ্চমাত্রার বিকিরণের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কেলয়েড ও ক্যানসারের পাশাপাশি অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নানা শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। জাপানে একসময় এসব উপসর্গকে সমষ্টিগতভাবে “পারমাণবিক বোমা অসুস্থতা” বলা হতো। সব উপসর্গের সঙ্গে বিকিরণের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব না হলেও হিবাকুশাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় শারীরিক অসুস্থতা, অপুষ্টি, মানসিক আঘাত এবং যুদ্ধোত্তর দারিদ্র্য প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।

গর্ভবতী নারীরা বিস্ফোরণের সময় বিকিরণের সংস্পর্শে এলে গর্ভস্থ শিশুর ঝুঁকি নির্ভর করত বিকিরণের মাত্রা এবং গর্ভাবস্থার পর্যায়ের ওপর। বিশেষত মস্তিষ্কের বিকাশের সংবেদনশীল সময়ে উচ্চমাত্রার বিকিরণ পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে মাথার আকার অস্বাভাবিকভাবে ছোট হওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মানসিক বিকাশের সমস্যা দেখা গিয়েছিল। গর্ভপাত ও মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনাও যুদ্ধোত্তর বিশৃঙ্খলা, অপুষ্টি, আঘাত এবং বিকিরণের সম্মিলিত প্রভাবে বেড়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর প্রতিটি শিশুর জন্মগত সমস্যা হয়নি।

হিবাকুশাদের সন্তানদের নিয়ে আরও বড় সামাজিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বহু মানুষ বিশ্বাস করতেন, তেজস্ক্রিয়তার কারণে তাঁদের সব সন্তান বিকলাঙ্গ হবে অথবা পরবর্তী প্রজন্মে ব্যাপক বংশগত রোগ ছড়াবে। এই আশঙ্কায় অনেক হিবাকুশা, বিশেষত নারী, বিয়েতে প্রত্যাখ্যাত হন অথবা নিজেদের অতীত গোপন রাখেন। কিন্তু কয়েক দশক ধরে পরিচালিত বৃহৎ গবেষণায় হিবাকুশাদের সন্তানদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি, মৃত্যুহার বা ক্যানসারের এমন সুস্পষ্ট ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া যায়নি, যা বাবা-মায়ের বিকিরণ গ্রহণের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে সম্পর্কিত। গর্ভে থাকা অবস্থায় সরাসরি বিকিরণ পাওয়া এবং পরে বিকিরণপ্রাপ্ত বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া—এই দুটি বিষয় এক নয়।

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বিস্ফোরণের পর বহু মানুষের আশঙ্কা ছিল যে শহর দুটি দীর্ঘ সময় বসবাসের অনুপযোগী থাকবে। কিন্তু বোমা দুটির বিস্ফোরণ ভূমির অনেক ওপরে ঘটায় পারমাণবিক পরীক্ষাস্থল বা চুল্লি দুর্ঘটনার মতো বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটিতে স্থায়ীভাবে জমা হয়নি। প্রাথমিক বিকিরণ দ্রুত শেষ হয় এবং অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয়তার বড় অংশ সময়ের সঙ্গে দ্রুত হ্রাস পায়। “কালো বৃষ্টি” ও কিছু অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় ধূলিকণার ঝুঁকি বাস্তব ছিল, কিন্তু শহর দুটি কয়েক দশক ধরে মৃত্যুভূমি হয়ে থাকবে—এমন আশঙ্কা সত্য হয়নি। মানুষ খুব দ্রুত ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসে, যদিও ফিরে আসার সময় তারা বিপদের প্রকৃতি জানত না।

যুদ্ধের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন দখলদার প্রশাসন হিরোশিমা ও নাগাসাকির স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ১৯৪৭ সালে অ্যাটমিক বম্ব ক্যাজুয়ালটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার হিবাকুশার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও প্রাথমিক বছরগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে তথ্য সংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ফলে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করতেন, তাঁদের মানুষ হিসেবে সাহায্য না করে গবেষণার বিষয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে জাপানি অংশগ্রহণ বাড়ে এবং প্রতিষ্ঠানটি রেডিয়েশন ইফেক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি জীবনকাল গবেষণা বিকিরণ ও ক্যানসারের সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি হিবাকুশাদের সামাজিক জীবন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চাকরিদাতারা আশঙ্কা করতেন তাঁরা দুর্বল বা বারবার অসুস্থ হবেন। সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পরিবার বংশগত সমস্যার ভয়ে বিয়েতে আপত্তি করত। কোরীয় হিবাকুশা ও অন্যান্য বিদেশি আক্রান্ত ব্যক্তি স্বীকৃতি ও চিকিৎসাসহায়তা পেতে আরও বেশি বাধার সম্মুখীন হন। জাপান সরকার ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিক থেকে চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করলেও কারা আনুষ্ঠানিকভাবে হিবাকুশা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক লড়াই চলে। কালো বৃষ্টিতে আক্রান্ত বহু মানুষও অনেক দেরিতে স্বীকৃতি পান।

শহর দুটির পুনর্গঠন একই গতিতে ঘটেনি। হিরোশিমায় বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপ সরানো, অস্থায়ী ঘর নির্মাণ এবং ট্রাম ও রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে হিরোশিমাকে শান্তির স্মারক নগরী হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ আইন গৃহীত হয়। বিস্ফোরণকেন্দ্রের কাছে শান্তি স্মৃতি উদ্যান, জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রিফেকচারাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন হলকে সংরক্ষণ করে পারমাণবিক বোমা গম্বুজ হিসেবে রাখা হয়। এটি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আধুনিক শহর নির্মাণের মাঝেও অতীতকে দৃশ্যমান রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

নাগাসাকির পুনর্গঠনে শহরের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং বিস্ফোরণের কেন্দ্র উরাকামি উপত্যকায় সীমাবদ্ধ থাকার প্রভাব ছিল। বন্দর ও শহরের কিছু অঞ্চল অপেক্ষাকৃত অক্ষত থাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়। উরাকামি গির্জা পুনর্নির্মিত হয় এবং বিস্ফোরণকেন্দ্রের কাছে শান্তি উদ্যান ও পারমাণবিক বোমা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। হিরোশিমা বৈশ্বিক শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলনামূলক বেশি পরিচিত হলেও নাগাসাকি নিজস্ব খ্রিষ্টান ঐতিহ্য, শ্রমিক ইতিহাস এবং দ্বিতীয় হামলার স্মৃতি নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দুই শহরের আধুনিক রূপ কখনো কখনো বাইরের মানুষকে ভুল ধারণা দেয় যে অতীতের ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে গেছে। বাস্তবে নগরীর ভবন পুনর্নির্মাণ করা গেলেও হারিয়ে যাওয়া পরিবার, অচিহ্নিত মৃতদেহ, অসুস্থতা এবং মানসিক আঘাত ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি। অসংখ্য হিবাকুশা দুঃস্বপ্ন, বিষণ্নতা, আলোর ঝলক ও বিমানশব্দের ভয় এবং বেঁচে থাকার অপরাধবোধ নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। অনেকে বহু দশক কথা বলতে পারেননি; পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করেছেন, যাতে তাঁদের মৃত্যুর পরও অভিজ্ঞতা হারিয়ে না যায়।

হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে অতিরঞ্জিত কল্পকাহিনি কিংবা শুধু মৃতের পরিসংখ্যান—কোনোটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা যায় না। বিকিরণ সত্যিই লিউকেমিয়া, কিছু ক্যানসার এবং গর্ভে সরাসরি আক্রান্ত কিছু শিশুর বিকাশগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছিল; কিন্তু সব হিবাকুশা ও তাঁদের সন্তানদের অনিবার্যভাবে রোগাক্রান্ত করেছে—এমন ধারণা ভুল। একইভাবে দুই শহরের সফল পুনর্গঠন পারমাণবিক হামলার ক্ষতিকে ছোট করে না। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানো হিরোশিমা ও নাগাসাকি আজ দেখায়, নগরী পুনর্নির্মাণ সম্ভব, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের মানবিক পরিণতি বহু দশক ধরে শরীর, পরিবার, সমাজ ও স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকে।


আপনার পছন্দ হতে পারে