বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

গানপাউডার প্লট ১৬০৫: গাই ফক্স ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ধ্বংসের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র

সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য

গানপাউডার প্লট ১৬০৫: গাই ফক্স ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ধ্বংসের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র
পার্লামেন্টের নিচে লুকানো বারুদ ও ১৬০৫ সালের ব্যর্থ ষড়যন্ত্র

১৬০৫ সালের ৫ নভেম্বর ভোররাতে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে একটি অন্ধকার কক্ষ তল্লাশি করতে গিয়ে রাজকীয় কর্মকর্তারা এমন এক ব্যক্তিকে খুঁজে পান, যার নাম পরবর্তী চার শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ষড়যন্ত্রগুলোর একটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। তার নাম গাই ফক্স। কাছেই লুকিয়ে রাখা ছিল বিপুল পরিমাণ গানপাউডার। পরিকল্পনা ছিল ভয়াবহ—পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাজা প্রথম জেমস, রাজপরিবারের সদস্য, অভিজাত, বিশপ এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে একই মুহূর্তে হত্যা করা। ইতিহাসে এই পরিকল্পনাই পরিচিত হয়ে ওঠে গানপাউডার প্লট নামে।

কিন্তু গানপাউডার প্লটকে শুধু গাই ফক্সের ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এর প্রধান সংগঠক ছিলেন রবার্ট ক্যাটসবি, আর ফক্স ছিলেন পরিকল্পনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিস্ফোরক ব্যবহারে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। ষড়যন্ত্রটির পেছনে ছিল ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সংঘাত। ষোড়শ শতকে রাজা অষ্টম হেনরির সময় রোমান ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা গভীর হয়ে উঠেছিল। প্রথম এলিজাবেথের শাসনামলে ক্যাথলিকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও জরিমানা আরোপ করা হয়, বিশেষ করে যারা রাষ্ট্রনির্ধারিত ধর্মীয় উপাসনায় অংশ নিতেন না।

১৬০৩ সালে এলিজাবেথের মৃত্যুর পর স্কটল্যান্ডের ষষ্ঠ জেমস ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসে প্রথম জেমস হন। কিছু ইংরেজ ক্যাথলিক আশা করেছিলেন নতুন রাজা তাদের প্রতি তুলনামূলক সহনশীল হবেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন দ্রুত আসেনি। ধর্মীয় অসন্তোষের এই পরিবেশে রবার্ট ক্যাটসবির মনে এমন একটি পরিকল্পনা জন্ম নেয়, যা সাধারণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাপক ছিল। রাজাকে হত্যা করাই শুধু লক্ষ্য ছিল না; এক আঘাতে ইংল্যান্ডের প্রোটেস্ট্যান্ট রাজনৈতিক কাঠামোর শীর্ষ অংশকে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

রবার্ট ক্যাটসবি ছিলেন একটি ক্যাথলিক পরিবার থেকে আসা ইংরেজ ভদ্রলোক। ১৬০৪ সালে তিনি থমাস উইন্টুর, জন রাইট, থমাস পার্সি এবং গাই ফক্সকে নিয়ে পরিকল্পনার প্রাথমিক দল গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন এতে যুক্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা তেরোতে পৌঁছায়। তাদের সবার ভূমিকা সমান ছিল না। কেউ অর্থ দিয়েছিলেন, কেউ আশ্রয় ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন, আবার কেউ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এই দলের মধ্যে গাই ফক্সের বিশেষ গুরুত্ব ছিল তার সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি পরবর্তী সময়ে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে স্প্যানিশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। ফলে গানপাউডার ও সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে তার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা তাই বিস্ফোরণ ঘটানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করে। তিনি কখনো কখনো জন জনসন নামের ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করতেন এবং থমাস পার্সির কর্মচারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন।

ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে ছিল পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর অনুষ্ঠান, অর্থাৎ স্টেট ওপেনিং অব পার্লামেন্ট। রাজা নিজে সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্লামেন্ট ভবনের নিচের একটি কক্ষে গানপাউডার জমা করে রাখা হবে। বিস্ফোরণের সময় রাজা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় অংশ একই ভবনে অবস্থান করবেন। এতে শুধু রাজহত্যা নয়, কার্যত রাষ্ট্রের নেতৃত্বে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করা সম্ভব হতো।

জনপ্রিয় কাহিনিতে অনেক সময় বলা হয়, ষড়যন্ত্রকারীরা একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পার্লামেন্টের নিচে পৌঁছেছিল। কিন্তু এই সুড়ঙ্গের গল্পের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অধিকতর নিশ্চিত বিষয় হলো, থমাস পার্সি ওয়েস্টমিনস্টারে এমন একটি কক্ষের অধিকার পান, যা হাউস অব লর্ডসের নিচের অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই আন্ডারক্রফট বা নিচতলার সংরক্ষণকক্ষে গোপনে গানপাউডার রাখা হয় এবং তার ওপর কাঠ, কয়লা ও অন্যান্য সামগ্রী সাজিয়ে তা আড়াল করা হয়।

ঐতিহাসিক বিবরণে সাধারণত ৩৬টি ব্যারেল গানপাউডারের কথা উল্লেখ করা হয়। এত বিপুল বিস্ফোরক যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বলে উঠত, তাহলে হাউস অব লর্ডস এবং আশপাশের অংশে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারত। তবে কয়েক মাস ধরে সংরক্ষিত গানপাউডারের অবস্থা ঠিক কতটা কার্যকর ছিল এবং বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট মাত্রা কত হতো—এ নিয়ে পরবর্তী যুগে আলোচনা হয়েছে। তবু ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। তারা এমন একটি বিস্ফোরণ ঘটাতে চেয়েছিল, যাতে রাজা ও পার্লামেন্টে উপস্থিত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিহত হন।

কিন্তু এখানেই পরিকল্পনার একটি মৌলিক সমস্যা সামনে আসে। পার্লামেন্টে শুধু প্রোটেস্ট্যান্টরাই থাকতেন না; কিছু ক্যাথলিক অভিজাতও উপস্থিত থাকতে পারতেন। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচিত বা আত্মীয়দের মধ্যেও এমন ব্যক্তি ছিলেন, যারা বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। এই নৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বই সম্ভবত ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৬০৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে ক্যাথলিক অভিজাত লর্ড মন্টিগল একটি রহস্যময় বেনামি চিঠি পান। সেখানে তাকে পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং একটি ভয়ংকর আঘাতের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। চিঠিটির ভাষা অস্পষ্ট হলেও সতর্কবার্তাটি যথেষ্ট গুরুতর ছিল। মন্টিগল চিঠিটি সরকারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে বিষয়টি রাজা প্রথম জেমসের নজরেও আসে।

এই মন্টিগল চিঠিই গানপাউডার প্লটের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি। কে চিঠিটি লিখেছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রকারী ফ্রান্সিস ট্রেশামের দিকে সন্দেহ করা হয়েছে, কারণ লর্ড মন্টিগলের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণের অভাবে লেখকের পরিচয় আজও বিতর্কিত। এমনকি ইতিহাসবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে—সরকার কি চিঠি পাওয়ার আগেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কিছু জানত? রাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও নজরদারি ব্যবস্থা কি পরিকল্পনার কিছু অংশ আগে থেকেই অনুসরণ করছিল? এসব প্রশ্ন ষড়যন্ত্রটির চারপাশে রহস্য আরও বাড়িয়েছে, কিন্তু সরকার নিজেই পুরো পরিকল্পনাটি সাজিয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে শক্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

চিঠি পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্য অভিযান চালানো হয়নি। বরং সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ৪ নভেম্বর রাত থেকে ৫ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে ওয়েস্টমিনস্টারের সংশ্লিষ্ট স্থান তল্লাশি করা হয়। কর্মকর্তারা গাই ফক্সকে সেখানে দেখতে পান। আরও গভীর অনুসন্ধানে কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রীর নিচে লুকিয়ে রাখা গানপাউডার আবিষ্কৃত হয়। তার কাছে বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীও পাওয়া যায়। পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পরিকল্পনাটি কার্যত ধসে পড়ে।

গ্রেপ্তারের পর ফক্স প্রথমদিকে নিজের পরিচয় জন জনসন বলে জানান এবং জিজ্ঞাসাবাদে দৃঢ়তা দেখান। রাজা জেমস তার মানসিক দৃঢ়তা লক্ষ্য করেছিলেন বলেও সমসাময়িক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এরপর তাকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয় এবং নির্যাতনের অনুমতিও দেওয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে তার স্বীকারোক্তি থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। তার বিভিন্ন স্বাক্ষর তুলনা করলে জিজ্ঞাসাবাদের শারীরিক প্রভাব কতটা গুরুতর ছিল, তারও একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এদিকে রবার্ট ক্যাটসবি ও তার কয়েকজন সহযোগী লন্ডন ছেড়ে পালিয়ে ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ক্যাথলিক গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। বরং সরকারি বাহিনী তাদের অনুসরণ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত হলবিচ হাউসে সংঘর্ষে ক্যাটসবি, থমাস পার্সি এবং জন রাইটসহ কয়েকজন নিহত হন। যারা জীবিত ধরা পড়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচার শুরু হয়।

১৬০৬ সালের জানুয়ারিতে গাই ফক্সসহ আটক ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হয়। তারা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং সেই সময়ের ইংরেজ আইনে রাষ্ট্রদ্রোহীদের জন্য নির্ধারিত অত্যন্ত নির্মম মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারি ১৬০৬ গাই ফক্সকে ওয়েস্টমিনস্টারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ফাঁসির মঞ্চ থেকে ঝাঁপ দিয়ে বা ফাঁসির ফলে ঘাড় ভেঙে মারা যান, ফলে দণ্ডের পরবর্তী জীবন্ত নির্যাতনের অংশ তিনি এড়িয়ে যান। এরপর তার দেহ রাষ্ট্রদ্রোহের প্রচলিত শাস্তি অনুযায়ী খণ্ডিত করা হয়।

গানপাউডার প্লট ব্যর্থ হওয়ার প্রভাব শুধু ষড়যন্ত্রকারীদের মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক জনগোষ্ঠীর ওপর সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায় এবং নতুন বিধিনিষেধ আরোপিত হয়। অথচ অধিকাংশ ইংরেজ ক্যাথলিক এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন না। মাত্র একটি ছোট উগ্র গোষ্ঠীর পরিকল্পনা বৃহত্তর ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। ষড়যন্ত্রটি তাই ধর্মীয় নিপীড়ন, রাজনৈতিক উগ্রবাদ এবং প্রতিশোধের একটি জটিল ঐতিহাসিক উদাহরণ।

পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে গাই ফক্সের পরিচয়ও আশ্চর্যজনকভাবে বদলে গেছে। ১৬০৫ সালে তিনি ছিলেন রাজা ও পার্লামেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া একজন রাষ্ট্রদ্রোহী। কিন্তু আধুনিক জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তার মুখাবয়বের একটি কাল্পনিক রূপ কখনো কখনো রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবাদ, কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে ঐতিহাসিক গাই ফক্স এবং আধুনিক সংস্কৃতির প্রতীকী “গাই ফক্স”—এই দুটিকে এক করে দেখা ঠিক নয়।

ব্রিটেনে ৫ নভেম্বরের স্মরণও দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। Bonfire Night, Guy Fawkes Night বা Fireworks Night নামে পরিচিত এই রাতে আগুন ও আতশবাজির মাধ্যমে ১৬০৫ সালের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা স্মরণ করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু ৫ নভেম্বর ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে এখনও একটি বিশেষ দিন।

গানপাউডার প্লটকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—এর মূল ঘটনা সত্য এবং বিপুল নথিপত্রে সমর্থিত হলেও এর চারপাশে পরে অসংখ্য অতিরঞ্জিত গল্প ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব জন্ম নিয়েছে। মন্টিগল চিঠির লেখক কে ছিলেন, সরকার ঠিক কতটা আগে জানতে পেরেছিল, কিংবা তদন্তের কিছু বিবরণ কতটা নির্ভুল—এসব নিয়ে বৈধ ঐতিহাসিক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এগুলো থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে গোটা ঘটনা সরকারের সাজানো নাটক ছিল। ঐতিহাসিক রহস্য এবং প্রমাণহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্বের মধ্যে এই পার্থক্যটি গানপাউডার প্লট বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত ১৬০৫ সালের পরিকল্পনা সফল হয়নি একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে, কিন্তু তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিধ্বনি চার শতাব্দীরও বেশি সময় টিকে আছে। রবার্ট ক্যাটসবির পরিকল্পনা, গাই ফক্সের বিপজ্জনক দায়িত্ব, পার্লামেন্টের নিচে লুকিয়ে রাখা গানপাউডার, রহস্যময় মন্টিগল চিঠি এবং শেষ মুহূর্তের তল্লাশি—সব মিলিয়ে এটি নিছক কিংবদন্তি নয়, বরং ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রকে এক আঘাতে ধ্বংস করার বাস্তব ও অত্যন্ত সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র। আর সম্ভবত সেই কারণেই গানপাউডার প্লট আজও ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্রের গল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।


আপনার পছন্দ হতে পারে