দারা শিকোহর পতন: আওরঙ্গজেব কীভাবে ভাইকে পরাজিত করে মুঘল সিংহাসন দখল করেছিলেন?
সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য
দারা শিকোহর পরাজয় ও আওরঙ্গজেবের সিংহাসন দখল
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রের মধ্যে দারা শিকোহ ছিলেন সিংহাসনের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী। তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র, পিতার অত্যন্ত প্রিয় এবং দীর্ঘদিন মুঘল দরবারের ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা রাজপুত্র। ১৬৫৭ সালের আগে কেউ যদি শাহজাহানের পরবর্তী সম্রাট হিসেবে একজনের নাম অনুমান করতেন, দারার নামই সম্ভবত সবার আগে আসত। অথচ মাত্র দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। দারা সেনাবাহিনী হারান, রাজধানী হারান, সমর্থকদের হারান, এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে পালিয়ে বেড়ান এবং শেষ পর্যন্ত এমন একজনের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন, যাকে তিনি একসময় সাহায্য করেছিলেন। ১৬৫৯ সালে দারার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আওরঙ্গজেবের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বীর পতন সম্পূর্ণ হয়।
দারার বিপর্যয় বুঝতে হলে প্রথমেই মুঘল উত্তরাধিকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বুঝতে হয়। সম্রাটের জ্যেষ্ঠ পুত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিংহাসন পাবেন—এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম মুঘল সাম্রাজ্যে ছিল না। রাজবংশের একাধিক পুরুষ সদস্য সিংহাসনের দাবি করতে পারতেন এবং বাস্তবে সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক জোট, সম্পদ ও দরবারি সমর্থনই উত্তরাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত। ফলে শাহজাহান দারাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেও সেই মর্যাদা তার ভাইদের দাবিকে আইনগতভাবে শেষ করে দেয়নি।
দারা শিকোহের অবস্থান ছিল একই সঙ্গে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিপজ্জনকভাবে দুর্বল। শাহজাহান তাকে নিজের কাছাকাছি রেখেছিলেন, উচ্চ মনসব ও মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তার প্রভাব বাড়তে দিয়েছিলেন। শাহজাহানের প্রভাবশালী কন্যা জাহানারা বেগমও দারার ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ফলে রাজধানীর রাজনীতিতে দারার অবস্থান তার ভাইদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছিল।
কিন্তু এই সুবিধার উল্টো দিকও ছিল। আওরঙ্গজেব দীর্ঘদিন দাক্ষিণাত্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনী পরিচালনা, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং প্রাদেশিক ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা তার ছিল। দারা দরবারের কেন্দ্রে শক্তিশালী হলেও বৃহৎ যুদ্ধক্ষেত্রে স্বাধীন সেনানায়ক হিসেবে আওরঙ্গজেবের সমপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তার ছিল না। উত্তরাধিকার সংকট শুরু হলে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
১৬৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সম্রাটের মৃত্যুর গুজব দ্রুত সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় থাকা শাহ সুজা নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন, আর গুজরাটে মুরাদ বখশও একই পথে হাঁটেন। আওরঙ্গজেব পরিস্থিতি আরও হিসাব করে মোকাবিলা করেন। তিনি কনিষ্ঠ ভাই মুরাদের সঙ্গে জোট গড়ে প্রথমে দারাকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
দারার বিরুদ্ধে আওরঙ্গজেবের রাজনৈতিক প্রচারণায় ধর্মও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দারা শিকোহ সুফিবাদের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন এবং ভারতীয় ধর্মীয় দর্শনের সঙ্গে ইসলামী আধ্যাত্মিক চিন্তার সম্পর্ক অনুসন্ধান করেছিলেন। তিনি উপনিষদের ফারসি অনুবাদের উদ্যোগ নেন এবং হিন্দু ও মুসলিম আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মধ্যে মিল অনুসন্ধান করেন। তার মাজমা-উল-বাহরাইন বা “দুই সমুদ্রের মিলন” গ্রন্থেও এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট।
আধুনিক সময়ে দারাকে কখনো অত্যন্ত উদার এবং আওরঙ্গজেবকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত হিসেবে সরলভাবে উপস্থাপন করা হয়। বাস্তব ইতিহাস আরও জটিল। তবে এটুকু স্পষ্ট যে দারার ধর্মীয় ও দার্শনিক অনুসন্ধান তার রাজনৈতিক শত্রুদের হাতে কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল। তাকে ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত বা বিপজ্জনক ধর্মীয় চিন্তার অনুসারী হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
১৬৫৮ সালের শুরুতে দারার পক্ষে প্রথমে পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল না। তার পুত্র সুলায়মান শিকোহ এবং রাজা জয় সিংহের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ফেব্রুয়ারিতে বাহাদুরপুরের কাছে শাহ সুজাকে পরাজিত করে। কিন্তু একই সময়ে আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী উত্তর দিকে এগিয়ে আসছিল। তাদের থামানোর জন্য শাহজাহান ও দারার পক্ষ থেকে মহারাজা যশবন্ত সিংহের নেতৃত্বে একটি বাহিনী পাঠানো হয়।
১৬৫৮ সালের এপ্রিলে ধর্মতের যুদ্ধে সেই বাহিনী আওরঙ্গজেব ও মুরাদের কাছে পরাজিত হয়। এটি ছিল দারার জন্য প্রথম বড় সতর্কসংকেত। আওরঙ্গজেব শুধু অগ্রসর হচ্ছিলেন না; তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে সম্রাটপন্থী শক্তিশালী বাহিনীকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করা সম্ভব। ধর্মতের পর আগ্রা ও রাজধানীর দিকে তার অগ্রযাত্রা ঠেকানোর দায়িত্ব কার্যত দারার নিজের ওপর এসে পড়ে।
এরপর সংঘটিত হয় পুরো উত্তরাধিকার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ—১৬৫৮ সালের ২৯ মে সামুগড়ের যুদ্ধ। আগ্রার কাছাকাছি এই যুদ্ধে দারা নিজেই বিশাল বাহিনী নিয়ে আওরঙ্গজেব ও মুরাদের মুখোমুখি হন। সংখ্যার বিচারে দারার বাহিনী দুর্বল ছিল না। তার হাতে কামান, অশ্বারোহী এবং যুদ্ধহাতিও ছিল। কিন্তু শুধু বাহিনীর আকার যুদ্ধ জেতায় না; নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, অবস্থান এবং সংকটের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দারা একটি যুদ্ধহাতির ওপর থেকে বাহিনী পরিচালনা করছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি হাতি থেকে নেমে ঘোড়ায় ওঠেন। এর কারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু ফলাফল ছিল মারাত্মক। যুদ্ধক্ষেত্রে রাজপুত্রের বিশাল হাতিটি ছিল তার উপস্থিতির দৃশ্যমান প্রতীক। হাতির পিঠে দারাকে আর দেখা না যাওয়ায় তার সৈন্যদের একাংশ মনে করে তিনি হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছেন। বিভ্রান্তি ও মনোবলহীনতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আওরঙ্গজেবের বাহিনী সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। দারার যুদ্ধব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হন। সামুগড়ের এই পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধ হারানো ছিল না; এটি দারার রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তিকেও ভেঙে দেয়। মুঘল রাজনীতিতে সামরিক সাফল্য ছিল ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। একবার দারাকে পরাজিত হতে দেখে অনেক অভিজাত নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন হিসাব শুরু করেন।
দারা আগ্রায় ফিরে এলেও সেখানে বেশিদিন থাকেননি। অন্যদিকে আওরঙ্গজেব আগ্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তখন শাহজাহান আবার অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। অর্থাৎ আওরঙ্গজেব এমন সময় ক্ষমতা দখল করছিলেন যখন তার পিতা এখনও জীবিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সম্রাট। শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে আবদ্ধ করে কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দারা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আশ্রয়ও হারান।
আওরঙ্গজেব এরপর নিজেকে সম্রাট হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু দারা তখনও শেষ হয়ে যাননি। তিনি দিল্লি, লাহোর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে নতুন বাহিনী ও সমর্থন সংগঠনের চেষ্টা করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের বিশাল ভূখণ্ড এবং তার পুরোনো সম্পর্কের কারণে তিনি এখনও সম্ভাব্য বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আওরঙ্গজেব তাই শুধু রাজধানী দখল করেই নিশ্চিন্ত হতে পারেননি।
দারা নতুন করে শক্তি সংগ্রহ করে আবার প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৬৫৯ সালের মার্চে আজমেরের কাছে দেওরাইয়ের যুদ্ধে তিনি আবার পরাজিত হন। এই দ্বিতীয় বড় পরাজয়ের পর তার রাজনৈতিক সম্ভাবনা দ্রুত সংকুচিত হয়ে যায়। একসময় যার পাশে সম্রাট, রাজদরবার এবং অসংখ্য অভিজাত ছিলেন, সেই দারাকে এবার পরিবার নিয়ে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে আশ্রয় খুঁজতে হয়।
পরাজিত দারা শেষ পর্যন্ত সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে মালিক জিওয়ান নামের এক আফগান প্রধানের আশ্রয় নেন। দারা অতীতে জিওয়ানের প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই পুরোনো সম্পর্কের ওপর ভরসা করেই তিনি নিরাপত্তা আশা করেছিলেন। কিন্তু তখন মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আওরঙ্গজেব বিজয়ী, আর দারা একজন পলাতক দাবিদার।
জিওয়ান শেষ পর্যন্ত দারাকে ধরিয়ে দেন। এই বিশ্বাসঘাতকতাই দারার পতনের শেষ অধ্যায়ের সূচনা করে। তাকে বন্দি করে দিল্লিতে পাঠানো হয়। একসময় যে রাজপুত্র রাজকীয় শোভাযাত্রায় রাজধানীর রাস্তায় চলতেন, এবার তাকে অপমানজনক অবস্থায় জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়। এই প্রদর্শনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—দিল্লির মানুষ এবং মুঘল অভিজাতদের দেখানো যে শাহজাহানের প্রিয় উত্তরাধিকারী আর ক্ষমতার দাবিদার নন।
দারাকে শুধু রাজনৈতিক বিদ্রোহী হিসেবে নির্মূল করলেই আওরঙ্গজেবের কাজ শেষ হচ্ছিল না। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অভিযোগও সামনে আনা হয়। দারার সুফি চিন্তা, হিন্দু ধর্মগ্রন্থের প্রতি আগ্রহ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে মিল অনুসন্ধানকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধর্মীয়ভাবে সন্দেহজনক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা তার মৃত্যুকে বৈধতা দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে ওঠে।
১৬৫৯ সালের আগস্টের শেষ দিকে দারা শিকোহকে হত্যা করা হয়। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হত্যার পর তার বিচ্ছিন্ন মাথা শাহজাহানের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনার কিছু নাটকীয় বিবরণ পরবর্তী ঐতিহাসিক রচনায় ভিন্নভাবে এসেছে, তাই প্রতিটি বিস্তারিতকে একই মাত্রার নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। কিন্তু দারাকে আওরঙ্গজেবের আদেশে হত্যা করা হয়েছিল—এই মূল ঘটনাটি নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে সন্দেহের অবকাশ খুব কম।
দারার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আওরঙ্গজেবের সবচেয়ে শক্তিশালী পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মূল হন। মুরাদকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; পরে তার মৃত্যুদণ্ড হবে। শাহ সুজাও পরাজিত হয়ে পূর্ব দিকে সরে যাবেন। শাহজাহান আগ্রা দুর্গে বন্দি। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই চার ভাইয়ের সিংহাসন-সংগ্রাম একজনের নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেষ হয়—আওরঙ্গজেব আলমগীরের।
তবে দারার পতনকে শুধু আওরঙ্গজেবের “ষড়যন্ত্রের সাফল্য” বললে ঘটনাটি অতিরিক্ত সরলীকরণ করা হবে। আওরঙ্গজেব নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক কৌশল, সাময়িক জোট, প্রচারণা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতায় দক্ষ ছিলেন। কিন্তু দারার নিজের ভুলও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামরিক অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা, সামুগড়ে নেতৃত্বের ব্যর্থতা, বিভিন্ন শক্তিশালী অভিজাতের আনুগত্য ধরে রাখতে না পারা এবং পরাজয়ের পর কার্যকর নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়তে ব্যর্থ হওয়া তার পতনকে দ্রুততর করেছিল।
দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ নিয়ে পরবর্তী যুগে আরেকটি আকর্ষণীয় ধারণা তৈরি হয়েছে—দারা জিতলে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। তার ধর্মীয় চিন্তা ও সাংস্কৃতিক আগ্রহের কারণে এমন কল্পনা স্বাভাবিক। কিন্তু ইতিহাসে “যদি” প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। দারা সম্রাট হলে তার বাস্তব প্রশাসনিক, সামরিক বা ধর্মীয় নীতি ঠিক কেমন হতো, তা আমরা জানি না। তাই তাকে আধুনিক অর্থে নিখুঁত উদারপন্থী শাসকের প্রতীক বানানো যেমন অতিরঞ্জন, তেমনি তার বৌদ্ধিক উদারতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করাও ভুল।
দারা শিকোহর পতনের প্রকৃত রহস্য কোনো একটি গোপন চক্রান্তে নয়, বরং মুঘল ক্ষমতার নির্মম কাঠামোর মধ্যে। পিতার ভালোবাসা, জ্যেষ্ঠপুত্রের মর্যাদা এবং রাজধানীর প্রভাব তাকে সিংহাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। অন্যদিকে আওরঙ্গজেব বুঝেছিলেন যে মুঘল সিংহাসন শেষ পর্যন্ত দাবি দিয়ে নয়, সামরিক বিজয়, রাজনৈতিক জোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে। সামুগড়ের ধুলোময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দারার বন্দিত্ব ও মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত ঘটনাগুলো তাই শুধু দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়—এটি একটি সাম্রাজ্যে ক্ষমতা অর্জনের নির্মম বাস্তবতার অন্যতম নাটকীয় উদাহরণ, যেখানে বিজয়ী পেলেন সিংহাসন আর পরাজিত জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র হারালেন ক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন।
বিউমন্ট শিশুদের অন্তর্ধান: সমুদ্রসৈকত থেকে তিন ভাইবোন কীভাবে চিরতরে হারিয়ে গেল?
ওক আইল্যান্ডের রহস্য: শত শত বছর ধরে মানুষ এই দ্বীপে কোন গুপ্তধন খুঁজছে?
ইউনিভার্স ২৫: ইঁদুরের জন্য তৈরি ‘স্বর্গ’ কেন শেষ পর্যন্ত সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছিল?
চেঙ্গিস খানের সমাধি: পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী বিজেতার কবর আজও কেন খুঁজে পাওয়া যায়নি?
হেসডালেন লাইটস: নরওয়ের উপত্যকার আকাশে রহস্যময় আলো দেখা যায় কেন?
ব্ল্যাক ডালিয়া হত্যাকাণ্ড: এলিজাবেথ শর্টকে কে হত্যা করেছিল—হলিউডের অমীমাংসিত রহস্য