বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

শিবাজী ও আফজল খানের সাক্ষাৎ: শান্তি আলোচনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ফাঁদ?

সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য

শিবাজী ও আফজল খানের সাক্ষাৎ: শান্তি আলোচনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ফাঁদ?
প্রতাপগড়ে শিবাজী ও আফজল খানের রহস্যময় মুখোমুখি সাক্ষাৎ

১৬৫৯ সালের ১০ নভেম্বর, পশ্চিম ভারতের সহ্যাদ্রি পর্বতমালার প্রতাপগড় দুর্গের নিচে এক সাক্ষাৎ কয়েক মিনিটের মধ্যেই দাক্ষিণাত্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনায় পরিণত হয়। একদিকে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা মারাঠা নেতা শিবাজী, অন্যদিকে বিজাপুরের আদিলশাহী দরবারের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সেনাপতি আফজল খান। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল আলোচনা। কিন্তু দুজনই এমন প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা সাধারণ শান্তি বৈঠকের সঙ্গে সহজে মেলে না। সাক্ষাতের শেষ মুহূর্তে আফজল খান নিহত হন এবং পূর্বপ্রস্তুত মারাঠা বাহিনী বিজাপুরি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। প্রশ্নটি তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আলোচিত—প্রতাপগড়ে কি সত্যিই শান্তির আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, নাকি শুরু থেকেই একজন আরেকজনকে হত্যার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন?

ঘটনাটির পটভূমিতে ছিল শিবাজীর দ্রুত উত্থান। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পশ্চিম দাক্ষিণাত্যে একের পর এক দুর্গ ও অঞ্চল নিজের নিয়ন্ত্রণে আনছিলেন। এই ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ বিজাপুরের আদিলশাহী সালতানাতের প্রভাবাধীন ছিল। শিবাজীর কর্মকাণ্ড প্রথমদিকে স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখা গেলেও তার ক্ষমতা বাড়তে থাকায় বিজাপুরের কাছে তিনি ক্রমেই গুরুতর রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকিতে পরিণত হন।

এই পরিস্থিতিতে বিজাপুর দরবার শিবাজীর বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য আফজল খানকে পাঠায়। আফজল খান কোনো সাধারণ দূত ছিলেন না; তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ সেনাপতি এবং দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তার লক্ষ্য ছিল শিবাজীর শক্তি ভেঙে দেওয়া এবং তাকে বিজাপুরের কর্তৃত্বের অধীনে ফিরিয়ে আনা। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করাও এই অভিযানের একটি অংশ ছিল।

আফজল খান বড় বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলে শিবাজী খোলা সমতলে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে জাওলি অঞ্চলের দুর্গম পাহাড় ও বনভূমির দিকে সরে যান। এখানেই শিবাজীর কৌশলগত সুবিধা ছিল। ভারী বাহিনী নিয়ে আসা বিজাপুরি সেনাবাহিনীর তুলনায় মারাঠারা পাহাড়ি ভূখণ্ড, সংকীর্ণ পথ এবং ঘন বন সম্পর্কে অনেক বেশি পরিচিত ছিল। প্রতাপগড় দুর্গও এমন স্থানে নির্মিত হয়েছিল, যেখান থেকে আশপাশের পথ ও উপত্যকার ওপর নজর রাখা সম্ভব ছিল।

আফজল খান সম্ভবত বুঝেছিলেন যে শিবাজীকে পাহাড় থেকে খোলা সমতলে নামিয়ে আনতে না পারলে তার বড় বাহিনীর পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করা কঠিন হবে। অন্যদিকে শিবাজীও জানতেন যে সরাসরি সমতলের যুদ্ধে শক্তিশালী বিজাপুরি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়া বিপজ্জনক। ফলে সামরিক অচলাবস্থার মাঝখানে আলোচনার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে

দুই পক্ষের মধ্যে দূতের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হয়। শিবাজীর পক্ষে পন্তাজি গোপীনাথ এবং আফজল খানের পক্ষ থেকে কৃষ্ণাজি ভাস্করের মতো ব্যক্তিদের নাম বিভিন্ন বিবরণে পাওয়া যায়। আলোচনা এগিয়ে যায় এমন একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাতের দিকে, যেখানে দুই নেতা সীমিত সংখ্যক অনুচর নিয়ে মিলিত হবেন। বাহ্যিকভাবে এটি ছিল সমঝোতার সুযোগ। কিন্তু উভয় পক্ষের আচরণ থেকে বোঝা যায়, কেউই অপর পক্ষকে পুরোপুরি বিশ্বাস করছিলেন না।

এখান থেকেই ইতিহাস ও কিংবদন্তি একে অপরের সঙ্গে মিশতে শুরু করেছে। পরবর্তী মারাঠা বর্ণনায় দাবি করা হয়, আফজল খান আলোচনার অজুহাতে শিবাজীকে কাছে ডেকে হত্যা বা বন্দি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। অন্য কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে আবার শিবাজীর পূর্বপ্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে তিনি শুরু থেকেই সম্ভাব্য প্রাণঘাতী সংঘর্ষের জন্য তৈরি ছিলেন। সমস্যাটি হলো, ঘটনাটির বিবরণ আমাদের কাছে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে, যেগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।

তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শিবাজী নিরস্ত্র ও অপ্রস্তুত অবস্থায় সাক্ষাতে যাননি। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী তিনি পোশাকের নিচে প্রতিরক্ষামূলক বর্ম পরেছিলেন এবং মাথায় এমন সুরক্ষা রেখেছিলেন যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যেত না। তার সঙ্গে গোপন অস্ত্রও ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো বাঘনখ, অর্থাৎ বাঘের নখের মতো ধারালো ধাতব অস্ত্র। পাশাপাশি বিছুয়া ধরনের ছোট বাঁকানো ছোরার কথাও বিভিন্ন বিবরণে পাওয়া যায়।

এই প্রস্তুতি থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে শিবাজী সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এবং আগেই হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে যাওয়া—দুটি এক বিষয় নয়। এই পার্থক্যই পুরো ঘটনাটিকে ঐতিহাসিকভাবে এত বিতর্কিত করে তুলেছে।

১০ নভেম্বর নির্ধারিত স্থানে দুই নেতা সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাদের বাহিনীর প্রধান অংশ সরাসরি উপস্থিত ছিল না। সাক্ষাতের বিস্তারিত নিয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে পরিচিত বর্ণনা অনুযায়ী দুই নেতা পরস্পরকে আলিঙ্গন করার সময় পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। আফজল খান শিবাজীকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেন, সম্ভবত ছোরা ব্যবহার করে বা তাকে শক্তভাবে ধরে আঘাত করার মাধ্যমে। শিবাজীর গোপন বর্ম সেই আঘাত থেকে তাকে রক্ষা করে—মারাঠা ঐতিহ্যে এই বর্ণনাই বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত।

শিবাজী সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আঘাত করেন। প্রচলিত বিবরণে বলা হয়, তিনি বাঘনখ দিয়ে আফজল খানকে আঘাত করেন এবং পরে বিছুয়া ব্যবহার করেন। গুরুতর আহত আফজল খান সাক্ষাৎস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর ঘটনায় দুই পক্ষের দেহরক্ষীরাও জড়িয়ে পড়ে।

এই পর্যায়ে সৈয়দ বান্দাজিভা মহালার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আফজল খানের দেহরক্ষী সৈয়দ বান্দা শিবাজীর ওপর আক্রমণ করেন বলে মারাঠা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। শিবাজীর দেহরক্ষী জিভা মহালা তাকে প্রতিহত করেন। ঘটনাটি মারাঠি ঐতিহ্যে এতটাই বিখ্যাত হয়ে ওঠে যে জিভার ভূমিকা পরবর্তী লোকস্মৃতি ও বীরত্বগাথায় স্থায়ী স্থান পায়।

আফজল খান শেষ পর্যন্ত নিহত হন। কিন্তু ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। বরং ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর যা ঘটে, সেটিই দেখায় যে শিবাজী বৃহত্তর সামরিক পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই বিস্তারিত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। প্রতাপগড় ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় মারাঠা বাহিনীর বিভিন্ন অংশ অবস্থান করছিল। নির্ধারিত সংকেত পাওয়ার পর তারা বিজাপুরি বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে।

বিজাপুরি শিবিরে আফজল খানের মৃত্যুর সংবাদ এবং আকস্মিক মারাঠা আক্রমণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পাহাড়ি ভূখণ্ডে শিবাজীর বাহিনী তাদের পরিচিত পরিবেশের সুবিধা কাজে লাগায়। আফজল খানের বাহিনীর একটি অংশ প্রতিরোধ করলেও সামগ্রিকভাবে অভিযান ভেঙে পড়ে। প্রতাপগড়ের বিজয় শিবাজীর রাজনৈতিক ও সামরিক মর্যাদাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনার পর মারাঠারা শুধু প্রতিপক্ষের একজন গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতিকে সরিয়ে দেয়নি; তারা অস্ত্র, ঘোড়া, হাতি এবং অন্যান্য সামরিক সম্পদও লাভ করে। বিজয়ের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিবাজীকে আর কেবল পাহাড়ি অঞ্চলের বিদ্রোহী জমিদার বা স্থানীয় শক্তি হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে ওঠে। প্রতাপগড় প্রমাণ করে যে তিনি শক্তিশালী দাক্ষিণাত্য সালতানাতের বড় বাহিনীকেও কৌশলে পরাজিত করতে সক্ষম।

কিন্তু মূল প্রশ্নটি থেকে যায়—প্রথম আঘাত কে করেছিলেন? মারাঠা ঐতিহ্যের বর্ণনায় আফজল খান বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে শিবাজীকে হত্যা করার চেষ্টা করেন এবং শিবাজী আত্মরক্ষায় পাল্টা আঘাত করেন। অন্যদিকে কিছু পারসিক ও পরবর্তী বর্ণনায় ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে শিবাজীর পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমসাময়িক ও পরবর্তী সূত্রের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বীরত্বগাথার কারণে প্রতিটি নাটকীয় বিবরণকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা কঠিন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আফজল খান নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারাঠা বাহিনী কীভাবে এত দ্রুত বৃহত্তর আক্রমণে যেতে পারল? এর উত্তর তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। শিবাজী সাক্ষাৎ ব্যর্থ বা সহিংস হয়ে উঠতে পারে ধরে নিয়ে সামরিক পরিকল্পনা করেছিলেন। পাহাড়ে সৈন্য মোতায়েন, সংকেতের ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য বাহিনী প্রস্তুত রাখা নিছক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল না।

তবে এটিও প্রমাণ করে না যে শিবাজীর একমাত্র উদ্দেশ্য শুরু থেকেই আফজল খানকে হত্যা করা ছিল। একজন শত্রু সেনাপতির সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সাক্ষাতে যাওয়ার আগে বিকল্প সামরিক পরিকল্পনা রাখা যুক্তিসঙ্গত ছিল। একইভাবে আফজল খানও সম্ভবত শিবাজীকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে সেখানে যাননি। দুজনই এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ ছিলেন, যেখানে আলোচনা, বন্দিত্ব, গোপন অস্ত্র এবং আকস্মিক আক্রমণের সম্ভাবনা একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকতে পারত।

আফজল খানের শারীরিক আকার নিয়েও পরে বহু কিংবদন্তি তৈরি হয়েছে। তাকে প্রায় দৈত্যাকার মানুষ হিসেবে এবং শিবাজীকে তার তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্রদেহী হিসেবে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই বৈপরীত্য গল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে, কিন্তু পরবর্তী লোককাহিনির অতিরঞ্জনকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। একইভাবে সাক্ষাতের প্রতিটি সংলাপ বা প্রতিটি সেকেন্ডের ঘটনাক্রম সম্পর্কে পরবর্তী কাহিনিগুলো যতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে, ইতিহাসের প্রমাণ সব ক্ষেত্রে ততটা নিশ্চিত নয়।

আরও একটি জনপ্রিয় ধারণা হলো, আফজল খান শিবাজীকে উত্তেজিত করতে যাত্রাপথে ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। তুলজাপুর ও পন্ধরপুরের মতো ধর্মীয় স্থানের প্রসঙ্গ বিভিন্ন ঐতিহ্যগত বিবরণে এসেছে। কিন্তু এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও পরিমাণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। পরবর্তী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্মৃতি অনেক ক্ষেত্রে মূল সামরিক সংঘর্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত কাহিনি যুক্ত করেছে। তাই প্রতাপগড়ের ইতিহাস বিশ্লেষণে কিংবদন্তি ও তুলনামূলকভাবে শক্ত প্রমাণকে আলাদা রাখা জরুরি।

শিবাজীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতাপগড় ছিল অসাধারণ কৌশলগত সাফল্য। তিনি নিজের পছন্দের ভূখণ্ডে প্রতিপক্ষকে টেনে এনেছিলেন, ব্যক্তিগত সাক্ষাতের ঝুঁকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলেন এবং একই সঙ্গে আশপাশে এমনভাবে বাহিনী মোতায়েন করেছিলেন যাতে পরিস্থিতি সহিংস হলে দ্রুত সামরিক সুবিধা নেওয়া যায়। আফজল খানের মৃত্যু তাই একটি বিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্বের ফল ছিল না; এটি একটি বৃহত্তর সামরিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল।

ঘটনাটিকে শুধু “শিবাজী বিশ্বাসঘাতকতা করে আফজল খানকে হত্যা করেছিলেন” অথবা “আফজল খান নিরস্ত্র শিবাজীকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন”—এই দুই বিপরীত সরল কাহিনির যেকোনো একটিতে সীমাবদ্ধ করলে ইতিহাসের জটিলতা হারিয়ে যায়। আমরা যথেষ্ট নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ছিল, শিবাজী গোপন অস্ত্র ও সুরক্ষা নিয়ে এসেছিলেন, আফজল খানও সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং শিবাজীর বাহিনী বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সাক্ষাতের প্রথম প্রাণঘাতী পদক্ষেপের প্রতিটি সূক্ষ্ম বিবরণ একই মাত্রায় নিশ্চিত নয়।

এই কারণেই ১৬৫৯ সালের প্রতাপগড়ের সাক্ষাৎ “ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য”-এর একটি অসাধারণ উদাহরণ। এখানে নিশ্চিত ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে আছে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা, রাজনৈতিক প্রচারণা, বীরত্বগাথা এবং শতাব্দীব্যাপী স্মৃতি। শান্তির আলোচনার আড়ালে হত্যার ফাঁদ ছিল কি না—তার চূড়ান্ত উত্তর হয়তো কখনোই পাওয়া যাবে না। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট: শিবাজী সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং কয়েক মিনিটের সেই প্রাণঘাতী মুখোমুখি সংঘর্ষকে তিনি এমন এক সামরিক বিজয়ে রূপান্তর করেন, যা তার উত্থানকে ত্বরান্বিত করে এবং পশ্চিম ভারতের ক্ষমতার রাজনীতিতে মারাঠাদের ভবিষ্যৎ উত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।


আপনার পছন্দ হতে পারে