আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমি: দাসপ্রথা ও উত্তর-দক্ষিণের বিরোধ
সিরিজ: আমেরিকার গৃহযুদ্ধ
দাসপ্রথা ও রাজনৈতিক বিরোধে বিভক্ত এক জাতি
১৮৬১ সালের বসন্তে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র গভীর সংকটে ডুবে ছিল। দেশটির এক অঞ্চলে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হচ্ছিল, অন্য অঞ্চলে লাখো মানুষের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছিল তুলার সাম্রাজ্য। পশ্চিমে নতুন নতুন ভূখণ্ড যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠছিল—সেখানে কি দাসপ্রথা বৈধ হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু নতুন রাজ্যগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করত না; নির্ধারণ করত ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যও। কয়েক দশকের আপস, নির্বাচন ও আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধ মেটাতে পারেনি।
গৃহযুদ্ধের কেন্দ্রীয় কারণ ছিল দাসপ্রথা এবং বিশেষত নতুন ভূখণ্ডে তার বিস্তার নিয়ে বিরোধ। অর্থনীতি, রাজ্যগুলোর অধিকার ও ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু সেগুলো বারবার দাসপ্রথার ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। উত্তর ও দক্ষিণের মানুষ শুধু ভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষা করছিল না; তারা নির্ধারণ করতে চাইছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাদের শ্রম, অধিকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমেরিকার স্বাধীনতার সময় থেকেই এই দ্বন্দ্বের বীজ রোপিত ছিল। ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণায় বলা হয়েছিল, সব মানুষ সমানভাবে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ নতুন রাষ্ট্রের বহু প্রভাবশালী শ্বেতাঙ্গ নেতা নিজেরাই মানুষকে দাস হিসেবে আটকে রেখেছিলেন। ১৭৮৭ সালের সংবিধান দাসপ্রথা সরাসরি বিলুপ্ত করেনি; বরং প্রতিনিধিত্ব ও পলাতক দাসদের প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আপস করেছিল।
সংবিধানের তথাকথিত তিন-পঞ্চমাংশ সমঝোতা অনুসারে প্রতিনিধি পরিষদে আসন নির্ধারণের গণনায় দাসত্বে আবদ্ধ মানুষদের প্রতি পাঁচজনের তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। এই ব্যবস্থা তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার দেয়নি। বরং যেসব রাজ্যে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল, সেগুলোর শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিবিদদের কংগ্রেসে অতিরিক্ত প্রভাব দিয়েছিল। শুরু থেকেই স্বাধীনতার ভাষা ও দাসত্বের বাস্তবতা পাশাপাশি অবস্থান করছিল।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে উত্তরের বিভিন্ন রাজ্যে দাসপ্রথা ধাপে ধাপে বিলুপ্তির পথে যায়। দক্ষিণে একসময় কেউ কেউ ভেবেছিলেন, দাসপ্রথার অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমতে পারে। কিন্তু ১৭৯৩ সালে এলি হুইটনির কটন জিন তুলার আঁশ থেকে বীজ আলাদা করার কাজ দ্রুততর করে। এর ফলে স্বল্প আঁশের তুলা প্রক্রিয়াকরণ সহজ হয় এবং দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অভ্যন্তরীণ এলাকায় তুলা চাষ লাভজনক হয়ে ওঠে।
তুলার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জমি ও দাসশ্রমের চাহিদাও। দক্ষিণের বাগানমালিকেরা আলাবামা, মিসিসিপি, লুইজিয়ানা ও টেক্সাসের দিকে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৮ সালে বিদেশ থেকে দাস আমদানি নিষিদ্ধ করলেও দেশের ভেতরের দাসবাণিজ্য চলতে থাকে। বহু কৃষ্ণাঙ্গ নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোর করে বিক্রি করে উপকূলীয় পুরোনো রাজ্যগুলো থেকে গভীর দক্ষিণে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং স্বাধীনতা হারানো ছিল এই ব্যবস্থার দৈনন্দিন বাস্তবতা।
১৮৬০ সালের জনগণনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দাসত্বে আবদ্ধ ছিলেন। তুলা রপ্তানি দক্ষিণের সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়েছিল, কিন্তু সেই সম্পদের ভিত্তি ছিল মানুষের ওপর মালিকানা ও তাঁদের অবৈতনিক শ্রম। দাসত্বে আবদ্ধ ব্যক্তিরা নীরবে সবকিছু মেনে নেননি। কাজের গতি কমানো, পরিবার ও সংস্কৃতি রক্ষা, পালিয়ে যাওয়া এবং কখনো সংগঠিত বিদ্রোহের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিরোধ করেছেন।
এদিকে উত্তরের অর্থনীতি ক্রমে শিল্পকারখানা, বাণিজ্য, ব্যাংক, রেলপথ এবং মজুরিভিত্তিক শ্রমের ওপর বিস্তৃত হচ্ছিল। উত্তরেও কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে সেখানে ছোট ও মাঝারি পারিবারিক খামারের ভূমিকা ছিল বড়। অনেক উত্তরের রাজনীতিবিদ ‘মুক্ত শ্রম’ বা free labor-এর পক্ষে যুক্তি দেন: তাঁদের ধারণায়, নিজের শ্রমের বিনিময়ে আয় করে একজন শ্রমিক বা কৃষক উন্নতি করতে পারেন। তাঁরা আশঙ্কা করতেন, পশ্চিমে দাসশ্রম ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক ও কৃষকের সুযোগ কমবে।
তবে উত্তর ও দক্ষিণের অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল না। উত্তরের বস্ত্রকলগুলো দক্ষিণের তুলা ব্যবহার করত; উত্তরের ব্যবসায়ী, জাহাজমালিক, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানও তুলার বাণিজ্য থেকে লাভ করত। ফলে দাসপ্রথার অর্থনৈতিক সুবিধা দক্ষিণের বাগানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একইভাবে উত্তরবাসীর সবাই দাসপ্রথা বিলুপ্তি বা কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকারের সমর্থক ছিলেন না। দাসপ্রথার বিস্তারের বিরোধিতা এবং পূর্ণ জাতিগত সমতার দাবি এক বিষয় ছিল না।
বাণিজ্যনীতি নিয়েও দুই অঞ্চলের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে অনেক উত্তরের রাজনীতিবিদ বিদেশি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক সমর্থন করতেন। দক্ষিণের অনেক বাগানমালিক মনে করতেন, এমন শুল্ক আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ায় এবং তুলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষতি করতে পারে। তবে ১৮৬০–৬১ সালের বিচ্ছিন্নতার সংকটে শুল্কের চেয়ে দাসপ্রথার নিরাপত্তা ও সম্প্রসারণের প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দ্বন্দ্বের অন্যতম ক্ষেত্র ছিল পশ্চিমের নতুন ভূখণ্ড। কোনো অঞ্চল দাসপ্রথাসহ রাজ্য হবে, নাকি দাসপ্রথামুক্ত রাজ্য হবে—তা নির্ধারণ করত সেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবন; পাশাপাশি মার্কিন সিনেটে দাসপ্রথাপন্থী ও বিরোধী রাজ্যগুলোর ভারসাম্যও প্রভাবিত করত। নতুন রাজ্যগুলোর মাধ্যমে কোন পক্ষ ফেডারেল আইন প্রণয়নে বেশি শক্তি পাবে, তা নিয়ে দুই অঞ্চলের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
১৮২০ সালের মিসৌরি সমঝোতা সাময়িকভাবে সংকট ঠেকায়। এর অধীনে মিসৌরি দাসপ্রথাসমর্থিত রাজ্য এবং মেইন দাসপ্রথামুক্ত রাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেয়। একই সঙ্গে মিসৌরি ছাড়া লুইজিয়ানা ক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডে ৩৬°৩০′ উত্তর অক্ষাংশের উত্তরে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। আপসটি কিছুদিন শান্তি বজায় রাখলেও পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকায় নতুন বিতর্ক অনিবার্য হয়ে ওঠে।
১৮৪৬–১৮৪৮ সালের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র বিশাল ভূখণ্ড অধিকার করে। সেখানে দাসপ্রথা চলবে কি না, তা নিয়ে কংগ্রেসে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। ১৮৫০ সালের সমঝোতা ক্যালিফোর্নিয়াকে দাসপ্রথামুক্ত রাজ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিউ মেক্সিকো ও ইউটা ভূখণ্ডে দাসপ্রথার প্রশ্ন স্থানীয় সিদ্ধান্তের জন্য উন্মুক্ত রাখে। একই সমঝোতার অংশ হিসেবে কঠোর পলাতক দাস আইন পাস হয়।
এই আইন অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া দাসত্বে আবদ্ধ ব্যক্তিদের ধরে মালিকদের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়। সন্দেহভাজন পলাতকদের নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া বা জুরি বিচারের সুযোগ ছিল না। উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও ধরপাকড়ে সহায়তা করতে বাধ্য করা হতে পারত। ফলে যাঁরা আগে দাসপ্রথাকে দক্ষিণের দূরবর্তী সমস্যা ভাবতেন, তাঁদের অনেকেই বুঝতে পারলেন যে ফেডারেল আইন তাঁদের নিজেদের এলাকাতেও দাসপ্রথা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
দাসপ্রথা বিরোধিতায় কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া ফ্রেডেরিক ডগলাস বক্তৃতা ও লেখার মাধ্যমে এর নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেন। হ্যারিয়েট টাবম্যান পালিয়ে আসার পর আবার দক্ষিণে গিয়ে আরও বহু মানুষকে মুক্তির পথে সহায়তা করেন। আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড নামে পরিচিত গোপন আশ্রয় ও সহযোগিতার নেটওয়ার্ক কোনো প্রকৃত রেলপথ ছিল না; এটি ছিল পালিয়ে যাওয়া মানুষ ও তাঁদের সাহায্যকারীদের একটি ছড়িয়ে থাকা ব্যবস্থা।
১৮৫৪ সালের কানসাস-নেব্রাস্কা আইন সংকটকে নতুন মাত্রা দেয়। সিনেটর স্টিফেন ডগলাসের প্রস্তাবিত এই আইনে কানসাস ও নেব্রাস্কা ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকারীদের দাসপ্রথার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। এতে মিসৌরি সমঝোতার ভৌগোলিক নিষেধাজ্ঞা কার্যত বাতিল হয়ে যায়। দাসপ্রথাপন্থী ও বিরোধী উভয় পক্ষই কানসাসে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে।
নির্বাচনে জালিয়াতি, পাল্টাপাল্টি সরকার গঠন এবং সশস্ত্র হামলায় এলাকাটি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলো পরিচিত হয় ‘ব্লিডিং কানসাস’ বা রক্তাক্ত কানসাস নামে। ১৮৫৬ সালে দাসপ্রথাপন্থীরা লরেন্স শহরে হামলা চালায়; প্রতিশোধে দাসপ্রথাবিরোধী জন ব্রাউন ও তাঁর সহযোগীরা পটাওয়াটোমি ক্রিকে পাঁচজন দাসপ্রথাপন্থীকে হত্যা করেন। জাতীয় সংকট যে সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হতে পারে, কানসাস ছিল তার স্পষ্ট পূর্বাভাস।
একই সময়ে জাতীয় রাজনীতির পুরোনো দলীয় কাঠামো ভেঙে পড়তে থাকে। উত্তর ও দক্ষিণের সমর্থকদের এক ছাতার নিচে রাখা হুইগ পার্টি বিভক্ত হয়ে যায়। দাসপ্রথার পশ্চিমমুখী বিস্তারের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে ১৮৫০-এর দশকে রিপাবলিকান পার্টি শক্তি অর্জন করে। দলটির সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এক ছিল না, কিন্তু নতুন ভূখণ্ডে দাসপ্রথার বিস্তার ঠেকানো ছিল তাদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
১৮৫৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের ড্রেড স্কট রায় উত্তেজনা আরও বাড়ায়। দাসত্বে আবদ্ধ ড্রেড স্কট দাবি করেছিলেন, তিনি দাসপ্রথা নিষিদ্ধ এমন এলাকায় বসবাস করায় স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকারী। আদালত তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গরা মার্কিন নাগরিক নন এবং কংগ্রেসের ভূখণ্ডগুলোতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। আদালত মিসৌরি সমঝোতার সংশ্লিষ্ট বিধানকেও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। দক্ষিণে অনেকে রায়কে বিজয় হিসেবে দেখলেও উত্তরে দাসপ্রথা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরদার হয়।
১৮৫৯ সালে জন ব্রাউন ভার্জিনিয়ার হার্পার্স ফেরিতে ফেডারেল অস্ত্রাগার দখল করে দাসত্বে আবদ্ধ মানুষের বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ব্রাউনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু ঘটনাটি দক্ষিণের শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে দাসবিদ্রোহ ও উত্তরের হস্তক্ষেপের ভয় বাড়িয়ে দেয়। উত্তরে কেউ তাঁকে সহিংস উগ্রপন্থী মনে করলেও অন্যরা দাসপ্রথার বিরুদ্ধে আত্মত্যাগী হিসেবে দেখেন।
দক্ষিণের নেতারা প্রায়ই রাজ্যের অধিকার রক্ষার কথা বলতেন। কিন্তু তাঁরা একই সঙ্গে পলাতক দাসদের ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী ফেডারেল আইন দাবি করতেন। তাঁদের প্রধান উদ্বেগ ছিল দাসপ্রথার সুরক্ষা। পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্নতাপন্থী কয়েকটি রাজ্যের ঘোষণাতেও দাসপ্রথা এবং তা রক্ষায় উত্তরাঞ্চলের বিরোধিতার কথা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
এমন পরিস্থিতিতে ১৮৬০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী আব্রাহাম লিংকন বিজয়ী হন। তিনি যেখানে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল, সেখানে অবিলম্বে তা বিলুপ্ত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার করেননি। তাঁর বিরোধিতা ছিল প্রধানত নতুন ভূখণ্ডে দাসপ্রথার বিস্তারের বিরুদ্ধে। তবু দক্ষিণের বহু নেতা মনে করেন, পশ্চিমে দাসপ্রথা ছড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের ক্ষমতা ক্রমশ কমে যাবে।
লিংকনের নির্বাচনের পর ১৮৬০ সালের ২০ ডিসেম্বর সাউথ ক্যারোলাইনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়। পরবর্তী কয়েক মাসে আরও দক্ষিণী রাজ্য একই পথে এগোয়। কয়েক দশক ধরে সমঝোতার মাধ্যমে যে সংকট ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা এবার রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলল। নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একদিকে ইউনিয়ন রক্ষার সংকল্প, অন্যদিকে দাসপ্রথাভিত্তিক সমাজ রক্ষায় বিচ্ছিন্নতার সিদ্ধান্ত—যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল।
ম্যাগেলান ও এলকানোর বিশ্বপরিক্রমা: ১৫১৯–১৫২২ সালের ঐতিহাসিক অভিযান
বালবোয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর: ১৫১৩ সালের পানামা অভিযানের ইতিহাস
পর্তুগিজ সামুদ্রিক সাম্রাজ্য: গোয়া, মালাক্কা ও হরমুজ দখলের ইতিহাস
জঁ-জাক রুশোর সামাজিক চুক্তি: জনগণের সার্বভৌমত্ব, সাম্য ও স্বাধীনতা
মন্টেস্কু ও ভলতেয়ার: ক্ষমতার বিভাজন, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
জন লক ও আধুনিক গণতন্ত্র: প্রাকৃতিক অধিকার, সামাজিক চুক্তি ও জনগণের সম্মতি