অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে ব্রিটিশ বিস্তার: দণ্ড উপনিবেশ থেকে নতুন সমাজ গঠনের ইতিহাস
সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার
দণ্ড উপনিবেশ থেকে স্বশাসিত সমাজ—অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ বিস্তারের ইতিহাস
১৭৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্রিটেনের প্রথম নৌবহর নিউ সাউথ ওয়েলসের পোর্ট জ্যাকসনে নোঙর করে। এগারোটি জাহাজে কর্মকর্তা, নৌসেনা, কর্মচারী এবং সাত শতাধিক দণ্ডিত নারী-পুরুষ দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে সেখানে পৌঁছেছিলেন। গভর্নর আর্থার ফিলিপ সিডনি কোভে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী ব্রিটিশ উপস্থিতির সূচনা করেন। প্রথমদিকে এটি ছিল মূলত দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাসন ও শ্রম ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি দূরবর্তী উপনিবেশ। কিন্তু কয়েক দশকের মধ্যে দণ্ডশিবিরটি খামার, বন্দর, শহর ও বাণিজ্যনির্ভর সমাজে রূপান্তরিত হয়। এই নতুন ব্রিটিশ সমাজ নির্মিত হয়েছিল দণ্ডিতদের শ্রম, মুক্ত অভিবাসীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি দখলের ওপর।
অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি ছিল প্রশান্ত মহাসাগরে ইউরোপীয় অনুসন্ধান। ১৭৭০ সালে জেমস কুক এইচএমএস এন্ডেভার জাহাজে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল জরিপ করেন এবং অঞ্চলটির নাম নিউ সাউথ ওয়েলস দিয়ে ব্রিটিশ রাজমুকুটের পক্ষে দাবি করেন। কিন্তু এই ভূখণ্ড জনশূন্য ছিল না। আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা অন্তত ৬৫ হাজার বছর ধরে মহাদেশটিতে বসবাস করছিলেন। শতাধিক স্বতন্ত্র জাতি, ভাষা, আইন, আত্মীয়তা ও ভূমিব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ভূমি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ব্রিটিশরা তাদের সার্বভৌমত্ব স্বীকার না করে ভূমিকে কার্যত দখলযোগ্য অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে।
আমেরিকান বিপ্লবের আগে ব্রিটেন দণ্ডিত ব্যক্তিদের উত্তর আমেরিকার উপনিবেশে পাঠাত। যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়, অথচ ব্রিটিশ কারাগার ও অস্থায়ী কারাজাহাজে বন্দীর সংখ্যা বেড়ে চলেছিল। সরকার বিকল্প গন্তব্য হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসকে বেছে নেয়। দণ্ডিতদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরে ফরাসি ও অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তির অগ্রগতি ঠেকানো, নৌঘাঁটি স্থাপন এবং এশীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনা অনুসন্ধানও সিদ্ধান্তটিতে ভূমিকা রাখে। ফলে সিডনি ছিল একই সঙ্গে কারাগার, উপনিবেশ এবং সাম্রাজ্যিক কৌশলকেন্দ্র।
প্রথম বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থা ছিল কঠিন। তারা অজানা জলবায়ু, অনুপযুক্ত কৃষিপদ্ধতি, সীমিত খাদ্য এবং অনিয়মিত সরবরাহের মুখোমুখি হয়। প্রাথমিক ফসল ব্যর্থ হওয়ায় উপনিবেশটি দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দণ্ডিতদের দিয়ে গাছ কাটা, রাস্তা নির্মাণ, সরকারি ভবন তৈরি, খামার পরিষ্কার এবং খাদ্য উৎপাদনের কাজ করানো হতো। তাদের সবাই গুরুতর অপরাধী ছিলেন না; চুরি, জালিয়াতি বা ক্ষুদ্র সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধেও অনেককে সাত বছর, চৌদ্দ বছর কিংবা যাবজ্জীবন নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। নারী দণ্ডিতেরা গৃহস্থালি, কাপড় তৈরি, কৃষিকাজ এবং বিভিন্ন কর্মশালায় শ্রম দিতেন, কিন্তু তারা যৌন শোষণ ও সামাজিক বৈষম্যেরও শিকার হতেন।
শাস্তির ধরন ব্যক্তি ও স্থানের ওপর নির্ভর করত। কিছু দণ্ডিত সরকারি শ্রমদলে কাজ করতেন, অন্যদের কর্মকর্তা বা মুক্ত বসতি স্থাপনকারীদের কাছে শ্রমিক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হতো। নিয়ম ভাঙলে বেত্রাঘাত, শিকলবন্দী শ্রম অথবা নরফোক দ্বীপ ও পোর্ট আর্থারের মতো কঠোর দণ্ডকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল। আবার দক্ষ কারিগর, লেখক, নির্মাতা ও কৃষিশ্রমিকেরা ভালো আচরণের মাধ্যমে তুলনামূলক স্বাধীনতা, মজুরি কিংবা আগাম মুক্তির অনুমতি পেতে পারতেন। সাজা শেষ হলে অনেকেই দেশে ফিরে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় অস্ট্রেলিয়াতেই বসতি স্থাপন করেন। দণ্ডিত শ্রম শুধু উপনিবেশের অবকাঠামো তৈরি করেনি; মুক্তিপ্রাপ্ত দণ্ডিতরাই নতুন সমাজের কৃষক, কারিগর ও ব্যবসায়ীর একটি বড় অংশে পরিণত হন।
গভর্নর ল্যাকলান ম্যাকোয়ারির শাসনামলে ১৮১০ থেকে ১৮২১ সালের মধ্যে সিডনির রাস্তাঘাট, সেতু, হাসপাতাল ও সরকারি ভবন দ্রুত নির্মিত হয়। তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত দণ্ডিতদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসন এবং যোগ্য হলে সরকারি পদ ও সম্মান দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এতে মুক্তিপ্রাপ্ত দণ্ডিত বা ইম্যানসিপিস্টদের সঙ্গে স্বাধীনভাবে আসা ধনী বসতি স্থাপনকারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সমাজে কার জন্ম কোথায় বা তার পরিবার দণ্ডিত ছিল কি না—এসব প্রশ্ন দীর্ঘদিন সামাজিক মর্যাদায় প্রভাব ফেলেছিল। তবু সময়ের সঙ্গে দণ্ডিত বংশপরিচয় লজ্জার পরিবর্তে জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।
উপনিবেশ বিস্তারের সবচেয়ে গভীর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে আদিবাসীদের ওপর। সিডনি অঞ্চলের ইওরা জনগোষ্ঠীসহ উপকূলীয় সমাজগুলো গুটিবসন্ত ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রিটিশ বসতি, বেড়া ও পশুচারণের বিস্তারে তাদের শিকারক্ষেত্র, পানির উৎস এবং পবিত্র স্থান হারিয়ে যায়। খাদ্য ও ভূমি রক্ষার চেষ্টা করলে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তাকে অপরাধ বা বিদ্রোহ হিসেবে দেখত। সশস্ত্র সংঘর্ষ, প্রতিশোধমূলক অভিযান, হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
তাসমানিয়ায়, যা তখন ভ্যান ডিমেনস ল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল, সংঘাত বিশেষভাবে বিধ্বংসী হয়। ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ বসতি স্থাপনের পর জমি দখল দ্রুত বাড়ে এবং ১৮২০-এর দশকে তথাকথিত ব্ল্যাক ওয়ার তীব্র হয়ে ওঠে। রোগ, সহিংসতা, অপহরণ ও উচ্ছেদে আদিবাসী জনসংখ্যা বিপর্যস্ত হয়। জীবিত অনেককে জোর করে ফ্লিন্ডার্স দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে দুর্বল পরিবেশ ও হতাশাজনক পরিস্থিতিতে বহু মানুষ মারা যান। ব্রিটিশ সমাজ গঠনের প্রচলিত সফলতার কাহিনির পাশাপাশি আদিবাসী সার্বভৌমত্ব অস্বীকার ও ভূমি দখলের এই ইতিহাস অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেয় ভেড়া ও পশম। জন ম্যাকার্থারসহ উদ্যোক্তারা উন্নত জাতের ভেড়া পালন শুরু করলে ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্পে অস্ট্রেলীয় পশমের চাহিদা বাড়ে। বৃহৎ পশুচারণভূমির সন্ধানে বসতি স্থাপনকারীরা সরকারি সীমা অতিক্রম করে অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করেন। এসব অননুমোদিত পশুপালক স্কোয়াটার নামে পরিচিত ছিলেন। পরে তারা বিশাল জমি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অধিকারী হয়ে ওঠেন। পশম রপ্তানি সিডনি ও অন্যান্য বন্দরের সমৃদ্ধি বাড়ালেও এর জন্য আদিবাসীদের আরও বিপুল ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসের বাইরে ধীরে ধীরে পৃথক উপনিবেশ গড়ে ওঠে। ভ্যান ডিমেনস ল্যান্ডে ১৮০৩ সালে স্থায়ী বসতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮২৫ সালে এটি পৃথক উপনিবেশের মর্যাদা পায়। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ১৮২৯ সালে সোয়ান রিভার কলোনি গঠিত হয়। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ১৮৩৬ সালে পরিকল্পিত মুক্ত উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে প্রাথমিকভাবে দণ্ডিত পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল না। পোর্ট ফিলিপ জেলা থেকে ১৮৫১ সালে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তরাংশ থেকে ১৮৫৯ সালে কুইন্সল্যান্ড পৃথক উপনিবেশে পরিণত হয়। প্রতিটি অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক চরিত্র ভিন্ন হলেও তারা ব্রিটিশ আইন, রাজমুকুট এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যুক্ত ছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় দণ্ডিত পরিবহন একসঙ্গে বন্ধ হয়নি। নিউ সাউথ ওয়েলসে ১৮৪০ সালে পরিবহন কার্যত শেষ হলেও তাসমানিয়ায় ১৮৫৩ সাল এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত তা চলেছিল। ততদিনে মুক্ত অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল এবং দণ্ড উপনিবেশের পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসার দাবি শক্তিশালী হচ্ছিল। মধ্যবিত্ত বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার, স্বাধীন শ্রমবাজার এবং নিজেদের আইন প্রণয়নের অধিকার চাইছিলেন। ফলে দণ্ডিত শ্রমনির্ভর প্রশাসন ধীরে ধীরে নির্বাচিত পরিষদ ও স্বশাসনমুখী সমাজে রূপান্তরিত হয়।
১৮৫১ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় সোনা আবিষ্কৃত হলে পরিবর্তন আরও দ্রুত ঘটে। ব্রিটেন, ইউরোপ, চীন, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় আসে। মেলবোর্ন ও অন্যান্য শহরের জনসংখ্যা, ব্যাংক, রেলপথ, বন্দর ও ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। শ্রমিকের ঘাটতিতে মজুরি বাড়ে এবং সামাজিক গতিশীলতার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে চীনা খনি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতা নতুন সমাজের বর্ণভিত্তিক সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে। ১৮৫৪ সালের ইউরেকা স্টকেড খনি-অনুমতিপত্র, কর এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ঔপনিবেশিক সরকারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদে পরিণত হয়।
প্রশান্ত মহাসাগরে ব্রিটিশ বিস্তার অস্ট্রেলিয়ার সীমানায় থেমে থাকেনি। ১৮৪০ সালের ওয়াইতাঙ্গি চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজমুকুট নিউজিল্যান্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করে। ইংরেজি ও মাওরি ভাষার চুক্তিপাঠে সার্বভৌমত্বের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল, যা পরে ভূমি ও শাসন নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করে। ফিজি ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। বিভিন্ন দ্বীপে মিশনারি, বণিক, নৌবাহিনী ও ঔপনিবেশিক কর্মকর্তারা ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তার করেন। অস্ট্রেলিয়ার বন্দরগুলো ভারত, চীন, নিউজিল্যান্ড ও ব্রিটেনকে সংযুক্ত করা সামুদ্রিক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, তাসমানিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য উপনিবেশ ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল সরকার লাভ করে। স্থানীয় নির্বাচিত মন্ত্রীরা অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনা করলেও বৈদেশিক নীতি ও সাম্রাজ্যিক প্রতিরক্ষা ব্রিটেনের হাতে থাকে। ১৯০১ সালে ছয়টি উপনিবেশ যুক্ত হয়ে অস্ট্রেলীয় কমনওয়েলথ গঠন করে। নতুন রাষ্ট্র ব্যাপক স্বশাসন লাভ করলেও ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীন ডমিনিয়ন হিসেবে সাম্রাজ্যের অংশ থেকে যায়। একই সঙ্গে নতুন জাতীয় সরকার শ্বেতাঙ্গ অস্ট্রেলিয়া নীতির মাধ্যমে অ-ইউরোপীয় অভিবাসন সীমিত করে—যা সমাজটির ব্রিটিশ ও বর্ণভিত্তিক আত্মপরিচয় প্রকাশ করেছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ব্রিটিশ সমাজের জন্ম তাই সরল উন্নতির গল্প নয়। দণ্ডিত নারী-পুরুষের বাধ্যতামূলক শ্রম রাস্তা, ভবন ও কৃষিখামার নির্মাণ করেছিল; মুক্তিপ্রাপ্তরা নতুন অর্থনীতি গড়েছিল; পশম, সোনা ও সামুদ্রিক বাণিজ্য উপনিবেশগুলোকে সমৃদ্ধ করেছিল; আর স্বশাসন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে পরিণত করেছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ছিল আদিবাসীদের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার, ভূমি দখল, সীমান্ত সহিংসতা এবং সাংস্কৃতিক ধ্বংস। যে বসতি ১৭৮৮ সালে দূরবর্তী দণ্ড উপনিবেশ হিসেবে শুরু হয়েছিল, সেটি এক শতাব্দীর কিছু বেশি সময়ের মধ্যে শক্তিশালী ব্রিটিশ-উত্তরাধিকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়—তবে তার সমৃদ্ধি ও জাতীয় পরিচয়ের ভেতরে ঔপনিবেশিক অন্যায়ের গভীর উত্তরাধিকারও রয়ে যায়।
অচলাবস্থা থেকে পানমুনজম শান্তি আলোচনা: কোরীয় যুদ্ধ থামাতে কেন দুই বছর লেগেছিল?
সিউলের পতন ও পাল্টা আক্রমণ: ১৯৫১ সালে যুদ্ধ যেভাবে আবার ৩৮তম সমান্তরালে ফিরে আসে
চীনের কোরীয় যুদ্ধে প্রবেশ: ইয়ালু নদী থেকে চোসিন জলাধারের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা: বিতর্কিত সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়াল?
নগো দিন দিয়েম, ভিয়েত কং ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংকট: গৃহসংঘাত থেকে বড় যুদ্ধ
জেনেভা চুক্তি ও ভিয়েতনামের বিভাজন: ১৭তম সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্ম