নূরজাহান: মুঘল সাম্রাজ্যের পর্দার আড়ালে থাকা সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ইতিহাস
Series: ইতিহাস বদলে দেওয়া নারীরা
- Author: Admin
- August 24, 2026
নূরজাহান
মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সাধারণত সম্রাটদের নাম ঘিরেই লেখা হয়—বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান কিংবা আওরঙ্গজেব। কিন্তু এই পুরুষশাসিত সাম্রাজ্যের রাজনীতির অন্তরালে এমন একজন নারী ছিলেন, যিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সম্রাট না হয়েও সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তিনি ছিলেন নূরজাহান, সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং মুঘল ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের একজন।
তার জন্মনাম ছিল মেহরুন্নিসা। তিনি ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে এক পারস্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা গিয়াস বেগ এবং মা আসমত বেগম পারস্য থেকে ভাগ্যের সন্ধানে মুঘল ভারতে এসেছিলেন। পরিবারটি ভারতে এসে আকবরের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।
গিয়াস বেগ ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আকবর ও পরে জাহাঙ্গীরের শাসনামলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন এবং শেষ পর্যন্ত ইতিমাদ-উদ-দৌলা, অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রের স্তম্ভ’ উপাধি লাভ করেন। এই পারিবারিক পটভূমি মেহরুন্নিসাকে মুঘল রাজদরবারের ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং অভিজাত সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেয়।
তার প্রথম বিয়ে হয় পারস্য বংশোদ্ভূত সেনা কর্মকর্তা আলি কুলি ইস্তাজলুর সঙ্গে, যিনি পরে ‘শের আফগান খান’ নামে পরিচিত হন। আলি কুলি মুঘল সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলায় জায়গির লাভ করেছিলেন। তাদের এক কন্যাসন্তান জন্মায়, যার নাম ছিল লাডলি বেগম।
শের আফগানের মৃত্যু নূরজাহানের জীবনের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক সংঘর্ষে তিনি নিহত হন। পরবর্তী যুগে জনপ্রিয় গল্পে দাবি করা হয়েছে যে যুবরাজ সেলিম, অর্থাৎ পরবর্তী সম্রাট জাহাঙ্গীর, আগে থেকেই মেহরুন্নিসার প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাকে পাওয়ার জন্য শের আফগানের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু এই রোমান্টিক ও ষড়যন্ত্রমূলক কাহিনির পক্ষে শক্তিশালী সমসাময়িক প্রমাণ নেই।
স্বামীর মৃত্যুর পর মেহরুন্নিসা ও তার কন্যাকে মুঘল রাজদরবারে নিয়ে আসা হয়। তিনি সম্ভবত সম্রাজ্ঞী রুকাইয়া সুলতান বেগম বা রাজপরিবারের অন্য নারীদের অধীনে রাজপ্রাসাদের জীবনে প্রবেশ করেন। এখান থেকেই তার জীবনের দ্বিতীয় এবং আরও নাটকীয় অধ্যায় শুরু হয়।
১৬১১ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীর মেহরুন্নিসাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথমে তিনি ‘নূরমহল’ বা ‘প্রাসাদের আলো’ উপাধি পান। পরবর্তী সময়ে তাকে দেওয়া হয় আরও বিখ্যাত উপাধি ‘নূরজাহান’—অর্থাৎ ‘জগতের আলো’।
জাহাঙ্গীরের হারেমে বহু নারী ছিলেন, কিন্তু নূরজাহান খুব দ্রুত অন্যদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান অর্জন করেন। এর কারণ শুধু সম্রাটের ব্যক্তিগত ভালোবাসা ছিল না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, শিক্ষিত, শিল্পরুচিসম্পন্ন, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বুঝতে সক্ষম।
জাহাঙ্গীরের শাসনের মধ্য ও শেষভাগে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি মদ ও আফিম সেবনে অভ্যস্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগতেন। এই পরিস্থিতিতে নূরজাহানের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকে।
তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ‘সহ-সম্রাট’ ছিলেন না, কিন্তু রাজদরবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার প্রভাব এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে অনেক ঐতিহাসিক তার সময়কে মুঘল ইতিহাসে নারী রাজনৈতিক ক্ষমতার এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে দেখেন।
রাজনীতি ছাড়াও নূরজাহান অসাধারণ সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তিনি পোশাক, নকশা, গয়না, বাগান এবং স্থাপত্যে গভীর আগ্রহী ছিলেন। মুঘল নারীদের পোশাক ও অলংকারে কিছু নতুন রীতি জনপ্রিয় করার সঙ্গে তার নাম জড়িত।
সুগন্ধি তৈরির ইতিহাসেও তার পরিবারের নাম উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে গোলাপের আতর নিয়ে নূরজাহান ও তার মা আসমত বেগমকে ঘিরে নানা কাহিনি রয়েছে। যদিও এসব উদ্ভাবনের কিছু দাবির ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক আছে, তবুও মুঘল অভিজাত সংস্কৃতিতে সৌন্দর্য, পোশাক ও সুগন্ধির ক্ষেত্রে নূরজাহানের প্রভাব স্পষ্ট।
তিনি স্থাপত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার বাবা ইতিমাদ-উদ-দৌলার মৃত্যুর পর আগ্রায় যে সমাধিসৌধ নির্মিত হয়, সেটি মুঘল স্থাপত্যের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধি সাদা মার্বেলের ব্যাপক ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম পাথরের জড়ি কাজের জন্য বিখ্যাত।
এই স্থাপত্যশৈলী পরবর্তী সময়ে শাহজাহানের আমলে আরও পরিণত হয়ে তাজমহলের মতো স্থাপত্যে পূর্ণতা লাভ করে। এই কারণে ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধিকে কখনো কখনো তাজমহলের স্থাপত্যিক পূর্বসূরি বলা হয়।
নূরজাহানের ব্যক্তিত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিকার ও ঘোড়সওয়ারিতে দক্ষতা। সমসাময়িক মুঘল বর্ণনায় তার শিকারে অংশগ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। একবার তিনি একাধিক গুলি ব্যবহার করে বাঘ শিকার করেছিলেন বলেও বিবরণ পাওয়া যায়। এসব ঘটনা মুঘল রাজপরিবারের নারীদের প্রচলিত নিভৃত জীবনের ধারণাকে জটিল করে তোলে।
তবে নূরজাহানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল উত্তরাধিকার প্রশ্ন।
জাহাঙ্গীর বৃদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়লে পরবর্তী সম্রাট কে হবেন, তা নিয়ে মুঘল রাজপরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে ওঠে। যুবরাজ খুররম, যিনি পরে শাহজাহান হন, ছিলেন শক্তিশালী দাবিদার। প্রথমদিকে নূরজাহানের সঙ্গে তার সম্পর্ক সহযোগিতাপূর্ণ ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের স্বার্থে সংঘাত তৈরি হয়। নূরজাহান নিজের কন্যা লাডলি বেগমের বিয়ে জাহাঙ্গীরের ছোট ছেলে শাহরিয়ারের সঙ্গে দেন। এর ফলে ধারণা তৈরি হয় যে নূরজাহান শাহরিয়ারকে ভবিষ্যৎ সম্রাট হিসেবে সমর্থন করতে পারেন এবং তার মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা বজায় রাখতে চাইছেন।
খুররম নূরজাহানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিজের ভবিষ্যৎ সিংহাসনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে ১৬২২ সালে যুবরাজ খুররম বিদ্রোহ করেন। যদিও এই বিদ্রোহের পেছনে কান্দাহার অভিযানসহ একাধিক রাজনৈতিক কারণ ছিল, নূরজাহানের সঙ্গে তার ক্ষমতার দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নূরজাহানের রাজনৈতিক দক্ষতার সবচেয়ে নাটকীয় পরীক্ষা আসে মহাবত খানের বিদ্রোহে।
মহাবত খান ছিলেন জাহাঙ্গীরের শক্তিশালী সেনাপতি। নূরজাহানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে যায় এবং ১৬২৬ সালে তিনি এক সাহসী পদক্ষেপে সম্রাট জাহাঙ্গীরকে কার্যত বন্দি করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
এই পরিস্থিতিতে নূরজাহান অসাধারণ সাহস ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দেখান। প্রথমে তিনি সেনাবাহিনী নিয়ে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। নদী পার হওয়ার সময় সংঘর্ষে তার অভিযান ব্যর্থ হয় এবং তিনিও শেষ পর্যন্ত মহাবত খানের নিয়ন্ত্রণে চলে যান।
কিন্তু বন্দিত্বেও তিনি হার মানেননি।
তিনি ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসেন, সম্রাটের প্রতি অনুগত বাহিনীগুলোকে পুনর্গঠিত করেন এবং মহাবত খানের ক্ষমতার ভিত্তি দুর্বল করেন। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর তার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হন।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে নূরজাহানের ক্ষমতা শুধু সম্রাটের অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল না; সংকটের সময় তিনি নিজেই রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম ছিলেন।
কিন্তু তার ক্ষমতার মূল ভিত্তি শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরই ছিলেন।
১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীর মারা গেলে মুঘল সাম্রাজ্যে উত্তরাধিকার সংকট শুরু হয়। নূরজাহান শাহরিয়ারকে সমর্থন করার চেষ্টা করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। কিন্তু তার ভাই আসফ খান সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেন।
আসফ খান যুবরাজ খুররমের শ্বশুর ছিলেন। ফলে তার স্বার্থ ছিল খুররমকে সিংহাসনে বসানো। তিনি দ্রুত রাজদরবারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে দাউয়ার বখশকে সামনে রেখে খুররমের ক্ষমতা গ্রহণের পথ প্রস্তুত করেন।
শেষ পর্যন্ত খুররম শাহজাহান নামে মুঘল সম্রাট হন।
শাহরিয়ার বন্দি হন এবং পরবর্তী উত্তরাধিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাকেও হত্যা করা হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই নূরজাহানের রাজনৈতিক ক্ষমতা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, শাহজাহান ক্ষমতায় আসার পর নূরজাহানকে হত্যা বা কঠোরভাবে নিপীড়ন করেননি। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয় এবং তিনি জীবনের বাকি সময় মূলত লাহোরে অবসর জীবন কাটান।
তিনি বার্ষিক ভাতা পেতেন এবং স্থাপত্য, ধর্মীয় দান ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে সময় ব্যয় করেন। তার জীবনের শেষ পর্যায় ছিল আগের রাজদরবারি ক্ষমতার তুলনায় অনেক শান্ত।
নূরজাহান ১৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। তাকে লাহোরে জাহাঙ্গীরের সমাধির কাছাকাছি নিজের নির্মিত সমাধিতে সমাহিত করা হয়। তার সমাধি আজও মুঘল যুগের এই ব্যতিক্রমী নারীর স্মৃতি বহন করছে।
নূরজাহানের জীবন নিয়ে পরবর্তী যুগে নানা গল্প তৈরি হয়েছে। কখনো তাকে জাহাঙ্গীরকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনো আদর্শ প্রেমিকা ও সাংস্কৃতিক রুচির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাস্তবতা এর চেয়ে বেশি জটিল।
জাহাঙ্গীর কোনো অসহায় পুতুল ছিলেন না এবং নূরজাহানও কোনো গোপন ষড়যন্ত্রকারী মাত্র ছিলেন না। বরং তাদের সম্পর্কের একটি পর্যায়ে জাহাঙ্গীর সচেতনভাবেই নূরজাহানকে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন, কারণ তিনি তার বুদ্ধিমত্তা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতেন।
একই সঙ্গে নূরজাহানও ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজের পরিবার, বিবাহ, পৃষ্ঠপোষকতা এবং উত্তরাধিকার রাজনীতিকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন। এতে তার যুগের অন্যান্য মুঘল অভিজাতদের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে মৌলিক কোনো পার্থক্য ছিল না—পার্থক্য ছিল, তিনি একজন নারী।
মুঘল সাম্রাজ্যের নারীরা সাধারণত পর্দার আড়ালে থাকলেও তারা সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। রাজমাতা, রাজকন্যা ও সম্রাজ্ঞীরা সম্পত্তি, বাণিজ্য, দান, স্থাপত্য এবং রাজপরিবারের সম্পর্কের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতেন। কিন্তু নূরজাহান এই কাঠামোর সীমা অন্যদের তুলনায় অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত করেছিলেন।
তার নামে মুদ্রা, ফরমান জারি, কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব, রাজপরিবারের বিয়ে নির্ধারণ, সামরিক সংকটে নেতৃত্ব এবং উত্তরাধিকার রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ—সবকিছু মিলিয়ে তার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ।
তিনি মুঘল সিংহাসনে বসেননি, কিন্তু বহু বছর ধরে সেই সিংহাসনের চারপাশে যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঘুরছিল, তাদের অন্যতম কেন্দ্রে ছিলেন।
এই কারণেই নূরজাহানকে কেবল ‘জাহাঙ্গীরের স্ত্রী’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করলে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝা যায় না। তিনি ছিলেন নিজের সময়ের একজন দক্ষ রাজনৈতিক কৌশলবিদ, শিল্প ও স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক, রাজদরবারের ক্ষমতাশালী সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং এমন এক নারী, যিনি মুঘল সাম্রাজ্যের পুরুষপ্রধান ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে নিজের জন্য নজিরবিহীন রাজনৈতিক স্থান তৈরি করেছিলেন।
নূরজাহানের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এটাই—তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্রাট না হয়েও এমন ধরনের সার্বভৌম প্রতীক ও বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন, যা মুঘল ইতিহাসে আর কোনো সম্রাট-পত্নীর ক্ষেত্রে একই মাত্রায় দেখা যায়নি।
জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর সঙ্গে তার রাজনৈতিক যুগের অবসান ঘটেছিল, কিন্তু তার প্রভাব মুছে যায়নি। মমতাজ মহলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে শাহজাহানের রাজবংশীয় সম্পর্ক, ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধির স্থাপত্যিক ঐতিহ্য এবং মুঘল নারী ক্ষমতার ইতিহাসে তার অনন্য অবস্থান তাকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।
পর্দা তাকে জনসমক্ষের ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে পারেনি; বরং সেই পর্দার আড়াল থেকেই নূরজাহান এমন এক রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন, যার ছায়া বহু বছর ধরে মুঘল সিংহাসনের ওপর পড়েছিল।
জোয়ান অব আর্ক: কিশোরী কৃষককন্যা কীভাবে ফ্রান্সের যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন?
আওরঙ্গজেবের ক্ষমতা দখল: শাহজাহানকে বন্দি করে কীভাবে মুঘল সিংহাসন জয় করেছিলেন?
দারা শিকোহ বনাম আওরঙ্গজেব: শাহজাহানের চার পুত্রের রক্তক্ষয়ী উত্তরাধিকার যুদ্ধ
মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থনীতি ও বাণিজ্য: কৃষি, বস্ত্রশিল্প, বাংলা ও ইউরোপীয় বণিকদের আগমন