সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: পলাশীর যুদ্ধের আগে গোপনে কী ঘটেছিল?
সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য
গোপন চুক্তির আড়ালে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ
পলাশীর যুদ্ধকে শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা হিসেবে দেখলে বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নাটকটির বড় অংশই অদৃশ্য থেকে যায়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানে যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তার ফল কামান, বন্দুক কিংবা সৈন্যসংখ্যা দিয়ে সেদিন নির্ধারিত হয়নি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার বহু আগেই মুর্শিদাবাদের প্রাসাদ, কলকাতার ইংরেজ দপ্তর, ধনী মহাজনদের বৈঠকখানা এবং গোপন দূতদের যাতায়াতের মধ্যে ফলাফলের ভিত্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর প্রধান ব্যক্তিদের একাংশ যুদ্ধের আগেই শত্রুপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করেছিল। ফলে পলাশীতে ইংরেজদের সামরিক বিজয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলার দরবারের বিভক্তি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং পরিকল্পিত বিশ্বাসঘাতকতা।
আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন। তখন বাংলা শুধু বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ড নয়; বাংলা, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধ সুবা ছিল। মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লেও বাংলার নবাব কার্যত স্বাধীন শাসকের মতো রাজ্য পরিচালনা করতেন। কৃষি, বস্ত্র, রেশম, লবণ, আফিম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে অঞ্চলটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম ধনী অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এই বিপুল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নবাবের দরবার, জমিদার, সেনাপতি, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার এবং ইউরোপীয় বাণিজ্যিক শক্তিগুলোর স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল।
সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার সময় তাঁর বয়স ছিল অল্প এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও সীমিত। কিন্তু তাঁকে কেবল খামখেয়ালি ও নিষ্ঠুর তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের অতিরিক্ত সরলীকরণ। তাঁর বিরুদ্ধে লেখা বহু বিবরণ পরবর্তী ইংরেজ বিজয়ী ও তাঁর বিরোধী দরবারি গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা প্রভাবিত। সিরাজ আবেগপ্রবণ ছিলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেন এবং বিরোধীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করতেন—তবে তাঁর সামনে থাকা সংকটও ছিল অত্যন্ত বাস্তব। সিংহাসনের দাবিদার, অসন্তুষ্ট সেনাপতি, বিপুল সম্পদের অধিকারী আত্মীয়, শক্তিশালী ব্যাংকার এবং নিজস্ব দুর্গ ও সৈন্য গড়ে তোলা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তাঁর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছিল।
আলীবর্দী খান জীবিত অবস্থায় সিরাজকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু দরবারের সবাই এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিল না। আলীবর্দীর জ্যেষ্ঠ কন্যা ঘসেটি বেগমের হাতে বিপুল সম্পদ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। তিনি অন্য একজন উত্তরাধিকারীকে সমর্থন করতেন বলে ধারণা করা হয়। ঢাকার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত রাজবল্লভের পরিবারও নবাবের সন্দেহের তালিকায় ছিল। পূর্ণিয়ার শাসক শওকত জং স্বাধীনভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন। সিরাজ সিংহাসনে বসেই এসব প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হন। ঘসেটি বেগমের মতিঝিলের প্রাসাদ দখল, তাঁর সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং শওকত জংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান নবাবকে সাময়িকভাবে শক্তিশালী করলেও দরবারের প্রভাবশালী অংশকে আতঙ্কিত করে।
নবাবের সেনাপ্রধান মীর জাফর আলী খান ছিলেন অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা এবং আলীবর্দী খানের আত্মীয়তার সূত্রে রাজপরিবারের কাছের মানুষ। সিরাজ ক্ষমতায় এসে তাঁর ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখেননি। মীর জাফরের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং সেনাবাহিনীতে তাঁর প্রভাব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর প্রধান পদ ও কর্তৃত্বের পরিবর্তন তাঁকে ক্ষুব্ধ করে। ব্যক্তিগত অপমান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা হারানোর ভয় তাঁকে নবাববিরোধী গোষ্ঠীর স্বাভাবিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। কিন্তু মীর জাফর একা ষড়যন্ত্র তৈরি করেননি; তাঁকে ঘিরে সামরিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের একটি জোট গড়ে ওঠে।
এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জগৎশেঠ নামে পরিচিত প্রভাবশালী ব্যাংকার পরিবার। জগৎশেঠ কোনো একজন ব্যক্তির সাধারণ নাম নয়; এটি ছিল বাংলার অসাধারণ ক্ষমতাধর একটি ব্যাংকার পরিবারের উপাধি। তারা নবাবি প্রশাসনের অর্থসংস্থান, রাজস্ব স্থানান্তর, ঋণ, মুদ্রা এবং বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তাদের আর্থিক যোগাযোগ মুর্শিদাবাদ থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বাংলার নবাব কে হবেন, তা তাদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলত।
সিরাজের সঙ্গে জগৎশেঠ পরিবারের সম্পর্ক কেন ভেঙে পড়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা আছে। অপমান, সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা, নবাবের অনিশ্চিত আচরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব হারানোর ভয়—সবই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অতিরঞ্জিত ব্যক্তিগত কাহিনি বাদ দিলেও এটি স্পষ্ট যে ব্যাংকার পরিবারটি সিরাজের শাসনে নিজেদের নিরাপদ মনে করছিল না। তারা এমন একজন নবাব চাইছিল, যিনি তাদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করবেন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন। মীর জাফর সেই উদ্দেশ্যের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী বলে মনে হয়েছিল।
দরবারের আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রায় দুর্লভও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি নবাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বড় বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। ইয়ার লতিফ খানও গুরুত্বপূর্ণ সেনাদলের নেতৃত্বে ছিলেন এবং নবাববিরোধী যোগাযোগে তাঁর নাম উঠে আসে। এই ব্যক্তিরা সরাসরি ইংরেজ সৈন্যদের পক্ষে যুদ্ধ করেননি; বরং সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্তে নিজেদের বাহিনী নিষ্ক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সিরাজকে সামরিকভাবে নিঃসঙ্গ করা, কিন্তু যুদ্ধের ফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান না দেখানো।
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সিরাজের সংঘাত এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে কার্যকর ষড়যন্ত্রে পরিণত করার সুযোগ দেয়। মুঘল সম্রাটের দেওয়া বাণিজ্যিক সুবিধা ব্যবহার করে কোম্পানি বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার ভোগ করত। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যেও সেই সুবিধার অপব্যবহার করছিলেন। দস্তক নামে পরিচিত ছাড়পত্র ব্যবহার করে শুল্ক এড়ানোয় নবাবের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। কোম্পানির সুরক্ষায় দেশীয় ব্যবসায়ীরাও কখনো এই সুবিধা নিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিতেন। এটি কেবল বাণিজ্যিক বিরোধ ছিল না; নবাবের সার্বভৌম ক্ষমতার সরাসরি অবমাননা ছিল।
ইংরেজরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামের প্রতিরক্ষা নবাবের অনুমতি ছাড়া শক্তিশালী করছিল। ইউরোপে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় তারা দুর্গ মেরামত, পরিখা খনন এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ায়। বাংলায় ফরাসি ও ইংরেজ উভয় কোম্পানির ঘাঁটি থাকলেও কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে দুর্গ নির্মাণ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নবাব নিজের বলে মনে করতেন। তাঁর নির্দেশ অমান্য করে ইংরেজরা কাজ চালিয়ে গেলে সংঘাত তীব্র হয়।
রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস নবাবের ভয়ে বিপুল সম্পদ নিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন বলে জানা যায়। সিরাজ তাঁকে ফেরত দেওয়ার দাবি করলেও ইংরেজরা তা মানেনি। নবাবের চোখে এটি ছিল একজন বিদ্রোহী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে তাঁর বিচারিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা। শুল্কসংক্রান্ত অনিয়ম, দুর্গ নির্মাণ এবং কৃষ্ণদাসকে আশ্রয়—এই তিনটি বিষয় মিলে সিরাজের মনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করে।
১৭৫৬ সালের জুন মাসে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করেন। কোম্পানির বহু কর্মকর্তা পালিয়ে যান এবং ফোর্ট উইলিয়াম নবাবের বাহিনীর দখলে আসে। কলকাতার নাম বদলে আলীনগর রাখা হয়। দুর্গ পতনের পর বন্দীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে বহু মানুষের মৃত্যুর যে কাহিনি পরে ‘অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড’ নামে প্রচারিত হয়, তার সংখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। ইংরেজরা ঘটনাটিকে সিরাজের নিষ্ঠুরতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করলেও প্রচলিত বিবরণের অনেক অংশ অতিরঞ্জিত বা সন্দেহপূর্ণ বলে বিবেচিত। তবে কলকাতা দখল কোম্পানির মর্যাদা ও বাণিজ্যের ওপর বড় আঘাত ছিল, ফলে তারা সামরিক প্রতিশোধের প্রস্তুতি নেয়।
মাদ্রাজ থেকে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে স্থলবাহিনী এবং চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বে নৌবহর বাংলায় আসে। ১৭৫৭ সালের জানুয়ারিতে ইংরেজরা কলকাতা পুনর্দখল করে। হুগলিতে আক্রমণ ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে তারা শক্তি প্রদর্শন করে। সিরাজ বুঝতে পারেন, শুধু সামরিক সংঘাত চালিয়ে গেলে রাজধানী ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম থেকে আফগান আক্রমণের আশঙ্কাও ছিল। ফলে ফেব্রুয়ারিতে নবাব ও কোম্পানির মধ্যে আলীনগরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি আগের বাণিজ্যিক সুবিধা ফিরে পায়, কলকাতার প্রতিরক্ষা মেরামতের অধিকার লাভ করে এবং নিজস্ব মুদ্রা তৈরির দাবিও প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। বাহ্যিকভাবে শান্তি ফিরে এলেও উভয় পক্ষই একে অপরকে বিশ্বাস করছিল না। সিরাজ ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, আর কোম্পানি মনে করছিল নবাব সুযোগ পেলে আবার কলকাতা আক্রমণ করতে পারেন। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের মধ্যেই গোপন ষড়যন্ত্রের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাংলায় ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান ঘাঁটি ছিল চন্দননগর। ইউরোপে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ বাংলায় ছড়িয়ে পড়লে ইংরেজরা চন্দননগর আক্রমণ করতে চায়। সিরাজ প্রথমে নিজের রাজ্যে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর যুদ্ধ অনুমোদন করতে চাননি। কিন্তু চাপ, কূটকৌশল এবং অস্পষ্ট সম্মতির সুযোগ নিয়ে ১৭৫৭ সালের মার্চে ইংরেজরা চন্দননগর দখল করে। এতে বাংলায় ইংরেজদের প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দুর্বল হয়ে যায় এবং সিরাজের সম্ভাব্য ফরাসি সামরিক সহায়তার পথ সংকুচিত হয়।
চন্দননগরের পতন ষড়যন্ত্রের গতিকে ত্বরান্বিত করে। ইংরেজ কর্মকর্তারা বুঝেছিলেন, সিরাজকে ক্ষমতায় রেখে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আধিপত্য নিশ্চিত করা কঠিন। অন্যদিকে নবাববিরোধী দরবারিরা বুঝলেন, ইংরেজ সৈন্য ও নৌবাহিনীর সহায়তা ছাড়া সিরাজকে সরানো ঝুঁকিপূর্ণ। দুই পক্ষের উদ্দেশ্য এক ছিল না, কিন্তু সাময়িক লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। দরবারিরা মীর জাফরকে নবাব বানাতে চাইছিল, আর কোম্পানি এমন একজন শাসক চাইছিল যিনি বিপুল অর্থ, বাণিজ্যিক সুবিধা ও রাজনৈতিক প্রভাব দিতে বাধ্য থাকবেন।
কাশিমবাজারে কোম্পানির প্রতিনিধি উইলিয়াম ওয়াটস গোপন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। তিনি মুর্শিদাবাদের রাজনীতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। খোজা ওয়াজিদ, উমিচাঁদ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীরাও বিভিন্ন পর্যায়ে বার্তা আদান-প্রদান ও আলোচনা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। গোপন চিঠি, দূত, সাংকেতিক আশ্বাস ও ব্যক্তিগত বৈঠকের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি ধীরে ধীরে সুসংগঠিত হয়।
আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত ধনী ব্যবসায়ী উমিচাঁদ ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে নাটকীয় চরিত্রগুলোর একজন। কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়িক জগতে তাঁর বিস্তৃত যোগাযোগ ছিল। তিনি ইংরেজ ও নবাবি দরবারের মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখেন এবং ষড়যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করেন এবং তা না দিলে পরিকল্পনা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে ইংরেজ বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
উমিচাঁদকে প্রতারণা করতে ইংরেজরা দুটি পৃথক চুক্তিপত্র তৈরি করে। আসল চুক্তি সাদা কাগজে লেখা হয়, যেখানে তাঁর জন্য কোনো বিশেষ অর্থের প্রতিশ্রুতি ছিল না। আরেকটি ভুয়া চুক্তি লাল কাগজে তৈরি করা হয়, যেখানে তাঁর দাবি মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। উমিচাঁদকে লাল চুক্তিটি দেখিয়ে বিশ্বাস করানো হয় যে তাঁর অর্থ নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যাডমিরাল ওয়াটসন ভুয়া নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়; পরে তাঁর স্বাক্ষর নকল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা দেখায়, সিরাজকে সরানোর ষড়যন্ত্রের ভেতরেও ষড়যন্ত্রকারীরা পরস্পরকে প্রতারণা করছিল।
চূড়ান্ত গোপন চুক্তিতে মীর জাফরকে বাংলার নবাব করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিনিময়ে তিনি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, কলকাতার ইউরোপীয় বাসিন্দা, ভারতীয় ব্যবসায়ী এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা ও নৌ কর্মকর্তাদের বিপুল অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কলকাতা দখলের ক্ষতিপূরণ, সামরিক ব্যয়, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং বাণিজ্যিক সুবিধা মিলিয়ে প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ বাংলার কোষাগারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করার মতো ছিল। কোম্পানির কর্মকর্তাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বিপুল সম্পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেন।
এখানে ইংরেজদের উদ্দেশ্য শুধু হারানো কলকাতা পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ আদায় ছিল না। তারা বুঝেছিল, বাংলার রাজদরবারে একজন নির্ভরশীল নবাব বসাতে পারলে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করেও রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তখন সরাসরি রাজা হতে চায়নি; বরং এমন একজন শাসক চেয়েছিল যিনি কোম্পানির সামরিক সহায়তার ঋণে আবদ্ধ থাকবেন। মীর জাফরের সঙ্গে চুক্তি এই নতুন কৌশলের সূচনা করে।
সিরাজ ষড়যন্ত্রের কিছু আভাস পেয়েছিলেন। মীর জাফরের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁকে কোরআন স্পর্শ করে শপথ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে প্রচলিত বিবরণে উল্লেখ আছে। মীর জাফর প্রকাশ্যে বিশ্বস্ততার আশ্বাস দিলেও গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। নবাব তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেন। কারণ মীর জাফর ছিলেন প্রভাবশালী সেনাপতি; তাঁকে গ্রেপ্তার করলে সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ হতে পারত। আবার দরবারে কারা বিশ্বস্ত আর কারা ষড়যন্ত্রকারী, তা নিশ্চিতভাবে বোঝাও কঠিন ছিল।
সিরাজের আরেকটি দুর্বলতা ছিল দ্রুত পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত। তিনি কখনো ইংরেজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেন, আবার কখনো সমঝোতার চেষ্টা করতেন। ফরাসিদের সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও তাদের রক্ষায় দৃঢ় সামরিক নীতি নিতে পারেননি। মীর জাফরকে সন্দেহ করেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেননি। দরবারের পুরোনো অভিজাতদের অবিশ্বাস করলেও তাদের পরিবর্তে একটি সুসংগঠিত বিশ্বস্ত প্রশাসনিক গোষ্ঠী গড়ে তোলার সময় পাননি। ফলে তাঁর কর্তৃত্ব ছিল দৃশ্যত শক্তিশালী, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিচ্ছিন্ন।
তবু সিরাজ পুরোপুরি একা ছিলেন না। মোহনলাল তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ও সামরিক পরামর্শদাতা ছিলেন। মীর মদন ছিলেন সাহসী সেনানায়ক, যিনি পলাশীর যুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে লড়াই করেন। ফরাসি গোলন্দাজ কর্মকর্তা সাঁ ফ্রেজের নেতৃত্বে একটি ছোট দল নবাবের পক্ষে কামান পরিচালনা করেছিল। কিন্তু বিশ্বস্ত বাহিনী ও কর্মকর্তারা সংখ্যায় যথেষ্ট হলেও সামগ্রিক নেতৃত্বে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তাদের প্রচেষ্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রবার্ট ক্লাইভও প্রথমে ষড়যন্ত্রের সফলতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। মীর জাফর শেষ মুহূর্তে কথা রাখবেন কি না, নবাবের বিশাল সেনাবাহিনী সত্যিই নিষ্ক্রিয় থাকবে কি না এবং ইংরেজদের ছোট বাহিনী বিপদে পড়বে কি না—এসব প্রশ্ন ছিল। কাটোয়া দখলের পর ক্লাইভ তাঁর কর্মকর্তাদের নিয়ে যুদ্ধপরিষদ করেন। প্রথমে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অগ্রসর হওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে সিদ্ধান্ত বদলে ভাগীরথী অতিক্রম করে পলাশীর দিকে এগিয়ে যান। এর অর্থ হলো, ইংরেজদের বিজয় পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে তারা গুরুতর ঝুঁকি নিচ্ছিল।
১৭৫৭ সালের ২২ জুন রাতে ক্লাইভের বাহিনী পলাশীর আমবাগানের কাছে অবস্থান নেয়। তাঁর বাহিনীতে ইউরোপীয় সৈন্য, ভারতীয় সিপাহি, গোলন্দাজ এবং অল্পসংখ্যক কামান ছিল। সংখ্যার বিচারে সিরাজের বাহিনী বহু গুণ বড়—তাতে কয়েক হাজার অশ্বারোহী, কয়েক দশ হাজার পদাতিক এবং ভারী কামান ছিল। কিন্তু এই বিশাল বাহিনীর বড় অংশ মীর জাফর, রায় দুর্লভ ও ইয়ার লতিফ খানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থাকলেও সক্রিয়ভাবে লড়াই না করার গোপন পরিকল্পনা করেছিল।
২৩ জুন সকালে যুদ্ধ শুরু হলে নবাবের পক্ষে মীর মদন ও মোহনলালের বাহিনী ইংরেজদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। ফরাসি গোলন্দাজেরাও কার্যকর কামান নিক্ষেপ করে। ইংরেজ বাহিনী আমবাগানের উঁচু পাড় ও গাছের আড়াল ব্যবহার করে অবস্থান ধরে রাখে। দিনের একপর্যায়ে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। নবাবের অনেক কামানের বারুদ যথাযথভাবে ঢাকা না থাকায় ভিজে যায় বলে প্রচলিত বিবরণে বলা হয়। ইংরেজরা নিজেদের বারুদ ঢেকে রেখেছিল এবং বৃষ্টি থামার পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু করে।
মীর মদন গোলার আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে নবাবের সক্রিয় যুদ্ধনেতৃত্ব বড় ধাক্কা খায়। মোহনলাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইলেও সিরাজ তাঁকে পিছু হটার নির্দেশ দেন। মীর জাফর ও অন্য নিষ্ক্রিয় সেনাপতিদের পরামর্শ নবাবের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল। যুদ্ধরত বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলে শৃঙ্খলা ভেঙে যায়। ইংরেজরা সামনে এগিয়ে নবাবের শিবির দখল করে। বিপুল সৈন্য থাকা সত্ত্বেও সিরাজের পক্ষে সমন্বিত প্রতিরোধ আর গড়ে ওঠেনি।
পলাশীতে মীর জাফর নিজের বাহিনী নিয়ে ইংরেজদের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি নবাবের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেননি। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা ছিল আরও হিসাবি—তিনি যুদ্ধ না করে অপেক্ষা করেছিলেন। যদি সিরাজ জয়ী হতেন, তাহলে হয়তো নিজের আনুগত্য দাবি করার সুযোগ থাকত; আর ইংরেজরা জয়ী হলে গোপন চুক্তি অনুযায়ী নবাব হওয়া যেত। এই নিষ্ক্রিয়তাই ইংরেজদের ছোট বাহিনীকে নবাবের বিশাল সেনাবাহিনীর মোকাবিলায় টিকে থাকার সুযোগ দেয়।
যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে সিরাজ প্রথমে মুর্শিদাবাদে ফিরে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি রাজধানী ছেড়ে পালান। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ধরা হয় এবং মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ তাঁকে হত্যা করেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। তরুণ নবাবের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ছিল না; এর মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে গভীর পরিবর্তন শুরু হয়।
মীর জাফর নবাব হলেও প্রকৃত বিজয়ী ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। গোপন চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানি, তার সেনা ও নৌবাহিনী, কলকাতার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিপুল অর্থ লাভ করেন। রবার্ট ক্লাইভ ব্যক্তিগতভাবেও বিশাল সম্পদের অধিকারী হন। বাংলার কোষাগার থেকে একসঙ্গে এত অর্থ বেরিয়ে যাওয়া নতুন নবাবের আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। প্রতিশ্রুত অর্থের সবটা পরিশোধ করাও সহজ ছিল না। ফলে মীর জাফর দ্রুত কোম্পানির চাহিদা পূরণে অসুবিধায় পড়েন।
কোম্পানি তখনো সরাসরি বাংলার প্রশাসন গ্রহণ করেনি, কিন্তু নবাব পরিবর্তনের ক্ষমতা যে তাদের হাতে এসেছে, পলাশী তা প্রমাণ করে। মীর জাফর প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তাঁকে সরিয়ে মীর কাসিমকে বসানো হয়। পরে মীর কাসিম কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে নতুন সংঘাত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক অধিকার অর্জন করে। অর্থাৎ পলাশী ছিল পূর্ণ ঔপনিবেশিক শাসনের তাৎক্ষণিক সমাপ্তি নয়; বরং সেই পথে নির্ধারক সূচনা।
সিরাজউদ্দৌলার পতনকে শুধু ‘মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে ব্যাখ্যা করলে ঘটনাটির গভীরতা ধরা পড়ে না। ষড়যন্ত্রে অসন্তুষ্ট সেনাপতি, ধনী ব্যাংকার, ব্যবসায়ী মধ্যস্থতাকারী, দরবারি কর্মকর্তা এবং বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ একত্রিত হয়েছিল। প্রত্যেকে নিজস্ব লাভের হিসাব করেছিল। কেউ নিরাপদ নবাব চেয়েছিল, কেউ হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে চেয়েছিল, কেউ অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা চেয়েছিল, আর কোম্পানি চেয়েছিল রাজনৈতিকভাবে নির্ভরশীল শাসনব্যবস্থা। এই স্বার্থগুলোর সাময়িক মিলনই ষড়যন্ত্রকে সফল করে।
একই সঙ্গে সিরাজের রাজনৈতিক ভুলও উপেক্ষা করা যায় না। তিনি খুব দ্রুত বহু ক্ষমতাবান গোষ্ঠীকে বিরোধী করে ফেলেছিলেন, অথচ তাদের বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেননি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কখনো কঠোরভাবে দমন করেছেন, আবার সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তে সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেননি। ইংরেজদের সামরিক ও আর্থিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি বুঝলেও তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী জোট গড়তে পারেননি। তবে এসব দুর্বলতা তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন চুক্তি ও যুদ্ধক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকার নৈতিক দায় মুছে দেয় না।
পলাশীর যুদ্ধের আগে যা ঘটেছিল, তা ছিল রাষ্ট্রের ভেতরের বিভাজনকে একটি বাণিজ্যিক বিদেশি শক্তির কৌশলে ব্যবহার করার ঘটনা। কোম্পানির সেনাবাহিনী শক্তিশালী ছিল, কিন্তু বাংলার ঐক্যবদ্ধ সামরিক শক্তিকে সরাসরি পরাজিত করার মতো নিশ্চিত অবস্থায় তখনো পৌঁছায়নি। দরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইংরেজদের নিজেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তারা বুঝতে পারেননি, যে কোম্পানিকে তারা সাময়িক সহযোগী মনে করছেন, সেটিই অল্প সময়ের মধ্যে নবাব তৈরি ও অপসারণের ক্ষমতা অর্জন করবে।
সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, একটি রাষ্ট্রের পতন অনেক সময় বাইরের আক্রমণ দিয়ে নয়, ভেতরের অবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বার্থের দরজা দিয়ে শুরু হয়। পলাশীর আমবাগানে যুদ্ধের দিনে যে সেনারা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল, তাদের নিষ্ক্রিয়তার সিদ্ধান্ত আগেই গোপন কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। সাদা ও লাল চুক্তিপত্র, রাতের দূত, গোপন প্রতিশ্রুতি, অর্থের হিসাব এবং ক্ষমতার লোভ—এসবই কামানের গোলার আগেই বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তাই পলাশীর ইতিহাস শুধু একটি পরাজয়ের ইতিহাস নয়; এটি দেখায় কীভাবে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধ দেশের শাসক হয়ে উঠেছিল।
দারা শিকোহর পতন: আওরঙ্গজেব কীভাবে ভাইকে পরাজিত করে মুঘল সিংহাসন দখল করেছিলেন?
মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনের ষড়যন্ত্র: শাহজাহানের চার পুত্রের রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই
গানপাউডার প্লট ১৬০৫: গাই ফক্স ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ধ্বংসের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র
গিজার মহাপিরামিডের গোপন কক্ষ: বিশাল পিরামিডের ভেতরে এখনো কী লুকিয়ে থাকতে পারে?
বিউমন্ট শিশুদের অন্তর্ধান: সমুদ্রসৈকত থেকে তিন ভাইবোন কীভাবে চিরতরে হারিয়ে গেল?
ওক আইল্যান্ডের রহস্য: শত শত বছর ধরে মানুষ এই দ্বীপে কোন গুপ্তধন খুঁজছে?