বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

এলবা থেকে প্রত্যাবর্তন ও ‘হান্ড্রেড ডেজ’: নেপোলিয়ন কীভাবে আবার ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করে ইউরোপকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিলেন?

Series: ওয়াটারলুর যুদ্ধ: নেপোলিয়নের শেষ লড়াই ও এক যুগের অবসান

  • Author: Admin
  • August 30, 2026
এলবা থেকে প্রত্যাবর্তন ও ‘হান্ড্রেড ডেজ’: নেপোলিয়ন কীভাবে আবার ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করে ইউরোপকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিলেন?
এলবা থেকে প্রত্যাবর্তন ও ‘হান্ড্রেড ডেজ’

১৮১৪ সালের বসন্তে ইউরোপের অধিকাংশ মানুষের কাছে মনে হয়েছিল নেপোলিয়ন বোনাপার্টের যুগ শেষ হয়ে গেছে। প্রায় দুই দশক ধরে বিপ্লব, সাম্রাজ্য, বিজয় এবং যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়া মানুষটি তখন পরাজিত। রাশিয়া অভিযানের বিপর্যয়, জার্মানিতে পরাজয় এবং মিত্রবাহিনীর ফ্রান্স আক্রমণের পর তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। ১৮১৪ সালের ৬ এপ্রিল নেপোলিয়ন সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং ফঁতেনব্লোর চুক্তির মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের ছোট দ্বীপ এলবায় নির্বাসিত হন। কিন্তু ইউরোপীয় শক্তিগুলো যে মানুষটিকে ইতিহাসের মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেছিল, মাত্র দশ মাসের মধ্যেই সেই মানুষটি আবার ফ্রান্সের রাজধানীতে প্রবেশ করবেন—এবং প্রায় একটি গুলিও না ছুড়ে পুনরুদ্ধার করবেন নিজের ক্ষমতা।

এলবায় নেপোলিয়নের জীবন সাধারণ বন্দির মতো ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটির ওপর তাকে সীমিত সার্বভৌমত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখানে প্রশাসন পুনর্গঠন করেন, রাস্তা ও কৃষিব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করেন এবং নিজের ছোট সামরিক বাহিনীও রাখেন। কিন্তু মাত্র কয়েকশ বর্গকিলোমিটারের একটি দ্বীপ কখনোই সেই ব্যক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার মতো ছিল না, যিনি একসময় প্যারিস থেকে ইউরোপের বিশাল অংশ শাসন করেছিলেন। একই সময়ে তিনি ফ্রান্সের পরিস্থিতির খবর নিয়মিত সংগ্রহ করছিলেন এবং বুঝতে পারছিলেন যে বুরবোঁ রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি।

নেপোলিয়নের পতনের পর লুই অষ্টাদশ ফরাসি সিংহাসনে বসেছিলেন। কিন্তু রাজতন্ত্র ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ তৈরি হতে থাকে। সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা ও সৈনিক নিজেদের অবহেলিত মনে করছিলেন। নেপোলিয়নের অধীনে যারা পদমর্যাদা, সম্মান এবং সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেছিলেন, তাদের অনেকেই নতুন ব্যবস্থাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। পুরোনো অভিজাতদের প্রত্যাবর্তন বিপ্লব-পরবর্তী সম্পত্তি ও সামাজিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। নেপোলিয়ন বুঝতে পেরেছিলেন, সামরিকভাবে তিনি পরাজিত হলেও ফরাসি সমাজে তার রাজনৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

এদিকে ইউরোপের বিজয়ী শক্তিগুলো ভিয়েনা কংগ্রেসে বসে নেপোলিয়ন-পরবর্তী মহাদেশের সীমানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে ব্যস্ত ছিল। তাদের মধ্যে নানা প্রশ্নে বিরোধও তৈরি হচ্ছিল। নেপোলিয়নের কাছে পরিস্থিতিটি সুযোগ বলে মনে হয়। ১৮১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি এলবা থেকে গোপনে যাত্রা শুরু করেন। তার সঙ্গে ছিল প্রায় এক হাজারের মতো সৈন্য ও কয়েকটি ছোট জাহাজ। ব্রিটিশ ও ফরাসি নজরদারি এড়িয়ে বহরটি ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করে এবং ১ মার্চ ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের গলফ-জুয়াঁ এলাকায় পৌঁছায়।

এটি ছিল অসাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। নেপোলিয়নের কাছে কোনো বিশাল সেনাবাহিনী ছিল না, রাজধানী ছিল শত শত কিলোমিটার দূরে এবং রাজকীয় সরকার চাইলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে পথে আটকাতে পারত। তাই তিনি সরাসরি শক্তিশালী রাজতন্ত্রপন্থী অঞ্চল দিয়ে অগ্রসর না হয়ে পাহাড়ি পথ বেছে নেন। কান থেকে গ্রাস, দ্যিন, গ্যাপ এবং গ্রেনোবলের দিকে এগিয়ে যাওয়া সেই পথ পরবর্তীকালে ‘রুট নেপোলিয়ন’ নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

এই যাত্রার সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে গ্রেনোবলের কাছে লাফ্রে অঞ্চলে। রাজা লুই অষ্টাদশের অনুগত সৈন্যরা নেপোলিয়নের অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য অবস্থান নিয়েছিল। সামরিক সংঘর্ষ শুরু হলে নেপোলিয়নের ছোট বাহিনী সহজেই ধ্বংস হতে পারত। কিন্তু নেপোলিয়ন সৈন্যদের সামনে এগিয়ে যান। ঐতিহাসিক বিবরণের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের সম্রাটকে হত্যা করতে চাইলে গুলি চালানোর আহ্বান জানান। রাজকীয় সৈন্যরা শেষ পর্যন্ত গুলি চালায়নি; বরং তাদের একটি বড় অংশ নেপোলিয়নের পক্ষে চলে আসে। মুহূর্তটি তার প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে—ক্ষমতা পুনর্দখলের প্রধান অস্ত্র তখন কামান নয়, বরং তার নাম এবং সেনাবাহিনীর ওপর তার পুরোনো প্রভাব।

এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। যেসব সৈন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে পাঠানো হচ্ছিল, তাদের অনেকেই তার বাহিনীতে যোগ দেয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যখন মার্শাল মিশেল নে-কে নেপোলিয়নকে আটকানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নে একসময় নেপোলিয়নের অন্যতম বিখ্যাত সেনাপতি ছিলেন, কিন্তু বুরবোঁ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিলেন। শুরুতে তিনি নেপোলিয়নকে বন্দি করে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত নিজের সৈন্যসহ নেপোলিয়নের পক্ষে চলে যান। এর ফলে রাজতন্ত্রের সামরিক প্রতিরোধ কার্যত ভেঙে পড়ে।

নেপোলিয়নের অগ্রযাত্রা তখন আর নির্বাসিত এক সম্রাটের দুঃসাহসিক অভিযান ছিল না; সেটি পরিণত হয়েছিল দ্রুত বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রত্যাবর্তনে। পথে পথে সেনা, সাবেক কর্মকর্তা এবং সাধারণ সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানায়। রাজা লুই অষ্টাদশ বুঝতে পারেন রাজধানী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি প্যারিস ত্যাগ করে বেলজিয়ামের দিকে চলে যান।

১৮১৫ সালের ২০ মার্চ নেপোলিয়ন প্যারিসে প্রবেশ করেন এবং তুইলেরি প্রাসাদে ফিরে আসেন। এলবা থেকে যাত্রা শুরু করার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি কার্যত আবার ফ্রান্সের শাসক। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, এই বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে তাকে কোনো বড় যুদ্ধ করতে হয়নি। সেনাবাহিনীর আনুগত্য, বুরবোঁ শাসনের দুর্বলতা এবং নিজের কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

কিন্তু ১৮১৫ সালের নেপোলিয়ন আর ১৮০৫ সালের অস্টারলিৎস বিজয়ী নেপোলিয়নের মতো সীমাহীন রাজনৈতিক স্বাধীনতা পাননি। তিনি বুঝতেন যে ফ্রান্সের জনগণের একটি অংশ যুদ্ধক্লান্ত এবং পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ পুনরাবির্ভাব চায় না। তাই তিনি শাসনব্যবস্থাকে আরও সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। বেঞ্জামিন কনস্তাঁর সহায়তায় ‘অ্যাক্ট অ্যাডিশনেল’ নামে পরিচিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রবর্তিত হয়, যেখানে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান ও কিছু নাগরিক স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি ছিল। নেপোলিয়ন নিজেকে এমন একজন শাসক হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন, যিনি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করবেন কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখবেন।

তবে তার সবচেয়ে বড় সমস্যা ফ্রান্সের ভেতরে ছিল না—ছিল সীমান্তের বাইরে। ভিয়েনায় উপস্থিত ইউরোপীয় শক্তিগুলো নেপোলিয়নের প্রত্যাবর্তনের সংবাদ পাওয়ার পর নিজেদের পারস্পরিক বিরোধ দ্রুত পাশে সরিয়ে রাখে। ১৮১৫ সালের ১৩ মার্চ তাকে কার্যত আন্তর্জাতিক শান্তির শত্রু ও আইনবহির্ভূত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৫ মার্চ ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া ও রাশিয়া আবার জোটবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অঙ্গীকার করে। এভাবেই গঠিত হয় নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে সপ্তম কোয়ালিশন

নেপোলিয়ন প্রকাশ্যে শান্তির কথা বলেছিলেন। তিনি ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ফ্রান্স আর সাম্রাজ্য বিস্তারের যুদ্ধ শুরু করতে চায় না এবং তিনি বিদ্যমান শান্তিচুক্তি মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু ইউরোপীয় রাজতন্ত্রগুলো তার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখেনি। তাদের দৃষ্টিতে সমস্যা শুধু ফ্রান্সের নীতি ছিল না; সমস্যা ছিলেন নেপোলিয়ন নিজেই। যতক্ষণ তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, ইউরোপের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে—এই ধারণাই জোটের সিদ্ধান্তকে পরিচালিত করেছিল।

ফলে নেপোলিয়ন বুঝতে পারেন, যুদ্ধ এড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই। অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার বিশাল বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার আগেই তাকে দ্রুত আঘাত করতে হবে। সবচেয়ে তাৎক্ষণিক বিপদ ছিল বর্তমান বেলজিয়ামে অবস্থানরত দুটি মিত্রবাহিনী। একটি ছিল ডিউক অব ওয়েলিংটনের নেতৃত্বাধীন অ্যাংলো-মিত্র বাহিনী, অন্যটি ফিল্ড মার্শাল গেবহার্ড লেবেরেখট ফন ব্ল্যুশারের প্রুশিয়ান বাহিনী। এই দুই বাহিনী একত্রিত হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারলে নেপোলিয়নের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যেত।

তাই তিনি দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে মন দেন। নির্বাসন থেকে ফেরার সময় তার সঙ্গে মাত্র প্রায় এক হাজার সৈন্য থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যে ফ্রান্স আবার বিশাল সামরিক শক্তি সংগঠনের চেষ্টা শুরু করে। পুরোনো অভিজ্ঞ সৈনিকদের ডাকা হয়, ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়, অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয় এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়। কিন্তু সময় ছিল অত্যন্ত সীমিত। বছরের পর বছর যুদ্ধের কারণে ফ্রান্সের জনশক্তি ও অর্থনীতি আগের মতো শক্তিশালী ছিল না। নেপোলিয়নের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ছিল সময়—এবং সেটিই তার হাতে সবচেয়ে কম ছিল।

এই কারণে তিনি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে মিত্রবাহিনীর ফ্রান্স আক্রমণের অপেক্ষা করেননি। তার পরিকল্পনা ছিল বেলজিয়ামে দ্রুত প্রবেশ করে ওয়েলিংটন ও ব্ল্যুশারের বাহিনীর মাঝখানে আঘাত করা, তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং তারা একত্রিত হওয়ার আগেই পৃথকভাবে পরাজিত করা। কৌশলটি ছিল নেপোলিয়নের পুরোনো যুদ্ধনীতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ—বিভক্ত শত্রুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীভূত শক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্তমূলক বিজয় অর্জন।

১৮১৫ সালের জুনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। ফরাসি আর্মি অব দ্য নর্থ সীমান্ত অতিক্রম করে বেলজিয়ামে প্রবেশ করে। ১৬ জুন লিনির যুদ্ধে নেপোলিয়ন ব্ল্যুশারের প্রুশিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করেন। একই দিনে কোয়াত্র-ব্রায় ওয়েলিংটনের বাহিনী ফরাসি মার্শাল নের আক্রমণ প্রতিহত করে। নেপোলিয়ন আশা করেছিলেন প্রুশিয়ানরা পূর্বদিকে সরে যাবে এবং ওয়েলিংটনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। কিন্তু বাস্তবে ব্ল্যুশারের বাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি এবং তারা এমন দিকে পশ্চাদপসরণ করে, যেখান থেকে আবার ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সহায়তায় আসা সম্ভব ছিল। এই ঘটনাই কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াটারলুর যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এলবা থেকে নেপোলিয়নের প্রত্যাবর্তন থেকে তার দ্বিতীয় সিংহাসনত্যাগ পর্যন্ত সময়টি ইতিহাসে ‘হান্ড্রেড ডেজ’ বা ‘শত দিবস’ নামে পরিচিত, যদিও প্রচলিত গণনায় সময়কালটি ঠিক একশ দিন নয়। সাধারণত ২০ মার্চ প্যারিসে তার প্রত্যাবর্তন থেকে ৮ জুলাই ১৮১৫-এ লুই অষ্টাদশের পুনরায় প্যারিসে প্রবেশ পর্যন্ত রাজনৈতিক অধ্যায়টিকে এই নামে চিহ্নিত করা হয়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্রান্সে একটি রাজতন্ত্র ভেঙে পড়ে, নেপোলিয়নিক সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো আবার অস্ত্র ধারণ করে এবং মহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য বিশাল সেনাবাহিনী বেলজিয়ামের দিকে অগ্রসর হয়।

এলবা থেকে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি নেপোলিয়নের ব্যক্তিগত প্রভাবের সম্ভবত সবচেয়ে নাটকীয় প্রমাণ। তিনি কোনো বিশাল আক্রমণকারী বাহিনী নিয়ে ফ্রান্সে ফেরেননি; বরং এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে ফিরে এসেছিলেন যেখানে তার নামই সেনাবাহিনীর একটি অংশকে বিদ্রোহী থেকে সমর্থকে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অসাধারণ সাফল্যের মধ্যেই তার চূড়ান্ত বিপর্যয়ের বীজও ছিল। ইউরোপীয় শক্তিগুলো এবার তাকে আর সাময়িকভাবে পরাজিত করতে চায়নি; তারা নেপোলিয়নিক প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান চেয়েছিল। ফলে ১৮১৫ সালের সেই বসন্তে প্যারিসে তার বিজয়ী প্রত্যাবর্তন আসলে নতুন সাম্রাজ্যের সূচনা যতটা ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল শেষ অভিযানের সূচনা। মাত্র কয়েক মাস পর বেলজিয়ামের একটি ছোট গ্রামের কাছে ওয়াটারলুর কাদামাখা মাঠে নির্ধারিত হবে নেপোলিয়নের রাজনৈতিক ও সামরিক জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি।


You may also like