বার্লিনের যুদ্ধ ও হিটলারের মৃত্যু: ১৯৪৫ সালে থার্ড রাইখের শেষ দিন
সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন
বার্লিনের ধ্বংসস্তূপে থার্ড রাইখের পতন
১৯৪৫ সালের বসন্তে অ্যাডলফ হিটলারের তথাকথিত হাজার বছরের রাইখ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। পূর্ব দিক থেকে সোভিয়েত রেড আর্মি পোল্যান্ড অতিক্রম করে জার্মানির ভেতরে প্রবেশ করেছিল, আর পশ্চিমে মার্কিন, ব্রিটিশ, কানাডীয় ও অন্যান্য মিত্রবাহিনী রাইন নদী পেরিয়ে এগিয়ে আসছিল। জার্মানির শিল্পনগর, রেলপথ ও জ্বালানি উৎপাদনব্যবস্থা বোমাবর্ষণ ও ভূখণ্ড হারানোর কারণে বিপর্যস্ত ছিল। প্রশিক্ষিত সৈন্য, ট্যাংক, বিমান, জ্বালানি এবং গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তবু হিটলার আত্মসমর্পণ প্রত্যাখ্যান করে রাজধানী বার্লিনকে শেষ পর্যন্ত রক্ষার নির্দেশ দেন। বার্লিনের যুদ্ধ সামরিক বিজয়ের চেয়ে বেশি ছিল একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত একনায়কতন্ত্রের শেষ আত্মঘাতী প্রতিরোধ।
১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে সোভিয়েত ভিস্তুলা-ওডার অভিযানে জার্মান প্রতিরক্ষা দ্রুত ভেঙে পড়ে। রেড আর্মি অল্প সময়ের মধ্যে পোল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা অতিক্রম করে বার্লিন থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরের ওডার নদীতে পৌঁছে যায়। তবে সোভিয়েত নেতৃত্ব সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে আক্রমণ না করে পার্শ্ববর্তী জার্মান বাহিনী ধ্বংস, সরবরাহ পুনর্গঠন এবং পূর্ব প্রুশিয়া, পোমেরানিয়া ও সিলেসিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেয়। এই বিরতিতে জার্মানি বার্লিনের পূর্বে সিলো উচ্চভূমিকে প্রধান প্রতিরক্ষা অঞ্চলে পরিণত করে।
জোসেফ স্তালিন বার্লিন দখলকে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রতীকী—তিন দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। মার্শাল গিওর্গি ঝুকভের প্রথম বেলারুশীয় ফ্রন্ট পূর্ব দিক থেকে রাজধানীতে আক্রমণ করবে, আর মার্শাল ইভান কোনেভের প্রথম ইউক্রেনীয় ফ্রন্ট দক্ষিণ দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে জার্মান বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করবে। উত্তরে মার্শাল কনস্তান্তিন রোকোসোভস্কির বাহিনীও অভিযানে অংশ নেয়। সোভিয়েতদের হাতে বিপুলসংখ্যক সৈন্য, ট্যাংক, কামান ও বিমান ছিল। অন্যদিকে বার্লিন রক্ষাকারীদের মধ্যে নিয়মিত সেনার পাশাপাশি এসএস, পুলিশ, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থল ইউনিট, হিটলার ইয়ুথ এবং অপ্রশিক্ষিত ভল্কসস্টুর্ম সদস্য ছিলেন।
১৬ এপ্রিল ভোরে সোভিয়েত বাহিনী প্রচণ্ড কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে বার্লিন অভিযান শুরু করে। সিলো উচ্চভূমির সামনে সার্চলাইট ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্র আলোকিত এবং জার্মান প্রতিরক্ষীদের অন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ধোঁয়া, ধুলো ও কুয়াশায় সেই আলো কখনো সোভিয়েত সেনাদেরই বিভ্রান্ত করে। নিচু ও জলাভূমিময় ভূমি অতিক্রম করে উঁচু জার্মান অবস্থানে আক্রমণ করতে গিয়ে ঝুকভের বাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধ ও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। জার্মান জেনারেল গটহার্ড হাইনরিচি প্রথম গোলাবর্ষণের আশঙ্কায় সামনের কিছু অবস্থান আগেই খালি করিয়েছিলেন, ফলে সোভিয়েত আঘাত প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি।
কয়েক দিনের তীব্র যুদ্ধের পর সোভিয়েত বাহিনী সিলো প্রতিরক্ষা ভেঙে ফেলে। দক্ষিণে কোনেভের বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় স্তালিন তাকে বার্লিনের দিকে ঘুরে যাওয়ার অনুমতি দেন। এতে ঝুকভ ও কোনেভের মধ্যে রাজধানী দখলের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ২৫ এপ্রিল সোভিয়েত বাহিনী বার্লিনকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে। একই দিনে এলবে নদীর টরগাউয়ের কাছে সোভিয়েত ও মার্কিন সেনারা মিলিত হয়। ইউরোপের নাৎসি-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড কার্যত দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বার্লিনের সঙ্গে বাইরের কার্যকর যোগাযোগ শেষ হয়ে যায়।
হিটলার তখন রাইখ চ্যান্সেলারির বাগানের নিচে নির্মিত ফ্যুরারবাঙ্কারে অবস্থান করছিলেন। তিনি ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যান। ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোতে সামরিক কর্মকর্তা, নাৎসি নেতা, সচিব, চিকিৎসক ও নিরাপত্তারক্ষীরা কাজ করতেন। ওপরে সোভিয়েত গোলা বিস্ফোরিত হলেও নিচে মানচিত্রের ওপর এমন সব সেনাদলের গতিবিধি আলোচনা করা হতো, যাদের অনেকগুলো বাস্তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত, বিচ্ছিন্ন অথবা কাগজে-কলমে অস্তিত্বশীল ছিল। হিটলারের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটেছিল; তিনি কাঁপুনি, দুর্বলতা ও হতাশায় আক্রান্ত ছিলেন।
২০ এপ্রিল নিজের ৫৬তম জন্মদিনে হিটলার শেষবারের মতো চ্যান্সেলারির বাগানে বেরিয়ে কয়েকজন হিটলার ইয়ুথ সদস্যকে পুরস্কৃত করেন। সেদিন তার বহু সহযোগী বার্লিন ছেড়ে চলে যায়। হিটলার রাজধানীতে থেকে মৃত্যুবরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেও অন্যদের দক্ষিণ জার্মানিতে সরকার ও সামরিক সদর দপ্তর পরিচালনার অনুমতি দেন। তার চারপাশের নেতৃত্বও তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল। হারমান গ্যোরিং বার্লিন থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নিজেকে উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠান। হিটলার এটিকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে গণ্য করে তাকে সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
শহরের ভেতরে প্রতিরক্ষা দ্রুত ভেঙে পড়ছিল। রাস্তায় ব্যারিকেড, ভবনের জানালা, ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশন ও ধ্বংসস্তূপকে প্রতিরক্ষা অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হাতে বহনযোগ্য প্যানজারফাউস্ট অস্ত্র কাছাকাছি দূরত্বে সোভিয়েত ট্যাংকের জন্য বিপজ্জনক ছিল। কিন্তু বার্লিনের অধিকাংশ রক্ষীর কাছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, ভারী অস্ত্র কিংবা সমন্বিত নেতৃত্ব ছিল না। অল্পবয়সী হিটলার ইয়ুথ সদস্য ও বয়স্ক ভল্কসস্টুর্ম পুরুষদের অভিজ্ঞ সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে পাঠানো হয়। যে শাসন শিশু ও বৃদ্ধদের শেষ প্রতিরক্ষায় ঠেলে দিয়েছিল, সে তখন নিজের নাগরিকদের জীবনকেও কেবল যুদ্ধের উপকরণ হিসেবে দেখছিল।
হিটলার জেনারেল ফেলিক্স স্টাইনারের একটি দুর্বল ও অসম্পূর্ণ বাহিনীকে উত্তর দিক থেকে পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দেন। প্রয়োজনীয় সৈন্য, ট্যাংক ও গোলাবারুদ না থাকায় আক্রমণটি বাস্তবে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ২২ এপ্রিলের সামরিক বৈঠকে হিটলার জানতে পারেন যে নির্দেশ কার্যকর হয়নি। তিনি প্রচণ্ড ক্ষোভে স্বীকার করেন, যুদ্ধ হারিয়ে গেছে। তবু তিনি সাধারণ আত্মসমর্পণের অনুমতি দেননি এবং বার্লিনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে শহরের বেসামরিক মানুষ খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসার সংকটে মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
সোভিয়েত কামান ও বিমান হামলায় বাড়িঘর, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন ধ্বংস হচ্ছিল। ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশন ও বাঙ্কারে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। আহত সৈন্য ও সাধারণ মানুষে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। নাৎসি সামরিক আদালত বা এসএস টহল পলায়ন কিংবা আত্মসমর্পণের অভিযোগে বহু জার্মান সৈন্য ও বেসামরিক মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করে। শহর দখলের সময় লুটপাট এবং বহু নারী ও কিশোরীর বিরুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের ব্যাপক যৌন সহিংসতাও বার্লিনের পতনের ভয়াবহ মানবিক অধ্যায় হয়ে ওঠে।
২৬ এপ্রিলের মধ্যে সোভিয়েত বাহিনী শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের প্রধান প্রতীকী লক্ষ্য ছিল রাইখস্টাগ ভবন, যদিও নাৎসি আমলে সেটি কার্যকর সংসদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। অন্য বাহিনী রাইখ চ্যান্সেলারি, সরকারি ভবন এবং টিয়ারগার্টেন এলাকার দিকে অগ্রসর হয়। প্রতিটি সড়ক ও ভবনের জন্য কাছাকাছি দূরত্বে যুদ্ধ চলতে থাকে। সোভিয়েতদের সংখ্যাগত ও অস্ত্রের শ্রেষ্ঠতা স্পষ্ট হলেও ঘন নগর পরিবেশে প্রতিরোধ ভাঙতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
২৮ এপ্রিল হিটলার জানতে পারেন, এসএস প্রধান হাইনরিখ হিমলার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে পৃথক আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছেন। তিনি হিমলারকে বিশ্বাসঘাতক ঘোষণা করেন। ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির ধরা পড়া এবং হত্যার খবরও বাঙ্কারে পৌঁছায়। হিটলার আশঙ্কা করেছিলেন, জীবিত বন্দী হলে তাকেও জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হতে পারে। তিনি নিজের মৃত্যু এবং মৃতদেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা সম্পর্কে সহযোগীদের নির্দেশ দেন।
২৯ এপ্রিল মধ্যরাতের পর হিটলার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইভা ব্রাউনকে বাঙ্কারের একটি ছোট অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন। এরপর তিনি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উইল লিখিয়ে নেন। সেই নথিতে যুদ্ধের দায় স্বীকার করার বদলে তিনি আবারও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং সামরিক পরাজয়ের জন্য অন্যদের দোষারোপ করেন। তিনি গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল কার্ল ড্যোনিৎসকে রাষ্ট্রপতি এবং জোসেফ গোয়েবলসকে চ্যান্সেলর হিসেবে মনোনীত করেন। তখন এই তথাকথিত নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ করার মতো অবশিষ্ট জার্মান ভূখণ্ড খুবই সীমিত ছিল।
৩০ এপ্রিল বিকেলে অ্যাডলফ হিটলার ও ইভা ব্রাউন বাঙ্কারের ব্যক্তিগত কক্ষে আত্মহত্যা করেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী হিটলার পিস্তলের গুলিতে এবং ব্রাউন সায়ানাইড গ্রহণ করে মারা যান। হিটলারের নির্দেশ অনুসারে তাদের মৃতদেহ রাইখ চ্যান্সেলারির বাগানে নিয়ে পেট্রল ঢেলে পোড়ানো হয়। সোভিয়েত গোলাবর্ষণের মধ্যেই বাঙ্কারের কয়েকজন সহযোগী এই কাজ সম্পন্ন করেন। পরে সোভিয়েত বাহিনী আংশিক দগ্ধ দেহাবশেষ উদ্ধার করে। যুদ্ধোত্তর গোপনীয়তা ও সোভিয়েত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য হিটলারের মৃত্যু নিয়ে বহু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তৈরি করলেও প্রমাণসমূহ বাঙ্কারে তার আত্মহত্যাকেই নিশ্চিত করে।
১ মে গোয়েবলস সোভিয়েতদের সঙ্গে সীমিত সমঝোতার চেষ্টা করেন, কিন্তু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। ওই দিন জোসেফ ও মাগদা গোয়েবলস তাদের ছয় সন্তানকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেন। বাঙ্কারের বহু কর্মকর্তা ও সৈন্য রাতে বার্লিন থেকে বেরিয়ে পশ্চিমে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কেউ পালাতে সক্ষম হলেও অনেকেই নিহত অথবা বন্দী হয়। হিটলারের মনোনীত সেনাপ্রধান জেনারেল হান্স ক্রেবসও বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেন।
বার্লিনের প্রতিরক্ষা কমান্ডার জেনারেল হেলমুথ ভাইডলিং ২ মে শহরের অবশিষ্ট বাহিনীকে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ইউনিট আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে এবং সোভিয়েত বাহিনী রাইখ চ্যান্সেলারি ও বাঙ্কার দখল করে। রাইখস্টাগের ওপর সোভিয়েত পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য নাৎসি জার্মানির সামরিক পরাজয়ের শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। তবে সেই বিখ্যাত আলোকচিত্রটি যুদ্ধের তাৎক্ষণিক মুহূর্তের স্বতঃস্ফূর্ত ছবি নয়; পরে পুনর্বিন্যাস করে তোলা হয়েছিল।
বার্লিন পতনের পরও জার্মানির কিছু বাহিনী কয়েক দিন যুদ্ধ চালায়। ড্যোনিৎসের সরকার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে যত বেশি সম্ভব সৈন্য ও শরণার্থীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে সোভিয়েত বন্দিত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছিল। ৭ মে ফ্রান্সের রেঁসে জার্মান প্রতিনিধিরা সব রণাঙ্গনে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের নথিতে স্বাক্ষর করেন। সোভিয়েত দাবিতে ৮ মে রাতে বার্লিনের কার্লসহোর্স্টে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিম ইউরোপে ৮ মে বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হলেও মস্কোর সময় অনুযায়ী তখন ৯ মে হওয়ায় সোভিয়েত ও পরবর্তী রুশ স্মৃতিতে ৯ মে বিজয় দিবস হয়ে ওঠে।
বারো বছরের নাৎসি শাসন জার্মানিকে জাতীয় পুনরুত্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশটিকে সামরিক দখল, বিভাজন, ধ্বংস ও নৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে যায়। বার্লিনের অসংখ্য ভবন বিধ্বস্ত হয়েছিল, জনসংখ্যার বড় অংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল এবং লাখ লাখ পরিবার স্বজন হারিয়েছিল। ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ ও নাৎসি নিপীড়নের ফলে কোটি কোটি মানুষ নিহত হন। হলোকাস্টে প্রায় ছয় মিলিয়ন ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, পাশাপাশি আরও অসংখ্য মানুষ গণহত্যা, অনাহার, নির্বাসন ও বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার হন।
হিটলারের মৃত্যু থার্ড রাইখকে রক্ষা করেনি; বরং তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের শূন্যতা প্রকাশ করেছিল। বাস্তবতা অস্বীকার, অর্থহীন প্রতিরোধের নির্দেশ এবং নিজের জনগণকেও ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার শাসনের শেষ অধ্যায় লেখা হয়। বার্লিনের যুদ্ধ দেখায়, সামরিক শক্তি ও প্রচারণার ওপর নির্মিত একনায়কতন্ত্র পরাজয়ের মুখে কত দ্রুত নিজের প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী ও নাগরিকদের ত্যাগ করতে পারে। ১৯৪৫ সালের ধ্বংসস্তূপে শুধু একটি সরকার নয়, বর্ণবাদ, আগ্রাসন ও গণহত্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত সমগ্র নাৎসি রাষ্ট্রের পতন ঘটেছিল।
স্টালিনগ্রাদ থেকে কুর্স্ক: পূর্ব ফ্রন্টে নাৎসি জার্মানির বিপর্যয়ের ইতিহাস
সিআইএ ও কেজিবি: স্নায়ুযুদ্ধের গুপ্তচরবৃত্তি, গোপন অভিযান ও তথ্যযুদ্ধ
ভিয়েতনাম যুদ্ধ: কমিউনিজম ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কেন দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়েছিল?
কিউবার বিপ্লব থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সংকট: পৃথিবী যখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে