নাৎসি জার্মানির পতন ও নুরেমবার্গ বিচার: আত্মসমর্পণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও থার্ড রাইখের উত্তরাধিকার
সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন
পরাজয়, বিচার ও নাৎসি সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার
১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল বার্লিনের ভূগর্ভস্থ ফ্যুরারবাংকারে অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল কার্ল ড্যোনিৎজকে রাষ্ট্রপতি এবং জোসেফ গোয়েবলসকে চ্যান্সেলর হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু গোয়েবলস পরদিন আত্মহত্যা করলে ড্যোনিৎজের নেতৃত্বে উত্তর জার্মানির ফ্লেনসবুর্গে একটি ক্ষণস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছিল না; বরং যত বেশি সম্ভব জার্মান সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিককে সোভিয়েত বাহিনীর পরিবর্তে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া। ড্যোনিৎজ আলাদা আত্মসমর্পণ চাইলেও মিত্রশক্তি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে কেবল সর্বাত্মক ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণই গ্রহণযোগ্য হবে।
৭ মে ফ্রান্সের রেঁস শহরে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে জেনারেল আলফ্রেড ইয়োডল আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। দলিলটি ৮ মে কার্যকর হয়, যে দিনটি পশ্চিমা দেশগুলোতে ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে বা ভি-ই ডে হিসেবে পালিত হয়। সোভিয়েত নেতৃত্বের দাবিতে বার্লিনের কার্লসহর্স্টে ৮ মে গভীর রাতে আরেকটি আনুষ্ঠানিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়; মস্কোর সময় অনুযায়ী তখন ৯ মে। ফিল্ড মার্শাল ভিলহেল্ম কাইটেলসহ জার্মান প্রতিনিধিরা সেখানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে ইউরোপে যুদ্ধ শেষ হলেও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তখনো চলছিল।
জার্মানির পরাজয়ের সময় দেশটির অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। শহরগুলো বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত, পরিবহনব্যবস্থা অচল, খাদ্য ও জ্বালানির ঘাটতি প্রকট এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। পূর্ব ইউরোপ থেকে জার্মান ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশ পশ্চিম দিকে পালাচ্ছিল বা পরবর্তী সময়ে বহিষ্কৃত হচ্ছিল। প্রায় এক কোটি জার্মান সৈন্য মিত্রশক্তির বন্দিত্বে যায়। একই সঙ্গে মুক্ত হওয়া কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, বাধ্যতামূলক শ্রমশিবির ও যুদ্ধবন্দিশিবির থেকে লক্ষাধিক অসুস্থ ও অনাহারী মানুষকে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং নিজ দেশে ফেরানোর কঠিন কাজ শুরু হয়। নাৎসি শাসনের পতন তাই শান্তিতে প্রত্যাবর্তনের তাৎক্ষণিক মুহূর্ত ছিল না; এটি ছিল মানবিক বিশৃঙ্খলার এক নতুন অধ্যায়।
মিত্রশক্তি জার্মানিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ফ্রান্সের চারটি দখল অঞ্চলে ভাগ করে। রাজধানী বার্লিনও চার ভাগে বিভক্ত হয়, যদিও শহরটি সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভীরে অবস্থিত ছিল। ১৯৪৫ সালের জুনে মিত্রশক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মানির সর্বোচ্চ শাসনক্ষমতা গ্রহণ করে। নাৎসি পার্টি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়, জার্মান সামরিক বাহিনী ভেঙে দেওয়া হয় এবং অস্ত্রশিল্প নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পটসডাম সম্মেলনে মিত্রনেতারা জার্মানির নিরস্ত্রীকরণ, নাৎসিমুক্তকরণ, গণতন্ত্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের নীতি গ্রহণ করেন।
নাৎসি শাসনের পতনের আগেই মিত্রনেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে যুদ্ধাপরাধীদের শুধু রাজনৈতিক প্রতিশোধের মাধ্যমে হত্যা করা হবে না; তাঁদের প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ্য আদালতে বিচার করা হবে। ১৯৪৩ সালের মস্কো ঘোষণায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৪৫ সালের ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ফ্রান্স লন্ডন চুক্তি স্বাক্ষর করে আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে। বিচারের স্থান হিসেবে নুরেমবার্গকে বেছে নেওয়া হয়। শহরটি একসময় নাৎসি পার্টির বিশাল সমাবেশের কেন্দ্র ছিল এবং এখানেই ১৯৩৫ সালের বর্ণবাদী নুরেমবার্গ আইন ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে একই শহরে নাৎসি নেতৃত্বের বিচার ছিল গভীর প্রতীকী তাৎপর্যপূর্ণ।
নুরেমবার্গের প্রধান বিচার শুরু হয় ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ফ্রান্স প্রত্যেকে একজন প্রধান বিচারক, একজন বিকল্প বিচারক এবং নিজস্ব কৌঁসুলি নিয়োগ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌঁসুলি রবার্ট এইচ. জ্যাকসন উদ্বোধনী বক্তব্যে বোঝান যে সভ্যতা এমন অপরাধ উপেক্ষা করতে পারে না, কারণ ভবিষ্যতে একই নীতি বিজয়ী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। বিচারটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে আসামিদের আইনজীবী নিয়োগ, প্রমাণ পরীক্ষা, সাক্ষীদের জেরা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি প্রতিশোধকে আইনের ভাষায় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা নয়, বরং প্রতিশোধের পরিবর্তে আইন প্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষা ছিল।
প্রধান বিচারে ২৪ জন শীর্ষস্থানীয় নাৎসি নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, যদিও অসুস্থতা, আত্মহত্যা বা অনুপস্থিতির কারণে সবার বিচার সম্পন্ন হয়নি। আসামিদের মধ্যে ছিলেন হারমান গ্যোরিং, ইয়োয়াখিম ফন রিবেনট্রপ, ভিলহেল্ম কাইটেল, আলফ্রেড ইয়োডল, আর্নস্ট কাল্টেনব্রুনার, আলফ্রেড রোজেনবার্গ, হান্স ফ্রাঙ্ক, জুলিয়াস স্ট্রাইখার, আলবার্ট শ্পেয়ার, রুডলফ হেস ও কার্ল ড্যোনিৎজ। হিটলার, হাইনরিখ হিমলার ও জোসেফ গোয়েবলস ইতিমধ্যে আত্মহত্যা করায় তাঁদের আদালতে আনা সম্ভব হয়নি। মার্টিন বোরমান পলাতক মনে হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালিত হয়।
অভিযোগগুলো চারটি মূল শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল—অপরাধ সংঘটনের অভিন্ন পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করাকে ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ধারণাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধাপরাধের মধ্যে যুদ্ধবন্দিদের হত্যা, অধিকৃত অঞ্চলের জনগণের ওপর নির্যাতন, লুণ্ঠন ও জোরপূর্বক শ্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের আওতায় আসে হত্যা, নির্বাসন, নিপীড়ন এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ব্যাপক নৃশংসতা। কোনো অপরাধ রাষ্ট্রের নামে সংঘটিত হলেই তার পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি দায়মুক্ত হবেন—নুরেমবার্গ সেই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।
বিচারে নাৎসিদের নিজস্ব নথিপত্রই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণে পরিণত হয়। সরকারি নির্দেশনা, সামরিক প্রতিবেদন, এসএস নথি, গণহত্যার হিসাব, কূটনৈতিক বার্তা, চলচ্চিত্র এবং আলোকচিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আইনজাটসগ্রুপেনের গণহত্যার প্রতিবেদন, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ধারণ করা দৃশ্য এবং বন্দিদের সাক্ষ্য নাৎসি অপরাধের সাংগঠনিক চরিত্র প্রকাশ করে। অভিযুক্তরা প্রায়ই দাবি করেন যে তাঁরা শুধু হিটলারের আদেশ পালন করেছিলেন অথবা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু আদালত ঘোষণা করে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন ব্যক্তিগত নৈতিক ও আইনি দায় সম্পূর্ণভাবে মুছে দেয় না, বিশেষত যখন আদেশটি স্পষ্টতই অপরাধমূলক।
১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর রায় ঘোষণা করা হয়। গ্যোরিং, রিবেনট্রপ, কাইটেল, কাল্টেনব্রুনার, রোজেনবার্গ, ফ্রাঙ্ক, স্ট্রাইখার, ফ্রিটজ সাউকেল, ইয়োডল, আর্থার সাইস-ইনকোয়ার্ট এবং বোরমানসহ বারোজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গ্যোরিং ফাঁসি কার্যকরের আগের রাতে সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন এবং বোরমান অনুপস্থিত ছিলেন। সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; তাঁদের মধ্যে হেস যাবজ্জীবন এবং শ্পেয়ার বিশ বছরের সাজা পান। হিয়ালমার শাখ্ট, ফ্রানৎস ফন পাপেন ও হান্স ফ্রিটশে খালাস পান। খালাসের রায় দেখিয়েছিল যে ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেক অভিযুক্তকে কেবল নাৎসি সরকারের সদস্য হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
আদালত এসএস, গেস্টাপো, এসডি এবং নাৎসি পার্টির নেতৃত্বের মতো কয়েকটি সংগঠনকে অপরাধমূলক ঘোষণা করে। তবে সংগঠনের সব সাধারণ সদস্যকে নির্বিচারে অপরাধী বলা হয়নি; সদস্যের জ্ঞান, পদমর্যাদা ও কর্মকাণ্ড বিবেচনার কথা বলা হয়। প্রধান বিচারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনায় নুরেমবার্গে আরও বারোটি বিচার অনুষ্ঠিত হয়। চিকিৎসকদের বিচারে মানবদেহে নিষ্ঠুর পরীক্ষা ও রোগীদের হত্যার বিষয় উঠে আসে এবং সেখান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবগত সম্মতির নীতিসংবলিত নুরেমবার্গ কোড বিকশিত হয়। বিচারক, শিল্পপতি, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং আইনজাটসগ্রুপেন কমান্ডারদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
নুরেমবার্গ বিচার বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। সমালোচকেরা একে বিজয়ীদের বিচার বলেছেন, কারণ মিত্রশক্তির কর্মকাণ্ড একই আদালতে পরীক্ষিত হয়নি। আগ্রাসী যুদ্ধকে ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে পূর্বপ্রযোজ্যতার প্রশ্নও ওঠে। সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশগ্রহণ বিশেষ বিতর্ক সৃষ্টি করে, কারণ স্তালিনের রাষ্ট্র নিজেও পোল্যান্ড আক্রমণ, নির্বাসন ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবু এসব সীমাবদ্ধতা বিচারের মৌলিক গুরুত্ব নষ্ট করে না। প্রথমবার আন্তর্জাতিক আদালতে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ নেতাদের বলা হয়েছিল যে সরকারি পদ, সামরিক মর্যাদা বা জাতীয় আইন তাঁদের আন্তর্জাতিক অপরাধের দায় থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
জার্মান সমাজে নাৎসিমুক্তকরণ ছিল দীর্ঘ ও অসম একটি প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে প্রশ্নপত্র, তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ব্যক্তিদের প্রধান অপরাধী, অপরাধী, কম অপরাধী, অনুসারী বা দায়মুক্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিচারব্যবস্থা সচল রাখতে সাবেক নাৎসি সদস্যদের অনেককেই পুনরায় কাজে নেওয়া হয়। শীতল যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিমা শক্তির কাছে সোভিয়েতবিরোধী স্থিতিশীলতা ব্যাপক শাস্তির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বহু অপরাধী কখনো বিচারের মুখোমুখি হননি। আবার পশ্চিম জার্মানি ধীরে ধীরে ক্ষতিপূরণ, বিচার ও স্মৃতিরক্ষার উদ্যোগ নিলেও সামাজিক আত্মসমালোচনা জোরদার হতে কয়েক দশক লেগেছিল।
নাৎসি পতনের আরেকটি স্থায়ী ফল ছিল জার্মানির রাজনৈতিক বিভক্তি। ১৯৪৯ সালে পশ্চিমা দখল অঞ্চল নিয়ে ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি বা পশ্চিম জার্মানি এবং সোভিয়েত অঞ্চল নিয়ে জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক বা পূর্ব জার্মানি প্রতিষ্ঠিত হয়। বার্লিন শীতল যুদ্ধের প্রধান সংঘাতকেন্দ্রে পরিণত হয়। পশ্চিম জার্মানির সংবিধানে মানবমর্যাদা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাৎসি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল যে নির্বাচন থেকে জন্ম নেওয়া একটি সরকারও আইন, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক স্বাধীনতা ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
নুরেমবার্গের নীতিগুলো পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি নির্মাণে গভীর ভূমিকা রাখে। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন, একই বছরের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা, ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলো নুরেমবার্গের অভিজ্ঞতা থেকে শক্তি পায়। যুগোস্লাভিয়া ও রুয়ান্ডার অপরাধের বিচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার পেছনেও ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার এই ধারণা কার্যকর ছিল। যদিও আন্তর্জাতিক বিচার আজও রাজনৈতিক ক্ষমতা ও রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল, নুরেমবার্গ অন্তত একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে—কিছু অপরাধ এত গুরুতর যে সেগুলো সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
থার্ড রাইখের উত্তরাধিকার তাই শুধু যুদ্ধের ধ্বংস, লক্ষ লক্ষ মৃত্যু বা জার্মানির বিভক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায় কীভাবে অর্থনৈতিক সংকট, জাতীয় অপমান, বর্ণবাদী প্রচারণা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি আধুনিক সমাজকে গণহত্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে নুরেমবার্গ বিচার প্রমাণ করে যে অপরাধের প্রশাসনিক কাঠামো যত বিশালই হোক, তার নেপথ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব। নাৎসি জার্মানির পতনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—গণতন্ত্র, মানবমর্যাদা ও আইনের শাসনকে রক্ষা করা কোনো এককালীন বিজয় নয়; প্রতিটি প্রজন্মকে সেগুলো সচেতনভাবে রক্ষা করতে হয়।
ডি-ডে ও দুই ফ্রন্টের যুদ্ধ: মিত্রশক্তি কীভাবে নাৎসি জার্মানিকে ঘিরে ফেলেছিল?
স্টালিনগ্রাদ থেকে কুর্স্ক: পূর্ব ফ্রন্টে নাৎসি জার্মানির বিপর্যয়ের ইতিহাস
সিআইএ ও কেজিবি: স্নায়ুযুদ্ধের গুপ্তচরবৃত্তি, গোপন অভিযান ও তথ্যযুদ্ধ
ভিয়েতনাম যুদ্ধ: কমিউনিজম ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কেন দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়েছিল?
কিউবার বিপ্লব থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সংকট: পৃথিবী যখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে