আবদুল হামিদ দ্বিতীয় থেকে ইয়ং তুর্ক বিপ্লব: সংবিধান, প্যান-ইসলামবাদ ও অটোমান সাম্রাজ্যের শেষ যুগ
সিরিজ: অটোমান সাম্রাজ্য: উত্থান, স্বর্ণযুগ ও পতনের ইতিহাস
সংবিধান থেকে ইয়ং তুর্ক বিপ্লব—অটোমানদের শেষ যুগ
উনিশ শতকের শেষভাগে অটোমান সাম্রাজ্য এমন এক সংকটে প্রবেশ করে, যেখানে শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা কেমন হবে—সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রে চলে আসে। একদিকে রাশিয়ার চাপ, বলকানের জাতীয়তাবাদ, ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ ও বিদেশি ঋণ; অন্যদিকে তানজিমাতের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন আমলা, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সামরিক কর্মকর্তারা সংবিধান ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনের দাবি তুলছিলেন। এই উত্তাল পরিবেশেই ১৮৭৬ সালে সুলতান হন দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।
তার সিংহাসনে আরোহণের সময় অটোমান রাষ্ট্র গুরুতর সংকটে ছিল। বলকানে বিদ্রোহ ছড়িয়েছে, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর সঙ্গে যুদ্ধ চলছে এবং রাজকোষ বিদেশি ঋণের ভারে বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই মিধাত পাশাসহ সংস্কারপন্থী রাজনীতিবিদেরা একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
১৮৭৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর কানুন-ই এসাসি নামে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয় এবং বিভিন্ন ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এটি আধুনিক অর্থে পূর্ণ গণতন্ত্র ছিল না। সুলতানের হাতে মন্ত্রী নিয়োগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নির্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়ে যায়।
তবুও ঘটনাটি ছিল ঐতিহাসিক। কয়েক শতাব্দীর সুলতানি শাসনের মধ্যে প্রথমবার লিখিত সংবিধান ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অংশ হয়ে ওঠে।
কিন্তু নতুন ব্যবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৭৭–১৮৭৮ সালের রুশ-অটোমান যুদ্ধ সাম্রাজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। প্লেভনায় ওসমান পাশার বিখ্যাত প্রতিরোধ সত্ত্বেও রুশ বাহিনী বলকান অতিক্রম করে ইস্তাম্বুলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
যুদ্ধের সংকটের মধ্যে আবদুল হামিদ ১৮৭৮ সালে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করেন। সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বাতিল না হলেও কার্যত সাংবিধানিক শাসনের প্রথম পর্যায় শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় তিন দশক আবদুল হামিদ অত্যন্ত কেন্দ্রীভূতভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেন।
একই বছর বার্লিন কংগ্রেস অটোমান ভূখণ্ডের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনে। সার্বিয়া, রোমানিয়া ও মন্টেনেগ্রোর স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়, বুলগেরিয়ার জন্য স্বায়ত্তশাসিত রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হয় এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার প্রশাসন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির হাতে যায়। ব্রিটেনও সাইপ্রাসের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। অটোমানদের ইউরোপীয় ভূখণ্ড দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে আবদুল হামিদের অন্যতম রাজনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে সুলতানের খলিফা পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে ব্যবহার করা, যাকে সাধারণভাবে প্যান-ইসলামবাদী নীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বলকানের বহু খ্রিষ্টান অঞ্চল হারানোর পর সাম্রাজ্যের জনসংখ্যায় মুসলমানদের অনুপাত বেড়ে যাচ্ছিল। একই সঙ্গে ব্রিটিশ, ফরাসি ও রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে কোটি কোটি মুসলমান বাস করতেন।
আবদুল হামিদ এই বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজেকে খলিফা হিসেবে উপস্থাপন করে অটোমান রাজনৈতিক প্রভাব শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। তবে তার প্যান-ইসলামবাদকে শুধু ধর্মীয় আদর্শ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এটি একই সঙ্গে একটি কূটনৈতিক ও সাম্রাজ্যিক কৌশল ছিল।
এই নীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীকগুলোর একটি ছিল হিজাজ রেলপথ। দামেস্ক থেকে মদিনার দিকে নির্মিত এই রেলপথ ১৯০৮ সালে মদিনা পর্যন্ত পৌঁছে। এটি হজযাত্রা সহজ করার পাশাপাশি সিরিয়া ও হিজাজের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
আবদুল হামিদের শাসনকে শুধু প্রতিক্রিয়াশীল বা আধুনিকায়নবিরোধী বললেও বাস্তবতা ধরা পড়ে না। তার সময়ে বিদ্যালয়, সামরিক শিক্ষা, টেলিগ্রাফ, রেলপথ এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। সাম্রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলকে ইস্তাম্বুলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা আরও জোরদার হয়।
কিন্তু আধুনিকায়নের পাশাপাশি তার শাসন ছিল কঠোরভাবে কেন্দ্রীভূত। আবদুল হামিদ রাজনৈতিক বিরোধিতা, সংবাদপত্র এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। সেন্সরশিপ বৃদ্ধি পায় এবং বিস্তৃত গোয়েন্দা ও নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। ইয়িলদিজ প্রাসাদ ক্রমে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
তার শাসনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল আর্মেনীয় প্রশ্ন। পূর্ব আনাতোলিয়ায় ভূমি, কর, নিরাপত্তা, স্থানীয় ক্ষমতার সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। একই সময়ে আর্মেনীয় বিপ্লবী সংগঠনও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
১৮৯৪–১৮৯৬ সালের সহিংসতায় বিপুলসংখ্যক আর্মেনীয় নিহত হয়, যা সাধারণভাবে হামিদীয় হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটনাগুলোর প্রকৃতি ভিন্ন ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনী, হামিদিয়ে ইউনিট এবং স্থানীয় গোষ্ঠীর সহিংসতা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিকভাবে এসব ঘটনা আবদুল হামিদের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে সাম্রাজ্যের আর্থিক স্বাধীনতাও সংকুচিত হচ্ছিল। ১৮৭৫ সালের ঋণসংকটের পর ১৮৮১ সালে অটোমান পাবলিক ডেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ঋণদাতাদের প্রতিনিধিরা অটোমান সরকারের নির্দিষ্ট রাজস্ব উৎস থেকে ঋণ পরিশোধ তদারক করত। এর ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের একটি অংশ বিদেশি আর্থিক স্বার্থের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এই পরিবেশেই নতুন রাজনৈতিক বিরোধিতা গড়ে ওঠে। তানজিমাত যুগে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বিদ্যালয় ও সামরিক একাডেমি থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ মনে করত, সাম্রাজ্যকে বাঁচাতে হলে স্বৈরাচারী শাসনের পরিবর্তে সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এই বিস্তৃত বিরোধী আন্দোলনই পরে ইয়ং তুর্ক বা তরুণ তুর্ক আন্দোলন নামে পরিচিত হয়। তবে এটি শুরু থেকেই একক মতাদর্শের সংগঠন ছিল না। এর মধ্যে উদারপন্থী, কেন্দ্রীকরণপন্থী, বিকেন্দ্রীকরণপন্থী, সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জাতিগত পটভূমির সংস্কারক ছিলেন।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হয়ে ওঠে কমিটি অব ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস বা সিইউপি। বিদেশে নির্বাসিত বিরোধীদের পাশাপাশি অটোমান সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের মধ্যেও তাদের প্রভাব বাড়ে। বিশেষ করে মেসিডোনিয়ায় অবস্থানরত তৃতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
মেসিডোনিয়া তখন অটোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে জটিল অঞ্চলগুলোর একটি। বুলগেরীয়, গ্রিক, সার্বীয় ও অন্যান্য জাতীয় আন্দোলনের প্রতিযোগিতা, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইউরোপীয় শক্তির হস্তক্ষেপ সেখানে অটোমান কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছিল। অনেক তরুণ অফিসারের ধারণা ছিল, সংবিধান পুনরুদ্ধার না করলে ইউরোপীয় শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত মেসিডোনিয়াও ভাগ করে নেবে।
১৯০৮ সালে পরিস্থিতি বিস্ফোরিত হয়। মেসিডোনিয়ায় সিইউপি-সমর্থিত কর্মকর্তা আহমেদ নিয়াজি বে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অন্য অফিসার ও সামরিক ইউনিটও সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে যোগ দিতে থাকে।
আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আবদুল হামিদ সামরিকভাবে তা দমন করার ঝুঁকি নিতে পারেননি। ১৯০৮ সালের জুলাইয়ে তিনি ১৮৭৬ সালের সংবিধান পুনরায় কার্যকর এবং সংসদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই ঘটনাই ইয়ং তুর্ক বিপ্লব নামে পরিচিত।
সাম্রাজ্যের বহু শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে উদ্যাপন করে। মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন সাংবিধানিক যুগ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়। অনেকের আশা ছিল “অটোমান নাগরিকত্ব” জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করবে।
কিন্তু বিপ্লব অটোমান সমস্যাগুলো সমাধান করেনি। বরং সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৯০৮ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করে, বুলগেরিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ক্রিটের গ্রিকপন্থী নেতৃত্ব গ্রিসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়, যদিও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্ন পরে নিষ্পত্তি হয়।
১৯০৯ সালে ইস্তাম্বুলে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী “৩১ মার্চ ঘটনা” নামে পরিচিত বিদ্রোহে সৈন্য ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একটি অংশ সরকারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ায় এবং বিভিন্ন দাবি তোলে।
মেসিডোনিয়া থেকে অ্যাকশন আর্মি ইস্তাম্বুলে এসে বিদ্রোহ দমন করে। এরপর সংসদ আবদুল হামিদ দ্বিতীয়কে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার ভাই পঞ্চম মেহমেদ সুলতান হন।
এভাবেই ১৮৭৬ সালে সংবিধান ঘোষণা করে শাসন শুরু করা আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন ১৯০৯ সালে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার হাতেই কার্যত শেষ হয়।
কিন্তু ইয়ং তুর্ক বিপ্লবের বিজয় মানেই স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছিল না। সিইউপি এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। সামরিক কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে ভূমিকা বাড়ে এবং কেন্দ্রীকরণ বনাম বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন আরও তীব্র হয়।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য এখানেই। অটোমান সাম্রাজ্য নিজেকে আধুনিক, সাংবিধানিক ও সমান নাগরিকত্বভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চাইছিল ঠিক সেই সময়ে, যখন সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জাতীয় আন্দোলন আরও শক্তিশালী হচ্ছিল।
আবদুল হামিদের প্যান-ইসলামবাদ সাম্রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাজবংশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল। ইয়ং তুর্করা আবার সংবিধান ও অটোমান নাগরিকত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিল। দুই প্রকল্পের পদ্ধতি আলাদা হলেও উভয়ের মূল সমস্যাটি ছিল একই—দ্রুত পরিবর্তিত পৃথিবীতে বহুজাতিক অটোমান সাম্রাজ্যকে কীভাবে একসঙ্গে রাখা যাবে?
আবদুল হামিদের যুগ তাই শুধু স্বৈরশাসনের ইতিহাস নয়, যেমন ইয়ং তুর্ক বিপ্লবও শুধু স্বাধীনতার বিজয়ের গল্প নয়। এই সময়ে আধুনিক শিক্ষা, রেলপথ, টেলিগ্রাফ ও আমলাতন্ত্র বিস্তৃত হয়েছে; একই সঙ্গে সেন্সরশিপ, জাতিগত সংঘর্ষ, বিদেশি অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক সহিংসতাও বেড়েছে।
১৮৭৬ থেকে ১৯০৯ সালের এই তিন দশক অটোমান সাম্রাজ্যের শেষ অধ্যায়ের রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করে দেয়। সংবিধান বনাম সুলতানি কর্তৃত্ব, ইসলামি ঐক্য বনাম জাতীয়তাবাদ, কেন্দ্রীকরণ বনাম আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং সামরিক বাহিনী বনাম বেসামরিক রাজনীতি—এসব দ্বন্দ্ব পরবর্তী বছরগুলোতে আরও তীব্র হবে।
আর সেই পরীক্ষার জন্য অটোমানদের হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। ইয়ং তুর্ক বিপ্লবের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ইতালি অটোমান উত্তর আফ্রিকায় আক্রমণ করবে, বলকান যুদ্ধ সাম্রাজ্যের অধিকাংশ ইউরোপীয় ভূখণ্ড কেড়ে নেবে এবং তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ অটোমান রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
লেইফ এরিকসন ও ভিনল্যান্ড: কলম্বাসের প্রায় ৫০০ বছর আগে ভাইকিংরা কীভাবে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিল?
এরিক দ্য রেড ও গ্রিনল্যান্ড: বরফের দেশে ভাইকিং উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার রোমাঞ্চকর ইতিহাস
আইসল্যান্ডে ভাইকিং বসতি ও আলথিং: নর্স অভিযাত্রীরা কীভাবে নতুন সমাজ ও শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল?
গ্রিক স্বাধীনতা থেকে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ: জাতীয়তাবাদ ও ইউরোপীয় হস্তক্ষেপে অটোমান সাম্রাজ্যের সংকট
রাশিয়ার উত্থান ও অটোমানদের সংকট: কৃষ্ণসাগর, ক্রিমিয়া ও রুশ-তুর্কি যুদ্ধের ইতিহাস
ভিয়েনার দ্বিতীয় অবরোধ ১৬৮৩: অটোমান পরাজয় ও ইউরোপে সাম্রাজ্যের পশ্চাদপসরণের সূচনা