ইস্টার অফেনসিভ ও অপারেশন লাইনব্যাকার: ১৯৭২ সালের উত্তর ভিয়েতনামি আক্রমণ
সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ট্যাংক আক্রমণ ও আকাশযুদ্ধে বদলে যাওয়া ১৯৭২ সালের যুদ্ধ
১৯৭২ সালের বসন্তে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যখন অধিকাংশ মার্কিন স্থলসেনা ইতিমধ্যে দেশে ফিরে গেছে এবং যুদ্ধের প্রধান দায়িত্ব দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দাবি করছিলেন, তাঁর ভিয়েতনামাইজেশন নীতি কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু ৩০ মার্চ উত্তর ভিয়েতনাম ট্যাংক, ভারী কামান, বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিয়মিত পদাতিক বাহিনী নিয়ে দক্ষিণে বিশাল আক্রমণ শুরু করে। এই অভিযান ইস্টার অফেনসিভ নামে পরিচিত হয়। এটি গেরিলা আক্রমণ নয়; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বিস্তৃত ফ্রন্ট, সাঁজোয়া কলাম ও শহর দখলের প্রচলিত যুদ্ধ ছিল।
উত্তর ভিয়েতনামের নেতৃত্বের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী একা কতটা সক্ষম, তা পরীক্ষা করা; বড় ভূখণ্ড দখল করে সেখানে রাজনৈতিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা; দক্ষিণের সরকার ও সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া; এবং প্যারিস শান্তি আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করা। ১৯৭২ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে থাকায় হ্যানয় আশা করেছিল, বড় সামরিক সংকট নিক্সন প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ শেষ করার চাপ বাড়াবে।
আক্রমণটি তিনটি প্রধান দিক থেকে পরিচালিত হয়। উত্তরে উত্তর ভিয়েতনামের সেনারা অসামরিক অঞ্চল অতিক্রম করে কুয়াং ত্রি প্রদেশে ঢুকে পড়ে। মধ্যাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে লাওস ও কম্বোডিয়ার দিক থেকে বাহিনী কনটুম ও প্লেইকুর দিকে অগ্রসর হয়। আরও দক্ষিণে কম্বোডিয়ার ঘাঁটি থেকে সেনারা লোক নিন ও আন লকের দিকে হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল সাইগনের উত্তরাঞ্চলীয় যোগাযোগপথ বিপন্ন করা। একযোগে তিন ফ্রন্টে আক্রমণ চালিয়ে উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণের সেনাবাহিনীকে বিভক্ত এবং মার্কিন বিমানশক্তিকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল।
উত্তরের প্রথম আঘাতটি ছিল সবচেয়ে নাটকীয়। প্রচণ্ড কামান হামলার পর ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী দক্ষিণ ভিয়েতনামের সীমান্তবর্তী অবস্থান ভেঙে দেয়। কিছু এআরভিএন ইউনিট সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অন্যগুলো দুর্বল নেতৃত্ব, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং আতঙ্কের কারণে দ্রুত পিছিয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো পতন হলে সেনা ও বেসামরিক মানুষের বিশাল স্রোত দক্ষিণের দিকে ছুটে যায়। ভিড়ে পূর্ণ সড়কে উত্তর ভিয়েতনামের কামান হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়; এই পথগুলোর একটি পরে “ভয়ের মহাসড়ক” নামে পরিচিত হয়।
১ মে কুয়াং ত্রি শহর উত্তর ভিয়েতনামের দখলে চলে যায়। দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্য এটি গুরুতর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক আঘাত ছিল। অসামরিক অঞ্চলের দক্ষিণে একটি প্রাদেশিক রাজধানী হারানো ভিয়েতনামাইজেশনের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রথম কোরের কমান্ড পরিবর্তন করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগো কুয়াং ত্রুয়ংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছত্রভঙ্গ ইউনিট পুনর্গঠন, প্রতিরক্ষাবলয় স্থাপন এবং পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি শুরু করেন।
দক্ষিণে আন লক শহর ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সাইগন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শহরটি প্রধান সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এটি পতিত হলে উত্তর ভিয়েতনাম সাইগনের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারত। এপ্রিলের শুরুতে লোক নিন দখলের পর উত্তর ভিয়েতনামি বাহিনী আন লক ঘিরে ফেলে। ট্যাংক, কামান ও পদাতিক বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
আন লকের প্রতিরক্ষায় দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনারা প্রাথমিক আতঙ্ক কাটিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উত্তর ভিয়েতনামের ট্যাংক প্রথমবার শহরে প্রবেশ করলে কিছু ইউনিট পিছু হটলেও সৈন্যরা দ্রুত এম-৭২ হালকা ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করতে শেখে। সংকীর্ণ সড়কে একাধিক ট্যাংক ধ্বংস করা হলে পদাতিক আক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়ে। দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনাদের সঙ্গে থাকা অল্পসংখ্যক মার্কিন উপদেষ্টা বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান, গানশিপ ও বি-৫২ বোমাবর্ষণ সমন্বয় করতেন।
শহরটি দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকায় আকাশপথে রসদ সরবরাহ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বিমানবিধ্বংসী গোলার কারণে বড় পরিবহন বিমান নিচে নামতে পারত না; অনেক প্যারাসুটে ফেলা সরঞ্জাম শত্রুর এলাকায় পড়ত। তবু খাদ্য, গোলাবারুদ ও চিকিৎসাসামগ্রী কোনোভাবে পৌঁছানো হয়। উত্তর ভিয়েতনাম বারবার আক্রমণ চালালেও আন লক দখল করতে ব্যর্থ হয়। আন লকের প্রতিরক্ষা প্রমাণ করে, দক্ষ নেতৃত্ব এবং মার্কিন আকাশ সহায়তা থাকলে এআরভিএন কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।
মধ্যাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে উত্তর ভিয়েতনামের লক্ষ্য ছিল কনটুম। সীমান্তবর্তী ঘাঁটিগুলোর পতনের পর শহরটি সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে। এআরভিএনের কিছু অংশ ভেঙে পড়লেও কনটুমে প্রতিরক্ষা পুনর্গঠন করা হয়। মার্কিন উপদেষ্টা জন পল ভ্যান বিমানশক্তি সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বি-৫২ বোমারু বিমান উত্তর ভিয়েতনামি সমাবেশ ও অগ্রসরমান ইউনিটে আঘাত চালায়। মে মাসের শেষদিকে তীব্র লড়াইয়ের পর শহরের প্রতিরক্ষা টিকে যায় এবং আক্রমণকারীরা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ইস্টার অফেনসিভ শুরু হওয়ার সময় দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন স্থলসেনার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম ছিল। নিক্সন নতুন করে বিপুল সেনা পাঠানোর পরিবর্তে নৌ ও বিমানশক্তির ওপর নির্ভর করেন। বিমানবাহী রণতরি, থাইল্যান্ডের ঘাঁটি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিমান দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হয়। বি-৫২, এফ-৪ ফ্যান্টম, এ-৬ ও এ-৭সহ বিভিন্ন বিমান দক্ষিণের যুদ্ধক্ষেত্র এবং উত্তর ভিয়েতনামের রসদব্যবস্থায় আঘাত করতে শুরু করে।
প্রথমদিকে এই বোমাবর্ষণ দক্ষিণের প্রতিরক্ষা রক্ষায় কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু উত্তর ভিয়েতনাম আক্রমণ অব্যাহত রাখলে নিক্সন যুদ্ধের সীমা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ৮ মে অপারেশন পকেট মানি-এর মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমান হাইফংসহ উত্তর ভিয়েতনামের প্রধান বন্দরগুলোর প্রবেশপথে নৌমাইন স্থাপন করে। লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে সমুদ্রপথে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম আসা বন্ধ করা। বন্দরগুলোতে থাকা বিদেশি জাহাজকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য স্বল্প সময় দেওয়া হয়েছিল।
পরদিন শুরু হয় অপারেশন লাইনব্যাকার। ১৯৬৫–৬৮ সালের রোলিং থান্ডারের তুলনায় এটি ছিল অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত ও সামরিকভাবে নমনীয় অভিযান। রোলিং থান্ডারে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও অভিযান পরিচালনায় ওয়াশিংটনের কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছিল। লাইনব্যাকারে সামরিক কমান্ডাররা উত্তর ভিয়েতনামের রেলপথ, সেতু, জ্বালানি মজুত, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানঘাঁটি, গুদাম এবং চীন সীমান্ত থেকে আসা যোগাযোগব্যবস্থায় দ্রুত আঘাত চালানোর বেশি স্বাধীনতা পান।
এই সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো তুলনামূলক ব্যাপকভাবে লেজার ও টেলিভিশন-নির্দেশিত বোমা ব্যবহার করে। আগে বহুবার আক্রমণ করেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায়নি এমন থান হোয়া সেতুর মতো শক্ত লক্ষ্যবস্তু নির্ভুল বোমায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কম সংখ্যক বিমান ও বোমা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় আঘাত করা সম্ভব হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, ঘন বিমান প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব হামলা নির্ভুল ছিল না; বেসামরিক এলাকা ও অবকাঠামোও ক্ষতির শিকার হয়।
উত্তর ভিয়েতনামের বিমান প্রতিরক্ষা তখন বিশ্বের অন্যতম ঘন ও শক্তিশালী ব্যবস্থা ছিল। সোভিয়েত নির্মিত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, রাডারনিয়ন্ত্রিত কামান এবং মিগ যুদ্ধবিমান মার্কিন বৈমানিকদের জন্য গুরুতর বিপদ সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি দমনকারী বিমান, বৈদ্যুতিন প্রতিরোধব্যবস্থা এবং আকাশযুদ্ধের উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবহার করে। ১৯৭২ সালের আকাশযুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নতুন কৌশল আগের তুলনায় কার্যকর প্রমাণিত হয়।
হাইফং বন্দরে মাইন স্থাপন ও উত্তর ভিয়েতনামে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল কূটনৈতিকভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ। নিক্সন একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মে মাসেই তাঁর মস্কো সফর নির্ধারিত ছিল। হ্যানয় আশা করেছিল, সোভিয়েত নেতৃত্ব হয়তো নিক্সনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু মস্কো সম্মেলন বাতিল হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রকাশ্যে বোমাবর্ষণের নিন্দা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর সম্পর্ক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা চালিয়ে যায়।
চীনও উত্তর ভিয়েতনামকে সহায়তা অব্যাহত রাখে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি ভাঙেনি। নিক্সনের চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পৃথক সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল হ্যানয়কে দেখায় যে তার প্রধান মিত্ররা ভিয়েতনাম প্রশ্নে নিজেদের সব কূটনৈতিক স্বার্থ বিসর্জন দেবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে মস্কো বা বেইজিং উত্তর ভিয়েতনামকে পরিত্যাগ করেছিল; অস্ত্র, জ্বালানি ও অন্যান্য সহায়তা চলতে থাকে।
লাইনব্যাকারের হামলায় উত্তর ভিয়েতনামের পরিবহন ও রসদব্যবস্থা গুরুতর চাপের মুখে পড়ে। বন্দর অবরুদ্ধ হওয়ায় সমুদ্রপথে সরবরাহ কঠিন হয় এবং রেল ও সড়কপথে চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও গুদাম ধ্বংস হওয়ায় দক্ষিণের বাহিনীকে ভারী অস্ত্র, জ্বালানি ও গোলাবারুদ পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। তবু উত্তর ভিয়েতনাম বিকল্প পথ, রাতের পরিবহন, দ্রুত মেরামত এবং ছড়িয়ে রাখা গুদাম ব্যবহার করে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হতে দেয়নি।
দক্ষিণ ভিয়েতনামের পাল্টা আক্রমণ জুন থেকে গতি পায়। জেনারেল ত্রুয়ংয়ের নেতৃত্বে মেরিন, এয়ারবোর্ন ও অন্যান্য ইউনিট বিমান ও নৌবাহিনীর ব্যাপক সহায়তায় কুয়াং ত্রি পুনর্দখলের অভিযান শুরু করে। প্রতিটি গ্রাম, সড়ক ও প্রতিরক্ষাবলয় নিয়ে তীব্র লড়াই হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী কুয়াং ত্রি দুর্গ পুনর্দখল করে। তবে প্রদেশটির উত্তরের কিছু অংশ উত্তর ভিয়েতনামের হাতে থেকে যায়।
ইস্টার অফেনসিভে উত্তর ভিয়েতনাম তার প্রাথমিক সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। আন লক ও কনটুম দখল ব্যর্থ হয়, সাইগন সরকার পতিত হয়নি এবং কুয়াং ত্রি শহরও শেষ পর্যন্ত হারাতে হয়। তাদের ট্যাংক ও নিয়মিত বাহিনী খোলা ভূখণ্ডে মার্কিন বিমানশক্তির সহজ লক্ষ্য হয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। তবু তারা দক্ষিণের কিছু সীমান্তবর্তী ভূখণ্ড ধরে রাখে, এআরভিএনকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ আক্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করে।
দক্ষিণ ভিয়েতনামের ফলাফলও ছিল মিশ্র। তার সেনাবাহিনী প্রথম ধাক্কায় বহু স্থানে ভেঙে পড়েছিল, কিন্তু পুনর্গঠিত হয়ে আন লক, কনটুম ও কুয়াং ত্রিতে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সাফল্য ভিয়েতনামাইজেশনের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়, মার্কিন উপদেষ্টা, বি-৫২, যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণ এবং বিপুল রসদ সহায়তা ছাড়া দক্ষিণের পক্ষে আক্রমণ প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হতো। এআরভিএন যুদ্ধ করেছিল এবং রক্ত দিয়েছিল, কিন্তু তার সাফল্যের ওপরে মার্কিন আকাশশক্তির বিশাল ছায়া ছিল।
সামরিক চাপ প্যারিস শান্তি আলোচনায়ও প্রভাব ফেলে। গ্রীষ্মের শেষে উত্তর ভিয়েতনামের আক্রমণ থেমে যায় এবং উভয় পক্ষ সমঝোতার দিকে অগ্রসর হয়। ২৩ অক্টোবর নিক্সন ২০তম সমান্তরালের উত্তরে লাইনব্যাকার হামলা বন্ধ করেন। কিন্তু দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন ভ্যান থিয়েউ খসড়া চুক্তির বিরোধিতা করলে আলোচনা আবার জটিল হয়ে পড়ে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র লাইনব্যাকার টু নামে হ্যানয় ও হাইফং অঞ্চলে আরও তীব্র বি-৫২ বোমাবর্ষণ চালায়, যা প্রথম লাইনব্যাকার অভিযানের পৃথক ও পরবর্তী পর্যায় ছিল।
ইস্টার অফেনসিভ ও অপারেশন লাইনব্যাকার ১৯৭২ সালের যুদ্ধের মৌলিক বাস্তবতা প্রকাশ করেছিল। উত্তর ভিয়েতনাম গেরিলা যুদ্ধ থেকে বৃহৎ প্রচলিত আক্রমণে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছিল; দক্ষিণ ভিয়েতনাম সম্পূর্ণ ভেঙে না পড়ে কঠিন প্রতিরোধ করেছিল; আর যুক্তরাষ্ট্র স্থলসেনা ছাড়াই বিপুল বিমান ও নৌ শক্তি দিয়ে যুদ্ধের ফল প্রভাবিত করতে পেরেছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমাধান অর্জন করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের অস্থায়ী ভারসাম্য শেষ পর্যন্ত একটি শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করে, যার ভেতরেই ভবিষ্যৎ সংঘাত ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের শর্ত লুকিয়ে ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য: উপনিবেশের সৈন্য, নতুন ম্যান্ডেট ও সর্বোচ্চ বিস্তার
যে সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না: নৌবাহিনী, বাণিজ্য, রেলপথ ও টেলিগ্রাফের ভূমিকা
হেলেন কেলার: দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারিয়েও বিশ্বজুড়ে অধিকার আন্দোলনের কণ্ঠ হয়ে ওঠার ইতিহাস
মেরি শেলি: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ লিখে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির ইতিহাস বদলে দেওয়া তরুণী
অ্যাডা লাভলেস: প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচিত নারীর বিস্ময়কর ইতিহাস
মেরি অ্যানিং: জীবাশ্ম আবিষ্কার করে পৃথিবীর প্রাচীন প্রাণের ইতিহাস যেভাবে বদলে দিয়েছিলেন