ইনসুলিন উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ | ডায়বেটিস কেন হ

ইনসুলিন কি

মানুষের শরীরের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ অগ্ন্যাশয়। ইংরেজিতে যাকে বলে প্যানক্রিয়াস। দেখতে অনেকটা আয়তাকার। থাকে পেটের উপরের অংশে। এই প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে আমাদের শরীরে নিঃশৃত হয় দুটি অত্যাবশ্যকীয় হরমোন-

/ ইনসুলিন

/গ্লুকাগন

আজ আমরা ইনসুলিন নিয়ে জানব।

 
ইনসুলিন কি, ইনসুলিন কিভাবে কাজ করে, ইনসুলিন কিভাবে নিতে হয়, ইনসুলিন দেওয়ার নিয়ম, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কি,ডায়াবেটিস মাত্রা, ডায়াবেটিস  চিকিৎসা, হরমোন


ইনসুলিন অগ্ন্যাশ্যের প্রধান হরমোন। এটি একধরনের পলিপ্যাপ্টাইড। প্রায় কয়েক বিলিয়ন বছর আগে আবিষ্কৃত হয় ইনসুলিন। ৫১ টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত এই ছোট্ট প্রোটিন। দুটি পলিপ্যাপ্টাইড চেইন দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে গঠিত হয় ইনসুলিন।

ইনসুলিন কোথা থেকে নিঃসৃত হয়

ডায়বেটিস মেলাটাইসে ব্যবহৃত এই ইনসুলিন প্রাকৃতিকভাবেই অগ্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স –এর বিটা কোষ থেকে এর উৎপাদন  হয়। তবে ডায়বেটস বা কোন কারণে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন  ব্যাহত হলে বাইরে থেকে বা বাজার থেকে কিনে শরীরে পুশ করতে হয়। বর্তমানে মানুষের ইনসুলিম উৎপাদনকারী জিন E-coli ব্যাক্টেরিয়াতে স্থানান্তর করে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদন  করা হচ্ছে। একটি  E-coli ব্যাক্টেরিয়া কোষে প্রায় ১০ লক্ষ্ অণু ইনসুলিন তৈরি হয়ে থাকে।

ইনসুলিনের কাজ

আমরা  আয়েশ করে কায়েশ মিটিয়ে যা খাইনা কেন অধিকাংশ খাবারই শেষপর্যন্ত কার্বোহাইড্রেট এ রূপান্তরিত হয়। এই কার্বোহাইড্রেটকে সারা শরীরে পৌছে দেওয়াই ইনসুলিনের প্রধান কাজ। আর কোষের মধ্যে জারিত হয়ে তা শক্তিরূপে স্ঞ্চিত হয়। কিন্তু অবাক কর বিষয় হচ্ছে এই ইনসুলিন ছাড়া রক্তে কার্বোহাইড্রেট পৌছে দেওয়ার মত আর কোন মাধ্যম বা রাস্তা সৃষ্টিকর্তা দেন নাই।

মানুষ ২ ধরণের ডায়বেটিসে আক্রান্ত হয়। একটি টাইপ-১ এবং অন্যটি টাইপ-২। টাইপ-১ ডায়বেটিস এর ক্ষেত্রে ইনসুলিন উৎপাদন  একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। আর টাইপ-২ ডায়বেটিসের ক্ষেত্রে ইনসুলিন উৎপাদন কমে যায় বা এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। বহুমূত্র হুয়।

ইনসুলিন কি, ইনসুলিন কিভাবে কাজ করে, ইনসুলিন কিভাবে নিতে হয়, ইনসুলিন দেওয়ার নিয়ম, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কি,ডায়াবেটিস মাত্রা, ডায়াবেটিস  চিকিৎসা, হরমোন


 ইন্সুলিনের আরো কিছু কাজ-

Ø  গ্লুকোজ ভাঙতে সাহায্য করে ফলে রক্তে এর মাত্রা স্বাভাবাবিক থাকে।

Ø  অ-শর্করা থেকে গ্লুকোজ সৃষ্টিতে বাঁধা দেয়।

Ø  নতুন প্রোটিন উৎপাদন  বৃদ্ধি করে। ইনসুলিন না থাকলে রাইবোজোমের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিন দিন শরীর শুকিয়ে যায়।

Ø  কোষের  অ্যামিনো এসিড নিয়ন্ত্রন করে।

ইনসুলিন উৎপাদন কমে যাওয়ের কারণ

দীর্ঘসময় বসে কাজ করলে কিংবা অলস জীবন-যাপন করাকেই এখন পর্যন্ত ইনসুলিন উৎপাদন কমার প্রধান কারন হিসেবে উল্ল্যেখ করে থাকেন ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞগণ। অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা প্রসেসফুড খেলেও ইনসুলিন উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা এক্সসারসাইজ এটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

ইনসুলিন কখন নিবেন

 

যেহেতো এটি ডায়বেটিসের ধরণ ও মাত্রার উপর নির্ভর করে তাই কোন রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার কর উচিত।

ইনসুলিন ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বর্তমানে যে ধরনের ইনসুলিন পাওয়া যায় তাতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়না । কিন্তু কো-মরবিড  কন্ডিশনে হতে পারে তাই ডাক্তারের পরামর্শ মতে ব্যবহার করুন।

ইনসুলিন ব্যবহারের নিয়ম

প্রথমে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ইনসুলিন নেওয়ার স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। নির্দিষ্ট মাত্রা ও ডোজ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর শিশিটিকে দুই হাতের তালুতে ভালোকরে ঘষে নিন। এবার সাবধানে শিশির রবার ক্যাপ দিয়ে নিডল/ সুই ঢুকিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী প্লাঞ্জার টানুন। লক্ষ্য রাখবেন কোন বুদবুদ আসে কি না। আসলে প্লাঞ্জার পুশ করে বের করে নিন। সিরিঞ্জটি শিশি থেকে বের করুন। অতঃপর  ইনজেকশ্নের স্থানটিতে হাল্কা করে একটা চিমটি কাটুন। এখন চিমটি কাটা স্থানে ৯০ ডিগ্রী কোনে আলতো করে ইঞ্জেকশন সাবধানে পুশ করুন। সর্বশেষ জায়গাটি কয়েকসেকেন্ড পরিষ্কার তুলো দিয়ে ঢেকে রাখুন।

ইনসুলিন ব্যবহারে সতর্কতা

ইনসুলিন উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ | ডায়বেটিস কেন হয়
ইনসুলিন গ্রহন

1)      ফ্রিজ থেকে বের করে নরমাল তাপমাত্রায় না এনে ব্যবহার করবেন না।

2)      অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে রাখবেন না।

3)      দলা পাকিয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না।

4)      একই ইনসুলিন অন্যের সাথে শেয়ার করবেন না।

5)      পেট, থাই বা হাতের বাহুর পেশির ঠিক নিচে চর্বিতে ইনসুলিন নিন। ভুলেও মাংস পেশিতে পুশ করবেন না।

6)      একই জায়গায় পরপর দুইবার ইনসুলিন নিবেন না।

7)      দুইটি ইঞ্জেকশনের স্থানের মধ্যে কমপক্ষে এক আঙুল পরিমাণ ফাঁকা রাখুন।

8)      পুশ করার পর ইঞ্জেকশনের জায়গায় কোনরকম ঘষা-মাজা করবেন না।

9)      কোন কাটা বা ক্ষত থাকলে তার দুই ইঞ্চির মধ্যে ইঞ্জেকশন করবেন না।

10)  নিয়ম মেনে সিরিঞ্জ ব্যবহার কিরুন।

11)  একটি নির্দিষ্ট ডায়রীতে ডোজ, টাইম ইত্যাদি লিখে রাখুন।

                                                               ধন্যবাদ।

#ইনসুলিন #ডায়বেটিস

ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়, ইনসুলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ইনসুলিন কিভাবে কাজ করে, ইনসুলিন কাকে বলে, ইনসুলিন কি প্রোটিন, ইনসুলিন কিভাবে দেয়, ইনসুলিনের ডোজ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কি,ডায়াবেটিস মাত্রা, ডায়াবেটিস সারানোর উপায়, ডায়াবেটিস লক্ষণ, ডায়াবেটিস রোগীর খাবার, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়, ডায়াবেটিস কমানোর উপায়, ডায়াবেটিস হলে করণীয়।

AKMA

A Simple Man. Admin and Author of Esojani.com

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সাথেই থাকবেন, ইন শা আল্লাহ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন