দেতান্ত ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: নিক্সন, ব্রেজনেভ ও SALT চুক্তির ইতিহাস
সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত
পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সমঝোতার সংক্ষিপ্ত অধ্যায়
১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে দেখিয়ে দিয়েছিল যে সীমাহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে রাজনৈতিক সংকট, ভুল সংকেত বা কোনো সামরিক কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত থেকেই পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। সংকটের পর দুই দেশ সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন এবং সীমিত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিলেও অস্ত্র প্রতিযোগিতা থামেনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে উভয় পরাশক্তির কাছে এত বিপুল ধ্বংসক্ষমতা জমা হয়েছিল যে কেউ প্রথম আঘাত হানলেও প্রতিপক্ষ পাল্টা আক্রমণ করতে পারত। এই পারমাণবিক সমতা শান্তি সৃষ্টি করেনি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতার মূল্য সম্পর্কে দুই পক্ষকে আরও বাস্তববাদী করে তুলেছিল।
‘দেতান্ত’ শব্দটির অর্থ উত্তেজনা শিথিল করা। এটি বন্ধুত্ব, আদর্শিক সমঝোতা বা স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি বোঝায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনো পরস্পরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত, বিপরীত সামরিক জোট পরিচালনা করত এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে সমর্থন দিত। দেতান্ত ছিল এই স্বীকৃতি যে পারমাণবিক যুগে প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম, যোগাযোগ ও সীমা প্রয়োজন। লক্ষ্য ছিল বিরোধ মুছে ফেলা নয়; বরং বিরোধ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে উভয় দেশের ধ্বংস ডেকে না আনে, তা নিশ্চিত করা।
দেতান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বাস্তব সমস্যা ছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ অর্থনীতি, সামরিক বাহিনী ও জনমতের ওপর ভারী চাপ সৃষ্টি করেছিল। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা দেখিয়ে দিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সব অঞ্চলে একযোগে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইউরোপ ও জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুত্থানও মার্কিন একক আধিপত্য কমিয়ে দিচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার তাই আদর্শিক ভাষার বদলে ক্ষমতার ভারসাম্য ও বাস্তব স্বার্থের ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন।
সোভিয়েত ইউনিয়নেরও সমঝোতার কারণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সমতা অর্জনে বিপুল সম্পদ ব্যয় হয়েছিল এবং উন্নত ভোগ্যপণ্য, কৃষি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সোভিয়েত অর্থনীতি পশ্চিমের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। পশ্চিমা বাণিজ্য, শস্য ও প্রযুক্তি পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সোভিয়েত সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। ১৯৬৯ সালে চীন–সোভিয়েত সীমান্তে সশস্ত্র সংঘর্ষও হয়। মস্কো একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধিতা সামলাতে চাইছিল না। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক সোভিয়েত নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নিক্সন ও কিসিঞ্জার এই চীন–সোভিয়েত বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ‘ত্রিভুজাকার কূটনীতি’ গড়ে তোলেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিক্সন চীন সফর করে মাও সেতুং ও ঝৌ এনলাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেন। মার্কিন–চীনা ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনা সোভিয়েত নেতৃত্বকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে আগ্রহী করে তোলে। একই বছরের মে মাসে নিক্সন মস্কো সফর করেন। কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটি ছিল প্রথম মস্কো সফর। সেখানে ব্রেজনেভের সঙ্গে তাঁর বৈঠক দেতান্তের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুহূর্তে পরিণত হয়।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র। ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া কৌশলগত অস্ত্র সীমিতকরণ আলোচনা, সংক্ষেপে SALT, ছিল অত্যন্ত জটিল। দুই দেশের অস্ত্রভান্ডার একই ধরনের ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যভেদী পারমাণবিক ওয়ারহেড বসানোর প্রযুক্তিতে এগিয়ে ছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে বড় ও ভারী আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল। কোনো অস্ত্রের সংখ্যা কমালে অন্য ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রতিটি সংখ্যা, সংজ্ঞা ও যাচাই-পদ্ধতি নিয়ে কঠিন দরকষাকষি চলে।
১৯৭২ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত SALT-১ একটি একক চুক্তি ছিল না; এর প্রধান অংশ ছিল কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সমঝোতা এবং অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল বা এবিএম চুক্তি। অন্তর্বর্তী সমঝোতা পাঁচ বছরের জন্য ভূমিভিত্তিক আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণযানের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমায় স্থির করে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে সংখ্যায় কিছু বেশি উৎক্ষেপণযান রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড বহনের সুবিধা ছিল। ফলে শুধু উৎক্ষেপণযানের সংখ্যা দিয়ে প্রকৃত ধ্বংসক্ষমতার তুলনা করা যেত না।
SALT-১ নতুন করে নির্দিষ্ট ধরনের উৎক্ষেপণব্যবস্থা বাড়ানো সীমিত করলেও বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক ওয়ারহেড ধ্বংসের নির্দেশ দেয়নি। দূরপাল্লার বোমারু বিমানও এর প্রধান সীমার বাইরে ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করা হয়নি। এর ফলে বাহ্যিকভাবে উৎক্ষেপণযানের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রে অধিক ওয়ারহেড বসিয়ে দুই পক্ষ মোট ধ্বংসক্ষমতা বাড়াতে পেরেছিল। অতএব SALT-১ অস্ত্র প্রতিযোগিতা থামায়নি; বরং প্রতিযোগিতার একটি অংশে সাময়িক ছাদ স্থাপন করেছিল।
এবিএম চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল আরও গভীর। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শত্রুর পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। প্রথম দৃষ্টিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শান্তির পক্ষে মনে হলেও উভয় দেশ আশঙ্কা করত, একটি পক্ষ যদি কার্যকরভাবে নিজের শহর ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে পারে, তবে সে প্রথম আঘাত হানার সাহস পেতে পারে। প্রতিপক্ষও সেই প্রতিরক্ষা ভেদ করতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেড নির্মাণ করবে। এভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারত।
১৯৭২ সালের এবিএম চুক্তি প্রথমে প্রত্যেক দেশকে দুটি স্থানে সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাখার অনুমতি দেয়—একটি রাজধানী এবং অন্যটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সুরক্ষায়। ১৯৭৪ সালের সংশোধনীতে তা একটি স্থানে নামিয়ে আনা হয়। এর অর্থ ছিল, উভয় দেশই কার্যত অপর পক্ষের পাল্টা আঘাতের সামনে অসুরক্ষিত থাকবে। এই কঠিন বাস্তবতাই পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংসের ভিত্তি বজায় রাখত। যুদ্ধ ঠেকানোর যুক্তি দাঁড়িয়েছিল এমন এক ভয়ের ওপর, যেখানে কেউ আক্রমণ করলে নিজের দেশকেও রক্ষা করতে পারবে না।
চুক্তি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সোভিয়েত সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আন্তর্জাতিক পরিদর্শক পাঠানো হয়নি। তার পরিবর্তে ‘জাতীয় প্রযুক্তিগত উপায়’—গোয়েন্দা উপগ্রহ, রাডার, দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ বিশ্লেষণ—ব্যবহারের অধিকার স্বীকৃত হয়। চুক্তিতে এসব পর্যবেক্ষণ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত না করার নীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। মহাকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, উৎক্ষেপণযান ও সাবমেরিন নির্মাণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় আস্থার একটি বাস্তব ভিত্তি তৈরি হয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা প্রযুক্তি এভাবে সন্দেহের উৎসের পাশাপাশি চুক্তি যাচাইয়ের উপায়েও পরিণত হয়।
মস্কো শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশ ‘পারস্পরিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা’ও গ্রহণ করে। এতে বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা, সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়। বিজ্ঞান, মহাকাশ, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বাণিজ্য নিয়েও চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ শস্য বিক্রি করে এবং পশ্চিমা প্রযুক্তি ও ঋণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালের অ্যাপোলো–সয়ুজ মহাকাশ অভিযানে দুই দেশের মহাকাশযান কক্ষপথে যুক্ত হওয়া দেতান্তের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
ইউরোপেও উত্তেজনা কমানোর পৃথক প্রক্রিয়া চলছিল। পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্টের ‘অস্টপলিটিক’ নীতি পূর্ব জার্মানি, পোল্যান্ড ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। ১৯৭১ সালের চার শক্তির বার্লিন চুক্তি পশ্চিম বার্লিনে যাতায়াত সহজ করে এবং শহরটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমায়। পশ্চিম জার্মানি পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধোত্তর সীমান্তের বাস্তবতা মেনে নেয় এবং ১৯৭২ সালে দুই জার্মান রাষ্ট্র মৌলিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
দেতান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চূড়ান্ত আইন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এতে স্বাক্ষর করে। পশ্চিমা দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বিদ্যমান সীমান্তকে বাস্তবতা হিসেবে স্বীকার করে, যা মস্কোর জন্য বড় কূটনৈতিক অর্জন ছিল। বিনিময়ে সব স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র মানবাধিকার, চিন্তা ও ধর্মের স্বাধীনতা এবং মানুষের যোগাযোগের কিছু নীতি মেনে নেয়। এগুলো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও পূর্ব ইউরোপ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিন্নমতাবলম্বীরা নিজেদের সরকারের জবাবদিহি দাবি করতে হেলসিঙ্কির ভাষা ব্যবহার করেন।
দেতান্ত সত্ত্বেও প্রক্সি সংঘাত বন্ধ হয়নি। ১৯৭৩ সালের আরব–ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আরব মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ করে। অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ ইয়েমেন ও অন্যান্য অঞ্চলে সোভিয়েত বা কিউবান প্রভাব বাড়লে ওয়াশিংটনে অভিযোগ ওঠে যে মস্কো দেতান্তকে একতরফা সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করছে। বিপরীতে সোভিয়েত নেতৃত্ব ন্যাটো, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নিজেদের বিরুদ্ধে ঘেরাওয়ের অংশ মনে করত। কৌশলগত অস্ত্রে সংযম এলেও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অব্যাহত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও দেতান্ত নিয়ে বিরোধ বাড়ে। সমালোচকেরা বলতেন, SALT-১ সোভিয়েতদের বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র রাখার সুযোগ দিয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিনিময়ে মস্কোকে বৈধতা দিয়েছে। ১৯৭৪ সালের জ্যাকসন–ভ্যানিক সংশোধনী সোভিয়েত নাগরিকদের দেশত্যাগের স্বাধীনতার সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধাকে যুক্ত করে, বিশেষত সোভিয়েত ইহুদিদের অভিবাসনের প্রশ্নে। নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ও পদত্যাগও দেতান্তের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে।
SALT-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা নিক্সনের সময় শুরু হলেও বহু বছর ধরে চলতে থাকে। ক্ষেপণাস্ত্রের মোট সংখ্যা, একাধিক ওয়ারহেড, নতুন প্রযুক্তি এবং সোভিয়েত ভারী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মতবিরোধ ছিল। অবশেষে ১৯৭৯ সালের জুনে ভিয়েনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও ব্রেজনেভ SALT-২ স্বাক্ষর করেন। এতে কৌশলগত উৎক্ষেপণব্যবস্থার মোট সংখ্যা সীমিত করা, একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত অস্ত্রের ওপর কিছু নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু মার্কিন সিনেট SALT-২ অনুমোদন করেনি। চুক্তির সমালোচনা আগে থেকেই চলছিল; ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণ দেতান্তের অবশিষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন ভেঙে দেয়। কার্টার চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে নেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং সামরিক ব্যয় বাড়ান। যদিও দুই দেশ কিছু সময় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই SALT-২-এর সীমা মোটামুটি মেনে চলেছিল, দেতান্তের যুগ কার্যত শেষ হয়ে যায়।
দেতান্ত ব্যর্থ হয়েছিল—এমন সরল সিদ্ধান্তও সম্পূর্ণ সঠিক নয়। এটি স্থায়ী শান্তি আনতে পারেনি, অস্ত্রভান্ডার কমায়নি এবং প্রক্সি যুদ্ধ বন্ধ করেনি। তবে SALT-১ ও এবিএম চুক্তি প্রথমবার দুই পরাশক্তির কৌশলগত অস্ত্র প্রতিযোগিতায় পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছিল। নিয়মিত শীর্ষ বৈঠক, যাচাইব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা এবং সংকট পরিচালনার অভিজ্ঞতা পরবর্তী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ভিত্তি তৈরি করে। দুই পক্ষ শিখেছিল যে আলোচনা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; পারমাণবিক যুগে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় উপায়।
দেতান্ত ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য করার সাময়িক প্রচেষ্টা। নিক্সন ও ব্রেজনেভ আদর্শিক শত্রুতা ভুলে যাননি; তাঁরা বুঝেছিলেন, সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় কোনো নিরাপদ বিজয় নেই। SALT চুক্তিগুলো ধ্বংসের ক্ষমতা বিলুপ্ত করেনি, কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর সংখ্যা, যাচাই ও আলোচনার ভাষা আরোপ করেছিল। আফগানিস্তান, মানবাধিকার, আঞ্চলিক সংঘাত ও পারস্পরিক সন্দেহ দেতান্তকে শেষ পর্যন্ত ভেঙে দিলেও এর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—সর্বোচ্চ উত্তেজনার মধ্যেও কূটনীতি পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে পারে।
ভালকান: আগুনের দেবতা, দৈব অস্ত্রনির্মাতা ও আগ্নেয়গিরির কিংবদন্তি
ডায়ানা: চাঁদ, শিকার, বনভূমি ও নারীদের রক্ষাকর্ত্রী রোমান দেবী
মার্কারি ও অ্যাপোলো: বাণিজ্য, ভবিষ্যদ্বাণী, সংগীত ও চিকিৎসার দেবতা
প্লুটো ও রোমান পাতালজগৎ: মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা ও বিচারের বিশ্বাস
নেপচুন: সমুদ্র, ঘোড়া ও ভূমিকম্পের রোমান দেবতার পৌরাণিক জগৎ
ভেনাস: প্রেমের দেবী থেকে এনিয়াস ও জুলিয়াস সিজারের বংশমাতা