ভিয়েতনাম যুদ্ধ: কমিউনিজম ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কেন দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়েছিল?
সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত
কমিউনিজম ঠেকাতে ভিয়েতনামের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
ভিয়েতনাম যুদ্ধ ছিল এমন একটি সংঘাত, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র বিপুল অস্ত্র, অর্থ, বিমান ও কয়েক লক্ষ সেনা মোতায়েন করেও একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে পরাজিত করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধটি শুরুতে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে রক্ষা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানোর অভিযান ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম, গৃহযুদ্ধ ও স্নায়ুযুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জটিল সংমিশ্রণে পরিণত হয়। ওয়াশিংটন ভিয়েতনামে শুধু একটি ভূখণ্ড রক্ষার জন্য লড়েনি; নিজের বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা, কমিউনিজম নিয়ন্ত্রণের নীতি এবং মিত্রদের প্রতি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্যও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।
ভিয়েতনামের সংঘাতের শিকড় ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনে। উনিশ শতকের শেষভাগে ফ্রান্স ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া নিয়ে ফরাসি ইন্দোচীন প্রতিষ্ঠা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান অঞ্চলটি দখল করলে হো চি মিনের নেতৃত্বে ভিয়েত মিন স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। হো চি মিন ছিলেন কমিউনিস্ট, কিন্তু তাঁর আন্দোলনের প্রধান শক্তি ছিল ভিয়েতনামি জাতীয়তাবাদ ও বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। ১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের পর তিনি ভিয়েতনামের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ফ্রান্স উপনিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধ শুরু হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ঔপনিবেশিকতার বিরোধী বলে দাবি করলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের উত্থান তার অগ্রাধিকার বদলে দেয়। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্টদের বিজয় এবং ১৯৫০ সালে কোরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটন ভিয়েত মিনকে কেবল স্বাধীনতাকামী আন্দোলন হিসেবে নয়, মস্কো ও বেইজিং পরিচালিত আন্তর্জাতিক কমিউনিজমের অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ফরাসি যুদ্ধপ্রচেষ্টায় বিপুল অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম দেয়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ফরাসি ব্যয়ের অধিকাংশই মার্কিন সহায়তা থেকে আসছিল।
১৯৫৪ সালে দিয়েন বিয়েন ফুতে ভিয়েত মিনের হাতে ফরাসি বাহিনীর পরাজয়ের পর জেনেভায় শান্তি আলোচনা হয়। ভিয়েতনামকে সাময়িকভাবে ১৭তম সমান্তরাল বরাবর ভাগ করা হয়—উত্তরে হো চি মিনের কমিউনিস্ট সরকার এবং দক্ষিণে পশ্চিমা সমর্থিত প্রশাসন। ১৯৫৬ সালে দেশব্যাপী নির্বাচন করে পুনরেকত্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ ভিয়েতনামের নেতা নগো দিন দিয়েম এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, হো চি মিনের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে কমিউনিস্টরা সহজেই জয়ী হবে। সাময়িক প্রশাসনিক বিভাজন তাই দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের স্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়।
এই নীতির পেছনে ছিল ‘ডমিনো তত্ত্ব’। প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট আইজেনহাওয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন, একটি দেশ কমিউনিস্ট হলে পাশের দেশগুলোও সারিবদ্ধ ডমিনোর মতো একে একে পতিত হতে পারে। দক্ষিণ ভিয়েতনাম হারালে লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এমনকি বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও কমিউনিস্ট প্রভাবাধীন হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কা ছিল। বাস্তবে এসব দেশের রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল; তবু মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা অঞ্চলটিকে একটি অভিন্ন আদর্শিক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখেছিলেন।
দক্ষিণ ভিয়েতনামে দিয়েমের সরকার ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত, কর্তৃত্ববাদী এবং সীমিত সামাজিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ক্যাথলিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন, অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ ছিল বৌদ্ধ। তাঁর পরিবার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ন্ত্রণ করত এবং বিরোধী, কমিউনিস্ট ও নিরপেক্ষ—সব ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকেই দমন করা হতো। ভূমি সংস্কারের ব্যর্থতা ও গ্রামীণ অসন্তোষ সরকারের বিরুদ্ধে জনসমর্থন বাড়ায়। ১৯৬০ সালে দক্ষিণের কমিউনিস্ট ও অন্যান্য বিরোধী শক্তি জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট গঠন করে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম ভিয়েত কং নামে অভিহিত করত।
ভিয়েত কং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলে, গেরিলা আক্রমণ চালায় এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে। উত্তর ভিয়েতনাম হো চি মিন ট্রেইল নামে পরিচিত লাওস ও কম্বোডিয়ার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত পথব্যবস্থা ব্যবহার করে যোদ্ধা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাঠাত। এটি কোনো একক রাস্তা ছিল না; ছিল জঙ্গল, পাহাড় ও নদীর মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে থাকা বহু পথ, গুদাম ও ঘাঁটির বিশাল ব্যবস্থা। মার্কিন প্রযুক্তি ও বিমানশক্তি ব্যবহার করেও এই সরবরাহপথ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
জন এফ. কেনেডির সময় দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টার সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা না দিলেও হেলিকপ্টার, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার মাধ্যমে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। ‘কৌশলগত গ্রাম’ কর্মসূচিতে কৃষকদের সুরক্ষিত বসতিতে স্থানান্তর করে ভিয়েত কংকে জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জোরপূর্বক স্থানান্তর, দুর্নীতি ও দুর্বল নিরাপত্তার কারণে কর্মসূচিটি উল্টো অসন্তোষ বাড়ায়। ১৯৬৩ সালে বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে দিয়েম সরকারের দমননীতি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। মার্কিন সম্মতিসূচক অবস্থানের মধ্যে সামরিক অভ্যুত্থানে দিয়েমকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করা হয়। এরপর দক্ষিণ ভিয়েতনামে একের পর এক দুর্বল সরকার আসে।
প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন উত্তরাধিকারসূত্রে এমন একটি সংঘাত পান, যেখানে দক্ষিণ ভিয়েতনাম ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। তিনি কমিউনিস্ট বিজয়ের জন্য দায়ী হওয়ার রাজনৈতিক অপবাদ এড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালের আগস্টে টঙ্কিন উপসাগরে মার্কিন ধ্বংসকারী জাহাজ ও উত্তর ভিয়েতনামি টর্পেডো নৌকার ঘটনার পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। প্রথম সংঘর্ষটি বাস্তব হলেও কথিত দ্বিতীয় আক্রমণের প্রমাণ ছিল অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। তা সত্ত্বেও কংগ্রেস টঙ্কিন উপসাগর প্রস্তাব অনুমোদন করে, যা জনসনকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
১৯৬৫ সালে ‘অপারেশন রোলিং থান্ডার’-এর মাধ্যমে উত্তর ভিয়েতনামে দীর্ঘমেয়াদি বোমাবর্ষণ শুরু হয় এবং দা নাংয়ে মার্কিন মেরিন সেনা অবতরণ করে। প্রথমে তারা বিমানঘাঁটি রক্ষার জন্য এলেও দ্রুত আক্রমণাত্মক যুদ্ধে অংশ নিতে থাকে। ১৯৬৮ সালের মধ্যে ভিয়েতনামে মার্কিন সেনার সংখ্যা পাঁচ লক্ষের বেশি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, বিপুল অগ্নিশক্তি, বোমা, কামান ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে শত্রুর এত ক্ষতি করা হবে যে হ্যানয় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হারাবে। এই ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে নিহত শত্রুর সংখ্যা সাফল্যের প্রধান পরিমাপে পরিণত হয়।
কিন্তু উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েত কং দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা জানত, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও সীমাহীন সময় ধরে রাজনৈতিক মূল্য বহন করতে পারবে না। গেরিলারা জঙ্গলে লুকিয়ে থাকত, সুড়ঙ্গ ব্যবহার করত, রাতের বেলায় চলাচল করত এবং সুবিধাজনক সময়ে আক্রমণ করে সরে যেত। গ্রামীণ এলাকায় যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে আলাদা করা কঠিন ছিল। মার্কিন সেনারা কোনো এলাকা পরিষ্কার করার পর স্থায়ী সরকারি উপস্থিতি না থাকলে গেরিলারা আবার ফিরে আসত। ফলে একই অঞ্চল নিয়ে বারবার যুদ্ধ করতে হতো।
জঙ্গল ও ফসলের আড়াল ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এজেন্ট অরেঞ্জসহ রাসায়নিক পাতাঝরানো পদার্থ ব্যবহার করে। ন্যাপাম, ভারী বোমাবর্ষণ এবং ‘সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়’ অভিযানে বহু গ্রাম ধ্বংস হয়, মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। এসব অভিযান ভিয়েত কংয়ের ভিত্তি দুর্বল করার বদলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগণকে দক্ষিণ ভিয়েতনামি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলে। সামরিকভাবে শত্রুকে আঘাত করার কৌশল রাজনৈতিকভাবে নতুন শত্রু তৈরি করছিল।
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে টেট উৎসবের সময় উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েত কং দক্ষিণের শতাধিক শহর, ঘাঁটি ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। সাইগনে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণেও হামলা হয় এবং হুয়ে শহরে কয়েক সপ্তাহ তীব্র যুদ্ধ চলে। সামরিকভাবে কমিউনিস্ট বাহিনী প্রচণ্ড ক্ষতির শিকার হয় এবং অধিকাংশ এলাকা হারায়। কিন্তু রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে টেট অফেনসিভ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। সরকার বারবার বিজয় নিকটবর্তী বলে দাবি করলেও টেলিভিশনে দেখা গেল শত্রু প্রায় সর্বত্র আঘাত হানতে সক্ষম। টেট প্রমাণ করেছিল, যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক সাফল্য জনমতের যুদ্ধে পরাজয় ঠেকাতে পারে না।
আমেরিকায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হয়। সেনা নিয়োগ, নিহতের সংখ্যা, বিপুল ব্যয় এবং টেলিভিশনে প্রচারিত ধ্বংসযজ্ঞ জনগণের সমর্থন ক্ষয় করে। ১৯৬৮ সালের মাই লাই গণহত্যায় মার্কিন সেনাদের হাতে নিরস্ত্র গ্রামবাসী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে নৈতিক ক্ষোভ বাড়ে। ১৯৭১ সালে পেন্টাগন পেপারস প্রকাশ করে দেখায় যে ধারাবাহিক প্রশাসন যুদ্ধের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়; ১৯৭০ সালে কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাশনাল গার্ডের গুলিতে চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু সমাজকে আরও বিভক্ত করে।
রিচার্ড নিক্সন ১৯৬৯ সালে ক্ষমতায় এসে ‘ভিয়েতনামাইজেশন’ নীতি গ্রহণ করেন। এর লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করে ধীরে ধীরে মার্কিন স্থলবাহিনী প্রত্যাহার করা। কিন্তু একই সঙ্গে যুদ্ধ কম্বোডিয়া ও লাওসে বিস্তৃত হয়; হো চি মিন ট্রেইল ও কমিউনিস্ট ঘাঁটিতে ব্যাপক গোপন বোমাবর্ষণ চালানো হয়। নিক্সন ও তাঁর উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করে উত্তর ভিয়েতনামের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তবে হ্যানয় নিজস্ব লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে প্যারিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়। কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজনৈতিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি এবং উত্তরের সেনারা দক্ষিণের ভেতরে অবস্থান বজায় রাখে। মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর যুদ্ধ আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়। কংগ্রেস নতুন করে বৃহৎ সামরিক হস্তক্ষেপে আগ্রহী ছিল না এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার দুর্নীতি, নেতৃত্বসংকট ও সরবরাহঘাটতিতে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে উত্তর ভিয়েতনামি বাহিনী সাইগন দখল করে; পরের বছর দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হয়।
যুদ্ধে প্রায় ৫৮ হাজার মার্কিন সেনা এবং বহু লক্ষ ভিয়েতনামি যোদ্ধা নিহত হন। বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল আরও বিপুল; লক্ষ লক্ষ মানুষ আহত, বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থী হয়। লাওস ও কম্বোডিয়াও বোমাবর্ষণ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সংঘাতে বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ও সামরিক শক্তি ব্যয় করেও নিজের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। কারণ ওয়াশিংটন স্থানীয় জাতীয়তাবাদ, দক্ষিণ সরকারের দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষের দীর্ঘ যুদ্ধ চালানোর দৃঢ়তাকে যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে একবারে প্রবেশ করেনি; ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি, রাজনৈতিক ভয় এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার চেষ্টা তাকে ধীরে ধীরে গভীর যুদ্ধে টেনে নিয়েছিল। প্রতিটি প্রশাসন মনে করেছিল আরও কিছু উপদেষ্টা, আরও কিছু সেনা কিংবা আরও বেশি বোমাবর্ষণ পরাজয় ঠেকাবে। কিন্তু কোনো নেতা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চাননি যে লক্ষ্যটি অর্জনযোগ্য নয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ তাই শুধু কমিউনিজম ঠেকানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা নয়; এটি দেখিয়েছিল, প্রযুক্তিগত ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে দুর্বল রাজনৈতিক ভিত্তি, স্থানীয় ইতিহাস এবং জনগণের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিস্থাপন করা যায় না।
রোমুলাসের রহস্যময় অন্তর্ধান: প্রথম রাজা থেকে দেবতা কুইরিনাস
স্যাবাইন নারীদের অপহরণ: রোমের সংঘর্ষ ও ঐক্যের পৌরাণিক কাহিনি
রোমের জন্ম ও রেমাসের মৃত্যু: রোমুলাসের ভ্রাতৃহত্যার কিংবদন্তি
মন্টে আলবান: পাহাড়চূড়ায় জাপোটেক সভ্যতার প্রাচীন রাজধানীর রহস্য
তেওতিহুয়াকান: মেক্সিকোর ‘দেবতাদের নগরী’ কে নির্মাণ করেছিল?
ওলমেক সভ্যতা: মেসোআমেরিকার প্রাচীন সংস্কৃতি ও বিশাল পাথরের মাথার রহস্য