বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

আরব বসন্তের ফলাফল ও উত্তরাধিকার: গণতন্ত্র, পাল্টা বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ

সিরিজ: আরব বসন্ত

আরব বসন্তের ফলাফল ও উত্তরাধিকার: গণতন্ত্র, পাল্টা বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ
গণতন্ত্রের স্বপ্ন থেকে বিভক্ত আরব বিশ্বের উত্তরাধিকার

আরব বসন্তের ডিজিটাল উত্তরাধিকার ছিল দ্বিমুখী—এটি সাধারণ মানুষকে অভূতপূর্ব প্রকাশক্ষমতা দিয়েছিল, আবার রাষ্ট্রকে তাদের অনুসরণ ও নিয়ন্ত্রণের আরও সূক্ষ্ম অস্ত্রও তুলে দিয়েছিল। এই দ্বন্দ্বই বৃহত্তর আরব বসন্তের ফলাফলের প্রতিচ্ছবি। ২০১১ সালের শুরুতে তিউনিস, কায়রো, মানামা, সানা, বেনগাজি ও দারার রাজপথে যে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল একটি সাধারণ বিশ্বাস—দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন ভেঙে স্বাধীনতা, মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কিন্তু এক দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, শাসককে অপসারণ করা এবং স্বৈরশাসনের কাঠামো ভেঙে গণতন্ত্র নির্মাণ করা এক বিষয় নয়।

আরব বসন্তের তাৎক্ষণিক সাফল্য ছিল বিস্ময়কর। তিউনিসিয়ার জাইন আল-আবিদিন বেন আলী পালিয়ে যান, মিসরের হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন, লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসন পতিত হয় এবং ইয়েমেনে আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। বহু দেশে সরকার পরিবর্তন, সংবিধান সংশোধন, জরুরি আইন প্রত্যাহার, মজুরি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির ঘোষণা আসে। যেসব শাসক কয়েক দশক ধরে নিজেদের অপরিবর্তনীয় বলে উপস্থাপন করেছিলেন, জনগণ তাঁদের প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে। ভয়ের প্রাচীর ভেঙে যাওয়া ছিল আরব বসন্তের প্রথম এবং সম্ভবত সবচেয়ে স্থায়ী অর্জন।

তিউনিসিয়া প্রথম দিকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক উদাহরণ হয়ে ওঠে। বেন আলীর পতনের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, গণপরিষদ এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমে দেশটি একটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ইসলামপন্থী আন-নাহদা ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য থাকলেও আপসের মাধ্যমে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শ্রমিক সংগঠন, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জাতীয় সংলাপ রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

কিন্তু তিউনিসিয়ার গণতন্ত্রও দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি পায়নি। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি এবং উপকূল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের বৈষম্য থেকে যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অকার্যকর বলে মনে হতে থাকে। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ সংসদ স্থগিত করে নির্বাহী ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। পরে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও বাড়ে। আরব বসন্তের একমাত্র স্থায়ী গণতান্ত্রিক সাফল্য হিসেবে পরিচিত তিউনিসিয়াও শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী পশ্চাদ্‌গমনের মুখে পড়ে।

মিসরে মুবারকের পতনের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসি বিজয়ী হন। কিন্তু নতুন সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মুরসি বিরোধীরা তাঁকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে, আর তাঁর সমর্থকেরা মনে করত পুরোনো রাষ্ট্রযন্ত্র নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দিচ্ছে না। অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পরে প্রেসিডেন্ট হন। মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হয়, তার নেতা-কর্মীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাবা আল-আদাবিয়া চত্বরে মুরসি সমর্থকদের অবস্থান ভাঙতে প্রাণঘাতী অভিযান চালানো হয়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীরাও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়ে। তাহরির স্কয়ার যে সামরিক-নিরাপত্তা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রই নতুন নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। এটি আরব বসন্তের সবচেয়ে স্পষ্ট পাল্টা বিপ্লবগুলোর একটি।

লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতন স্বাধীনতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান না থাকায় দেশটি দ্রুত প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া, শহর, গোত্র ও রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত হয়। অস্ত্রসমর্পণ ও জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ব্যর্থতা, তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি শক্তির প্রতিযোগিতা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। একাধিক সরকার ও সামরিক জোট নিজেদের বৈধতা দাবি করে। গাদ্দাফিকে সরানো সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের নিচে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করা অনেক কঠিন প্রমাণিত হয়।

ইয়েমেনে সালেহের বদলে তাঁর দীর্ঘদিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুহ মনসুর হাদিকে বসানো হলেও পুরোনো ক্ষমতার নেটওয়ার্ক ভাঙা হয়নি। হুতি আন্দোলনের উত্থান, দক্ষিণি বিচ্ছিন্নতাবাদ, সালেহের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকার এবং ব্যর্থ জাতীয় সংলাপ দেশটিকে নতুন সংঘাতে ঠেলে দেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা গৃহযুদ্ধকে আরও বিধ্বংসী করে। খাদ্যসংকট, রোগ, বাস্তুচ্যুতি ও অবরোধে সাধারণ মানুষ বিপুল মূল্য দেয়।

সিরিয়ায় রাষ্ট্রের নির্মম দমন, বিরোধীদের অস্ত্রধারণ এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বহুমুখী যুদ্ধে রূপ দেয়। ইরান ও রাশিয়া আসাদ সরকারকে সমর্থন করে, অন্যদিকে তুরস্ক, উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলো বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়। ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট সংগঠন যুদ্ধের শূন্যতা কাজে লাগিয়ে বিস্তৃত এলাকা দখল করে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বতন্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়। সিরিয়ার যুদ্ধ দেখায়, একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক সংকট কীভাবে একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধ, আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।

সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধ বিপুল মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। লাখো মানুষের মৃত্যু, আহত ও নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি কোটি মানুষ নিজেদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। শরণার্থীরা তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়, শিশুরা বিদ্যালয় হারায় এবং বহু শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। শরণার্থী প্রবাহ ইউরোপের অভিবাসননীতি, সীমান্তনিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলে।

আরব বসন্তের পর উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর উত্থানকে কেবল আন্দোলনের ফল বলা ঠিক নয়; ইরাক যুদ্ধ, পুরোনো সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব ও দুর্বল রাষ্ট্র আগে থেকেই এর ভিত্তি তৈরি করেছিল। তবে সিরিয়া ও লিবিয়ার রাষ্ট্রভাঙন তাদের অস্ত্র, ভূখণ্ড ও যোদ্ধা সংগ্রহের সুযোগ দেয়। ইসলামিক স্টেট ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তৃত এলাকায় তথাকথিত খেলাফত ঘোষণা করে। তাদের উত্থান আন্তর্জাতিক মনোযোগকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার থেকে সন্ত্রাস দমন ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার দিকে ফিরিয়ে দেয়। এতে অনেক কর্তৃত্ববাদী শাসক নিজেদের বিশৃঙ্খলা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পায়।

পাল্টা বিপ্লব পরিচালনায় আঞ্চলিক রাজতন্ত্রগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাহরাইনের রাজতন্ত্রকে রক্ষা করে এবং মিসরের নতুন সামরিক নেতৃত্বকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুসলিম ব্রাদারহুডের বিস্তার এবং ইরানের প্রভাব। অন্যদিকে কাতার বিভিন্ন ইসলামপন্থী ও বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করে। তুরস্কও কিছু আন্দোলন ও রাজনৈতিক ইসলামের দলগুলোর পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে আরব বসন্ত আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে।

ইরান সিরিয়ার সরকার এবং ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ায়। রাশিয়ার সিরিয়া হস্তক্ষেপ তাকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে ফিরিয়ে আনে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানালেও অন্যদিকে নিরাপত্তা, ইসরায়েলের সুরক্ষা, সন্ত্রাস দমন, তেল এবং পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অসঙ্গত নীতি অনুসরণ করে। লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করা হলেও বাহরাইনে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; সিরিয়ায় আসাদবিরোধী অবস্থান নেওয়া হলেও সরাসরি শাসন পরিবর্তনের অভিযান থেকে বিরত থাকা হয়।

আরব বসন্ত রাজনীতি ও সমাজে নারীদের উপস্থিতিকেও দৃশ্যমান করে। তাহরির স্কয়ার, চেঞ্জ স্কয়ার এবং তিউনিসিয়ার মিছিলে নারীরা সংগঠক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রতিবাদকারী হিসেবে অংশ নেন। তাওয়াক্কোল কারমানের মতো নেতারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। কিন্তু আন্দোলনের পর অনেক দেশে নারী কর্মীরা যৌন সহিংসতা, অনলাইন হয়রানি, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রান্তিকতার মুখে পড়েন। তা সত্ত্বেও জনপরিসরে তাঁদের দৃশ্যমানতা ভবিষ্যৎ নারী অধিকার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

অর্থনৈতিকভাবে আরব বসন্তের মূল কারণগুলোর অনেকটাই অমীমাংসিত থেকে যায়। তরুণ বেকারত্ব, খাদ্যমূল্য, নিম্ন মজুরি, দুর্নীতি, আবাসনসংকট এবং বৈষম্য বহু দেশে আরও তীব্র হয়। পর্যটন ও বিনিয়োগ কমে যায়, যুদ্ধ অবকাঠামো ধ্বংস করে এবং সরকারি ঋণ বৃদ্ধি পায়। নতুন সরকারগুলো রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যস্ত থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গণতন্ত্রের প্রতি হতাশা এবং শক্তিশালী শাসকের প্রতি আকর্ষণ কিছু সমাজে আবার বৃদ্ধি পায়।

তবু প্রতিবাদের চেতনা বিলীন হয়নি। ২০১৮–২০১৯ সালে সুদান, আলজেরিয়া, ইরাক ও লেবাননে নতুন গণআন্দোলন শুরু হয়। সুদানে ওমর আল-বশির এবং আলজেরিয়ায় আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকা ক্ষমতাচ্যুত হন। আন্দোলনকারীরা ২০১১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শুধু শাসকের পদত্যাগ নয়, পুরো ক্ষমতাকাঠামোর পরিবর্তন দাবি করে। “সবাই মানে সবাই”—লেবাননের এই স্লোগান দল, ধর্ম ও সম্প্রদায়নির্ভর পুরোনো রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হয়ে ওঠে। এই ঘটনাগুলোকে কখনো আরব বসন্তের দ্বিতীয় ঢেউ বলা হয়।

আরব বসন্তকে সম্পূর্ণ সাফল্য বা সম্পূর্ণ ব্যর্থতা—কোনো একক শব্দে বিচার করা যায় না। এটি বহু স্বৈরশাসককে সরিয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র গড়তে পারেনি। এটি নাগরিকদের ভয় কাটিয়েছে, আবার গৃহযুদ্ধ ও দমননীতির ভয়াবহ মূল্যও সামনে এনেছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মুক্তির হাতিয়ার করেছে, আবার নজরদারি ও বিভ্রান্তির ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। আরব বসন্তের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো—বিপ্লবের মুহূর্ত দ্রুত আসতে পারে, কিন্তু স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক আস্থা, ন্যায়বিচার ও কার্যকর রাষ্ট্র নির্মাণ একটি দীর্ঘ এবং অনেক কঠিন প্রক্রিয়া।

সিদি বুজিদের এক তরুণ ফেরিওয়ালার আত্মাহুতি থেকে শুরু হওয়া এই ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সমগ্র আরব বিশ্বের ক্ষমতা, সমাজ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা বদলে দেয়। শাসকেরা বুঝেছে যে নীরবতা চিরস্থায়ী নয়; জনগণও বুঝেছে যে রাজপথ শাসককে সরাতে পারলেও পরবর্তী রাষ্ট্রটি কেমন হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হয়। আরব বসন্ত তার ঘোষিত সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, কিন্তু এটি একটি অপরিবর্তনীয় সত্য প্রতিষ্ঠা করেছে—মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জবাবদিহির দাবি দমন করা যায়, বিলম্বিত করা যায়, কিন্তু ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা যায় না।


আপনার পছন্দ হতে পারে