৩৯৫ সালে রোমান সাম্রাজ্যের বিভাজন: থিওডোসিয়াসের… | এসো-জানি

বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

৩৯৫ সালে রোমান সাম্রাজ্যের বিভাজন: থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর পূর্ব ও পশ্চিম কীভাবে আলাদা হয়ে গেল?

সিরিজ: পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতন: ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে এক সাম্রাজ্যের অবসান

৩৯৫ সালে রোমান সাম্রাজ্যের বিভাজন: থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর পূর্ব ও পশ্চিম কীভাবে আলাদা হয়ে গেল?
৩৯৫ সালে পূর্ব ও পশ্চিম রোমের পৃথক যাত্রার সূচনা

৩৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস মারা গেলে রোমান ইতিহাসে এমন একটি পরিবর্তন ঘটে, যার গুরুত্ব তখনকার মানুষ হয়তো আজকের মতো করে উপলব্ধি করেনি। তাঁর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের শাসন যায় বড় ছেলে আর্কাডিয়াসের হাতে এবং পশ্চিমাঞ্চলের শাসন পায় ছোট ছেলে হনোরিয়াস। ইতিহাসের মানচিত্রে ঘটনাটি প্রায়ই একটি সরল রেখা টেনে দেখানো হয়—৩৯৫ সালে রোমান সাম্রাজ্য দুই ভাগ হয়ে গেল, পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য ও পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য জন্ম নিল। বাস্তবতা অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ৩৯৫ সালে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে ভেঙে দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করা হয়নি। বরং বহুদিনের প্রশাসনিক বিভাজন ও একাধিক সম্রাটের মাধ্যমে শাসনের ধারাই থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর এমন স্থায়িত্ব পায়, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিমের ইতিহাসকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।

বিশাল রোমান সাম্রাজ্যকে এক ব্যক্তি ও একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে পরিচালনা করা কঠিন—এই বাস্তবতা ৩৯৫ সালের অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় শতাব্দীর সংকট দেখিয়েছিল, রাইন থেকে ইউফ্রেটিস এবং ব্রিটেন থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত সাম্রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে একই সময়ে যুদ্ধ শুরু হলে একজন সম্রাটের পক্ষে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো প্রায় অসম্ভব। এই সমস্যার সমাধানে ডায়োক্লেটিয়ান তৃতীয় শতাব্দীর শেষদিকে একাধিক সম্রাটের মাধ্যমে শাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর টেট্রার্কি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—রোমান সাম্রাজ্যের ঐক্য বজায় রেখেও তার বিভিন্ন অঞ্চল আলাদা সম্রাটের অধীনে পরিচালিত হতে পারে।

চতুর্থ শতাব্দীতেও কখনো একজন, কখনো একাধিক সম্রাট সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। কনস্টান্টাইন একসময় পুরো সাম্রাজ্যের একক শাসক হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেদের মধ্যে অঞ্চল ভাগ হয়। পরবর্তীতেও পূর্ব ও পশ্চিমে পৃথক সম্রাট থাকা অস্বাভাবিক ছিল না। তাই ৩৯৫ সালের বিভাজন কোনো আকস্মিক বিপ্লব ছিল না; বরং বহু দশকের প্রশাসনিক বিবর্তনের ফল। এর বিশেষত্ব ছিল অন্য জায়গায়—থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর যে পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন প্রতিষ্ঠিত হলো, তার পর আর কোনো সম্রাট দীর্ঘস্থায়ীভাবে পুরো রোমান সাম্রাজ্যকে এককভাবে শাসন করতে পারেননি।

থিওডোসিয়াস নিজেও তাঁর শেষ জীবনে পুরো সাম্রাজ্যের একক শাসক হয়েছিলেন বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। পশ্চিমে সম্রাট দ্বিতীয় ভ্যালেন্টিনিয়ানের মৃত্যুর পর সেনাপতি আরবোগাস্টের সমর্থনে ইউজেনিয়াস ক্ষমতা দখল করলে থিওডোসিয়াস তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালান। ৩৯৪ সালে ফ্রিজিডাসের যুদ্ধে ইউজেনিয়াস পরাজিত হন। ফলে থিওডোসিয়াস পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশের কার্যকর শাসক হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই ঐক্য ছিল অতি সংক্ষিপ্ত। পরের বছরের জানুয়ারিতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

থিওডোসিয়াসের দুই ছেলে তখন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না। বড় ছেলে আর্কাডিয়াসের বয়স ছিল প্রায় সতেরো বা আঠারো বছর এবং হনোরিয়াসের বয়স মাত্র দশের কাছাকাছি। আর্কাডিয়াস পূর্বাঞ্চলের অগাস্টাস হিসেবে আগেই ঘোষিত হয়েছিলেন, আর হনোরিয়াসও পশ্চিমের সহ-সম্রাটের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ফলে পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারের কাঠামো প্রস্তুতই ছিল। আর্কাডিয়াস কনস্টান্টিনোপলকেন্দ্রিক পূর্বাঞ্চল এবং হনোরিয়াস পশ্চিমাঞ্চলের সাম্রাজ্যিক সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পান।

কাগজে-কলমে দুই ভাই একই রোমান সাম্রাজ্যের দুই সম্রাট। রোমান রাজনৈতিক ধারণায় পূর্ব ও পশ্চিম তখনও দুটি সম্পূর্ণ বিদেশি রাষ্ট্র ছিল না। আইন, সম্রাটের উপাধি, রোমান নাগরিকত্ব এবং সাম্রাজ্যের আদর্শিক ঐক্য বজায় ছিল। পূর্বের মানুষ নিজেদের ‘পূর্ব রোমান’ বলে কোনো নতুন জাতীয় পরিচয় গ্রহণ করেনি; তারা রোমানই ছিল। পরবর্তী যুগে যাকে আমরা ‘বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য’ বলি, তার অধিবাসীরাও নিজেদের রোমান হিসেবে পরিচয় দিত। তাই ৩৯৫ সালে ‘পূর্ব রোম’ ও ‘পশ্চিম রোম’ বলতে প্রথমে একই সাম্রাজ্যের দুটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র বোঝানোই বেশি যথাযথ।

কিন্তু বাস্তব ক্ষমতার ক্ষেত্রে দুই দরবার দ্রুত ভিন্ন স্বার্থ অনুসরণ করতে শুরু করে। পশ্চিমে অপ্রাপ্তবয়স্ক হনোরিয়াসের শাসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হয়ে ওঠেন শক্তিশালী সেনাপতি স্টিলিকো। তিনি অর্ধ-ভ্যান্ডাল বংশোদ্ভূত হলেও রোমান সামরিক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিলেন এবং থিওডোসিয়াসের পরিবারের সঙ্গেও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। স্টিলিকো দাবি করেছিলেন যে মৃত থিওডোসিয়াস তাঁকে দুই ছেলেরই অভিভাবকসদৃশ দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। পূর্বের দরবার অবশ্য তাঁর এই দাবিকে সহজে মেনে নেয়নি।

এই বিরোধ দ্রুত সাম্রাজ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সঙ্গে মিশে যায়। পূর্বের দরবারে রুফিনাসের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রভাবশালী ছিলেন। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বিশেষ করে ইলিরিকামের কিছু অঞ্চলের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। একই সময়ে গথিক নেতা আলারিক বলকান অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। ৩৭৮ সালের অ্যাড্রিয়ানোপলের যুদ্ধ এবং ৩৮২ সালের গথদের সঙ্গে বন্দোবস্তের পরও গথিক প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান হয়নি। থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর সেই সমস্যা আবার বিস্ফোরিত হয়।

আলারিক ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে স্টিলিকো অভিযান পরিচালনা করলেও পূর্ব ও পশ্চিমের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যকর যৌথ পদক্ষেপকে জটিল করে তোলে। একই ‘রোমান’ রাষ্ট্রের দুই অংশ কখনো কখনো নিজেদের পারস্পরিক ক্ষমতার হিসাবকে বহিরাগত সামরিক হুমকির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছিল। এটি পশ্চিমের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, কারণ পশ্চিমের সামরিক ও আর্থিক সম্পদ পূর্বের তুলনায় ক্রমশ সীমিত হয়ে যাচ্ছিল।

পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক। পূর্বাঞ্চলের হাতে ছিল মিশর, সিরিয়া, এশিয়া মাইনর এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বহু সমৃদ্ধ নগর ও বাণিজ্যকেন্দ্র। কনস্টান্টিনোপল নিজেই অসাধারণ কৌশলগত অবস্থানে ছিল—বসফরাসের ওপর দাঁড়িয়ে শহরটি ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগপথ এবং কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করত। শক্তিশালী প্রাচীর ও ভৌগোলিক সুবিধা পরবর্তী সময়ে শহরটির প্রতিরক্ষাকেও অসাধারণ শক্তি দেবে।

পশ্চিমের অবস্থা তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল। ইতালি গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও গল, ব্রিটেন, হিস্পানিয়া এবং রাইন সীমান্তের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড রক্ষা করতে বিপুল সামরিক ব্যয় প্রয়োজন হতো। পশ্চিমের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল উত্তর আফ্রিকা, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও করসম্পদ আসত। কিন্তু পশ্চিমের সরকারকে দীর্ঘ সীমান্ত, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং বিভিন্ন জার্মানিক গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। পশ্চিমের সমস্যা শুধু শত্রুর সংখ্যা নয়; তার করভিত্তি ও সামরিক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।

এই পার্থক্য ৩৯৫ সালের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়নি। কিন্তু পৃথক দরবার ও পৃথক সামরিক অগ্রাধিকার থাকার কারণে পূর্ব ও পশ্চিম নিজেদের সমস্যার সমাধান আলাদাভাবে করতে থাকে। পশ্চিমের রাজধানীও আর রোম নগরীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সামরিক প্রয়োজনের কারণে সাম্রাজ্যিক দরবার মিলানে অবস্থান করত এবং পরে ৪০২ সালে হনোরিয়াস রাভেনাকে প্রধান পশ্চিমা সাম্রাজ্যিক আবাসে পরিণত করেন। জলাভূমি ও সমুদ্রপথ দ্বারা সুরক্ষিত রাভেনা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও এর একটি প্রতীকী তাৎপর্য ছিল—রোমান সম্রাট এখন রোম থেকেই সাম্রাজ্য শাসন করছেন না।

৩৯৫ সালের বিভাজনের কয়েক বছরের মধ্যেই পশ্চিমের দুর্বলতা আরও প্রকট হতে থাকে। ৪০৬ সালের শেষদিকে রাইন অতিক্রম করে ভ্যান্ডাল, সুয়েবি ও অ্যালানদের বড় গোষ্ঠী গলে প্রবেশ করে। ব্রিটেনে রোমান কর্তৃত্ব দ্রুত দুর্বল হয়। পশ্চিমা সরকারকে একদিকে বহিরাগত গোষ্ঠী, অন্যদিকে দখলদার সম্রাট ও গৃহযুদ্ধ মোকাবিলা করতে হয়। এরপর ৪০৮ সালে হনোরিয়াসের আদেশে স্টিলিকোকে হত্যা করা হয়, যা পশ্চিমের সামরিক নেতৃত্বকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।

এর মাত্র দুই বছর পর, ৪১০ সালে আলারিকের ভিসিগথরা রোম নগরী লুণ্ঠন করে। শহরটি তখন আর প্রশাসনিক রাজধানী না হলেও তার প্রতীকী মর্যাদা ছিল অপরিসীম। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে রোম সাম্রাজ্যের ক্ষমতার প্রতীক ছিল, সেই শহরে বিদেশি বাহিনীর প্রবেশ গোটা ভূমধ্যসাগরীয় বিশ্বকে স্তম্ভিত করে। ৩৯৫ সালের বিভাজন সরাসরি এই লুণ্ঠনের কারণ ছিল না, কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিমের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা পশ্চিমের সংকট মোকাবিলাকে সহজ করেনি।

তবে পূর্বাঞ্চলও নিরাপদ ও সমস্যামুক্ত ছিল—এমন ধারণা ভুল। পূর্ব রোমকে গথ, হুন এবং শক্তিশালী সাসানীয় পারস্যের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে। কনস্টান্টিনোপলের দরবারেও ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দুর্বল সম্রাট ছিল। পার্থক্য হলো, পূর্বের তুলনামূলক শক্তিশালী করভিত্তি, ঘন নগরায়ণ, সমৃদ্ধ প্রদেশ এবং কৌশলগত রাজধানী তাকে সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের বেশি সুযোগ দিয়েছিল। পশ্চিমে একবার কোনো সমৃদ্ধ প্রদেশ হারিয়ে গেলে সেই ক্ষতি পূরণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ত।

এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ পরে দেখা যাবে উত্তর আফ্রিকায়। পঞ্চম শতাব্দীতে ভ্যান্ডালরা সেখানে নিজেদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে এবং ৪৩৯ সালে কার্থেজ দখল করে। পশ্চিম রোম তার সবচেয়ে মূল্যবান রাজস্ব ও খাদ্য সরবরাহকারী অঞ্চলগুলোর একটি হারায়। পূর্ব রোম তখনও অনেক বড় অর্থনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখতে সক্ষম ছিল। ফলে একই ধরনের সামরিক চাপ দুই অংশের ওপর পড়লেও তার ফল এক হয়নি।

এ কারণেই ৩৯৫ সালকে রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলা যায়, কিন্তু ‘একটি দেশ ভেঙে সেদিনই দুটি স্বাধীন দেশ তৈরি হলো’—এভাবে দেখা ঐতিহাসিকভাবে বিভ্রান্তিকর। প্রশাসনিক বিভাজন আগে থেকেই ছিল, এবং সমসাময়িকদের কাছে সাম্রাজ্যের আদর্শিক ঐক্যও বিলুপ্ত হয়নি। কিন্তু থিওডোসিয়াসের মৃত্যুর পর পূর্ব ও পশ্চিমের পৃথক সম্রাট, দরবার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক স্বার্থ ক্রমেই নিজেদের স্বতন্ত্র গতিপথ তৈরি করে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এরপর আর সেই বিভাজন দীর্ঘস্থায়ীভাবে উল্টে যায়নি। পশ্চিমে সম্রাটরা একের পর এক রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটে পড়বেন, প্রকৃত ক্ষমতা অনেক সময় শক্তিশালী সেনাপতিদের হাতে চলে যাবে এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশ জার্মানিক রাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রোমুলাস অগাস্টুলাসকে অপসারণের মাধ্যমে পশ্চিমের পৃথক সম্রাটের ধারার অবসান ঘটবে। অন্যদিকে কনস্টান্টিনোপলকেন্দ্রিক পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য আরও প্রায় এক হাজার বছর টিকে থাকবে।

তাই ৩৯৫ সালের গুরুত্ব কোনো আনুষ্ঠানিক বিভাজনপত্রে নয়, বরং এর পরবর্তী ইতিহাসে। থিওডোসিয়াস ছিলেন শেষ সম্রাট যিনি পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশের ওপর এককভাবে কার্যকর শাসন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর একই রোমান বিশ্বের দুটি রাজনৈতিক কেন্দ্র এমন পথে এগোতে শুরু করে, যার একটির শেষ হবে পঞ্চম শতাব্দীতে এবং অন্যটির বহু শতাব্দী পরে। ৩৯৫ সালে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য পতিত হয়নি, এমনকি তখন তার পতন অনিবার্যও ছিল না। কিন্তু সেদিন থেকে পশ্চিমকে তার ক্রমবর্ধমান সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট অনেক বেশি নিজের সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করেই মোকাবিলা করতে হয়েছিল। আর পশ্চিম রোমের পতনের দীর্ঘ ইতিহাসে সেটিই ৩৯৫ সালকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।