বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ভারত মহাসাগর: ভূগোল, মৌসুমি স্রোত ও বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

ভারত মহাসাগর: ভূগোল, মৌসুমি স্রোত ও বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
মৌসুমি বায়ু, গভীর খাদ ও প্রাণবৈচিত্র্যে গড়া এক মহাসাগর

বাংলাদেশের উপকূলে দাঁড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে তাকালে যে জলরাশি দেখা যায়, তা আসলে ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশ। এই সংযোগের কারণে ভারত মহাসাগর আমাদের কাছে দূরের কোনো মানচিত্রের বিষয় নয়। এখানকার জলের তাপমাত্রা, মৌসুমি বায়ু, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রস্রোত বাংলাদেশের বৃষ্টি, উপকূলীয় জীবন ও সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম এই মহাসাগরের বিস্তার প্রায় সাত কোটি বর্গকিলোমিটার, যদিও দক্ষিণে এর সীমানা কোথায় ধরা হচ্ছে তার ওপর আয়তনের হিসাবে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

ভারত মহাসাগরের উত্তরে এশিয়া, পশ্চিমে আফ্রিকা এবং পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ। দক্ষিণে এর জলরাশি দক্ষিণ মহাসাগরের সঙ্গে মিশেছে। প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের তুলনায় এর একটি বিশেষ পার্থক্য হলো, উত্তর দিকে এশিয়ার বিশাল স্থলভাগ এর বিস্তার আটকে দিয়েছে। ফলে উত্তর ভারত মহাসাগর পৃথিবীর উচ্চ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। এই স্থলভাগ গ্রীষ্মে দ্রুত উত্তপ্ত ও শীতে দ্রুত শীতল হয়; তার প্রভাব পড়ে সমুদ্রের ওপরের বায়ুপ্রবাহ এবং শেষ পর্যন্ত জলের চলাচলেও।

ভারতীয় উপদ্বীপ মহাসাগরের উত্তরাংশকে দুটি বড় জলভাগে ভাগ করেছে। উপদ্বীপের পশ্চিমে আরব সাগর, পূর্বে বঙ্গোপসাগর। মানচিত্রে পাশাপাশি থাকলেও এদের স্বভাব এক নয়। আরব সাগরে বাষ্পীভবন বেশি এবং বড় নদী থেকে মিঠা জলের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় এর অনেক অংশের জল বেশি লবণাক্ত। অন্যদিকে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনাসহ বহু নদীর জল এবং প্রবল মৌসুমি বৃষ্টি বঙ্গোপসাগরের উপরিভাগের লবণাক্ততা কমায়। একই মহাসাগরের দুটি অঞ্চলে এই পার্থক্য স্রোত, জলস্তরের বিন্যাস ও সামুদ্রিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।

বঙ্গোপসাগরের দিকে তাকালে নদী ও সমুদ্রের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়। হিমালয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অববাহিকা থেকে নদীগুলো বিপুল পলি বয়ে আনে। দীর্ঘ সময় ধরে সেই পলি জমেই গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ গড়ে উঠেছে। এই বদ্বীপের উপকূলেই সুন্দরবনের বিস্তার। নদীর মিঠা জল বঙ্গোপসাগরের উপরিভাগে অপেক্ষাকৃত হালকা একটি স্তর তৈরি করতে পারে। তখন নিচের জলের সঙ্গে উপরিভাগের মিশ্রণ বাধা পায়। তাই নদী থেকে আসা জল শুধু উপকূলের রং বদলায় না; সমুদ্রের ভেতরে তাপ ও পুষ্টি কীভাবে ছড়াবে, তাতেও ভূমিকা রাখে।

ভারত মহাসাগরের প্রান্তে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রয়েছে। আন্দামান সাগর বঙ্গোপসাগরের পূর্বদিকে অবস্থিত। আরব সাগর থেকে ওমান উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হলে পারস্য উপসাগরে পৌঁছানো যায়। আবার এডেন উপসাগর ও বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে লোহিত সাগরের পথ খুলে যায়। পূর্বদিকে মালাক্কা প্রণালি ভারত মহাসাগরসংলগ্ন জলপথকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই সরু পথগুলো বুঝিয়ে দেয়, মহাসাগরের গুরুত্ব শুধু তার আয়তনে নয়; কোন কোন স্থলভাগ ও বাণিজ্যপথকে সে সংযুক্ত করছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই মহাসাগরের দ্বীপগুলোও এক ধরনের নয়। আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের কাছে মাদাগাস্কার একটি বিশাল দ্বীপ, আর মালদ্বীপ অসংখ্য নিচু প্রবালদ্বীপ নিয়ে গঠিত। শ্রীলঙ্কা ভারতীয় উপদ্বীপের দক্ষিণে, সেশেলস পশ্চিম ভারত মহাসাগরে এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বঙ্গোপসাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। দ্বীপের অবস্থান ও গঠন তার উপকূল, জীববৈচিত্র্য এবং ঝড়ের ঝুঁকি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নিচু প্রবালদ্বীপের ক্ষেত্রে প্রবালপ্রাচীর ও উপকূলীয় ভূমির সুস্থতা স্থানীয় মানুষের বসবাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

আজকের ভারত মহাসাগরের মানচিত্র স্থির পৃথিবীর ছবি নয়। বহু কোটি বছর আগে দক্ষিণের প্রাচীন বৃহৎ স্থলভাগ ভেঙে আফ্রিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা আলাদা হতে শুরু করে। ভারতীয় ভূখণ্ড উত্তর দিকে সরে গিয়ে এশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়; সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে হিমালয়ের উত্থান সম্পর্কিত। স্থলভাগের এই চলাচলের মধ্যেই সমুদ্রতলের নতুন অংশ তৈরি হয়েছে এবং পুরোনো অংশ কোথাও কোথাও অন্য পাতের নিচে নেমে গেছে। তাই মহাসাগরের তলদেশ তার চারপাশের স্থলভাগের ইতিহাসও ধরে রেখেছে।

জলের নিচে ভারত মহাসাগর কোনো সমতল পাত্রের মতো নয়। এর তলদেশে বিস্তীর্ণ অববাহিকা, আগ্নেয় শৈলশিরা, উঁচু সামুদ্রিক পর্বত এবং গভীর খাদ রয়েছে। মধ্য ভারত মহাসাগরের শৈলশিরাগুলো এমন অঞ্চলের অংশ, যেখানে ভূত্বকের পাত সরে যাওয়ার ফলে নতুন সমুদ্রতল তৈরি হয়। অন্যদিকে পূর্ব ভারত মহাসাগরের দীর্ঘ নব্বই-পূর্ব শৈলশিরা অতীতের আগ্নেয় কার্যকলাপের চিহ্ন বহন করে। এসব পানির নিচের উঁচু-নিচু গঠন সমুদ্রস্রোতের পথ ও গভীর জলের চলাচলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণে জাভা বা সুন্দা খাদ ভারত মহাসাগরের গভীরতম অঞ্চলের অবস্থান। আধুনিক নির্ভুল জরিপে এর সর্বাধিক গভীরতা প্রায় সাত দশমিক দুই কিলোমিটার পাওয়া গেছে। সেখানে একটি ভূত্বকীয় পাত আরেকটির নিচে নামছে। এই ধরনের সীমানায় প্রচণ্ড ভূমিকম্প হতে পারে এবং সমুদ্রতল হঠাৎ সরে গেলে সুনামি তৈরি হতে পারে। দুই হাজার চার সালের সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্প ও ভারত মহাসাগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সুনামি দেখিয়েছিল, সমুদ্রতলের একটি বড় পরিবর্তন কত দূরের উপকূলেও বিপর্যয় আনতে পারে।

ভারত মহাসাগরকে অন্য মহাসাগর থেকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে আলাদা করে তার মৌসুমি বায়ুর প্রভাব। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ এশিয়ার স্থলভাগ উষ্ণ হলে সমুদ্র থেকে আর্দ্র বায়ু স্থলের দিকে প্রবাহিত হয়। এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষার বৃষ্টি আনে। শীতকালে স্থলভাগ শীতল হওয়ার সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের প্রধান দিক বদলায়; তখন উত্তর-পূর্ব দিকের বায়ুর প্রভাব বাড়ে। অঞ্চল ও ঋতুভেদে বৃষ্টির ধরন আলাদা হলেও বায়ুর এই মৌসুমি পালাবদল উত্তর ভারত মহাসাগরের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

বায়ু দিক বদলালে সমুদ্রের উপরিভাগের জলও সাড়া দেয়। উত্তর ভারত মহাসাগরের অনেক স্রোতের গতি ও দিক তাই ঋতুর সঙ্গে বদলে যায়। আফ্রিকার শিংয়ের কাছে সোমালি স্রোত এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময় সোমালিয়ার উপকূল বরাবর প্রবল জলপ্রবাহ সৃষ্টি হয় এবং কিছু স্থানে গভীরের জল ওপরে উঠে আসে। এই গভীর জল সাধারণত উপরিভাগের জলের তুলনায় বেশি পুষ্টি বহন করে। ফলে উপকূলের কোনো কোনো অঞ্চলে সামুদ্রিক উদ্ভিদকণার বৃদ্ধি এবং মাছের খাদ্যশৃঙ্খল সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে ভারত মহাসাগরের সব স্রোত একইভাবে ঋতু বদলের অনুসারী নয়। দক্ষিণ অংশে বাতাস, পৃথিবীর ঘূর্ণন ও মহাদেশগুলোর অবস্থান মিলিয়ে বড় পরিসরের ঘূর্ণায়মান স্রোতব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। আফ্রিকার পূর্ব উপকূল বরাবর আগুলহাস স্রোত উষ্ণ জল দক্ষিণে নিয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূল ঘেঁষে লিউইন স্রোতও উষ্ণ জল পরিবহন করে। পূর্বদিকে ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জের মাঝের জলপথ দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে জল প্রবেশ করে। এভাবে মহাসাগরটি দূরের জলভাগগুলোর সঙ্গে তাপ ও জল বিনিময়ের একটি বড় অংশ হয়ে ওঠে।

সমুদ্রের উপরিভাগে তাপমাত্রার পরিবর্তন আকাশের বৃষ্টিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভারত মহাসাগরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যে ওঠানামাকে ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরু বলা হয়। এর এক অবস্থায় পশ্চিম অংশ তুলনামূলক উষ্ণ এবং ইন্দোনেশিয়ার কাছের পূর্ব অংশ তুলনামূলক শীতল হতে পারে। তখন বৃষ্টির অবস্থান ও পরিমাণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়, যার প্রভাব পূর্ব আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যেতে পারে। তবে কোনো একটি বছরের বৃষ্টি শুধু এই একটি প্রক্রিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; মৌসুমি বায়ু ও অন্য জলবায়ুগত পরিবর্তনও কাজ করে।

উষ্ণ সমুদ্রের জল ঘূর্ণিঝড়ের শক্তির উৎস হতে পারে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের জন্য বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাসের পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস নিচু উপকূলে জল ঠেলে দিতে পারে। উপকূলের আকৃতি, অগভীর সমুদ্রতল এবং ঘন জনবসতি ক্ষতির মাত্রাকে প্রভাবিত করে। তাই কোনো ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি জানাই যথেষ্ট নয়; সেটি কোথায় উপকূলে আঘাত করবে, কখন জোয়ার থাকবে এবং মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারবে কি না, সেসবও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত মহাসাগরের জীবজগৎ সমানভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে নেই। কোথাও প্রবালপ্রাচীরের জটিল আশ্রয়ে অসংখ্য মাছ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী থাকে; কোথাও গভীর জল থেকে পুষ্টি উঠে এসে খাদ্য উৎপাদন বাড়ায়। মালদ্বীপের প্রবালদ্বীপ, ভারতের মান্নার উপসাগরের প্রবাল ও সামুদ্রিক ঘাসের আবাসস্থল এবং পূর্ব আফ্রিকার উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র এই বৈচিত্র্যের উদাহরণ। সামুদ্রিক ঘাসের তৃণভূমি ডুগংয়ের মতো প্রাণীর খাদ্য জোগায়। সমুদ্রকচ্ছপ, তিমিহাঙর এবং বিভিন্ন পরিযায়ী মাছও এই বিস্তীর্ণ মহাসাগরের নানা অংশ ব্যবহার করে।

আরব সাগরের গভীরতর কিছু জলে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম। সমুদ্রের উপরিভাগে উৎপন্ন জৈব পদার্থ নিচে নেমে পচতে থাকলে অক্সিজেন খরচ হয়; জলের স্তরগুলোর মধ্যে মিশ্রণ সীমিত থাকলে সেই ঘাটতি বজায় থাকতে পারে। অক্সিজেনের স্বল্পতা কোন প্রাণী কোথায় টিকে থাকতে পারবে, তা বদলে দেয়। অন্যদিকে উপকূলের ম্যানগ্রোভ বন, প্রবালপ্রাচীর ও সামুদ্রিক ঘাসের আবাসস্থল অনেক প্রাণীর জীবনচক্রে আশ্রয় এবং খাদ্য জোগায়। ফলে একটি মহাসাগরের প্রাণবৈচিত্র্য বুঝতে শুধু পানির উপরিভাগ দেখা যথেষ্ট নয়; উপকূল থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত পরিবেশ দেখতে হয়।

মানুষ বহু শতাব্দী ধরে মৌসুমি বায়ুর ছন্দ বুঝে এই মহাসাগর পাড়ি দিয়েছে। বায়ুর দিক বদলানোর সময় ধরে নাবিকেরা পূর্ব আফ্রিকা, আরব অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যাতায়াত করতেন। সেই পথ ধরে মসলা, বস্ত্র ও অন্য পণ্য যেমন চলেছে, তেমনি ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় ধারণা ও নৌচালনার জ্ঞানও ছড়িয়েছে। আজ পালতোলা বাণিজ্যজাহাজের জায়গায় আধুনিক জাহাজ চললেও হরমুজ, বাব এল মান্দেব ও মালাক্কার মতো সংকীর্ণ পথের গুরুত্ব অটুট রয়েছে। মহাসাগরের ভূগোল এখনও বিশ্ববাণিজ্যের পথ নির্ধারণ করে।

এই বিশাল জলভাগের ওপর মানুষের চাপও বাড়ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ প্রবালের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে; অতিরিক্ত উত্তাপে প্রবাল তার সঙ্গে বসবাসকারী অণুজীব হারিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ে। মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরা খাদ্যশৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করে। নদী ও উপকূল থেকে আসা প্লাস্টিক এবং অন্যান্য দূষণ সামুদ্রিক আবাসস্থলে পৌঁছায়। ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক ঘাসের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু প্রাণীই আশ্রয় হারায় না, উপকূলীয় মানুষও প্রাকৃতিক সুরক্ষার একটি অংশ হারায়।

ভারত মহাসাগরের বিস্ময় তাই কেবল তার বিপুল আয়তন বা গভীর খাদে সীমাবদ্ধ নয়। একই মহাসাগরে আরব সাগরের লবণাক্ত জল, নদীর জলে প্রভাবিত বঙ্গোপসাগর, ঋতু অনুযায়ী বদলে যাওয়া স্রোত, প্রবালদ্বীপ এবং ভূমিকম্পপ্রবণ সমুদ্রতল পাশাপাশি রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা ঘটনা নয়: স্থলভাগের অবস্থান বায়ুকে প্রভাবিত করে, বায়ু জলকে চালায়, নদী জলের গঠন বদলায়, আর সেই পরিবেশে প্রাণী ও মানুষ নিজেদের জীবন গড়ে তোলে। বাংলাদেশের উপকূলে এসে পৌঁছানো প্রতিটি ঢেউ সেই বৃহত্তর ব্যবস্থারই একটি দৃশ্যমান অংশ।


আপনার পছন্দ হতে পারে