চিলির ১৯৭৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থান: আলেন্দের পতন ও পিনোচেটের স্বৈরশাসন
এক অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া চিলি
১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লা মোনেদাকে ঘিরে ফেলে সামরিক বাহিনী। শহরে সৈন্য ও সাঁজোয়া যান চলছিল, রেডিওতে শোনা যাচ্ছিল বিপরীত নির্দেশ, আর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিমান থেকে প্রাসাদে বোমা ফেলা হয়। দিনের শেষে আলেন্দে মৃত, তাঁর সরকার উৎখাত এবং চিলি সামরিক জান্তার হাতে। কিন্তু অভ্যুত্থানের ইতিহাস সেই দিনের গোলাগুলিতে শেষ হয়নি। এর পর শুরু হওয়া অগুস্তো পিনোচেটের শাসন প্রায় সতেরো বছর ধরে চিলির রাজনীতি, অর্থনীতি এবং অসংখ্য পরিবারের জীবন বদলে দেয়।
এই বিপর্যয় বোঝার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ফিরে যেতে হয়। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিক সালভাদর আলেন্দে ‘পপুলার ইউনিটি’ নামে বামপন্থী জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পান। কোনো প্রার্থী সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় চিলির সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুযায়ী কংগ্রেস আলেন্দের প্রেসিডেন্ট হওয়া অনুমোদন করে। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ থেকে শ্রমিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হবে। বিরোধীরা আশঙ্কা করেছিলেন, দ্রুত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে বিপদে ফেলবে।
আলেন্দে সরকার বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়, ভূমি সংস্কার এগিয়ে নেয় এবং সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি করে। তামা ছিল চিলির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। ১৯৭১ সালে দেশের বড় তামাখনিগুলো জাতীয়করণের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনী কংগ্রেসে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। এ সিদ্ধান্তকে শুধু একটি দলের একক পরিকল্পনা হিসেবে দেখা ঠিক নয়; চিলির সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণের দাবির পেছনে বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন ছিল। তবে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তীব্র বিরোধও তৈরি হয়।
প্রথম দিকে সরকারের কিছু উদ্যোগ নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ালেও অর্থনীতির চাপ দ্রুত প্রকট হয়ে ওঠে। উৎপাদন ও সরবরাহে বাধা, মূল্যস্ফীতি, পণ্যের ঘাটতি এবং দীর্ঘ ধর্মঘট জনজীবনকে অস্থির করে তোলে। সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক ছিল। একই সঙ্গে বিরোধী দল, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও পরিবহন খাতের আন্দোলন রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ায়। বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য না পাওয়া সাধারণ পরিবারের কাছে ছিল তাৎক্ষণিক সমস্যা; সরকার ও বিরোধীপক্ষ সেই সংকটের কারণ এবং সমাধান নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিত। ১৯৭৩ সালের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এত গভীর হয় যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ ক্রমে সংকুচিত হয়ে পড়ে।
চিলির এই দ্বন্দ্ব স্নায়ুযুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। প্রকাশিত মার্কিন সরকারি নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আলেন্দেকে ক্ষমতায় আসা থেকে আটকানোর পথ খুঁজেছিল এবং পরে তাঁর বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও সংবাদমাধ্যমকে গোপনে সহায়তা দিয়েছিল। অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টাও ছিল। চিলির ভেতরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বাস্তব ছিল; সেই বাস্তবতার ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপ আরও চাপ যোগ করেছিল। তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজে ১১ সেপ্টেম্বরের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল’—এমন দাবি এবং তার আগের গোপন হস্তক্ষেপের নথিভুক্ত প্রমাণকে এক করে দেখা উচিত নয়।
অভ্যুত্থানের আগেও সেনাবাহিনীর একাংশ বিদ্রোহের চেষ্টা করেছিল। ১৯৭৩ সালের জুনে সান্তিয়াগোতে একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযান রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে। আগস্টে জেনারেল অগুস্তো পিনোচেট সেনাবাহিনীর প্রধান হন। তখনো অনেকের ধারণা ছিল, সেনাবাহিনী সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে যাবে না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ধারণা ভেঙে যায়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলেন্দে সরকারকে উৎখাতের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনার গোপনীয়তার কারণে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সরকারের অনেক সমর্থকও ঘটনাটির পূর্ণ মাত্রা বুঝতে পারেননি।
১১ সেপ্টেম্বর ভোরে ভালপারাইসো বন্দরে নৌবাহিনীর পদক্ষেপের খবর আসে। এরপর সান্তিয়াগোতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সামরিক নিয়ন্ত্রণে যেতে থাকে। সামরিক নেতৃত্ব আলেন্দেকে ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানায়। তিনি লা মোনেদা প্রাসাদ ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন এবং রেডিওতে দেশের মানুষের উদ্দেশে শেষ ভাষণ দেন। প্রাসাদের আশপাশে সংঘর্ষ চলার পর বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। সেই দৃশ্য চিলির ইতিহাসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পতনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে: দেশের নিজস্ব সামরিক বাহিনীই নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আক্রমণ করেছিল।
আলেন্দে লা মোনেদার ভেতরে মারা যান। বহু বছর ধরে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে নানা দাবি প্রচলিত ছিল। পরবর্তী ফরেনসিক অনুসন্ধান তাঁর আত্মহত্যার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এই তথ্য অভ্যুত্থানকারীদের দায় কমায় না। সামরিক আক্রমণ, আত্মসমর্পণের চাপ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের পতনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। আলেন্দেকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য কল্পনা করে বলার বদলে প্রতিষ্ঠিত তদন্তের ফল ও সেই দিনের রাজনৈতিক সহিংসতাকে পৃথকভাবে বোঝা ইতিহাসের জন্য বেশি জরুরি।
অভ্যুত্থানের পর সামরিক জান্তা কংগ্রেস ভেঙে দেয়, রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড দমন করে এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। কারফিউ, গ্রেপ্তার ও সেনা টহল দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। পিনোচেট প্রথমে জান্তার অন্যতম নেতা হলেও ক্রমে ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন এবং দীর্ঘ স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারের সমালোচক হওয়া, বামপন্থী সংগঠনে কাজ করা বা সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়াই অনেকের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। দেশের রাজনৈতিক বিরোধ তখন নির্বাচনী বিতর্কের বিষয় ছিল না; তা গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের কারণ হয়ে উঠতে পারত।
অভ্যুত্থানের পরপরই বিপুল সংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়। সান্তিয়াগোর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনা অস্থায়ী আটককেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটে। গায়ক ভিক্টর হারা এই সময় আটক হয়ে নিহত হন; তাঁর মৃত্যু চিলির সাংস্কৃতিক জগৎ ও রাজনৈতিক স্মৃতিতে গভীর চিহ্ন রেখে গেছে। কিন্তু বহু ভুক্তভোগী পরিচিত শিল্পী বা রাজনীতিক ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় সংগঠক কিংবা এমন মানুষ, যাঁদের পরিবার বহু বছর ধরে তাঁদের কী হয়েছে, তা জানতেই পারেনি।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিনা বিরোধীদের শনাক্ত, অপহরণ ও নির্যাতনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেয়। পরে অন্য সংস্থাও এই দমনব্যবস্থার অংশ হয়। কিছু বন্দিকে হত্যা করা হলেও পরিবারের কাছে মরদেহ বা নির্ভরযোগ্য খবর পৌঁছায়নি। তাঁদের ‘নিখোঁজ’ বলা হয়, কিন্তু শব্দটি ঘটনাটির রাষ্ট্রীয় দায় আড়াল করতে পারে: অনেককে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করেছিল, তারপর তাঁদের অবস্থান গোপন রাখা হয়। পরিবারগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তা ছিল দীর্ঘ নির্যাতনের মতো। জীবিত ফেরার আশা এবং মৃত্যুর সত্য জানার আকাঙ্ক্ষার মাঝখানে বছরের পর বছর কেটে গেছে।
সামরিক শাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যা নির্ধারণে পরবর্তী সত্য অনুসন্ধান কমিশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। বিভিন্ন পর্যায়ের স্বীকৃত হিসাব মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি নিহত বা জোরপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তির ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও বহু হাজার মানুষ। কোন কমিশন কোন ধরনের ঘটনা গ্রহণ করেছে এবং নতুন সাক্ষ্য পরে যুক্ত হয়েছে কি না, তার ওপর নির্দিষ্ট সংখ্যা বদলায়। তাই একটি সংখ্যা দিয়ে সমস্ত ক্ষতি বোঝানো যায় না। যাঁরা নির্বাসনে গিয়েছিলেন, কাজ হারিয়েছিলেন বা শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাও এই ইতিহাসের অংশ।
পিনোচেট শাসনের দমন চিলির সীমানায় থেমে থাকেনি। দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি সামরিক সরকারের নিরাপত্তা সংস্থা বিরোধীদের তথ্য বিনিময় ও সীমান্ত পেরিয়ে অনুসরণে সহযোগিতা করেছিল; এই ব্যবস্থার নাম ‘অপারেশন কনডর’। ১৯৭৬ সালে ওয়াশিংটনে গাড়িবোমা হামলায় আলেন্দে সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও কূটনীতিক অরলান্দো লেতেলিয়ের এবং তাঁর সহকর্মী রনি মোফিট নিহত হন। এই ঘটনা দেখায়, বিদেশে আশ্রয় নেওয়াও সব বিরোধীর জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছিল না।
রাজনৈতিক দমনের পাশাপাশি সামরিক সরকার অর্থনীতির দিকও আমূল বদলায়। বাজারের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কমানো, সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি হাতে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব নীতির সমর্থকেরা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কিছু ফলকে সাফল্য হিসেবে দেখেন। সমালোচকেরা বেকারত্ব, বৈষম্য, সামাজিক সুরক্ষা কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন সময়ের গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। এই বিতর্কে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখতে হয়: নীতিগুলো এমন শাসনের অধীনে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে নাগরিকেরা স্বাধীন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদলাতে বা নির্ভয়ে বিরোধিতা করতে পারতেন না।
স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পুরোপুরি থামেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা তাঁদের খোঁজে সংগঠিত হন। মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নির্বাসিত চিলীয়রা গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের খবর নথিবদ্ধ করেন। আশির দশকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং গণতন্ত্রের দাবিতে বড় বিক্ষোভ নতুন গতি পায়। রাস্তায় নামা তখনো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু ক্রমবর্ধমান চাপ শাসনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। নিখোঁজ স্বজনের একটি ছবি হাতে দাঁড়ানো পরিবারের প্রতিবাদ চিলির গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনের অন্যতম দৃশ্য হয়ে ওঠে।
পিনোচেট সরকারের তৈরি সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনেই ১৯৮৮ সালে তাঁর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে গণভোট হয়। ভোটারদের প্রায় ছাপ্পান্ন শতাংশ ‘না’ ভোট দেন। এই ফল অবিলম্বে স্বৈরশাসনের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়নি, কিন্তু নির্বাচনের পথ খুলে দেয়। ১৯৮৯ সালের নির্বাচনের পর ১৯৯০ সালের মার্চে প্যাট্রিসিও আইলউইন বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। পিনোচেট প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও আরও কয়েক বছর সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ফলে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ছিল ধাপে ধাপে চলা প্রক্রিয়া; নতুন সরকারকে সামরিক বাহিনীর প্রভাব ও অতীতের অপরাধের বিচার নিয়ে কঠিন সমঝোতার মুখে পড়তে হয়।
পরবর্তী দশকগুলোতে সত্য উদ্ঘাটন ও বিচারের উদ্যোগ চলেছে। কমিশনগুলো নিহত, নিখোঁজ ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে; বহু পরিবার তাঁদের স্বজনের ভাগ্য জানার দাবি ধরে রেখেছে। ১৯৯৮ সালে লন্ডনে পিনোচেটের গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর শাসনের অপরাধ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে জোরদার করে। স্বাস্থ্য ও আইনি জটিলতার মধ্যে তিনি চিলিতে ফিরে যান এবং ২০০৬ সালে মারা যান। নিজের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মানবাধিকার অপরাধের অভিযোগে চূড়ান্ত দণ্ড পাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। তবে তাঁর শাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থেকেছে।
১৯৭৩ সালের চিলীয় অভ্যুত্থানকে কেবল আলেন্দে ও পিনোচেটের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখলে এর গভীরতা হারিয়ে যায়। একদিকে ছিল রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক সংকট ও স্নায়ুযুদ্ধের চাপ; অন্যদিকে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের সামরিক সিদ্ধান্ত এবং তার পর পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন। আলেন্দে সরকারের নীতি নিয়ে গণতান্ত্রিক বিরোধিতা সম্ভব ছিল, কিন্তু অভ্যুত্থান সেই বিতর্কের প্রতিষ্ঠানগুলোই ভেঙে দেয়। চিলির ইতিহাসে ১১ সেপ্টেম্বর তাই একটি সরকারের পতনের দিন এবং দীর্ঘদিনের জন্য নাগরিক স্বাধীনতা হারানোর সূচনাদিন। এর উত্তরাধিকার আজও সত্য, বিচার এবং গণতন্ত্রের মূল্য নিয়ে দেশটির আলোচনায় বেঁচে আছে।
হিমালয়: পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা এখনো প্রতি বছর উঁচু হচ্ছে কেন?
আটাকামা মরুভূমি: পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক স্থানে বছরের পর বছর বৃষ্টি হয় না কেন?
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: আফ্রিকার ‘ধোঁয়া যে বজ্রধ্বনি করে’ এত অসাধারণ কেন?
বৈকাল হ্রদ: পৃথিবীর গভীরতম হ্রদে বিশ্বের বিপুল মিঠাপানি কীভাবে জমা রয়েছে?
একটি দেশ কি আরেকটি দেশের ভেতরে থাকতে পারে? এনক্লেভ ও এক্সক্লেভের অদ্ভুত ভূগোল
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থানের নাম কোনটি? নিউজিল্যান্ডের পাহাড়টির নামের অর্থ ও গল্প