বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

চীনের গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড: ১৯৫৮ সালে মাও সে তুংয়ের পরিকল্পনা কীভাবে মহাদুর্ভিক্ষ ডেকে আনে

চীনের গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড: ১৯৫৮ সালে মাও সে তুংয়ের পরিকল্পনা কীভাবে মহাদুর্ভিক্ষ ডেকে আনে
উন্নয়নের স্বপ্ন থেকে দুর্ভিক্ষ

১৯৫৮ সালে চীনের নেতারা ঘোষণা করলেন, দেশটি অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে বিরাট অগ্রগতি অর্জন করবে। গ্রামে গ্রামে কৃষকদের বিশাল দলে সংগঠিত করা হলো, নতুন চুল্লিতে ইস্পাত তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলো, আর উৎপাদনের লক্ষ্য বাড়তে থাকল অবিশ্বাস্য গতিতে। প্রচারপত্রে সফলতার ছবি ছিল; স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে শস্যের হিসাবও ক্রমে ফুলে উঠছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই চীনের বহু গ্রামে খাবার ফুরিয়ে গেল। যে কর্মসূচি দ্রুত সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষগুলোর একটি।

এই কর্মসূচির নাম ছিল গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড, বাংলায় যার অর্থ ‘মহা অগ্রযাত্রা’। এটি একদিনে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ছিল না; কৃষি, শিল্প ও গ্রামীণ সমাজকে দ্রুত বদলে দেওয়ার বিস্তৃত রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল। এর প্রধান পর্যায় শুরু হয় ১৯৫৮ সালে। খাদ্যসংকট সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে, আর নীতিগুলো থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া চলতে থাকে পরবর্তী সময়েও। কর্মসূচি ও দুর্ভিক্ষের সময়কাল তাই পুরোপুরি এক নয়—ইতিহাসটি বুঝতে এই পার্থক্য মনে রাখা জরুরি।

তখনকার চীন ছিল বিপুল গ্রামীণ জনসংখ্যার দেশ। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর জমির মালিকানা, কৃষি উৎপাদন ও শিল্পায়নের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়। মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে সরকার মনে করত, সংগঠিত জনশক্তি কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা শিল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবধান দ্রুত কমানো সম্ভব। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ, দক্ষতা ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বদলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে একই লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত করার ওপর জোর দেওয়া হলো। সমস্যাটি শুধু লক্ষ্য কত বড় ছিল, তাতে সীমাবদ্ধ ছিল না; লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার ব্যবস্থাও দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ডের কেন্দ্রে ছিল ‘গণকমিউন’। আগে থেকেই সংগঠিত কৃষি সমবায়গুলোকে একত্র করে আরও বড় প্রশাসনিক ও উৎপাদন একক তৈরি করা হয়। একটি কমিউনে বহু পরিবার থাকত; কৃষিকাজের পাশাপাশি খাবার বিতরণ, স্থানীয় নির্মাণ এবং সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিকও সমষ্টিগত ব্যবস্থার অধীনে আনা হয়। অনেক জায়গায় ব্যক্তিগত রান্নার বদলে যৌথ খাবারঘর চালু হয়। পরিবারের হাতে কত খাবার থাকবে, কোথায় কাজ করতে হবে এবং কীভাবে শ্রম ভাগ হবে—এসব সিদ্ধান্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়।

যৌথ খাবারঘর শুরুতে অনেকের কাছে সুবিধাজনক মনে হতে পারে। বড় হাঁড়িতে একসঙ্গে রান্না হবে, মানুষ রান্নার সময় বাঁচিয়ে উৎপাদনের কাজে অংশ নেবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কোনো এলাকায় মজুত শস্য কত, পরবর্তী ফসল কখন আসবে এবং দীর্ঘদিনে প্রতিদিন কত খাবার বিতরণ করা সম্ভব, তার হিসাব ভুল হলে এই ব্যবস্থা দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে কোথাও অতিরিক্ত খাবার বিতরণ করা হয়েছিল; পরে খাদ্যসংগ্রহ ও উৎপাদন কমে গেলে সেই মজুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়। সব কমিউনের অভিজ্ঞতা এক রকম ছিল না, তবে খাদ্যের ওপর পরিবারের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় সংকটের সময় অনেক মানুষের বিকল্প পথও সংকুচিত হয়।

একই সময়ে সরকার ইস্পাত উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেয়। বড় কারখানার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে ছোট অস্থায়ী চুল্লি নির্মাণ করা হয়, যেগুলোকে প্রায়ই বাড়ির পেছনের চুল্লি বলা হয়। কৃষক, শিক্ষক ও স্থানীয় কর্মীদের ধাতু গলানোর কাজে পাঠানো হতো। কোথাও রান্নার পাত্র ও ব্যবহার্য লোহার জিনিসও সংগ্রহ করা হয়। উৎপাদনের সংখ্যাগত লক্ষ্য পূরণ করাই মুখ্য হয়ে ওঠায় বহু চুল্লিতে যে ধাতু তৈরি হয়েছিল, তা ভালো মানের ব্যবহারযোগ্য ইস্পাত ছিল না। ফলে শ্রম, জ্বালানি ও কাঁচামাল খরচ হলেও তার অনুপাতে শিল্পে লাভ পাওয়া যায়নি।

এই উদ্যোগ কৃষিতেও প্রভাব ফেলে। জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার, ফসল কাটা ও সংরক্ষণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করতে হয়। কৃষিশ্রমিকের একটি অংশ চুল্লি, বাঁধ, সেচকাজ বা অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পে ব্যস্ত থাকলে মাঠের জরুরি কাজ পিছিয়ে যেতে পারে। কিছু এলাকায় জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ এবং চুল্লির কাজে অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার স্থানীয় পরিবেশের ওপরও চাপ বাড়ায়। প্রতিটি খারাপ ফলনের জন্য শুধু চুল্লিকে দায়ী করা যায় না, কিন্তু একই সঙ্গে বহু প্রকল্পে কৃষিশ্রম ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়া খাদ্য উৎপাদনের ঝুঁকি বাড়িয়েছিল।

ফসল বাড়ানোর জন্য কৃষিতেও নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হয়। কোথাও অত্যন্ত ঘন করে চারা লাগানো হয়, কোথাও গভীরভাবে জমি চাষের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধারণা ছিল, এসব পরিবর্তনে জমি থেকে অনেক বেশি শস্য পাওয়া যাবে। কিন্তু মাটি, পানির প্রাপ্যতা, ফসলের ধরন এবং স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিবেচনা না করে একই ধরনের নির্দেশ কার্যকর করলে ফল উল্টো হতে পারে। খুব ঘন করে চারা লাগালে গাছ আলো ও পুষ্টির জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে। স্থানীয় পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না করে দ্রুত ফলনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কৃষিনীতির একটি বড় দুর্বলতা ছিল।

উৎপাদনের প্রকৃত অবস্থা বোঝার পথে সবচেয়ে গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়ায় অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর উচ্চ লক্ষ্য পূরণের রাজনৈতিক চাপ ছিল। প্রতিবেশী এলাকা বিরাট ফলনের দাবি করলে নিজের এলাকার তুলনামূলক কম উৎপাদন জানানো ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক অনাগ্রহ হিসেবে দেখা হতে পারত। ফলে কোথাও কোথাও বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি শস্য উৎপাদনের হিসাব ওপরের দপ্তরে পাঠানো হয়। এই ভুল তথ্য শুধু কাগজে সাফল্য দেখায়নি; পরবর্তী খাদ্যসংগ্রহ ও বণ্টনের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করেছে।

সরকার গ্রাম থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ শস্য সংগ্রহ করে শহর, শিল্পশ্রমিক ও রাষ্ট্রের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করত। যদি প্রশাসনের ধারণা হয় কোনো গ্রামে প্রচুর শস্য হয়েছে, তবে সেখান থেকে বেশি শস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। অথচ বাস্তব ফলন কম হলে সেই লক্ষ্য পূরণের পর গ্রামবাসীর নিজের খাওয়ার জন্য সামান্য খাদ্যই অবশিষ্ট থাকে। কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় কর্মকর্তারা আরও খাদ্য মজুত আছে বলে সন্দেহ করে কঠোরভাবে সংগ্রহ চালিয়ে যান। উৎপাদনের ভুল হিসাব, অনমনীয় লক্ষ্য এবং মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি স্বীকার করতে না পারা এভাবে একে অপরকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

দুর্ভিক্ষের প্রভাব প্রধানত গ্রামাঞ্চলে পড়েছিল। শহরে খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চললেও অনেক গ্রামের মানুষ দ্রুত খাদ্যস্বল্পতার মুখে পড়ে। অপুষ্টিতে কৃষকের কাজ করার শক্তি কমে যায়; তাতে পরবর্তী উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসুস্থতা, খাদ্যসংগ্রহের জন্য দূরে যাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম কৃষিকাজকে আরও কঠিন করে তোলে। ফসল কমা এবং মানুষের কাজের ক্ষমতা হারানো মিলে একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি হয়। দুর্ভিক্ষের ইতিহাস তাই কেবল কত শস্য উৎপন্ন হয়েছিল, সেই হিসাবের ইতিহাস নয়; কার হাতে কত খাবার পৌঁছেছিল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো কোনো অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া ফসলের ক্ষতি বাড়িয়েছিল। তবে দুর্ভিক্ষকে শুধু খরা বা বন্যার ফল বলা যায় না। গবেষণায় উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত শস্যসংগ্রহ, সম্পদের ভুল ব্যবহার এবং তথ্য গোপন বা বিকৃত হওয়ার গুরুত্ব উঠে এসেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থা এক ছিল না; কোথাও খাদ্য উৎপাদনের পতন বেশি, কোথাও সংগ্রহের চাপ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বেশি ছিল। একই দেশে এত ভিন্ন অভিজ্ঞতা ঘটার কারণ বুঝতে স্থানীয় নীতি ও খাদ্য বণ্টনের দিকে তাকাতে হয়।

সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাও সহজ ছিল না। ১৯৫৯ সালে লুশান সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেং দেহুয়াই গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ডের নানা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাও তাঁর সমালোচনাকে রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে দেখেন; পরে পেং ক্ষমতাচ্যুত হন। এই ঘটনার প্রভাব একজন মন্ত্রীর পদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নীতির ব্যর্থতা জানালে নিজের অবস্থান বিপন্ন হতে পারে—এমন ধারণা অন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তোলে। ফলে মাঠের সংকট যথাসময়ে স্পষ্টভাবে জানানো ও তা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলানো আরও কঠিন হয়।

দুর্ভিক্ষে কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন, তা নিয়ে একটিমাত্র সর্বসম্মত সংখ্যা নেই। সেই সময়ের তথ্যের সীমাবদ্ধতা, কোন বছরগুলো গণনায় ধরা হচ্ছে এবং ‘স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যু’ কীভাবে হিসাব করা হচ্ছে—এসব কারণে গবেষকদের অনুমান আলাদা। বহুল আলোচিত হিসাবগুলোতে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি থেকে তিন কোটির মধ্যে পাওয়া যায়; কিছু গবেষণায় আরও বেশি অনুমান রয়েছে। জন্মহারও মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল, কিন্তু না-হওয়া জন্মকে মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে যোগ করা ঠিক নয়। সংখ্যার অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিপর্যয়ের ব্যাপকতা নিয়ে সন্দেহ নেই।

শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বকে নীতি বদলাতে হয়। ইস্পাতের অবাস্তব লক্ষ্য ও গ্রামীণ শ্রম ব্যবহারের পদ্ধতি সংশোধন করা হয়। কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার, খাদ্যসংগ্রহের চাপ কমানো এবং গ্রামের পরিবারকে কিছু নিজস্ব উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার দিকে ধীরে ধীরে মনোযোগ বাড়ে। এই পরিবর্তন রাতারাতি সব অঞ্চলের ক্ষতি মুছে দেয়নি। যারা অপুষ্টি, অসুস্থতা বা পরিবারের সদস্য হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঁচে ছিলেন, তাঁদের জীবনে দুর্ভিক্ষের প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। অর্থনৈতিক হিসাবের পেছনে মানুষের এই ক্ষতিই ছিল সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তার উত্তর কোনো একটি ভুলের মধ্যে আটকে নেই। একদিকে ছিল অতি দ্রুত শিল্পায়নের রাজনৈতিক লক্ষ্য, অন্যদিকে স্থানীয় পরিস্থিতি না বুঝে কৃষিতে নির্দেশ চাপানো। তার সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষিশ্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, উৎপাদনের অতিরঞ্জিত হিসাব, বাস্তব ফলনের তুলনায় বেশি খাদ্যসংগ্রহ এবং সমালোচনা শোনার অনিচ্ছা। প্রতিটি সমস্যা অন্যটিকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। উৎপাদন কমছে—এই সংবাদ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছালে এবং তার ভিত্তিতে খাদ্য বণ্টন বদলালে বিপর্যয়ের মাত্রা ভিন্ন হতে পারত।

১৯৫৮ সালের সেই ‘মহা অগ্রযাত্রা’ ইতিহাসে আজ দ্রুত উন্নয়নের সফল উদাহরণ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রক্ষমতা ও ভুল তথ্য একসঙ্গে কত বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়। একটি দেশের কৃষকরা মাঠের বাস্তব ফলন দেখছিলেন, অথচ কাগজে বাড়তে থাকা উৎপাদনের সংখ্যা সেই বাস্তবতাকে ঢেকে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত শস্যভাণ্ডারে থাকা খাদ্য, তা সংগ্রহের নীতি এবং মানুষের মুখে পৌঁছানো খাবারের মধ্যকার ব্যবধানই নির্ধারণ করেছিল কোটি কোটি মানুষের জীবন।


আপনার পছন্দ হতে পারে