বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ভারতীয়দের জন্য দুবাই ট্রানজিট ভিসা: কখন লাগবে, কত দিনের এবং কীভাবে আবেদন করবেন?

ভারতীয়দের জন্য দুবাই ট্রানজিট ভিসা: কখন লাগবে, কত দিনের এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির আগে প্রবেশের নিয়ম জেনে নিন।

ভারত থেকে অন্য দেশে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে উড়োজাহাজ বদলালেই ট্রানজিট ভিসা লাগবে—এমন নিয়ম নেই। মূল প্রশ্ন হলো, যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সীমান্ত পরীক্ষা পেরিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে যাবেন কি না। কেউ যদি আন্তর্জাতিক সংযোগ এলাকায় থেকেই পরবর্তী উড়োজাহাজে ওঠেন, তাঁর পরিস্থিতি এক রকম। আর কেউ যদি দুবাই শহর ঘুরতে, বাইরের হোটেলে থাকতে বা মালপত্র নিয়ে পুনরায় নিবন্ধন করতে বিমানবন্দর থেকে বের হন, তাঁর প্রবেশের অনুমতি লাগতে পারে।

ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য এই পার্থক্য বিশেষ জরুরি। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির সময় কত ঘণ্টা, উড়োজাহাজ দুটি একই বুকিংয়ে আছে কি না এবং যাত্রীর অন্য কোনো দেশের যোগ্য ভিসা বা বসবাসের অনুমতি আছে কি না—সব মিলিয়ে সঠিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হয়।

কখন ট্রানজিট ভিসা ছাড়াই উড়োজাহাজ বদলানো যায়?

একই বুকিংয়ে সংযোগকারী উড়োজাহাজ থাকলে, মালপত্র সরাসরি শেষ গন্তব্যে পাঠানো হলে এবং দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক সংযোগ এলাকা না ছাড়লে সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হয় না। যাত্রী আগমনী সীমান্ত পরীক্ষায় না গিয়ে উড়োজাহাজ বদলের নির্দেশনা অনুসরণ করেন। তবে শেষ গন্তব্যের ভিসা ও অন্যান্য ভ্রমণনথি অবশ্যই থাকতে হবে।

অন্যদিকে আলাদা দুটি টিকিট থাকলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। প্রথম উড়োজাহাজ থেকে নেমে মালপত্র সংগ্রহ, সীমান্ত পরীক্ষা পার হওয়া এবং পরের উড়োজাহাজের জন্য আবার নিবন্ধন করার প্রয়োজন হতে পারে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে যেতে হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ‘আমি শুধু যাত্রাবিরতিতে আছি’ বলা প্রবেশের শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয় না।

তাই টিকিট কেনার আগে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করুন: মালপত্র শেষ গন্তব্য পর্যন্ত যাবে কি না, দুবাইয়ে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে কি না এবং সম্পূর্ণ সংযোগটি সীমান্ত পরীক্ষা না পেরিয়ে করা সম্ভব কি না। দীর্ঘ যাত্রাবিরতি থাকলেই বিমানবন্দর ছাড়তে হবে, এমন নয়; আবার স্বল্প যাত্রাবিরতি হলেও আলাদা টিকিটের কারণে প্রবেশের অনুমতি লাগতে পারে।

৪৮ ও ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা কাদের কাজে লাগে?

যাঁরা দুবাইয়ে সীমান্ত পরীক্ষা পেরিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে চান, তাঁদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৮ ঘণ্টা ও ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা রয়েছে। এগুলো একবার প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং থাকার সময় বাড়ানো যায় না। ৪৮ ঘণ্টার ভিসা ছোট যাত্রাবিরতিতে শহরে যাওয়া বা বাইরের হোটেলে থাকার পরিকল্পনার সঙ্গে মানাতে পারে। প্রায় তিন বা চার দিনের বিরতি থাকলে ৯৬ ঘণ্টার ভিসা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

এই সময়সীমা দুবাইয়ে প্রবেশের পর অনুমোদিত থাকার সময় বোঝায়। ভিসা ইস্যুর পর কত দিনের মধ্যে দুবাইয়ে পৌঁছাতে হবে, সেটি আলাদা বিষয়। ভিসা হাতে পাওয়ার পর দুটো তারিখই দেখে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরবর্তী উড়োজাহাজের টিকিটও পরিকল্পনার সঙ্গে মিলতে হবে।

ট্রানজিট ভিসার আবেদন সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থার ব্যবস্থায় করা হয়। যে সংস্থার উড়োজাহাজে যাচ্ছেন, তাদের নিজস্ব যোগ্যতা ও বুকিংয়ের শর্ত থাকতে পারে। তাই অন্য সংস্থার যাত্রীর জন্য একটি সংস্থার অনলাইন আবেদনপদ্ধতি কাজ করবে—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ভারতীয়রা কখন অন্য প্রবেশসুবিধার যোগ্য হতে পারেন?

ভারতীয় পাসপোর্টধারী কিছু যাত্রী তাঁদের অন্য দেশের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা ভিসার ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বল্পমেয়াদি প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থার যোগ্য হতে পারেন। বর্তমান ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দিষ্ট নথির পাশাপাশি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের যোগ্য বসবাসের অনুমতিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। নথির ধরন ও অবশিষ্ট মেয়াদের শর্ত দেশভেদে আলাদা।

যেমন, কোনো ভারতীয় যাত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য বৈধ ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের নথি থাকলে তিনি স্বল্পমেয়াদি প্রবেশব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু শুধু অন্য দেশে আগে ভ্রমণের সিল থাকা যথেষ্ট নয়। একইভাবে কোনো দেশের অনুমতি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা কাজে আসবে না। বর্তমানে যোগ্য যাত্রীদের জন্য ১৪ দিনের একটি প্রবেশব্যবস্থা রয়েছে; বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘতর অনুমতির ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

এই সুবিধা সব ভারতীয় নাগরিকের জন্য স্বয়ংক্রিয় আগমনী ভিসা নয়। অন্য দেশের নথি দেখে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থা নথি পরীক্ষা করতে পারে এবং দুবাইয়ে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সীমান্ত কর্তৃপক্ষের। ট্রানজিট ভিসা ও বিশেষ স্বল্পমেয়াদি প্রবেশব্যবস্থা আলাদা পথ—নিজের জন্য কোনটি প্রযোজ্য, আগে তা নির্ধারণ করুন।

ট্রানজিট ভিসার আবেদন কীভাবে করবেন?

প্রথমে দুবাইয়ে পৌঁছানো ও সেখান থেকে তৃতীয় দেশে যাওয়ার নিশ্চিত ভ্রমণসূচি তৈরি করুন। দুবাইয়ে কতক্ষণ থাকবেন এবং কেন বিমানবন্দর থেকে বের হতে হবে, সেটি পরিষ্কার করুন। এরপর নিজের উড়োজাহাজ সংস্থার ভিসা সেবায় ৪৮ বা ৯৬ ঘণ্টার বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে কি না দেখুন।

উদাহরণ হিসেবে, এমিরেটসের যোগ্য বুকিং থাকলে তাদের বুকিং ব্যবস্থাপনার অংশ থেকে অনলাইনে ট্রানজিট ভিসার আবেদন করা যায়। এই অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে দুবাইয়ে আসা ও দুবাই থেকে যাওয়ার উড়োজাহাজ একই যোগ্য বুকিংয়ের অংশ হওয়ার মতো শর্ত রয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ভ্রমণ দপ্তরের মাধ্যমে সেবার যোগ্যতা জানতে পারেন। আবেদনপদ্ধতি ও গ্রহণযোগ্য উড়োজাহাজের শর্ত এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থায় ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণত রঙিন ছবি, পাসপোর্টের পরিষ্কার অনুলিপি, নিশ্চিত উড়োজাহাজের টিকিট এবং আবেদনসংক্রান্ত তথ্য লাগে। পাসপোর্ট ভালো অবস্থায় ও যন্ত্রে পাঠযোগ্য হতে হবে। উড়োজাহাজ সংস্থা, ভিসার ধরন ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী পাসপোর্টের অবশিষ্ট মেয়াদ এবং অতিরিক্ত নথির চাহিদা যাচাই করুন। দুবাইয়ে বাইরের হোটেলে থাকলে থাকার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদন ও সেবামূল্য পরিশোধের পর অনুমোদন পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন। কোনো সংস্থা কয়েক কর্মদিবসের আনুমানিক সময় জানালেও সেটিকে নিশ্চয়তা মনে করে শেষ মুহূর্তে আবেদন করবেন না। ভিসা অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত দুবাইয়ে প্রবেশের পরিকল্পনাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়াও উচিত নয়।

যাত্রার আগে কোন ভুলগুলো এড়ানো জরুরি?

প্রথম ভুল হলো বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা আর দেশে প্রবেশ করাকে একই বিষয় ভাবা। বাইরের হোটেল, শহর ভ্রমণ, আলাদা টিকিটে মালপত্র সংগ্রহ কিংবা বিমানবন্দর পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলে প্রবেশের শর্ত আগে পরীক্ষা করুন।

দ্বিতীয় ভুল হলো ৪৮ ঘণ্টার অনুমতি নিয়ে যাত্রাবিরতির মোট সময় হিসাব না করা। সীমান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়, হোটেলে যাতায়াত ও পরবর্তী উড়োজাহাজের জন্য আগেভাগে বিমানবন্দরে ফেরার সময় ধরে পরিকল্পনা করুন। ৯৬ ঘণ্টার অনুমতিও বাড়ানো যায় না। পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার ভিসা না থাকলে দুবাইয়ের ট্রানজিট ভিসা সেই ঘাটতি পূরণ করে না।

সবশেষে, আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিজের পাসপোর্ট, অন্য দেশের যোগ্য নথি, উড়োজাহাজের বুকিং এবং মালপত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। ভারতীয় যাত্রীর জন্য দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির সঠিক উত্তরটি কেবল পাসপোর্টের জাতীয়তা দেখে পাওয়া যায় না; বাস্তবে সীমান্ত পার হতে হবে কি না এবং কোন প্রবেশব্যবস্থার শর্ত পূরণ হচ্ছে, সেটিই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।


আপনার পছন্দ হতে পারে